Home প্রবন্ধ-নিবন্ধ বায়ুদূষণে ঢাকায় করোনার প্রভাব

বায়ুদূষণে ঢাকায় করোনার প্রভাব

0

।। সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা ।।

বিশ্বের অধিক বায়ুদূষণ মাত্রার শহরগুলোতে দূষণমাত্রা কমে আসলেও মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ঢাকা শীর্ষে ওঠে এসেছে। ফলে রূপসী নগরী এখন বিশ্বের সর্বোচ্চ বায়ুদূষণের নগরী। বায়ুদূষণ শুধু জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণই নয় বরং করোনার মত প্রাণঘাতি ভাইরাসও বায়ু দূষণের কারণে দ্রুত বিস্তৃতি লাভ করতে পারে বলে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। এছাড়াও বায়ুদূষণ বিভিন্ন প্রাণঘাতি রোগ ও অ্যালার্জির অন্যতম অনুসঙ্গ । ২০১৪ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা (ডব্লিউএইচও) এর রিপোর্ট অনুযায়ি ২০১২ সালে বায়ু দূষণে সারা বিশ্বে প্রায় ৭ মিলিয়ন মানুষের প্রাণহানী ঘটেছে । পরবর্তীতে এই মৃত্যু হার প্রতিবছর গড়ে ৯ মিলিয়নে পৌঁছেছে। আর এই হার ক্রমেই বাড়ছে।

সম্প্রতি করোনা ভাইরাস নিয়ে বিশ্বের প্রায় সকল দেশেই টালটামাল অবস্থা চলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, করোনা মহামারি প্রকট আকার ধারণ করছে। চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে গত ডিসেম্বর মাসে প্রাদুর্ভাব হয় করোনা ভাইরাসের। এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়েছে। আমাদের দেশে এই ভাইরাসের সংক্রমন শুধু দেখা দেয়নি বরং তা রীতিমত উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকার এটি নিয়ন্ত্রিত বললেও বেসরকারি সূত্রগুলো অবশ্য বিষয়টি নিয়ে কিছুটা দ্বিমত পোষণ করছেন। সরকারি হিসেব মতে এ পর্যন্ত আমাদে দেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৩ জন। এরমধ্যে সুস্থ্য হয়ে উঠেছেন ৫জন। মৃত্যের সংখ্যা ৩। করোনার বৈশ্বিক পরিসংখ্যান হলো মোট আক্রান্ত দেশ ১শ ৭৩, আক্রান্ত মানুষ ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬শ ৯৭ জন এবং প্রাণহানী ১৫ হাজার ৪শ ৮৮ জন। (সূত্র-প্রথম আলো, ২৪/৩/২০)

মূলত করোনা আতঙ্কেই বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বেই নিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছে গণমানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সরকার ইতোমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় লক ডাউন সহ সরকারি অফিস-বন্ধ ও সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ঢাকার নগরজীবনেও পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। প্রাপ্ত তথ্যমতে, করোনা আতঙ্কে গোটা বিশ্বের ১শ কোটি মানুষ নিজ বাসস্থানে অবরুদ্ধ। প্রাণঘাতি এই ভাইরাসের সংক্রমণ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ায় রাস্তাঘাট ও কলকারখানা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের ব্যস্ততা কমে যাওয়ায় বিশ্বের বেশির ভাগ দেশের বায়ুদূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণ কমেছে ব্যাপক হারে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম দূষিত বায়ু ও কার্বন নিঃসরণকারী দেশ চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের বায়ুর মানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে। কিন্তু এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম শুধু আমাদের ঢাকা নগরী। শ্রোতের বিপরীতে এখানে বায়ুদূষণ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ঢাকা এখন বিশ্বের শীর্ষ বায়ুদূষণের শহরের তকমা পেয়েছে। বিশ্বের বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা এয়ার ভিজ্যুয়াল ও যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশবিষয়ক সংস্থা নাসার পর্যবেক্ষণে এই অনাকাঙ্খিত চিত্রই ওঠে এসেছে। ফলে নগরবাসী এখন আতঙ্কের মধ্যেই বসবাস করছেন।

সম্প্রতি এয়ার ভিজ্যুয়ালের প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, গত ২২ মার্চ সকাল আটটা থেকে ঢাকা শহর বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে। কিন্তু কোন ভাবেই এই অবস্থার উন্নতি ঘটছে না। বৈশ্বিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর পর্যবেক্ষণে বলা হচ্ছে, বায়ুদূষণের অন্যতম উৎস হচ্ছে ধুলোবালি। এর মধ্য দিয়ে করোনা ভাইরাসের জীবাণু সহজে ছড়িয়ে পড়ার জোরালো আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ধূলিকণা মুখে গেলে মানুষ যত্রতত্র থুতু ও কফ ফেলে। আর তা ধুলার সঙ্গে মিশে হাতসহ নানা মাধ্যম দিয়ে মানব দেহে প্রবেশ করে। আর ঢাকার বায়ুদূষণ মাত্রা যেভাবে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে তাতে করোনা ভাইরাস যেকোন মহুর্তে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আর সার্বিক পরিস্থিতি বোধহয় সেদিকেই মোড় নিচ্ছে।

