Home ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন সফল জীবন ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ার সহজ উপায়

সফল জীবন ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ার সহজ উপায়

0

।। শায়খুল হাদীস আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী ।।

পবিত্র কুরআনের মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন- “তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ় হস্তে ধারণ করো; পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। (সূরা আলে-ইমরান- ১০৩ আয়াত)।

আমাদের সমাজ আজ ভয়াবহ ও হতাশাজনক এক কঠিন সময় পার করছে। চারিদিকে অন্যায়-অনাচার, জুলুম-নির্যাতন আর পাশবিকতার জয়জয়কার। মুসলমানরা আজ কুরআন হাদিস থেকে দূরে সরে পড়ার কারণে আদর্শিক, নৈতিক ও চরিত্রগতভাবে ভয়ংকর অধ:পতনের শিকার। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উদ্ধারের সহজ উপায় কি, এ সম্পর্কে আল্লাহ যদি তাওফীক দান করেন, কিছু আলোচনার প্রয়াস পাব।

আল্লাহ তাঁর হাবীব (সা.)কে বলেছেন, হে নবী! আপনি মানুষকে উপদেশ দিন। নিশ্চয় উপদেশ মানুষকে উপকৃত করে। বৃষ্টির পানিতে যেমনিভাবে গাছের শক্তি বৃদ্ধি পায়, ফসলাদি তরুতাজা হয়ে যায়, কুরআন-সুন্নাহর আলোচনা শোনার দ্বারা মুমিনদের ঈমানি গাছ সতেজ হয়ে যায়।

আমি অতি অল্প সময় কথা বলবো। আল্লাহ পাক বলেন, তোমরা আল্লাহর রশিকে সম্মেলিতভাবে আঁকড়ে ধরো। তোমরা বিচ্ছিন্ন হয়ো না। এই রশির নাম হলো কুরআন। আল্লাহর কুরআনকে মজবুতির সাথে সম্মেলিতভাবে ধরার কথা বলা হয়েছে। এবং বিচ্ছিন্ন হতে নিষেধ করা হয়েছে। প্রশ্ন হলো কুরআনকে কীভাবে ধরবো? ধরার প্রথম মাধ্যম হলো কুরআনের বিশুদ্ধ তিলাওয়াত শিক্ষা করা। আর এটা পুরুষ-মহিলা, ব্যবসায়ী-চাকরিজীবি, কৃষক-শ্রমিক, ছেলে-মেয়ে সকলের জন্য ফরজে আইন। কেননা নামায ফরজে আইন। আর নামাজে কুরআনের বিশুদ্ধ তিলাওয়াত করাও ফরজে আইন। তাই সুরা ফাতেহার সাথে সাথে আরো ৪/৫টা সুরা মুখস্ত থাকা আবশ্যক। তাছাড়া কুরআন বিশুদ্ধভাবে পড়ার মাঝে আল্লাহ তায়ালা সওয়াব রেখেছেন। ওজু ছাড়া পড়লে ১০ নেকী, ওজুর সাথে পড়লে ২৫ নেকী, নামাজে বসে পড়লে ৫০ নেকী, দাঁড়িয়ে পড়লে ১০০ নেকী।

পৃথিবীতে কুরআন ছাড়া অন্য কোন কিতাবের ব্যাপারে এই গ্যারান্টি নাই। কেননা কুরআন হলো আল্লাহ পাকের কালাম। আল্লাহ পাক মহান, তাঁর কালামও মহান। তিনি পবিত্র, তাঁর কালামও পবিত্র। তিনি অসীম ক্ষমতার অধিকারী, তাঁর কালামেও অসীম ক্ষমতা রয়েছে। তাই কুরআনের সাথে যার সম্পর্ক হবে, নিঃসন্দেহে তার সম্পর্ক আল্লাহ পাকের সাথে হয়ে যাবে। আর আল্লাহ পাকের সাথে যার সম্পর্ক হবে, তার জীবনে শান্তি, কল্যাণ এবং মঙ্গলের বাতাস প্রবাহিত হবে। ইহকাল, পরকাল উভয় জগতে শান্তিতে থাকবে। সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

