Home লাইফ স্টাইল যেভাবে রমজান কাটাচ্ছেন আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী (হাফি.)

যেভাবে রমজান কাটাচ্ছেন আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী (হাফি.)

- উম্মাহ গ্রাফিক্স।

।। মোঃ রফিকুল ইসলাম ।।

বিশ্ব পরিস্থিতিকে স্তব্ধ করে দেওয়া প্রাণঘাতি এক ভাইরাসের নাম ‘করোনা’। পৃথিবীর বড় বড় শক্তিধর মোড়লরাও আল্লাহ প্রদত্ত এই ভাইরাসের সামনে আজ বড় অসহায়। তাদের বড় বড় বিজ্ঞানীদের কথিত শক্তিমত্তা আসমানী এই গযবের সামনে যে নিতান্তই শিশুতুল্য, বিশ্ববাসী সেটা ভালভাবেই অবলোকন করলো। ‘করোনা’ চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি জানিয়ে দিল, ‘সময় এসেছে প্রত্যবর্তনের, প্রিয় রবের দিকে’।

বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাস আতঙ্কের মাঝেই সমাগত পবিত্র মাহে রমজান। ইবাদাতের মহা উৎসবমুখর আবহ নিয়ে আগমন ঘটে এই মাসের। রহমানুর রাহীমের রহমতের বারি বর্ষণ হয়। ইফতার, সাহরি, তারাবীহ, তিলাওয়াত, যাকাত, ফিতরা, দান; সব ইবাদতের এক অভূতপূর্ব সম্মিলনের মাস যেন এই ‘রমজান’।

করোনার এই বিপর্যয়কর সময়ে মহান আল্লাহ রহমতের দ্বার উন্মুক্ত করে দিলেন। চলছে সিয়াম সাধনার মাস রমজান। দীর্ঘ ১১ মাস পরে রহমত, মাগফিরাত, আর নাজাতের বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে আসে মাহে রমজান। ধনী-গরীব, উঁচু-নিচু সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে এক কাতারে চলে আসেন সকলে। করোনা মহামারির প্রকোপে পৃথিবী কুপোকাত। তাই এবারের রমজান মাসটা অন্যান্য সময়ের চেয়ে আলাদা। মুসলিম উম্মাহ সহ সারা দুনিয়ার মানুষ বিষাদগ্রস্ত। সকলে এই ভয়াল দিনগুলোর অবসানে খোদার দরবারে কায়মনোবাক্যে ফরিয়াদ জানাচ্ছেন।

আরও পড়তে পারেন-

হিংসা এক কঠিন আত্মব্যাধি, হিংসা মনের শান্তি বিনষ্ট করে দেয়

‘আমাদেরকে যুদ্ধের চেয়ে অনেক বড় কর্মযজ্ঞে নামতে হবে’

ভাইরাস ও ভ্যাকসিন ব্যবসা: এখনি সোচ্চার হওয়ার সময়

‘আমরা বোরকা পরে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি’: সাংবাদিক সাবিহা ও লতিফা

মাহে রমযান ও সিয়াম সাধনা

নিজেদেরকে পরিশুদ্ধ করে নিতে মহামারি করোনার কঠোর হুঁশিয়ারি বার্তায় মাহে রমজান যেন মুমিনদের জন্য এক মহাসুযোগ বয়ে এনেছে।তাক্বওয়াবান তথা আল্লাহভীরু ও আল্লাহমুখী বান্দাগণ করোনায় লকডাউন পরিস্থিতির হোম কোয়ারেন্টিনের টাইমকে ‘হোম কুরআনিক টাইমে’ পরিণত করে নিজেদেরকে দিন-রাত ইবাদত-বন্দেগীতে ডুবিয়ে রেখেছেন।

করোনা মহামারির নাজুক এই সময়ে কীভাবে ‘সিয়াম সাধনা’র সময় কাটাচ্ছেন উম্মাহর রাহবার, দারুল উলুম দেওবন্দের সুযোগ্য উত্তরসুরী, আকাবির ও আসলাফের নমুনা, মুফতি মাহমুদ হাসান গাঙ্গুহী (রাহ.)এর সুযোগ্য খলীফা, বাংলার মাদানী আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী (হাফি.), চলুন আমরা একটু অবলোকন করি। যাতে আমরাও হযরতের জীবন-যাপন ও ইবাদত-বন্দেগীর পদ্ধতি জেনে প্রেরণা লাভ করতে পারি এবং মাহে রমজানে নিজেদের সময়কেও সেভাবে সাজিয়ে নিয়ে উপকৃত হতে পারি।

