Home অন্যান্য খবর শায়েখে ইমামবাড়ি প্রজ্ঞাবান উঁচু মাপের বাযূর্গ আলেম ছিলেন: আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক

শায়েখে ইমামবাড়ি প্রজ্ঞাবান উঁচু মাপের বাযূর্গ আলেম ছিলেন: আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক

উম্মাহ প্রতিবেদক: শতবর্ষী প্রাচীন ইসলামী রাজনৈতিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি, দেশবরেণ্য প্রবীণ বুযূর্গ আলেমে-দ্বীন এবং বৃটিশবিরোধী আযাদী আন্দোলনের সিপাহসালার শায়খুল আরব ওয়াল আজম আল্লামা হুসাইন আহমদ মাদানী (রাহ.)এর অন্যতম প্রিয় বিশিষ্ট খলীফা আল্লামা আব্দুল মু’মিন শায়েখে ইমামবাড়ি (রাহ.)এর ইন্তিকালে গভীর শোকপ্রাকাশ করে বার্তা দিয়েছেন দলের সহসভাপতি শায়খুল হাদীস আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক।

গতকাল (৯ এপ্রিল) বৃহস্পতিবার এক শোকবার্তায় আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক মরহুম শায়েখে ইমামবাড়ি’র বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্তসমূহ গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি মহান আল্লাহ’র দরবারে মরহুম শায়েখে ইমামবাড়ি (রাহ.)’র রূহের মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফিরদাউসের আ’লা মাক্বামের জন্য বিশেষ দোয়া-মুনাজাত করেন।

শোকবার্তায় আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, শায়েখে ইমামবাড়ি (রাহ.)এর মতো একজন হক্কানী প্রজ্ঞাবান উঁচু মাপের বাযূর্গ আলেম এবং দূরদৃষ্টি সম্পন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব দ্বিতীয় আরেকজন পাওয়া দুষ্কর। তাঁর ইন্তেকালে বিশেষ করে জমিয়ত পরিবার এতীম হয়ে গেল। দেশ একজন প্রতিথযশা বাযূর্গ ও বিচক্ষণ মুরুব্বী হারাল এবং আমিও একজন ছায়ার মতো প্রশান্তিদায়ক মুরব্বীহারা হয়ে গেলাম।

আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক শোকবার্তায় শায়েখে ইমামবাড়ির বর্ণাঢ্য ইলমি ও আমলী জীবনের স্মরণ করে বলেন, তিনি লাগাতার অর্ধযুগ সময় বিশ্ববিখ্যাত ইলমি মার্কাজ দারুল উলূম দেওবন্দে পড়ালেখা করে তৎকালীন সময়ের সেরা সেরা মুহাদ্দিস, আলেম ও বুযূর্গগণের লাগাতার সাহচর্য পেয়েছেন। কঠিন কঠিন ফনুনাত, মানতেক, হিকমতের কিতাব তাকরার করাতেন। ভারতীয় উপমহাদেশের আযাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ শায়খুল ইসলাম আল্লামা হুসাইন আহমদ মাদানী (রাহ.)এর ধারাবাহিক সহচর্য ও খেদমতে ছিলেন। অধ্যাপনা শেষ করে দেশে ফেরার পর দীর্ঘ সময় ইলমে নববীর খেদমতে হাদীসের মসনদে বসে সিহাহ সিত্তার দরস দিয়ে গেছেন। তাঁর হাতে বিপুল সংখ্যক উলামায়ে কেরাম, দ্বীনের দায়ী ও ইসলামী রাজনৈতিক নেতাকর্মী গড়ে ওঠেছে।

শায়েখে ইমামবাড়ির স্মৃতিচারণ করে আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক আরো বলেন, তিনি দুনিয়াবী যিন্দেগীতে অত্যন্ত সহজ সরল ও সাদামাটা চলাফেরা করতেন। তিনি একেবারেই নিরহংকারী ও সহজ-সরল চিন্তার অধিকারী ছিলেন। খুব অল্পে সন্তুষ্ট থাকতেন। তাঁর চরিত্রে কখনো ব্যক্তিগত উচ্চাশা পোষণ বা উচ্চাকাঙ্খার প্রকাশ দেখা যায়নি। নামধাম, যশ-খ্যাতি, পদের আকাঙ্খা; এসবের ঊর্ধ্বে ছিলেন তিনি। সব সময় পরিপূর্ণ সুন্নাতের উপর আমল করে চলতেন। তাঁর চলাফেরায় সামান্যতমও লৌকিকতার কখনো প্রকাশ ঘটেনি। অত্যন্ত বিনয়ী, উঁচুমাপের ভদ্র, মৃদুভাষি, শান্ত প্রকৃতির ছিলেন। তবে তিনি অত্যন্ত চৌকষ এবং সববিষয়ে খোঁজ-খবরও রাখতেন, সচেতন ছিলেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট, রাজনীতি, মানবাধিকার পরিস্থিতি, মুসলমানদের সার্বিক অবস্থা এবং আলেম সমাজের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সজাগ ও সচেতন ছিলেন।

আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক আরো বলেন, আল্লামা শায়েখে ইমামবাড়ি উুঁচুমাপের আমলদার বুযূর্গ ছিলেন। হযরত শায়খুল ইসলাম মাদানী (রাহ.)এর অত্যন্ত আস্থাভাজন ও প্রিয় খলীফা ছিলেন। আসামে হযরতের সাথে ইতিকাফ রত অবস্থায় তিনি খিলাফতপ্রাপ্ত হন। তিনি মুতাআল্লীকীনদেরকেও সবসময় পরিপূর্ণ সুন্নাতের অনুসারী ও সাদাসিধে জীবনের তাগিদ ও উৎসাহ দিতেন। তিনি ৭-৮ পারা কুরআন শরীফ মুখস্ত তিলাওয়াত পারতেন। তাঁর পুরো যিন্দেগীর আমল ছিল- ইশা’র নামায আদায় করে বিশ্রামে যেতেন এবং রাত ১/২টার দিকে বিছানা ত্যাগ করে তাহাজ্জুদে রত হয়ে পড়তেন। প্রতি রাতেই তিনি তাহাজ্জুদে মুখস্ত থাকা সেই ৭-৮ পারা কুরআন তিলাওয়াত করে তাহাজ্জুদ শেষ করতেন। ইলম ও আমলে শায়েখে ইমামবাড়ির হালত অনেক উচ্চ তবক্বার ছিল। রাজনৈতিক, সামাজিক ও মানবাধিকার নিয়েও হযরতের দূরদৃষ্টি, ভূমিকা ও প্রজ্ঞাপূর্ণ নেতৃত্ব ছিল অতুলনীয়। দেশ ও জাতির যে কোন সঙ্কট ও প্রয়োজনে হযরত মূল্যবান দিকনির্দেশনা ও ভূমিকা পালনে বিলম্ব করতেন না।

আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, বর্তমানে ইসলামবিদ্বেষী চক্রের বহুমুখী ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে উম্মাহ নানান সঙ্কটের মুখোমুখি। এরকম কঠিন সময়ে শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানী (রাহ.)এর সরাসরি সহচর্য ও খেলাফতপ্রাপ্ত রাজনৈতিক দূরদৃষ্টিসম্পন্ন শায়েখে ইমামবাড়ির পরামর্শ ও নির্দেশনা রাজনৈতিক নেতৃত্ব, আলেম সমাজ ও উম্মাহ’র জন্য অত্যন্ত জরুরী ছিল। হযরতের ইন্তিকালে আলেম সমাজ ও উম্মাহ’র যে ক্ষতি হয়ে গেল, তা সহজে পুরণ হবার নয়।

আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক শায়েখে ইমামবাড়ী (রাহ.)এর মাগফিরাত কামনা করে বলেন, দয়াবান আল্লাহ্ তা’আলা যেন হযরতকে স্বীয় রহমতের চাদরে আবৃত করে নেন এবং পরকালে জান্নাতের আ’লা মাক্বাম দান করেন। আমীন।

শোক বার্তায় আল্লামা ফারুক শায়েখে ইমামবাড়ি (রাহ.)এর অগণিত ছাত্র, ভক্ত, মুরীদ, শুভানুধ্যায়ী, জমিয়তের শোকাহত নেতাকর্মী এবং শোকসন্তুপ্ত পরিবারের সদস্যবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং তাঁদের সকলের সবরে-জামিলের জন্য দোয়া করেন।

উল্লেখ্য, দেশের প্রাচীনতম ইসলামী রাজনৈতিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি, দেশবরেণ্য আলেমে-দ্বীন আল্লামা আব্দুল মোমিন শায়খে ইমামবাড়ি বার্ধক্যতাজণিত অসুস্থতায় নিজ বাসভবনে গত ৮ এপ্রিল রাত সাড়ে ১২টায় ইন্তিকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহী রাজিঊন।