Home রাজনীতি ‘অর্থনীতি বাঁচাতে শিল্প-কারখানা উন্মুক্ত হলে, ঈমান বাঁচাতে মসজিদও উন্মুক্ত করতে হবে’

‘অর্থনীতি বাঁচাতে শিল্প-কারখানা উন্মুক্ত হলে, ঈমান বাঁচাতে মসজিদও উন্মুক্ত করতে হবে’

ছবি- উম্মাহ।


এম. আলম: বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, গবেষক ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মুফাসসিরে কুরআন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব খতীবে বাঙ্গাল আল্লামা জুনায়েদ আল হাবীব বলেছেন, অর্থনীতিকে বাঁচানোর জন্য যদি শিল্প কল-কারখানা উন্মুক্ত করা হয়, তাহলে ঈমান বাঁচানোর জন্য মসজিদও উন্মুক্ত করতে হবে।

গতকাল (৩০ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, করোনা ভাইরাস বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোকেও মোকাবেলা করতে  হয়েছে। আমাদের দেশেও কিছু দিন যাবত লকডান দিয়ে সবকিছু বন্ধ রাখা হয়েছে। লোক সমাগম হলেই করোনা আক্রান্ত হতে পারে- এই কারণ দেখিয়ে অফিস-আদালত, শিল্প, কল-কারখানা, উন্নয়নমূলক নির্মাণ কাজ, অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ, হোটেল-রেষ্টুরেন্ট, মার্কেট, দোকান, নাগরিক চলাচল, রাস্তাঘাট, সভা-সমাবেশ, ওয়াজ-মাহফিল, নামাজের উন্মুক্ত জামাত’সহ সবকিছু বন্ধ রাখা হয়েছে। অথচ গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতনের দাবীতে মিছিল, গরীব ও দিন মজুর ত্রাণের দাবীতে মিছিল, টিসিবির মাল ক্রয়ে বিশাল বিশাল জটলা, হাট-বাজারে লোক-সমাগমের ভিড় ইত্যাদি কিছুই কন্ট্রোল করতে পারেনি সরকার।

আরও পড়তে পারেন-

মাহে রমযানের ফযীলত এবং বিধি-বিধান ও পূর্ণাঙ্গ মাসআলা

কখন জমিনে মহামারি ছড়িয়ে পড়ে এবং মু’মিনদের করণীয়

মুসলমানদের মাঝে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা

নারীর অর্থ উপার্জন প্রসঙ্গে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

‘করোনাভাইরাস শক্তিশালীদের মাথা নত করতে বাধ্য করেছে’

খতীবে বাঙ্গাল বলেন, এসকল উপস্থিতির কারণে এবং ক্রেতা-বিক্রেতা ও ত্রাণ গ্রহিতাদের ভিড়ে যে সংক্রমণ ভয়াবহ মাত্রায় ছড়িয়ে পড়তে পারে, এই নিয়েও কোন শোরগোল দেখা যাচ্ছে না। অথচ একশ্রেণীর মানুষ, যাদের মসজিদের সাথে কোন সম্পর্ক নেই, নামায-কালামের ধার ধরতে কখনো যাদের দেখা যায় না, তাদেরকেই মসজিদের জামাত নিয়ে উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচারে জড়িত দেখা যায়। যারা মসজিদেই যান না, তারা কী করে মসজিদের সুন্দর পবিত্রময় পরিবেশ সম্পর্কে জানবেন? কী করে তারা মসজিদ নিয়ে কথা বলেন?

আল্লামা জুনায়েদ আল-হাবীব আরো বলেন, আমাদের  সমাজে এখনও যারা মসজিদে নামাজের জামাতে  উপস্থিতির মাঝেই শুধুমাত্র করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন, তাদের উপলব্ধির জন্য বলতে চাই যে, বিগত দিনগুলোতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী প্রত্যেকটি লাশ যে আলেম সমাজ সামান্য প্রটেকশনে দেশের সর্বত্র কাফন-দাফন করে যাচ্ছেন, তাদের একজনও কিন্তু এখনো পর্যন্ত আক্রান্ত হননি। কারণ, তাঁরা নিজেদের মধ্যে যে আল্লহর উপর আস্থা ও বিশ্বাসটুকু ধারণ করে আছেন, সেটাই তাঁদেরকে এই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাতেও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছেন।

আল্লামা আল হাবীব বলেন, আজ এই পবিত্র মাহে রমযানে যাদের হৃদয় মসজিদে উপস্থিত হওয়ার জন্য সর্বাবস্থায়  ক্রন্দন করছে, সরকারের  উচিৎ তাদের জন্য সেই সুযোগটুকু সৃষ্টি করে দেয়া। অন্যথায় তাদের এই আহাজারী আমাদের দেশের জন্য আরো কঠিন পরিস্থিতি এনে দিতে পারে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে চলমান লকডাউনের মধ্যেও শিল্প-কারখানা খুলে দেয়া হয়েছে। ঠিক তেমনি এই অর্থনীতির সুফলভোগী মানুষের  নিয়ন্ত্রণ যে সত্ত্বার হাতে রয়েছে, সেই সত্ত্বার দরবারে উপস্থিতি আমাদের জন্য আরো অধিক গুরুত্বপূর্ণ। অতএব, আর একমুহুর্ত বিলম্ব না করে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমা, তারাবিহ ও ইবাদতের জন্য সকল মসজিদ উন্মুক্ত করে দেওয়া হোক। এটাই দেশের আলেম সমাজে দাবি, এটাই দেশের কোটি কোটি তৌহিদী জনতার প্রাণের আকুতি। সরকার বিষয়টা গুরুত্বের সাথে উপলব্ধিতে নিবেন, এটাই প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন-

‘রমজানে আল্লাহ রহমতের সকল দরজা খুলে দেন, মসজিদের দরজা বন্ধ থাকবে কেন?’

সংক্রমণরোধী ব্যবস্থাপনা জারি করে মসজিদ উন্মুক্ত করে দিন: আল্লামা জুনায়েদ আল-হাবীব