এই কুরআনের সাথে আমাদের সম্পর্ক করা প্রয়োজন। এর জন্য প্রথম কাজ হলো কুরআনের বিশুদ্ধ তিলাওয়াত শিক্ষা করা। যারা শৈশবে নাযেরা (দেখে দেখে পড়া) শিখতে পারি নাই, তারা বয়সের দিকে না তাকিয়ে এখনই নাযেরার ছাত্র হয়ে যেতে পারি। সাহাবায়ে কেরাম যখনই ইসলাম গ্রহণ করেছেন, তখনই কুরআন শিক্ষা করেছেন। কেউ বৃদ্ধ বয়সে আবার কেউ মধ্যম বয়সে। তাই কুরআন শিক্ষার কোন বয়স নেই।

হাদিসে আছে কেউ যদি কুরআন শিখতে গিয়ে কষ্টের শিকার হয়, উচ্চারণ করতে কষ্ট হয়, তাহলে তার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব রয়েছে। তাই যারা এখনো শিখতে পারেননি, তারা বয়সের দিকে না তাকিয়ে এখনই নাযেরা শিখে নিন। আর এই অবস্থায় মারা গেলে আপনি এবং নবীর মাঝে নবুওয়াত ছাড়া কোন তফাত থাকবে না। তাই সকলে কুরআনের ছাত্র হয়ে যান। যারা তিলাওয়াত করতে সক্ষম তারা বেশি বেশি তিলাওয়াত করবেন। হাফেজে কুরআনরা নামাজে বেশি বেশি তিলাওয়াত করবেন।

হযরত মুফতি মাহমুদ হাসান গাঙ্গুহী রাহ. ছাত্রদেরকে নামাজে বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াতের আদেশ দিতেন। ছাত্ররা একদিন ক্লাসে তাঁকে জিজ্ঞেস করলো, হযরত! আপনি দৈনিক কত পারা তিলাওয়াত করেন? তিনি উত্তর দিলেন- ৮ রাকাত তাহাজ্জুদে ৮ পারা, নফল, সুন্নাত মিলে সারাদিনে ৪০ পারা তিলাওয়াত করি। শেষ বয়সেও তিনি প্রতিদিন ১৫/১৬ পারা তিলাওয়াত করতেন। দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম ক্বারী তয়্যেব সাহেব রাহ. প্রতিদিন নামাজে সোয়া পারা করে তিলাওয়াত করতেন।

কুরআন কারীম ধরার দ্বিতীয় মাধ্যম হলো কুরআনের হাফেজ হওয়া। এটা অনেক বড় মর্যাদার বিষয়। কুরআনের সিনা হলো লওহে মাহফুজ। লওহে মাহফুজে যেভাবে কুরআন সংরক্ষিত তেমনিভাবে হাফেজে কুরআনের সিনায়ও ৩০ পারা কুরআন সংরক্ষিত।

শায়েখ জাকারিয়া রাহ. রমজানে সকালে তিলাওয়াত শুরু করতেন ইফতারির আগে আগে খতম করে ফেলতেন। আর একবার রমজানের রাতে ১ রাকাতে ২৭ পারা এবং অন্য রাকাতে ৩ পারা পড়ে খতম দিয়েছেন। ইমাম বুখারী রাহ. রমজানের দিনে এক খতম এবং রাতে এক খতম করতেন। আর প্রতি তিন দিনে শেষ রাতে ১ খতম করতেন। তাই হাফেজে কুরআনদের নামাজে বেশি বেশি তিলাওয়াত করা আবশ্যক।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে আমার হাবীব! আপনি কালামে পাকের তিলাওয়াত করেন। অর্ধেক রাত্র বা তার থেকে একটু কম বা তার থেকে একটু বেশি। আর কুরআনকে মুহাব্বত এবং ভালোবাসার সাথে তিলাওয়াত করুন।