হাদীস শরীফে রয়েছে, ‘আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক যুগে এমন কিছু বিশেষ্য নৈকট্যশীল বান্দা প্রেরণ করেন, যাঁদের মাধ্যমে তাঁর দ্বীনে ইসলামকে হেফাজত করেন’। অর্থাৎ- এ সকল মুখলিস বান্দাগণের মাধ্যমে ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও চিত্র এবং বান্দার দিক থেকে আল্লাহ-প্রেমের বাস্তব নমুনা জগতদ্বাসীর সামনে উদাহরণ রূপে তুলে ধরেন। হযরতের মাঝে এই হাদীসের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি বিদ্যমান। যে কোন প্রতিকূল পরিস্থিতি বা অযাচিত বাঁধার সম্মুখীন হলেও হযরতের দৈনন্দিন ইবাদত-বন্দেগী ও আমলে সামান্যতমও ব্যাঘাত ঘটতে দেখা যায় না। মাশাআল্লাহ।

বাংলার মাদানী শায়খুল হাদীস হযরত আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী (দা.বা.) প্রতি বছরের ন্যায় এবারও রমজানের চাঁদ দেখা যাওয়ার ইতিকাফের নিয়্যাতে হযরতের প্রতিষ্ঠিত রাজধানী ঢাকার অন্যতম দ্বীনি বিদ্যাপীঠ জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা’র জামে মসজিদে অবস্থান শুরু করেন। প্রতিবারই শায়েখের সান্নিধ্য লাভের জন্য বাংলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছুটে আসেন শত শত উলামা, তলাবা ও আ’ম মুরিদগণ। এক জান্নাতি পরিবেশ সৃষ্টি হয় বারিধারা প্রাঙ্গণে। সর্বদা নামাজ, কালামে পাকের তিলাওয়াত, যিকির-আযকারে মশগুল থাকেন সকলে। সর্বত্র ইবাদতের এ দৃশ্যে হৃদয়ে অনাবিল প্রশান্তি লাভ হয়। দর্শকের হৃদয়কে করে উদ্বেলিত, আর আমলকারীর স্পৃহা বৃদ্ধি পায় বহুগুণে।

আলহামদুলিল্লাহ! করোনাকালীন লকডাউন পরিস্থিতিতে ভেবেছিলাম- অন্য সকলের মত বাড়ি চলে যাবো৷ কিন্তু প্রিয় শায়েখের সাথে এত দীর্ঘ সময় কাটানোর মত পবিত্র মুহূর্ত হাতছাড়া করতে আমার অন্তর সায় দেয়নি। হয়ত শায়েখের সান্নিধ্যে কাটানো এই সময়টুকু হতে পারে আমার জন্য হিদায়াতের উসিলা, যার বদৌলতে আল্লাহ আমার গুণাহ ক্ষমা করবেন এবং জীবনের সঠিক লক্ষ্য স্থির করতে পথনির্দেশকের কাজ দিবে। পাশাপাশি জান্নাতে শায়েখের শাগরেদদের একজন করে নিবেন, অন্তরে সেই তামান্না গভীরভাবে লালন করি। আমীন।

আফসোস! দেশব্যাপী লকডাউনের ফলে এবারের রমজানে শায়েখের সান্নিধ্যে উপস্থিত হতে পারেননি অসংখ্য ভক্ত উলামায়ে কেরাম, মুরিদান ও তালেবে-ইলম। তবে শাগরেদরা সান্নিধ্যের বরকত থেকে বঞ্চিত হলেও শায়েখের নিজের মামুলাত চলছে আপন গতিতে।

