Home অন্যান্য খবর সফলতার জন্য যোগ্যতা, আন্তরিকতা ও দৃঢ়তার সাথে কাজ করে যেতে হবে: মুফতি...

সফলতার জন্য যোগ্যতা, আন্তরিকতা ও দৃঢ়তার সাথে কাজ করে যেতে হবে: মুফতি জাকির

0
শুক্রবার জমিয়তের কর্মী সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন অর্থসম্পাদক মুফতি জাকির হোসাইন কাসেমী। ছবি- উম্মাহ।

উম্মাহ প্রতিবেদক: গত শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারী) বেলা ২টায় রাজধানী ঢাকার গুলিস্তানস্থ কাজী বশির মিলনায়তনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’র কেন্দ্রীয় কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

দলের সভাপতি আল্লামা আব্দুল মু’মিন শায়েখে ইমামবাড়ি’র সভাপতিত্বে কর্মী সম্মেলনে সারাদেশ থেকে দলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী যোগদান করেন। সম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব শায়খুল হাদীস আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী।

কর্মী সম্মেলনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’র কেন্দ্রীয় অর্থসম্পাদক মুফতি জাকির হোসাইন কাসেমী বলেন, একজন মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, সামাজিক জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবন, ও রাজনৈতিক জীবনের উন্নতি সাধান ও লক্ষ্যে পৌঁছানো তিনটি জিনিসের উপর নির্ভরশীল। ১। ক্যাপাবিলিটি তথা সামর্থ্য, যোগ্যতা ও পারিদর্শিতা অর্জন করা ২। সিনসিয়ারিটি তথা আন্তরিকতা, সচেতনতা ও জবাবদেহিতার সাথে কর্মব্যস্ত থাকা। ৩। অনেস্টলি তথা সততা, আদর্শপরায়ণ ও ন্যায়-নীতির উপর অটল-অবিচল থেকে কাজ করে যাওয়া।

মুফতি জাকির বলেন, আমাদেরকে বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসীনরা ভয় দেখিয়ে থাকেন। কিন্তু আমরা কারো ভয়ের পরোওয়া করি না। কারণ, আমরা যাঁদের উত্তরসুরী, তাঁদেরকে এরকম ভয় দেখানো হতো। যেমন- ইংরেজরা যখন মুসলমানদেরকে লোভ-লালসা দেখিয়ে তাদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দিতে প্ররোচণা দিচ্ছিল, তখন আমাদের পূর্বসুরী হযরত হোসাইন আহমদ মাদানী (রাহ.) ফতোয়া দিয়েছিলেন- ‘ইংরেজ কে ফৌজ মে মুসলমানোঁ কা দাখেল হো না হারাম হায়’। অর্থাৎ- দখলদার ইংরেজ সেনাবাহিনীতে মুসলমানদের যোগদান করা হারাম।

কর্মী সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন মুফতি জাকির হোসাইন কাসেমী। ছবি- উম্মাহ।

এ ফতোয়ার কারণে হযরত হোসাইন আহমদ মাদানী (রাহ.)কে ইংরেজ সরকার গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘কেয়া মৌলভী সাব, আপনে ইয়ে ফতোয়া দিয়া?’ তখন মাদানী (রাহ.) উত্তর দিয়েছিলেন, “ফতোয়া তো দিয়া মাঁই নে। আবভি ফতোয়া দেতা হোঁ। জব তাক হোসাইন আহমদকে মুহ মে যবান বাকী হায়, সীনে মে কুরআন বাকী হায়, ক্বলব মে ঈমান বাকী হায়, আওর ইস মুলক মেঁ ইংরেজ বাকী হায়, তব তাক ইয়ে ফতোয়া জারী রাহে গা”।

জমিয়ত অর্থসম্পাদক বলেন, আমাদের পূর্বসুরীদের নীতিতে এমন দৃঢ়তা ও অবিচলতার উপর ভিত্তি করে আমরাও বলতে চাই, যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা জীবিত থাকব এবং আমাদের ঈমান থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত যতই বাঁধা আসুক জাতির সামনে ন্যায়নিষ্ঠতা, সত্য, সুবিচার, জুলুমের প্রতিবাদ ও জনগণের ন্যায্য চাওয়া-পাওয়ার কথা তুলে ধরবো।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশে আপোষহীন একটি ইসলামিক দল উল্লেখ করে মুফতি জাকির উপস্থিত কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রিয় কর্মী ভাইয়েরা, তোমরাই আগামী দিনের শায়েখে ইমামবাড়ি, আল্লামা কাসেমী, আল্লামা শায়েখ জিয়া উদ্দীন, আল্লামা ইউসুফী, আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক।

বক্তব্যের শেষে মুফতি জাকির হোসাইন বলেন, শত বাধা ব্যস্ততার পরও এই সফল কর্মী সম্মেলন উপহার দেওয়ার জন্য জমিয়ত মহাসচিব আল্লামা কাসেমী এবং সম্মেলন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আল্লামা ইউসুফীকে ধন্যবাদ জানাই। এবং বলতে চাই, আল্লামা কাসেমী ইউ আর এ গ্রেট পলিটিশিয়ান অব দ্যা সয়েল। আল্লামা ইউসুফী ইউ আর এ গ্রেট পলিটিশিয়ান অব দ্যা সয়েল, আল্লামা ফারুকী ইউ আর এ গ্রেট পলিটিশিয়ান অব দ্যা সয়েল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.