বর্তমান বিশ্বে তুরষ্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান কুরআনের হাফেজ। তিনি নিজেই তারাবিহ পড়ান। তিলাওয়াতও চমৎকার। যে কারণে তার ঈমানি শক্তি এত বেশি যে, তিনি আমেরিকা, রাশিয়া, চীনের মত শক্তিশালী দেশগুলোকে ভয় পান না। আজ মুসলিম জাতি কুরআন থেকে দূরে সরে গেছে। যার কারণে সমাজে অশান্তি বিরাজমান, সমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ে গেছে। মুসলিম জাতির উন্নতির চাবিকাঠি হলো কুরআনকে ধরার মাঝে।

বর্তমান সমাজে মুসলমানদের ঘরে কুরআনের পরিবর্তে টেলিভিশন ঢুকে পড়েছে। গান-বাজনা শুরু হয়েছে। রহমতের পরিবর্তে আযাবে ইলাহী ঢুকে পড়েছে। এই কারণে আমাদের সমাজ অধপতনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আমাদের যুব সমাজ মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েছে । যুব সমাজকে রক্ষা করতে হলে সমাজকে মাদকমুক্ত করতে হবে। আল্লাহ পাক কুরআনে মদ এবং জুয়াকে হারাম ঘোষণা করেছেন। তাই আসুন আমরা পাড়ায় পাড়ায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলি।

আমাদের সমাজে মা বোনের আবরু ইজ্জত ভূলুন্ঠিত। আজ থেকে ১০ বছর আগেও এই অবস্থা ছিল না। এর একমাত্র কারণ আমরা কুরআনের শিক্ষা থেকে দূরে সরে গেছি।
সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাল গুদামজাত করে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করা একেবারে হারাম। যারা এটা করছেন তারা হারাম ব্যবসা করছেন। অথচ হাদিস শরীফে বলা হয়েছে, সত্যবাদী আমানতদার ব্যবসায়ী নবী, সত্যবাদী, শহীদ এবং সত্য লোকদের সাথে জান্নাতে যাবেন।
মোট কথা, কুরআনের শিক্ষা থেকে আমরা যতদূরে সরে যাবো সমাজে তত দুর্নীতি অবক্ষয় নেমে আসবে। তাই এই সমাজকে রক্ষা করতে হলে কুরআনের শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে। সন্তানদেরকে দ্বীনি শিক্ষার আলো দ্বারা আলোকিত করতে হবে।

আল্লাহ পাক বলেন, যুগের শপথ, নিশ্চয়ই সকল মানুষ ক্ষতির মাঝে রয়েছে। তবে যারা ঈমান এনেছেন এবং সৎকাজ করেন; তারা ব্যতিত।

ঈমানের কথা আগে বলা হয়েছে। ঈমান কাকে বলে? ঈমান জানার নাম নয়, ঈমান হলো, মানার নাম। নবী (সা.) যা কিছু নিয়ে এসেছেন তাকে পরিপূর্ণভাবে মনে প্রাণে মেনে নেওয়ার নাম ঈমান। ঈমান হল সব থেকে দামি সম্পদ।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. বাইতুল্লাহর দিকে তাকিয়ে বলেন, হে আল্লাহর ঘর! তুমি কতই না সম্মানিত। তবে একজন মুমিন বান্দার দাম তোমার থেকেও বেশি। ঈমান অনেক দামী সম্পদ। ঈমানের দ্বারা মানুষ জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে চিরাস্থায়ী জান্নাতে প্রবেশ করবে।

খাদ্য,বস্ত্র,বাসস্থান এগুলো দেহের প্রয়োজন। শরীয়ত এগুলো পুরণ করতে বলেছে, তবে এগুলো জীবনের উদ্দেশ্য নয়। আমাদের জীবনের মূল উদ্দেশ্য হলো মৃত্যুর পরের যিন্দেগীতে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাতে প্রবেশ করা। আল্লাহ তায়ালা বলেন, যে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে, নিঃসন্দেহে সে সফলকাম।