প্রতিদিন রাত ২টা ৩০ মিনিটে বিছানা ত্যাগ করেন। ইস্তিঞ্জা-অজু সেরে একাগ্রতার সাথে তাহাজ্জুদের নামাজে দাঁড়িয়ে যান। সালাত শেষে মহান রবের দরবারে দুই হাত তুলে দীর্ঘ রোনাজারিতে রত থাকেন। আপন রবের সমীপে তুলে ধরেন নিজের অক্ষমতা৷ সাথে সাথে আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, উলামা-ত্বলাবা, শাগরেদ এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে ফরিয়াদ জানান।

দোয়া শেষে দীর্ঘ সময় কালামে পাকের তিলাওয়াত করেন। এরপর সাহরী গ্রহণ শেষে জামাতের সাথে ফজরের সালাত আদায় করেন। নামাজ আদায় শেষে খুসুসী মা’মুলাত আদায়ে নিমগ্ন থাকেন। এই মা’মুলাতে প্রথমে প্রতিদিনের জন্য নির্ধারিত হিজবুল আ’জমের অংশটুকু পাঠ করেন। অতঃপর মাসনূন দোয়া ও অন্যান্য মা’মুলাতও শেষ করে ইশরাকের নামাজ আদায় করেন। এতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় অতিবাহিত হয়। তারপর আবার কিছুক্ষণ কালামে পাকের তিলাওয়াত শেষে অল্প সময়ের জন্য বিশ্রাম গ্রহণ করেন।

আসমানীগ্রন্থ পবিত্র কুরআনের প্রতি ভালোবাসা, মুহাব্বাত সকল মু’মিনের অন্তরেই বিদ্যমান৷ কিন্তু হযরতকে দেখলে হয়তো আপনি ভাববেন, ‘হযরত কুরআনের জন্য, আর কুরআন হযরতের জন্য’। (আল্লাহু আকবার)।

সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে বিশ্রাম শেষে অজু করে আবারও পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত শুরু করেন। শুধু নিজেই না, এ সময়ে আশে পাশে অবস্থান করা অন্যান্য উলামা, ত্বলাবা ও জনসাধারণকেওে তিলাওয়াতের প্রতি উদ্বুব্ধ করেন।

হযরত সর্বদা বলে থাকেন, “রমজান ইবাদতের মাস। কুরআন তিলাওয়াতের মাস। রমজানে আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় বান্দাদের মিলনমেলার মাস। ইবাদত, মাগফিরাত নাজাত, আর রহমতের মাস রমজান। কুরআন নাযিলের মাস। এ মাসে কুরআনে পাকের সঙ্গে প্রতিটি মুমিনের সর্বাধিক সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। সাথে সাথে কুরআন তিলাওয়াত, তরজমা, তাফসীর ও ‍কুরআন পাকের বিধান প্রতিষ্ঠা, দা’ওয়াত ইলাল্লাহ ইত্যাদির মাধ্যমে কুরআনী জীবন গঠন করা প্রতিটি মুমিনের জন্যে অপরিহার্য। অন্তত: কুরআনে কারীম তিলাওয়াতের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জন এবং আল্লাহ তাআলার সাথে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপনের এটাই সুবর্ণ সুযোগ”।

সুন্নতের পাবন্দি তো হযরতের জীবনের অলঙ্কার; সর্বক্ষেত্রেই ছোট থেকে ছোট বিষয়েও সুন্নাতের উপর অত্যন্ত গুরুত্ব ও আযমতের সাথে আমল করেন।

তিলাওয়াত শেষ করে সকাল দশটা থেকে মসজিদে উপস্থিত উলামা, ত্বলাবা ও জনসাধারণকে নিয়ে শুরু হয় হযরতের তা’লিম। তা’লিমে উর্দূ ‘আকাবির কা রমযান’ নামক সুপরিচিত গ্রন্থ পাঠ করা হয়। পাঠ করেন হযরতের শাগরেদ ও জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা’র সম্মানিত মুহাদ্দিস মুফতি ইকবাল হোসাইন কাসেমী (হাফি.)। এই কিতাবকে সামনে রেখে হযরত তরজমা ও ব্যাখ্যা করেন। সাথে মূল্যবান নছীহত পেশ করেন। যা জীবনকে আদর্শময় করে সাজিয়ে নিতে অন্যতম পাথেয় হিসেবে কাজ করবে, ইনশাআল্লাহ।

