Home সোশ্যাল মিডিয়া করোনাভাইরাস: জনসচেতনতাই বড় প্রতিষেধক

করোনাভাইরাস: জনসচেতনতাই বড় প্রতিষেধক

।। আবুজার গিফারী ।।

আজ সারা বিশ্বে বড় আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত একই আলোচনা সবার মুখে ঘুরেফিরে। সবার একটাই চাওয়া- কীভাবে এ থেকে আমরা পরিত্রাণ পেতে পারি।

আজ বিশ্ব থরথর করে কাঁপছে এ মহামারী ভাইরাসের প্রকোপের ফলে। শিশু থেকে কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ সবার চোখে মুখে একটি আতঙ্কের নাম COVID-19। সব দেশই তাদের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছে এটাকে প্রতিহত করতে; কিন্তু এ ভাইরাসটির কাছে সব দেশই যেন আত্মসমর্পণ করেছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী তো বলেই দিছে, ‘পৃথিবীর সব সমাধান শেষ হয়ে গেছে; একমাত্র সমাধান আকাশের কাছে।’

চীন থেকে শুরু হয়ে ভাইরাসটি পর্যায়ক্রমে ইতালি, স্পেন, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, ইরানসহ অনেক দেশে আজ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কোনো দেশই এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য প্রতিষেধক তৈরি করতে পারেনি। ইতালির লোকজন ভাইরাসটিকে ছোট করে দেখার কারণে আজ তাদের মাশুল গুনতে হচ্ছে। ইতালিতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে। তারা এখন কিংকর্তব্যবিমূঢ়; যেটা সে দেশের প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ থেকেই আন্দাজ করা যায়। চীন খানিকটা কাটিয়ে উঠলেও এখনও পুরোপুরি স্থির হতে পারেনি।

সৌদি আরবের অনেক মসজিদে নামাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে; এমনকি মুসলমানদের উমরা পালনও স্থগিত রাখা হয়েছে। যে শহরগুলোর রাস্তায় উপচে পড়া ভিড় থাকত, সে শহরগুলা আজ যেন ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে বিশ্রাম নিচ্ছে। রাস্তা, শপিংমল, ট্যুরিস্ট প্লেসসহ সব জায়গা এখন জনশূন্য। এর ফলে বিশ্বের শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে; এমনকি বিশ্ব অর্থনীতিতেও খানিকটা ধস নামার আশঙ্কা করা যাচ্ছে।

দেশে এখন পর্যন্ত ভাইরাসটি মহামারী আকার ধারণ করেনি; তবে ভাইরাসটি সংক্রমিত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। বাংলাদেশে মৃতের সংখ্যা ৫, আক্রান্তের সংখ্যা ৪৮ ও হোম কোয়ারেন্টিনে আছে সহস্রাধিক। ইতিমধ্যে অনেক পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে ভাইরাসটি প্রতিহত করতে; এমনকি স্কুল, কলেজসহ সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু তারপরও করোনা মোকাবেলার প্রস্তুতি নিয়ে আমাদের শঙ্কা কাটছে না।

সব দেশের চিকিৎসকরা গবেষণা করে ভাইরাসটি প্রতিহত করতে একটিমাত্র প্রতিষেধক পেয়েছে আর সেটা হল জনসচেতনতা। সুতরাং জনসচেতনতাই হল ভাইরাসটির বড় প্রতিষেধক। আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে; যেমন- অযথা চায়ের দোকানে বা বাজারে সময় না কাটানো, বাজার থেকে বাড়িতে এসেই সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে ফেলা, গরম পানি বা চা পান করা ও শাকসবজি বেশি বেশি খাওয়া এবং হাঁচি দেয়ার সময় টিস্যু বা রুমাল ব্যবহার করা ও বাড়ির বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার করা।

আমরা যদি সচেতন হয়ে এ ভাইরাসটিকে প্রতিহত করতে পারি তাহলে হয়তো বা আমাদের ইতালি, চীন, স্পেনের মতো মৃত্যুর মিছিল প্রত্যক্ষ করতে হবে না।

লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।