ঈমানের মূল হাকীকত হল- রাসূল (সা.) আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে যা কিছু নিয়ে এসেছেন তা পরিপূর্ণভাবে বিশ্বাস করা, কিছু বিশ্বাস করা আর কিছু বিশ্বাস না করার নাম ঈমান নয়।

আমাদের দেশের একটি সম্প্রদায় কাদিয়ানী সম্প্রদায়ভুক্ত। তারা আমাদের নবীকে শেষ নবী হিসাবে বিশ্বাস করে না, তাই তারা কাফের। আমাদের নবী সারা বিশে^র নবী। মুসলমান কাফের সকলের নবী।

উম্মত দুই প্রকার। (১) উম্মতে ইজাবাত, যারা রাসূলের ডাকে সাড়া দিয়েছেন, আর তারা হলেন মুসলমান। (২) উম্মতে দাওয়াত, যারা রাসূল (সা.)এর ডাকে সাড়া দেয়নি, তারা হলো কাফের।

হাশরের ময়দানে মানুষ অস্থির হয়ে সুপারিশের জন্য হযরত আদম (আ.)এর কাছে যাবেন। তিনি বলবেন- আমি এর আহাল নই, তোমরা নূহ (আ.)এর কাছে যাও। তিনিও একইভাবে ফিরিয়ে দিবেন। পর্যায়ক্রমে অবশেষে সকলে রাসূল (সা.)এর কাছে আসবেন। রাসূল (সা.) সিজদায় পড়ে আল্লাহর এমন প্রসংশা করবেন যে, আল্লাহর রাগ পানি হয়ে যাবে। আল্লাহ তাআলা বলবেন, হে নবী আপনি মাথা উঠান, আপনি সুপারিশ করুন, কবুল করা হবে।

আমাদের নবী এমন নবী যার নবুওয়াত দুনিয়াতে চলবে, আখেরাতেও চলবে, জান্নাতেও চলবে।

রাসূল (সা.) শান্তির বাণী নিয়ে দুনিয়ায় আগমন করেছেন এবং বিশ্ববাসিকে শান্তির বাণী শুনিয়েছেন। বিদায় হজ্জের ভাষণে বলেন, হে সাহাবারা আজকের এই দিন এই মাস এবং এই শহর যেমনিভাবে সম্মানিত, তেমনিভাবে প্রতিটি মানুষের জান, মাল, আবরু-ইজ্জতও সংরক্ষিত। কারো জানের ক্ষতি করা যাবে না, মালের ক্ষতি করা যাবে না, কারো আবরু-ইজ্জতের ক্ষতি করা যাবে না। তোমাদের উপস্থিত ব্যক্তিরা যেন অনুপস্থিত ব্যক্তিদের নিকট আমার এই শান্তির বাণী পৌঁছে দেয়।

জান, মাল, আবরু-ইজ্জতের নিরাপত্তার ঘোষণা শুধু মুসলমানের জন্য নয়, বরং সকল মানুষের জন্য। রাসূল (সা.)এর এই ঘোষণা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজে শান্তি এবং নিরাপত্তা ফিরে আসবে।

আর যদি সারা বিশ্বে বাস্তবায়ন হয়, তাহলে সারা বিশ্বে শান্তি এবং নিরাপত্তা ফিরে আসবে। আর যদি এই ঘোষণার খেলাপ হয়, তাহলে সারা বিশ্বের মানুষ অশান্তি ভোগ করবে। রাসূল (সা.) শান্তি, কল্যাণ এবং মঙ্গলের বাণী শুনিয়েছেন।

ইসলাম শান্তি এবং সম্প্রীতির ধর্ম। ইসলাম সম্প্রীতি শিক্ষা দেয়। হিংসা-বিদ্বেষ শিক্ষা দেয় না। যে ইসলামের মাঝে এই নিরাপত্তার ঘোষণা রয়েছে সেই ইসলামের সাথে সন্ত্রাসের কোন সম্পর্ক থাকতে পারে না। ইসলাম এবং সন্ত্রাস একসাথে হতে পারে না। ইসলাম সন্ত্রাসকে উৎখ্যাত করে সন্ত্রাসকে অনুমোদন দেয় না।

