Home শীর্ষ সংবাদ এবার উল্লাপাড়ায় রংপুর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত: ইঞ্জিনসহ ৪ বগিতে আগুন: আহত ৫০

এবার উল্লাপাড়ায় রংপুর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত: ইঞ্জিনসহ ৪ বগিতে আগুন: আহত ৫০

ডেস্ক রিপোর্ট: রেলের ফাঁড়া যেন কাটছেই না। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুর্ঘটনার ক্ষত না শুকাতেই এবার সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৭টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। ইঞ্জিনসহ আগুন লেগেছে ৪ বগিতে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ২টায় উল্লাপাড়া রেলওয়ে স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও আহত হয়েছে প্রায় ৫০জন যাত্রী। এদের মধ্যে ট্রেন চালক তারিক রহমানসহ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় ২ ঘণ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফলে এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের রেলযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। উত্তরবঙ্গের সড়ক যোগাযোগও বন্ধ রয়েছে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে ১০টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে আসা ট্রেনটি ০২টা ৩ মিনিটে উল্লাপাড়া স্টেশন প্রবেশের পূর্বে লেভেল ক্রসিংয়ের ৫০ মিটার দূরে রেলপথ পরিবর্তনের স্থানে লাইনচ্যুত হয়। এতে ট্রেনের ১৩ বগির মধ্যে ৭ বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। ইঞ্জিনসহ ৪ বগি ছিটকে পড়ে আগুন ধরে যায়। উপড়ে গেছে ৪০০ থেকে ৫০০ গজ রেললাইন। লাইনচ্যুত ৭ বগির মধ্যে দুটি বগি মূল রেলপথ থেকে ১৫ মিটার দক্ষিণ দিকে চলে যায়।এই সময় সমগ্র স্টেশন এলাকা কালো ধোয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পরে। স্থানীয় এলাকাবাসী দ্রুত ছুটে এসে পাথর দিয়ে জানালা ভেঙে দ্রুত যাত্রীদের উদ্ধার করায় তারা প্রাণে বেঁচে যায়।

তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়, ট্রেনটি দুই নম্বর লাইন দিয়ে স্টেশনে ঢোকার কথা ছিল। কিন্তু স্টেশনমাস্টার এক নম্বর লাইনে সিগন্যাল দিয়ে দেন। এতে দুর্ঘটনায় পড়ে ট্রেনটি। তবে নিরপেক্ষ সূত্র থেকে এই তথ্য যাছাই করা যায়নি।

খ-১০১২ কেবিনের যাত্রী সাথী ও তার স্বামী সাইফুল জানায় তার দুটি শিশু বাচ্চা নিয়ে সে বিপাকে পড়ে। উভয় দিকের দরজা আটকে যায়। পরে স্থানীয় এলাকাবাসী জানালা ভেঙে তাদের উদ্ধার করে। অশ্রুসিক্ত নয়নে সাথী কান্না জড়িত কন্ঠে জানায় আল্লাহ্ তাদের রক্ষা করেছে। মোস্তাক নামের একজন ছাত্র জানায়, আমার প্রাণ নিয়ে ফিরে এসেছি। বাকীদের অবস্থা কি তা বলতে পারবো না। ভাঙ্গুরা গ্রামের অপর যাত্রী জানায়, ১৪১৪ নং খাবার বগিতে আমরা আসছিলাম। হঠাৎ ইঞ্জিনে আগুন এসে আমাদের বগিতে আগুন ধরে যায়। আমরা বিকল্প পথে বেরিয়ে এসে জীবন রক্ষা করেছি। ঘটনার দু’ঘণ্টা পর্যন্ত কোন রিলিফ ট্রেন আসেনি।

উল্লাপাড়া রেল স্টেশন মাস্টার রফিকুল ইসলাম জানায়, লুপ লাইন থেকে এই দুর্ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। ট্রেনটি চালক দ্রুত গতিতে আসছিলো বলেও জানান। তিনি আরো বলে, ট্রেনের ইঞ্জিন ও বগির অনেক যন্ত্রাংশ খুলে ছিটকে পড়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, সকাল সাড়ে নয়টার দিকে পি.ডব্লিউ.আই, এর কর্মচারীরা দুর্ঘটনার কবলিত অংশে মেরামত করতেও দেখেছে। তার পরেও কিভাবে দুর্ঘটনা ঘটলো তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

উল্লাপাড়া ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার নাদির হোসেন জানান, দুর্ঘটনার পরে প্রথমে রংপুর এক্সপ্রেসের উল্টে যাওয়া ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায় এবং আগুন দ্রুত পার্শ^বর্তী বগিগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। ৩টি বগির শতকরা প্রায় ৬০ ভাগ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং অপর বগির আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সিরাজগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের উপ-পরিচালক মঞ্জিল হক জানান, দুর্ঘটনার পর আগুন নেভানো সম্ভব হয়েছে। এ পর্যন্ত নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।