Home আন্তর্জাতিক দিল্লি নির্বাচন: আম আদমি’র ঝাড়ু তাণ্ডবে কুপোকাত গেরুয়া শিবির

দিল্লি নির্বাচন: আম আদমি’র ঝাড়ু তাণ্ডবে কুপোকাত গেরুয়া শিবির

0
আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

উম্মাহ অনলাইন: ঘোষিত হল দিল্লি নির্বাচনের ফলাফল। শেষ পর্যন্ত দেখা গেল মাত্র ৮টি আসন পেয়েছে হিন্দুত্ববাদি ভারতীয় জনতা পার্টি। ৬২টি আসনে বিশাল জয় পায় আম আদমি পার্টি। কংগ্রেসের ঝুলিতে আসন সংখ্যা শূন্য।

সকাল থেকেই এই ফলাফলের ট্রেন্ড অবশ্য দেখা গিয়েছিল। প্রচুর আসনে এগিয়ে ছিল আম আদমি পার্টি। জোট বেলা বেড়েছে ততই আরও বেড়েছে আপ-এর জয়ের মার্জিন। একটা সময় বিজেপি যেখানে ২০টি আসনে এগিয়েছিল, সেখানে দিনের শেষে মাত্র ৮টিতেই থামতে হয় গেরুয়া শিবিরকে।

পুঁজি বলতে গত ৫ বছরের কাজ। তা নিয়েই দিল্লির বাজি জিতলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। হেলায় ওড়ালেন গেরুয়া শিবিরকে। জামানত জব্দ করে অস্তিত্ব সংকটে ফেলে দিলেন কংগ্রেসকে। রাজনৈতিক মহলের মতে, কাজে বাজি-মাত কেজরির।

‘আকাশজোড়া’ এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত কেজরিওয়াল নিজেই। সাফল্যের ভাগীদার তাঁর স্ত্রীও। আজ কেজরিওয়ালের স্ত্রীর জন্মদিন। আম আদমির সামনেই স্ত্রী সুনীতাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা ভাবী মুখ্যমন্ত্রীর।

আম আদমি পার্টি’র ওখলা কেন্দ্রের প্রার্থী আমানাতুল্লাহ খান কটাক্ষ করে বলেছেন, বিজেপি এবং অমিত শাহকে (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) আজ কারেন্ট লাগিয়ে দিয়েছে দিল্লির জনতা। এই জয় এসেছে ভালো কাজ করার কারণে। পরাজয় হয়েছে বিদ্বেষের।’

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘দিল্লিতে ‘আপ’জিতছে, বিজেপি হারছে, আমি খুবই খুশি।’

তিনি বলেন, ‘মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ডে দেখেছেন আপানারা, এবার দিল্লি, যেখানেই ভোট হচ্ছে, সেখানেই বিজেপি হারছে। সংকীর্ণতা, বিভাজনের রাজনীতি মানুষ চায় না। মানুষ উন্নয়ন চায়।’বিজেপির ভরাডুবিতে পশ্চিমবঙ্গের বাম পরিষদীয় নেতা ও বিধায়ক সুজন চক্রবর্তীর কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘বিজেপিকে কার্যত তুলে আছাড় মারল দিল্লির মানুষ।’সুজন বাবু বলেন, ‘বিজেপির গর্জন আসলে ভয়ের আর্তনাদ! কার্যত বিজেপিকে তুলে আছাড় মারল দিল্লির মানুষ। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অলিগলি ঘিরে সভা করেছেন। সেই সভার পরেও দিল্লির মানুষ বিজেপির ঔদ্ধত্যের রাজনীতি মানেনি। ফ্যাসিস্ট বিজেপির পরাজয় ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। আমরা দিল্লির মানুষকে স্যালুট জানাচ্ছি।’

সংসদের উচ্চকক্ষ লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী বলেছেন, ‘কংগ্রেস অস্তিত্ব বজায় রাখার লড়াই করেছিল, সংগঠন দুর্বল ছিল, হেরেছে অস্বাভাবিক কিছু নয়। সাম্প্রদায়িক শক্তি ও অসাম্প্রদায়িক শক্তির মধ্যে লড়াই হয়েছিল। উন্নয়নের এই জয় গোটা দেশের কাছে বড় বার্তা যাবে।’

কংগ্রেসের সিনিয়র এমপি প্রদীপ ভট্টাচার্যের মতে, ‘সার্বিক দেশের পরিমণ্ডলে একটা ধর্মান্ধ দলের পরাজয়ে দেশের অখণ্ডতা অটুট থাকবে। ‘আপ’-এর জয় নিঃসন্দেহে সঙ্গত ভারতের ভবিষ্যত গড়বে।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, ধর্মীয় মেরুকরণ, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ)জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি), জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধন (এনপিআর)-এর ধাক্কায় এবারও দিল্লির মসনদ অধরাই থেকে গেল বিজেপির কাছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.