Home অন্যান্য খবর নাগরিক ঐক্যের গোলটেবিল বৈঠকে মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী যা বলেছেন…

নাগরিক ঐক্যের গোলটেবিল বৈঠকে মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী যা বলেছেন…

মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, যুগ্মমহাসচিব- জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। ছবি- উম্মাহ।

ইফতিখার আহমদ: গতকাল রবিবার (৩ মে) সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘কোভিড ১৯ : বৈশ্বিক মহামারী ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিদ্যমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় অর্থনীতিবিদ, বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবীদের সমন্বয়ে ৩ থেকে ৫ বছর মেয়াদি ‘জাতীয় পুনর্গঠন কমিটি’ গঠনসহ ৮ দফা প্রস্তাবনা দিয়েছে নাগরিক ঐক্য।

বৈঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন, সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বৈঠকে অন্যতম অমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’র যুগ্মমহাসচিব ও বিগত জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও ইসলামী চিন্তাবিদ মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী।

নাগরিক ঐক্যের গোলটেবিল বৈঠকে মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী বর্তমান করোনা পরিস্থিতি উত্তরণ এবং লকডাউন পরিস্থিতির কারণে গরীব ও নিম্ন আয়ের মানুষদের অভাব ও সৃষ্ট সঙ্কট লাঘবে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব’সহ গুরুত্বপূর্ণ যে বক্তব্য দিয়েছেন, নিম্নে বক্তব্যের বিস্তারিত বিবরণী তুলে ধরা হল-

গতকাল নাগরিক ঐক্যের গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দিচ্ছেন ২০ দলীয় জোট নেতা মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। ছবি- মাহদী হাসান।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক জনাব মাহমুদুর রহমান মান্না ও উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়ে মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী বক্তব্য শুরু করে বলেন-

“আসলে আমার মনে হয় পরিস্থিতি যতই প্রতিকূলে হোক না কেন কথাগুলো আরো বলিষ্ঠভাবে আসা দরকার এবং সত্যকে যথাযথভাবে তুলে ধরা দরকার। সরকার কোন কোন খাতে তার ব্যার্থতার পরিচয় দিয়েছে, সেই খাতগুলো আরো স্পষ্টভাবে জাতির সামনে আসা জরুরী। এখন জীবন মরণের প্রশ্ন। এখনো যদি আমরা ভদ্রতার মোড়কে রেখে-ঢেকে কথা বলতে থাকি, তাহলে জাতি কার দিকে তাকিয়ে আছে, আপনাদের দিকেই তো তাকিয়ে আছে? আজকে যারা এখানে বসেছেন, সাহস করে আপনাদেরকেই তো সত্য কথা তুল ধরতে হবে।

আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, কেও মনে কষ্ট নিবেন না। এ কথাগুলো এতটা ভদ্রতা সহকারে উপস্থাপনের মতো এই সরকার যোগ্যতা রাখে না। কারণ, প্রথম থেকেই এই মহা মহাবিপদ যে আমাদের দিকে ধেয়ে আসছে, সেটা আঁচ করতেই সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তারা মানুষকে সত্য জানতে দিতে চায়নি, বরং কথার ফুলঝুরি দিয়ে মানুষকে ধোঁকায় রেখে বলেছে- “আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি”। কি ঘোড়ার ডিমের আপনি প্রস্তুতি নিয়ে রাখলেন? আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা, যারা নাকি বিদেশে থেকে কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে আমাদের দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে সহযোগিতা করছে, তাদের ব্যাপারে আপনি বেফাঁস মন্তব্য করে বসলেন আপনার মন্ত্রীরা। প্রবাসীরা যখন নূন্যতম সরকারী সেবাটা চেয়ে বললেন যে, ‘আমরা যখন এসে গেছি, আমাদের টেস্টের ব্যবস্থা করুন, প্রয়োজন থাকলে আমাদের কোয়ারিন্টিনের ব্যবস্থা করুন’। কিন্তু তাদেরকে হাজি ক্যাম্পে যেখানে রাখা হল, সেখানে কোন একটা ভেসিনের ব্যবস্থাও ছিলো না, হাত-মুখ ধোয়ার ব্যবস্থাও ছিলো না। সেখানে ১৭-১৮ ঘন্টা পর্যন্ত ছোট ছোট বাচ্চা, বৃদ্ধ মানুষগুলোকে আটকিয়ে রেখেছেন আপনারা। তাদেরকে সেবা দিতে পারেননি, আর তাদের ব্যাপারে আপনারা মন্তব্য করেছেন ‘বিদেশে গেলেই তারা জামাই আদর চায়, জমিদার হয়ে যায়’। এ ধরনের বেফাঁশ মন্তব্য করেছেন। এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি আমরা।

