Home শীর্ষ সংবাদ রংপুরের গ্রামীণ হাট-বাজারে ৩০০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে

রংপুরের গ্রামীণ হাট-বাজারে ৩০০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে

0
এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রী বলেছিলেন, পেঁয়াজবাহী সৌদি এয়ারলাইন্সের এসভি ৩৮০২ ফ্লাইটে মঙ্গলবার গভীর রাতে ঢাকায় অবতরণ করবে।

ডেস্ক রিপোর্ট: রাজধানীসহ সারাদেশে দফায় দফায় বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে তিন দফায় কেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে এখন পেঁয়াজের দাম ২৫০ টাকায় পৌঁছেছে। রংপুর শহরের মুদি দোকানে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা কেজি দরে। তবে গ্রামাঞ্চলে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে আরো উচ্চ মূল্যে ৩০০ টাকায়। বাজারে পেঁয়াজের যথেষ্ট মজুদ থাকলেও প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ জানিয়েছেন ভোক্তারা। তবে বিক্রেতারা বলছেন, পেঁয়াজের আমদানি না বাড়ালে দাম আরও বাড়বে।

বিভাগীয় শহর রংপুরের বাজারগুলোতে নিত্যপণ্যের তালিকায় সবার ওপরে স্থান করে নিয়েছে পেঁয়াজ। শহরের পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে এবং আড়তদারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পেঁয়াজের আমদানি কম। বিক্রেতারা বলছেন, চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ আড়তে পেঁয়াজের দাম বেশি। তারপরেও চাহিদা অনুযায়ী তারা সরবরাহ করতে না পারায় সংকট দেখা দিয়েছে।

আড়তদার সবজি ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম জানান, তারা সরাসরি চট্টগ্রাম থেকে পেঁয়াজ এনে রংপুরে বিক্রি করেন। মোকামেই পেঁয়াজের দাম পড়ছে ১৮০ থেকে ২শ টাকা কেজি দরে। ফলে সেখান থেকে রংপুরে আনতে গাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ পড়ে কেজি প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা। ফলে তারা পাইকারি বিক্রি করছেন ২২০ টাকা কেজি দরে।

অপর আড়তদার জব্বার আলী জানান, পেঁয়াজের দাম মোকামেই বেশি হওয়ায় তাদের বেশি দামে কিনে আনতে হচ্ছে, ফলে দাম বেড়েছে। তিনি জানান, পেঁয়াজের আমদানি বৃদ্ধি না পেলে ৩শ টাকার উপরে পেঁয়াজের দাম উঠবে।

সরেজমিনে পেঁয়াজের আড়তে ঘুরে দেখা গেছে, সবগুলো আড়তেই দেশি পেঁয়াজ গুদামজাত করে রাখা হয়েছিল। এখন বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে ইচ্ছে মতো দামে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, বাজারের সব পেঁয়াজ দেশে উৎপাদিত। আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে নেই বললেই চলে। ফলে পেঁয়াজের দাম এত বেশি বাড়ার কোন কারণ থাকতে পারে না।

অপরদিকে পাইকারি বাজারের কাছেই সিটি বাজার, সেখানে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে আড়াইশ টাকা কেজি দরে। নগরীর সবচেয়ে বড় সবজি বাজারে ঘুরে দেখা গেছে পেঁয়াজের দাম আড়াইশ টাকার নিচে বিক্রি করছে না খুচরা ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, বেশি দামে পেঁয়াজ কিনে আনতে হচ্ছে বলে দাম বেশি।

পেঁয়াজের আকাশ ছোয়া দাম হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন ক্রেতারা।শুক্রবার বাজার করতে আসা চাকুরীজিবি আলমগীর হোসেন জানান, নিরুপায় হয়ে আড়াইশ টাকা দামে এক কেজির দরে এক পোয়া কিনতে বাধ্য হলাম। এত দামে পেঁয়াজ কেনা আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের পক্ষে কেনা সম্ভব না।

তিনি অভিযোগ করেন, পত্রিকায় দেখলাম পেঁয়াজের দাম একশ টাকার নিচে নামার আপাতত কোনো সম্ভাবনা নেই। এর পর থেকেই রংপুরের বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়া শুরু হয়েছে। একই কথা জানালেন কলেজ শিক্ষক মমতাজ বেগম। তিনি বলেন, দেশটা কি মগের মুল্লুক ইচ্ছা মতো পেঁয়াজের দাম বাড়বে অথচ কর্তৃপক্ষের কোন নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। রংপুরের বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কোন উদ্যেগ নেই বলেও জানান তিনি।

গৃহবধু রওশন আখতার জানালেন, শুক্রবার বাজার করতে এসে দেখছি পেঁয়াজের কেজি আড়াইশ টাকা। বাধ্য হয়ে আধা কেজি কিনলাম। রান্নার অন্যতম উপকরণ হচ্ছে পেঁয়াজ তার দাম যদি এতো বেশি হয় তাহলে আমাদের মতো নিম্নবিত্তদের পিয়াজ ছাড়াই রান্না করতে হবে। এদিকে খুচরা ব্যবসায়ীরা বললেন, পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়ায় তাদের বিক্রি কমে গেছে। বেশিরভাগ খদ্দের এক পোয়া বা আধা কেজি পেঁয়াজ কিনছেন।

পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কি ব্যবস্থা নিয়েছে জানতে চাইলে রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান এই প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টি উদ্বেগের। আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। সূত্র- পিপিবিডি নিউজ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.