স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ুমন্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) সম্প্রতি ঢাকার ধুলাদূষণ নিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, ঢাকা শহরের গাছপালায় প্রতিদিন ৪ শ ৩৬ মেট্রিক টন ধূলিকণা জমছে। সে হিসাবে মাসে ১৩ হাজার মেট্রিক টন ধুলা জমা হবে বলে মনে করছেন গবেষকরা। এই জমে থাকা ধুলা দিনের বেলা বাতাসের সঙ্গে মিশে যেমন দূষণ বাড়ায়, তেমনিভাবে রাতে গাড়ির অতিরিক্ত গতির সঙ্গে বাতাসে উড়তে থাকে। সঙ্গত কারণেই দিনের বেলা থেকে রাতের বেলা বায়ুদূষণের মাত্রা বেড়ে যায় আশঙ্কাজনকভাবে। ঢাকার চারটি উদ্যানে বিভিন্ন প্রজাতির ৭৭টি গাছের পাতা সংগ্রহের পর ফেব্রুয়ারি মাসে এই গবেষণা পরিচালনা করে ক্যাপস।

বস্তুত, ঢাকার বায়ুদূষণের বর্তমান অবস্থা খুবই উদ্বেগজনক। এমতাবস্তায় প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস ঢাকা নগরীতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পাড়ে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমনকি তা সারাদেশেই ছড়িয়ে পড়ার সম্ভবনাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। এমতাবস্থায় ধুলার মাধ্যমে ঢাকায় যাতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে না পড়তে পারে, সেই ব্যবস্থা দ্রুত নিতে তারা সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ, গত সপ্তাহ থেকেই ঢাকার বায়ু দূষণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েই চলেছে। বিশ্বের প্রায় সব দেশের প্রধান শহরগুলোর বায়ু দূষণের সূচক ২শ এর নিচে হলেও ঢাকায় বায়ুর মানের সূচক প্রায় ৩শ। সম্প্রতি করোনা পরিস্থিতিতে ঢাকায় যানবাহন ও গণজমায়েত কমলেও এখনো ইটভাটাগুলো চালু রয়েছে। বড় অবকাঠামো ও অন্যান্য নির্মাণকাজও চলছে যথারীতি। সেগুলো থেকে বিপুল পরিমাণে ধুলা এসে রাজধানীতে জমা হচ্ছে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের উল্লেখ করার মত কোন তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উৎস হচ্ছে ইটভাটা। এরপরই রয়েছে নির্মাণকাজের ধুলা, পরিবহন ও শিল্পকারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া। বর্তমানে সারা দেশে ৮ হাজার ৩৩ টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৮৩৭টি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি গ্রহণ করেনি। আর পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই ২ হাজার ৫১৩টির। এই দু’টি শর্তই পালন করেনি এমন ইটভাটা রয়েছে ৩ হাজারেরও বেশি। ফলে ঢাকা সহ গোটা দেশের বায়ু দূষণের মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায় পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা এয়ার ভিজ্যুয়ালের হিসাব অনুযায়ী, ১৯ ও ২০ জানুয়ারি বাংলাদেশ সময় রাত ১১টার দিকে বিশ্বে সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় ঢাকা ছিল এক নম্বরে। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল নয়াদিল্লি।

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স অব দ্য টোটাল এনভায়রনমেন্ট এবং এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড পলুশন রিসার্চ- চলতি মাসে তাদের পৃথক দুটি গবেষণাপত্রেও ঢাকায় বায়ু দূষণের মারাত্মক ঝুঁকির কথা প্রকাশ করেছে। জানুয়ারি মাসের পর ঢাকার বায়ুদূষণমাত্রা কিছুটা ওঠা নামা করলেও এখন শুধু শীর্ষ পর্যায়ের ওঠে আসেনি বরং তা এখন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বলেই পরিবেশবিদরা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণকাজ, তীব্র যানজট, মেয়াদোত্তীর্ণ মোটরযান ও শিল্পকারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত ভারী ধাতু ধুলার সঙ্গে যোগ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ফলে রাস্তঘাট বা খোলা স্থান ছাড়াও বাড়িঘর, অফিস-আদালত, হাসপাতাল, শ্রেণিকক্ষ ও খেলার মাঠেও বাতাসে ক্ষতিকর অতি ক্ষুদ্র বস্তুকণার উপস্থিতি দেখা দিয়েছে।

গবেষণায় ঢাকার রাস্তার ধুলায় সর্বোচ্চ মাত্রায় সিসা, ক্যাডমিয়াম, দস্তা, ক্রোমিয়াম, নিকেল, আর্সেনিক, ম্যাঙ্গানিজ ও কপারের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে মাটিতে যে মাত্রায় ক্যাডমিয়াম থাকার কথা, ধুলায় তার চেয়ে প্রায় ২শ গুণ বেশি পাওয়া যাচ্ছে। আর নিকেল ও সিসার মাত্রা দ্বিগুণের বেশি। খুব সহজেই এসব ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুকণা ত্বকের সংস্পর্শে আসছে; শ্বাসপ্রশ্বাস, খাদ্য ও পানীয়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরেও প্রবেশ করছে। এতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ছে নগরবাসী, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা। শ্বাসকষ্ট থেকে শুরু করে শরীরে বাসা বাঁধছে ক্যানসারসহ নানা ধরনের রোগবালাই।