নাগরিক ঐক্যের গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের একাংশ।

শুধু তাই নয়, যখন জানতে পারলেন যে, ‘করোনা’ ধেয়ে আসছে আমাদের দিকে। দুই মাসের পর্যাপ্ত সময় পেয়েও আপনারা পর্যাপ্ত কোয়ারেন্টিন কেন্দ্র ও চিকিৎসা প্রস্তুতির কিছুই করলেন না। আর ‘করোনা’ যখন মহামারি আকার ধারণ করল, তখনও আপনারা কথার বাগাড়ম্বরতায় বললেন, ‘আমরা শক্তিমান, আমরা বেশি শক্তি রাখি’। আপনি যদি করোনা থেকে বেশি শক্তি রাখেন, তাহলে কেন আমাদের দেশের এই অবস্থা হলো। আমাদেরকে কেন লকডাউনে যেত হলো, আমাদের অর্থনীতি কেন এত খারাপ হলো? প্রতিদিন এতো লোক আক্রান্ত হচ্ছে। অথচ, তাদের চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থাপনা হিসেবে বলা হল- কুর্মিটোলা হাসপাতাল, কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, সোহরাওয়ার্দি হাসপাতাল তৈরি রাখা হয়েছে। যেখানে সুস্থ মানুষ গেলেও অসুস্থ হয়ে ফিরতে হয়। ওখান থেকে সরাসরি রোগীরা এবং রোগীর আত্মীয়-স্বজন লাইভ করে আপনাকে আমাকে দেখিয়েছে, জাতিকে দেখিয়েছে যে, আমরা এখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসাতো পাচ্ছি না, বরং যে অবস্থা নিয়ে এসেছিলাম তার চেয়েও আরো বেশি খারাপ হয়েছে। এখান থেকে লাশ হয়ে বের হওয়ার আশঙ্কায় করছি। এই হচ্ছে আপনাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতির চিত্র।

আরও পড়তে পারেন-

‘ইবাদুর রাহমান’ বা আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের বিশেষ ১২টি গুণ

কোভিড-১৯ মহামারী এবং ইসলামের শিক্ষা: ফরহাদ মজহার

আদর্শবানরূপে নিজেকে গড়তে চাইলে চার গুণাবলী অর্জন করতে হবে

‘হিজাব’ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করে: মার্কিন গবেষক!

বিশ্বকে প্রবলভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে করোনাভাইরাস

গত বিগত ১২ বছরের অব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্যখাতকে এমন ভঙ্গুর পর্যায়ে নিয়ে গেছেন, যেটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। জাতি হিসেবে আমরা লজ্জিত। গত ১২ বছরের লুটতরাজ, চুরি এবং টেন্ডারবাজির মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যখাত ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ ভঙ্গুর করে রাখা হয়েছে। কারণটা কি? এখন যখন নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে করোনা টেস্টকারীদের মধ্যে শতকরা ৮০ জনের পজিটিভ পাওয়া যাচ্ছে, তাদের চিকিৎসার জন্য কোন ব্যবস্থা নেই। কেন এত পর্যাপ্ত সময় পেয়েও দেশের প্রতিটি জেলায় জেলায় একটি হাসপাতালকে প্রস্তুত করা গেল না? কেন জেলায় জেলায় করোনা টেস্টের প্রস্তুতি নেওয়া হল না? বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ বলছেন, মাত্র এক সময়েই মধ্যেই প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে পূর্ণাঙ্গ করোনা হাসপাতাল প্রস্তুত করা সম্ভব। তাহলে কেন ৮ই মার্চ থেকে আজ দুই মাসেও কোথাও কোন হাসপাতাল হলো না। কেন গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জের রোগিকে ঢাকায় আসতে হবে? কেন গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জের মতো শিল্প অধ্যুষিত জেলাতেও আপনি সাধারণ টেস্টটা পর্যন্ত করাতে পারতেছেন না। এর মধ্যে দেখা যাচ্ছে, দেশের কোথাও কোথাও হয়তো টেস্টের ব্যবস্থা করা হচ্ছে কিন্তু পর্যাপ্ত কিট নাই। এমন ক্রান্তিকালীন পরিস্থিতিতে যখন দেশিয় কোন একটি প্রতিষ্ঠান কিট তৈরি করল, সেই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থেকে নিয়ে প্রকৌশলী ও সব বিজ্ঞানীদেরকে যেখানে জাতীয়ভাবে পুরষ্কৃত করার কথা ছিলো, সেটা না করে আপনারা তাদের সাথে কি আচরণটা করলেন? মানুষকে বিভ্রান্তিতে রেখে সেই ব্যবহার করে সুফল লাভের পথে একের পর এক জটিলতা তৈরি করলেন। অথচ কর্তব্য তো ছিল, উৎসাহব্যঞ্জক সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে গিয়ে কীভাবে দ্রুত নামমাত্র খরচের এই উদ্ভাবিত কিট থেকে এই সঙ্কটকালীন সময়ে জাতি উপকৃত হতে পারে, তার ব্যবস্থা করা। অথচ, সেটা না করে জটিল থেকে জটিলতর করলেন। কি আচরণটা করলেন জাতি গভীর হতাশা নিয়ে তা দেখেছে।