সমাজের সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তি সে, যে মানুষের উপকার করে, মানুষের সেবা করে। সুতরাং আমাদের দুটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে- (১) কাউকে কষ্ট দেবো না, কারো কোন ক্ষতি করবো না। (২) মানুষের উপকার করবো।

হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে যে, এক নেককার মহিলা একটি বিড়ালকে আটকে রেখে মেরে ফেলার কারণে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করছে, আর এক বদকার মহিলা কুকুরকে পানি পান করানোর কারণে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাতে প্রবেশ করেছে।

রাসূল (সা.) আপন-পর, সক্ষম-অক্ষম, ছোট-বড়, ধনী-গরীব সকলেরই সেবা করতেন। তাঁকে যদি কেউ কষ্ট দিতো তাহলে তিনি তার থেকে বদলা না নিয়ে ক্ষমা করে দিতেন। এই আদর্শগুলো যদি আমাদের ভিতরে নিয়ে আসতে পারি, তাহলে আমাদের দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে এবং শান্তির সুবাতাস বইবে।

কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাযের হিসাব নেওয়া হবে। তাই নামাযের ক্ষেত্রে অবহেলা না করে সময় মতো নামায আদায় করতে হবে। হাদিস শরীফে বলা হয়েছে- কেউ যদি ৪০ দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামায তাকবীরে ঊলার সাথে আদায় করেন, তাহলে তার জন্য দুটি সুসংবাদ রয়েছে- (১) তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। (২) মুনাফিকের খাতা থেকে তার নাম কেটে মুমিনের খাতায় লিখে দেওয়া হবে।

আপনারা সকলে সন্তানদেরকে কুরআন শিক্ষা দিবেন। তাহলে পাপাচার, গুম-খুন, সুদ-ঘুষ, যিনা-ব্যবিচার সমাজ থেকে পালায়ন করবে। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। রাসূল (সা.) এমন একটি যুগে আগমন করেছিলেন, যে সময়টাতে মানুষ মানুষকে চিনতো না, মানুষের মর্যাদার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করতো না। নারীদেরকে ভোগের পণ্য হিসাবে ব্যবহার করা হতো। খুন-খারাবী ছিল নিত্য দিনের ব্যাপার। কিন্তু রাসূল (সা.) যখন এই মানুষগুলোর মাঝে কুরআনের বাণী শুনালেন, তখন সেই মানুষগুলো সোনার মানুষে পরিণত হলেন। কুরাআনের পরশে তারা হয়ে গেলেন সত্যের মাপকাঠি। তাদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত হলো শান্তি এবং নিরাপত্তা।

আমাদের সমাজে কুরআনের শিক্ষা না থাকার কারণে সমাজে অশান্তির জয়জয়কর অবস্থা। যুব সমাজ মাদকাসক্ত থেকে শুরু করে গুম-খুনের মত মারাত্মক অপরাধে জড়িত। তাই সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হলে কুরআন শিক্ষার বিকল্প নেই। তাই সময় নষ্ট না করে এখন থেকেই কুরআন শিক্ষার প্রতি মনোনিবেশ করুন। সন্তানদেরকে কুরআনের আলোয় আলোকিত করুন।

রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন- ৫টি জিনিসের পূর্বে ৫টি জিনিসকে গণিমত মনে করো- (১) যৌবনকালকে বার্ধক্য আসার পূর্বে। (২) সুস্থতাকে অসুস্থতার পূর্বে। (৩) ধনাঢ্যতাকে দারিদ্রতার পূর্বে। (৪) অবসর সময়কে ব্যস্ততার পূর্বে। (৫) জীবনকে মৃত্যুর পূর্বে।
তাই সকলের প্রতি অনুরোধ থাকবে, নিজেদের মূল্যবান সময়কে নষ্ট না করে তাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন।

আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে এই কথাগুলোর উপর আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

লেখক: প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক- জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা-ঢাকা, মহাসচিব- জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, সহসভাপতি- বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.