বর্তমানে ঢাকা শহরে বায়ু দূষণের অন্যতম কারণ হচ্ছে রাস্তা খোড়াখুড়ি ও বিভিন্ন ধরনের নির্মাণ কাজের কারণে সৃষ্ট ধুলাবালি। এছাড়া গাড়ি থেকে নির্গত ও ইট ভাটার ক্ষতিকর ধোয়া। এসব ক্ষেত্রে পরিবেশ সুরক্ষা আইন থাকলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ নেই। আর আইন অমান্যের প্রবণতাও এজন্য কম দায়ি নয়। উন্নত দেশগুলোতে নির্মাণ কাজের সময় বিশেষ প্রক্রিয়ায় ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে কোনো ধরনের কোন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না রেখেই সরাসরি নির্মাণ কাজ করা হয়। ফলে সাধারণ মানুষ শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসে ক্যান্সার, যক্ষাসহ নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এক্ষেত্রে বিশেষ করে নারী এবং শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। গবেষকরা বলছেন, আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরে এই বায়ু দূষণের মাত্রা আরও ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছবে। আর পানি দূষণ, মাটি দূষণ, বায়ু দূষণও চলে যাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

মূলত তিন কারণে ঢাকাসহ সারাদেশে বায়ু দূষণের মাত্রা বাড়ছে বলে সরকার পক্ষে দাবি করা হচ্ছে। সেগুলো হলো-ইটভাটা, মোটরযানের কালো ধোঁয়া এবং যথেচ্ছ নির্মাণকাজ। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ঢাকার বায়ু ও শব্দদূষণ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে একটি সভাও করেছে বলে জানা গেছে। সরকারি-বেসরকারি অবকাঠামো, বিভিন্ন কাজ এবং ইউটিলিটি সার্ভিসের কাজের জন্য সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা প্রয়োজন বলে সভায় সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেস-হাইওয়েসহ বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। এমনকি শহরের বিভিন্ন স্থানে ভবন নির্মাণের সময় পানি ছিটানো, যন্ত্রপাতি যত্রতত্র ফেলে না রাখা ও নির্মাণের ক্ষেত্র নির্ধারিত বেষ্টনীর মধ্যে আছে কি না তা দেখার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে বলে সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে। সিদ্ধান্তগুলো খুবই চমৎপ্রদ ও ইতিবাচক হলেও তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশে বায়ু দূষণের উৎস নিয়ে চলতি বছরের মার্চে একটি গবেষণা প্রকাশ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংক। এতে দেখা যায়, দেশে বায়ু দূষণের প্রধান তিনটি উৎস হচ্ছে-ইটভাটা, যানবাহনের কালো ধোঁয়া ও নির্মাণকাজ। আট বছর ধরে এ তিন উৎস ক্রমেই বাড়ছে। ২০১৩ সালে পরিসংখ্যান ব্যুরো থেকে দেশের ইটভাটাগুলোর ওপর একটি জরিপ করা হয়। তাতে দেখা যায়, দেশে ইটভাটার সংখ্যা ৪ হাজার ৯৯৫টি। ২০১৮ সালে পরিবেশ অধিদপ্তরের জরিপে দেখা যায়, ইটভাটার সংখ্যা বেড়ে ৭ হাজার ৯০২টি হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৪৮৭টি ইটভাটা ঢাকা বিভাগের মধ্যে গড়ে উঠেছে। ওই গবেষণার তথ্যানুযায়ী, ২০১০ সালে দেশে মোট যানবাহনের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৬৭৭। ২০১৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ১৯ হাজার ৬৫৪। বায়ু দূষণের এসব অনুসঙ্গ ক্রমবর্ধমান হলেও পরিবেশের সাথে এসবকে খাপ খাওয়ানোর বিষয়ে সরকারের উল্লেখযোগ্য কোন তৎপরতা নেই। এমতাবস্থায় গোটা দেশই এখন ভয়াবহ বায়ুদূষণের কবলে পড়েছে।

এয়ার ভিজ্যুয়ালের পর্যবেক্ষেণ ঢাকা এখন বিশ্বের শীর্ষ বায়ুদূষণের শহর। ফলে নগরবাসী হাঁপানী, যক্ষ্মা সহ নানাবিধ জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। আর উচ্চমাত্রার বায়ুদূষণের কারণে ঢাকায় করোয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞগণ। তাই করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যথায় করোনার মত প্রাণঘাতি ভাইরাস ঢাকা নগরীতে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠতে পারে।

– সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা, ঢাকা- ১ এপ্রিল/২০২০ইং। ইমেইল- [email protected]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.