Home অন্যান্য খবর সৌদি আরবে নির্যাতিত হোসনা দেশে ফিরেছেন: ফিরতে আকুতি আরও ৩৫ নারীর (ভিডিও)

সৌদি আরবে নির্যাতিত হোসনা দেশে ফিরেছেন: ফিরতে আকুতি আরও ৩৫ নারীর (ভিডিও)

0
হোসনা আক্তার।

সৌদি আরবে নির্যাতন থেকে বাঁচার আকুতি জানিয়ে ভিডিও বার্তা পাঠানো হ‌বিগঞ্জের গৃহবধূ হোসনা আক্তার অবশেষে দেশে ফিরেছেন।

গতকাল বুধবার রাত ১১টার দিকে সৌদি এয়ারলাইন্সের এসভি ৮০৪ বিমানে সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে ঢাকায় এসে পৌঁছান তিনি। এরপর একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে এয়ারপোর্টের ভিআইপি গেট দিয়ে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। অ্যাম্বুলেন্সটি তাকে নিয়ে সরাসরি হবিগঞ্জে যাবে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, সৌদি আরব থেকে বাঁচার আকুতি জানিয়ে সম্প্রতি ভিডিও বার্তা দেন হোসনা। স্ত্রীকে নিরাপদে দেশে ফেরত আনতে পরে সরকারের কাছে আকু‌তি জা‌নান তার স্বামী শফিউল্লাহ।

হোসনার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দালাল শাহীন মিয়া ও প্রস্তাবিত রিক্রুটিং এজেন্সি আরব ওয়ার্ল্ড ডিস্ট্রিবিউশনের প্রলোভনে পড়ে এজেন্সি আল-সারা ওভারসীস (আরএল-৭৫২) এর মাধ্যমে সৌদি যান হোসনা। সৌদি যাওয়ার পর থেকে সেখানে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

হোসনা ভিডিও বার্তায় তার ওপর চালানো নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে জীবন বাঁচানোর আকুতি জানান স্বামী শফিউল্লাহর কাছে। কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে শফিউল্লাহ ছুটে যান দালাল ও আরব ওয়ার্ল্ড ডিস্ট্রিবিউশন অফিসে, তারা হোসনা‌কে দেশে আনতে দুই লাখ টাকা দাবি করেন পরিবারের কাছে।

এ বিষয়ে ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শ‌রিফুল হাসান জানান, কোনো উপায় না পেয়ে ২৪ নভেম্বর ব্র্যাকের সহায়তা চেয়ে আবেদন করেন হোসনার স্বামী শফিউল্লাহ। এরপর নিরাপদে হোসনাকে দেশে ফেরত আনতে পরিবারটিকে সার্বিক সহায়তার সিদ্ধান্ত নেয় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।

এর আগে মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তি‌তে জানায়, নারী গৃহকর্মী হোসনা আক্তারকে উদ্ধারের পর পুলিশের নজরদারিতে সেইফহোমে রাখা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের উদ্যোগে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার আকুতি জানিয়ে ভিডিও প্রকাশ করেছেন আরও ৩৫ নারী। এ বিষয়ে ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান জানান, পরপর দুজনের উদ্ধারের ঘটনা দেখে ভিডিও প্রকাশ করেছেন আরও ৩৫ জন নারীকর্মী। এই নারীদের আমার স্যালুট। রাষ্ট্র বা নিয়োগকর্তা কেউ তাদের শেখায়নি। তারা নিজেরাই এই কৌশল উদ্ধার করেছে।‘’

শরিফুল হাসান বলেন, ‘আমি গত দশ বছর ধরে বলছি আমাদের মেয়েদের শুধু একটা মোবাইল ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হোক তারা যাতে বিপদে পড়লে জানাতে পারে। দেখবেন তখন সব সত্য বেরিয়ে আসবে। কিন্তু আফসোস সৌদিরা আমাদের মেয়েদের মোবাইল ব্যবহার করতে দেয় না। সুমি, হোসনারা বহু কষ্ট করে লুকিয়ে যোগাযোগ করে। আমার ভয় হচ্ছে এতগুলো ভিডিও প্রকাশ করার পর সৌদিরা হয়ত আরও কঠোর হবে। আমি বলব আমাদের এখন রাষ্ট্রীয়ভাবে দাবি তোলা উচিত যাতে আমাদের মেয়েরা মোবাইল ব্যবহার করতে পারে।’

এর আগে, সৌদি আরব থেকে ভিডিও বার্তায় জীবন বাঁচানোর আকুতি জানানোর পর গত ১৫ নভেম্বর দেশে ফিরে আসেন আরেক প্রবাসী পঞ্চগড় জেলার সুমি আক্তার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.