এই তা’লিমের সময় মাঝে মধ্যে এমন দুর্লভ তাত্ত্বিক বিষয়ে আলোচনা পেশ করেন, যা শত কিতাব মুতালায়ও মিলবে না। যা শুনে বিস্ময়াভিভূত হয়ে পড়তে হয়। আল্লাহু আকবার, হযরতের ইলম ও অভিজ্ঞতার কি গভীরতা, ঈর্ষণীয় জীবন এবং গৌরবময় আখলাকি সৌন্দর্য। এটাই বোধহয় ইলমে লাদুন্নি বা আল্লাহ প্রদত্ত ইলম। তালিমের মধ্যে ফুটে উঠে আকাবির ও আসলাফের প্রতি ভক্তিমাখা দরদ, সম্মান, মুহাব্বত ও ভালোবাসা।

দীর্ঘ এক ঘণ্টা তালিম হয়। শ্রোতারা চাতক পাখির ন্যায় হযরতের মুখপানে চেয়ে গভীর মনোযোগের সাথে নসীহত শ্রবণ করেন। এরপর কিছুসময় পুনরায় কালামে পাক তিলাওয়াত করে হালকা বিশ্রাম নেন। বিশ্রাম শেষে ইস্তিঞ্জা ও গোসল সেরে যোহরের সালাত আদায় করেন।

নামাজের পর শুরু হয় বিশেষ দোয়ার আমল। যেমন- দুরূদ-শরীফ, দোয়ায়ে ইউনুস ইত্যাদি তাসবিহাত পড়ে উপস্থিত সকলকে নিয়ে দোয়া-মুনাজাত করেন।

দোয়ায় নিজ পরিবার-পরিজন, প্রিয়জন, উপস্থিত মুসল্লী, দেশবাসী, বিশ্ববাসীর সকল ক্ষেত্রে উন্নতি, কামিয়াবি, বরকত লাভ এবং বিশেষ করে বর্তমান ভয়াবহ করোনা থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রার্থনা করেন। এরপর যাদের যিকিরের অনুমতি আছে, তাদেরকে যিকিরে ও বাকিদেরকে তিলাওয়াতের নির্দেশনা দিয়ে মগ্ন হয়ে যান মহান রবের ধ্যানে।

একাগ্রচিত্তে ধ্যানমগ্ন থাকেন একটানা আসর পর্যন্ত। আসরের নামাজ শেষে আত্মশুদ্ধির উপর অনন্য গ্রন্থ ‘ইমদাদুস সুলুক’ এর তা’লিম করেন। দিল’কে তাজা করা তথা অন্তরে উদ্দীপনা আনার জন্যে আকাবিরদের জীবনী থেকে শিক্ষণীয় অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন হযরত।

ইফতারের পনের মিনিট আগ পর্যন্ত তা’লিম চলতে থাকে। এরপর ইফতার সামনে রেখে দোয়া ইস্তেগফার পড়েন। ইফতার শেষে মাগরিবের নামাজ, সুন্নাত শেষে বিশেষ নফল নামাজ আওয়াবিন আদায় করেন। নফল নামাজ থেকে ফারেগ হয়ে সুন্নাত হিসেবে রাতের আহার গ্রহণ করেন। এরপর সামান্য সময় বিশ্রাম নিতেই ইশা’র সময় হয়ে যায়।

দেশের এই পরিস্থিতিতে যখন তারাবির জামাত মসজিদে পড়া নিয়ে সবাই শঙ্কায়, আলহামদুলিল্লাহ! হযরত তখন স্বাচ্ছন্দ্যে জামাতের সাথে খতমে তারাবীহ আদায় করছেন। আর জুম্মার নামাজ ও পাঞ্জেগানা তারাবীর জামাতের ব্যাপারে মসজিদ খুলে দেওয়ার জন্য হযরতের আকুল আহবান তো সকলের কাছেই দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট।

দ্বীনের জন্যে, দেশ ও জাতির কল্যাণে বিলিয়ে দেন নিজেকে। হযরত স্বাভাবিক অবস্থায় যেভাবে ধীরস্থিরতার সাথে নামাজ আদায় করেন, তারাবীহও সেভাবে ধীর ও সুস্থিরতার সাথে আদায় করেন। অবাক হয়ে পড়ি, যখন দেখি যুবক হওয়া সত্ত্বেও তারাবীহতে দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হয়, অথচ আল্লাহর এই মুখলিছ বান্দা অসুস্থ্যতা ও বার্ধক্য নিয়ে কীভাবে এত লম্বা সময় সুস্থির দাঁড়িয়ে থাকেন? রূহানী শক্তি থাকলেই কেবল সম্ভব। বাহ্যিক কুওয়্যাত দিয়ে এগুলো আঞ্জাম দেওয়া কখনো সম্ভব নয়।

