Home জাতীয় করোনার হাত ধরে দ্রুত এগিয়ে আসছে দারিদ্রের প্রকোপ

করোনার হাত ধরে দ্রুত এগিয়ে আসছে দারিদ্রের প্রকোপ

0
দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের নারী-পুরুষ কিছু ত্রাণের আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদ মাথায় লাইনে দাঁড়িয়ের থাকার করুণ দৃশ্য এখন সারা দেশে দেখা যায়।

করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বংলাদেশের মাঝারি থেকে নিম্ন পর্যায়ের অতিদরিদ্র মানুষেরা চরম বিপর্যয়ে পড়েছে। শহরাঞ্চলে ৮০ শতাংশ মানুষ এবং গ্রামে ৭৯ শতাংশ এখন কর্মহীন হয়ে পড়েছে। নতুন সৃষ্ট দরিদ্রশ্রেণির ৭১ শতাংশ মানুষের আয় কমে গেছে। পরিস্থিতি এখন যা দাঁড়িয়েছে, তাতে এসব পরিবার মাত্র এক থেকে দুই সপ্তাহ আর চলতে পারবে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এবং ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) এক যৌথ জরিপে এমন ভয়ংকর চিত্র ফুটে উঠেছে।  

গত বৃহস্পতিবার এক ভিডিও কনফারেন্সে ‘পোভার্টি ইমপ্যাক্ট অব কোভিড–১৯’ শীর্ষক এ গবেষণার ফল তুলে ধরা হয়। মোট ৫ হাজার ৪৭১টি পরিবারের সাথে ৪ থেকে ১২ এপ্রিল টেলিফোনে মতামত সংগ্রহের ভিত্তিতে এ জরিপ পরিচালিত হয়। এসব মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাধারণ দিনমজুর, তাঁদের সংখ্যা ৪১ শতাংশ। এ ছাড়া আছেন কৃষক, নিয়মিত মজুরি পাওয়া শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

আরও পড়তে পারেন-

যুগে যুগে নবী-রাসূলগণ দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ করে গেছেন

ভাইরাস ও ভ্যাকসিন ব্যবসা: এখনি সোচ্চার হওয়ার সময়

গুনাহর ক্ষতি এবং বেঁচে থাকার উপায়

ঢাকার প্রায় অর্ধেক মানুষ বিষণ্ণতায় ভূগছে, সমাধান কী?

মহানবী (সা.)এর মহিয়সী সহধর্মীনীগণ

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনার কারণে উপার্জনহীন হয়ে পড়া সংকট কবলিত মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা দরকার। সরকারের প্রথাগত ত্রাণ সহায়তার বাইরে এসে এখন জরুরি ভিত্তিতে এ সহায়তা দিতে হবে। এতে কমপক্ষে ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকার তহবিল  দরকার। তাছাড়া জরুরি ভিত্তিতে ওএমএস পুণরায় চালু করতে হবে।জরিপকৃত পরিবারগুলো জানিয়েছে, সংকট শুরু হওয়ার পর ব্যক্তিগত সঞ্চয় বা ধারদেনা করে তারা চালাচ্ছে। কিন্তু এখন অর্থ ও খাদ্যসহায়তা না পেলে আর মাত্র ১০ দিন টিকতে পারবে তারা। তাই এ মাসের শেষে এসব পরিবারের অবস্থা নাজুক হয়ে পড়বে।

পিপিআরসি–বিআইজিডির গবেষণায় বলা হয়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিম্ন আয়ের মানুষের আয় ও কর্মসংস্থানে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। শহুরে দরিদ্র মানুষদের আয় গত ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় ৮২ শতাংশ কমে গেছে। আর গ্রামের দরিদ্র মানুষের আয় কমে গেছে ৭৯ শতাংশ। তিন ধরনের দরিদ্রশ্রেণির আয় গড়ে ৭৬ শতাংশ কমে গেছে।

করোনার কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে শহরে কাজ হারিয়েছেন ৭১ শতাংশ শ্রমজীবী মানুষ। গ্রামে এ সংখ্যা অপেক্ষাকৃত কম, ৫৫ শতাংশ। এ পরিস্থিতিতে খাবারের জন্য ব্যয় কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে মানুষ। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় শিকার নতুন দরিদ্ররা। তাদের ৩৬ শতাংশ ব্যয় কমাতে হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে এসব মানুষের পুষ্টি পরিস্থিতির ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে। সেখানে পুষ্টির পরিমাণ কমেছে ২৩ শতাংশ, গ্রামে ১৫ শতাংশ। শহরে মানুষের খাবারের পরিমাণ কমে গেছে ৪৭ ভাগ, গ্রামে ৩২ ভাগ।

এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে নিজেদের খাবার সংগ্রহ করছে? বেশির ভাগ মানুষ বলেছে, এ ক্ষেত্রে তারা নিজেদের সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছে। আর এর পাশাপাশি ধার-দেনা করে বা প্রতিবেশী বন্ধু ও আত্মীয়দের সহযোগিতা নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে। আর খাবার কমিয়েও এ পরিস্থিতির সঙ্গে যুঝতে হচ্ছে। মাত্র ১৪ শতাংশের মতো মানুষ বলেছে, তারা সরকারি সহায়তা পেয়েছে। আর ৫ শতাংশ পেয়েছে এনজিওর সহায়তা।

উম্মাহ২৪ডটকম:আইএএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন:-
https://www.ummah24.com

রহস্যজনক ডুবোজাহাজ এক্স-ক্রাফট: অভিযানের গন্তব্য কেউ জানে না

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.