Home রাজনীতি মুক্তিযুদ্ধে ওলামায়ে কেরামের অবদান তুলে ধরতে হবে: বিভিন্ন ইসলামী দল ও সংগঠনের...

মুক্তিযুদ্ধে ওলামায়ে কেরামের অবদান তুলে ধরতে হবে: বিভিন্ন ইসলামী দল ও সংগঠনের বিজয় দিবস উদযাপন

0

বিশেষ প্রতিবেদক: দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, সাম্য, ইনসাফ, সুবিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও জাতি কাঙ্খিত স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে পারছে না। পাশাপাশি অবিলম্বে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের স্বচ্ছ তালিকা তৈরি প্রকাশ এবং তাদের যথাযোগ্য মর্যাদা প্রদান করতে হবে। স্বাধীনতার পর সমাজে সাম্যের পরিবর্তে ধনী দরিদ্রের পাহাড়সম বৈষম্য বেড়েছে। মুক্তিযুদ্ধে আলেম ওলামায়ে কেরামের অবদান জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে। বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে বিভিন্ন ইসলামী দলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম: গতকাল বিজয় দিবস উপলক্ষে দলের সভাপতি আল্লামা আব্দুল মুমিন শায়েখে ইমামবাড়ি ও মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী দেশবাসীকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। বিবৃতিতে জমিয়তের দুই শীর্ষ নেতা বলেন, আজকের এই দিনে শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের, যাঁদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ পেয়েছি। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের রুহের মাগফিরাত ও জান্নাত কামনা করছি। মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের অংশিদার রাজনৈতিক দল হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-এর প্রতিটি নেতাকর্মী অত্যন্ত গৌরব ও সম্মানিতবোধ করে থাকে।

ডান দিক থেকে- জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-এর সভাপতি আল্লামা আব্দুল মুমিন এবং মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী। -ফাইল ফটো।

বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় আরো বলেন, আজ থেকে ঠিক ৪৮ বছর পূর্বে এদেশের সর্বস্তরের জনতা পশ্চিম পাকিস্তনী স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে ছিনিয়ে আনে বিজয়ের রক্তিম সূর্য, প্রতিষ্ঠিত হয় আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ। বিজয় দিবস বাঙালির জাতীয় জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় এক উজ্জ্বল ঘটনা। তবে আমাদের এই বিজয় কেবল একটি জাতীয় পতাকা বা স্বাধীন একটি ভূখন্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বৈষম্যহীন ইনসাফপূর্ণ এক বিশ্ব গঠনের প্রেরণা এই বিজয়। মুক্তিযুদ্ধের মূলনীতি ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। সুদীর্ঘ ৪৮ বছর একটি জাতির জন্য কম সময় নয়। কিন্তু এই সুদীর্ঘ সময়ে দেশের মানুষ যে জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছিল সেই বাক স্বাধীনতা, সেই ভোটাধিকার, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ, জন নিরাপত্তা, দুর্নীতিমুক্ত সরকার ও সমাজ আজও প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। প্রতিষ্ঠিত হয়নি মানুষের মৌলিক অধিকার। আমাদের শাসকরা এখনো পর্যন্ত জনগণের বন্ধু হয়ে উঠতে পারেনি। ব্যক্তি স্বার্থ ও দলীয় মতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করা নেতার শাসন এখনো অধরাই রয়ে গেল। জবরদস্তিমূলক ক্ষমতা দখল, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তপনা, সর্বত্র দুর্নীতিবাজদের দৌরাত্ম, দলীয় মাস্তানী, শিক্ষাখাতের বেহাল পরিস্থিতি, ভোগবাদ ও অনৈতিকতার ছড়াছড়ি স্বাধীনতার কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করছে। দেশজুড়ে মাদক, অপসংস্কৃতি ও ভোগবাদের ছড়াছড়ি তরুণ সমাজকে অন্ধাকার জগতে ঠেলে দিচ্ছে।

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন : বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী হুজুর বলেছেনমুক্তিযুদ্ধে আলেমদের অবদান থাকলেও প্রকৃত ইতিহাস আড়াল করে ওলামায়ে কেরামের নাম ঢালাও ভাবে স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকায় জুড়ে দেয়া হচ্ছে। স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস, মুক্তিযোদ্ধাদের নিখুত তালিকা ও স্বাধীনতা যুদ্ধে ওলামায়ে কেরামের অবদান জাতির কাছে তুলে ধরতে হবে।

গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর জামিযা নুরিয়া ইসলামিয়া কামরাঙ্গীরচর মাদরাসায় বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে অন্যান্যের আরো বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াযী, নায়েবে আমীর মাওলানা শেখ আজিমুদ্দিন, মাওলানা মুজিবর রহমান হামিদী, মাওলানা সুলতান মুহিউদ্দিন, প্রচার সম্পাদক মাওলানা সাইফুল ইসলাম সুনামগঞ্জী।

মহানগর ছাত্র জমিয়ত: গতকাল (১৬ ডিসেম্বর) সোমবার সকাল ৯টায় ৪৯তম মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ৭১ এর বীর শহীদদের স্মরণে পল্টনস্থ বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন মিলনায়তনে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরী এক আলোচনা সভা ও বিজয় র‍্যালী বের করে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’র যুগ্মমহাসচিব ও ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, দেশ আজ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আজ হুমকির মুখে। মনে হচ্ছে দেশটা যেন আজ ভারতের অঙ্গরাজ্য। দেশ বিরোধী চুক্তির পরেও দেশের প্রশাসনের টনক নড়ছে না। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধগতির কারণে মানুষ মধ্যে হাহাকার সৃষ্টি হয়েছে।

আলোচনা সভা শেষে ছাত্র জমিয়ত ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে একটি মনোজ্ঞ বিজয় র‍্যালী ফটো জার্নালিস্ট থেকে দৈনিক বাংলামোড় হয়ে বায়তুল মুকাররম উত্তর গেইটে এসে, ছাত্র জমিয়ত ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ কাসেমী দোয়ার মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। র‌্যালিতে জমিয়ত নেতৃবৃন্দসহ মহানগর ছাত্র জমিয়তের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী অংশগ্রহণ করেন। এ সময় নেতাকর্মীদের মাথায় বিজয় দিবসের বেইচ এবং হাতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা শোভা পাচ্ছিল।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেন, যে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে, গত ৪৮ বছরে আমরা তা কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পেরেছি আজ সে আত্মজিজ্ঞাসার দিন। স্বাধীনতার পর সমাজে সাম্যের পরিবর্তে ধনী দরিদ্রের পাহাড়সম বৈষম্য বেড়েছে । বাংলাদেশের ইতিহাসে এখন সবচেয়ে বেশি আর্থিক বৈষম্য বিরাজ করছে। শাসকগোষ্ঠী একের পর এক নাগরিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদাকে পদদলিত করেছে।

গতকাল সোমবার বিকেলে পুরানা পল্টনস্থ হাউজ বিল্ডিং চত্বরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তর দক্ষিণের উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিজয়ের সুফল অর্জনে আমাদের করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভা ও মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নগর উত্তর সভাপতি অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা সভায় বক্তব্য রাখেন আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমাদ, মাওলানা নেছার উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম, নগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব আব্দুর রহমান।

বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে দোয়া: মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গতকাল সোমবার সকালে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে পবিত্র কুরআনখানী, মিলাদ, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহাদাতবরণকারী সকল শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

মিলাদ ও মুনাজাত পরিচালনা করেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মহিউদ্দিন কাশেম। এছাড়া সকাল ১০ টায় বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে মহান বিজয় দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

খেলাফত মজলিস: খেলাফত মজলিসের যুগ্মমহাসচিব শেখ গোলাম আসগর বলেছেন, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌত্ব রক্ষায় জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। স্বাধীনতা সসার্বভৌত্ব রক্ষায় জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরী আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গতকাল সোমবার বিকেলে বিজয়নগরস্থ মজলিস মিলনায়তনে ঢাকা মহানগরী সভাপতি শেখ গোলাম আসগরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য পেশ করেন সংগঠনের যুগ্মমহাসচিব মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী। সভায় মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের জন্যে বিশেষ দোয়া মুনাজাত করা হয়।

ইসলামী যুব আন্দোলন: ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশ ব্যাপি থানায় থানায় বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহাদাত বরণকারী বীর সেনানীদের মাগফেরাত কামনা করে কোরআন খতম, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় । রাজধানীর খিলগাও থানা আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী যুব আন্দোলনের সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা নেছার উদ্দীন বলেন, স্বাধীনতার ৪৮ বছর পার হলে ও দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা এখনো অর্জন হয়নি ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.