প্রতিদিন তারাবি শেষে নিয়মিত দু’রাকাত নামাজ বসে আদায় করেন। অতঃপর সূরা ইয়াসিন এর তিলাওয়াত ও শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রণীত নির্বাচিত দুরূদ ও সালাম পাঠ করেন এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। তারাবীর আমলের পর হযরত হালকা নাস্তা করেন।

এরপর কখনো কোন শাগরেদ ব্যক্তিগত সবক নেওয়ার উদ্দেশ্যে আসলে তাকে সবক দিয়ে ডুবে যান গভীর মুতালাআয়। ছাত্র যামানা ও যুবক বয়সের মুতালাআর অদম্য স্পৃহা বৃদ্ধ বয়সের দুর্বল শরীরও কাবু করতে পারেনি।

মুতালাআয় রাখেন বিভিন্ন আরবি, উর্দু, বাংলা, ফার্সি ভাষার গ্রন্থাদি। এবারের রমজানে দেখেছি বিখ্যাত গ্রন্থ আওজাযুল মাসালিক, আকাবির কা তাকওয়া, আপবিতী, আকাবির কা রমযান, ইমদাদুস সুলুক ইত্যাদি গ্রন্থ মুতালাআ করছেন।

রাত ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত মুতালাআ শেষে দোয়া-দরুদ পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়েন। এরপর রাত আড়াইটায় যথারীতি বিছানা ত্যাগ করে বর্ণিত নিয়মে দিন শুরু করেন।

হযরত বিশ্রামের সময় ছাড়া বাকি পুরো সময় নামাজ, তিলাওয়াত, আল্লাহর দরবারে রোনাজারি, যিকির-আযকার, গ্রন্থাবলি অধ্যায়ন, গবেষণামূলক কাজেই সময় অতিবাহিত করেন। প্রতিটি মুহূর্ত অতিবাহিত হয় আল্লাহর স্বরণে। শায়েখের জীবন থেকে ব্যক্তিগতভাবে আমার সবচেয়ে বড় শিক্ষার্জন হলো, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সুন্নাতে রাসূলের পাবন্দি আর সময়ের ক্বদর করা।

হযরত সবসময় ত্বলাবাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “বেটারা উমরে আযীযের ক্বদর করো”। বড়দের সময় নাকি রাবারের মতো বড় হয়। কথাটার বাস্তব উপলব্ধি আমি শায়েখকে দেখে বুঝতে পেরেছি।

আলহামদুলিল্লাহ! সবশেষে মহান করুণাময় আল্লাহ তা’লার দরবারে এই মিনতি, তিনি যেন শায়েখকে সর্বদা সুস্থ এবং হায়াতে তাইয়্যিবা দান করুন। আমাদের উপর হযরতের ছায়াকে দীর্ঘায়িত করুন। আর আল্লাহ তা’লা হযরতের সান্নিধ্যের এই নিয়ামতকে কদর করে আমাদের যার যার জীবনকে সুন্নাহ অনুযায়ী সাজিয়ে তোলার ও উত্তমভাবে পরিচালনার তাওফীক দিন। আমীন

সুপ্রিয় পাঠক সমীপে বিনীত অনুরোধ, আপনাদের দোয়ায়ও শরীক রাখবেন এবং দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন জাতির রাহবার, আপোষহীন এই মহান বুযূর্গকে সর্বদা সুস্থ রাখেন এবং নেক হায়াত দান করেন। আমীন।

– মোঃ রফিকুল ইসলাম, শিক্ষার্থী- জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা-ঢাকা এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ, বারিধারা ক্যাম্পাস শাখা।

উম্মাহ২৪ডটকম: আরএএম

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

আরও পড়তে পারেন- ‘যেভাবে কাটছে জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা’র শিক্ষার্থীদের হোম কোয়ারেন্টিন!’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.