এর কারণ কি? কোথায় বাঁধাগুলো? এগুলো জাতির সামনে আসা দরকার। ফেসবুক’সহ সোশ্যাল মিডিয়াতে এখন তথ্য-প্রমাণসহ আসতে শুরু করেছে, কে কখন কীভাবে টেন্ডারবাজি করে, দুর্নীতি করে বিপুল টাকা আত্মসাৎ করেছে। গোয়ালঘর বানিয়ে রাখা হয়েছে দেশের প্রায় প্রতিটা হাসপাতালকে। এটা তো কঠিন ছিল না, দেশের ৬০০ থানায় টেস্টের ব্যবস্থা রাখা। এভাবে জেলাওয়ারী প্রতিদিন ন্যূনতম দশ হাজার টেস্টের ব্যবস্থা করা যেতো। যদি এটা করা যেতো, তাহলে হয়তো মাস শেষে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি মানুষের চিকিৎসা চিকিৎসা দিতে না পারলেও অন্তত: এটা তো দেখা যেতো যে, এরা আক্রান্ত এবং এরা সুস্থ। সুস্থদেরকে আলাদা করে অসুস্থদেরকে নির্দিষ্ট জায়গায় কোয়ারেন্টিনে রাখা যেতো। যাদের ঢাকায় এনে চিকিৎসা দেওয়ার প্রয়োজন সেটা করা যেতো।

বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী হাসপাতালকে করোনা চিকিৎসার জন্য উপযোগী করা তো কোন কঠিন কাজ ছিল না। আমাদের দেশের মানুষ তো কম মেধাবী নয়। বিদেশ থেকে কিছু দক্ষ চিকিৎসক ও করোনা বিশেষজ্ঞ এনে জেলাভিত্তিক দেশের সরকারী, বেসরকারী ডাক্তার ও নার্সদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করা যেতো। প্রথম দফায় প্রশিক্ষণকারীদের একটা অংশকে দিয়ে উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করে তাদেরকে করোনা চিকিৎসায় কাজে লাগানো যেতো। আমাদের দেশের মানুষ তো কষ্ট করতে রাজি এবং ভয় পায় না। এই মানুষগুলোকে আপনি অথর্ব বানিয়ে রাখছেন এবং নিজেরাও অথর্বতার পরিচয় দিচ্ছেন।

আমি মনে করি, সরকারের আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশের প্রতিটি জেলায় একটি পূর্ণাঙ্গ করোনা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিপদগ্রস্ত মানুষকে সেবা দেওয়া জরুরী। এ জন্য পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনার জন্য বিদেশী বিশেষজ্ঞদের দরকার হলে সেটাও করতে হবে। বিপদগ্রস্ত অসুস্থ মানুষদেরকে এভাবে আপনারা অমানবিকতার সাথে মৃত্যুর মুখে ছেড়ে রাখতে পারেন না।

আপনারা এখনও সেই কথাগুলো বলতে শুরু করেছেন, যে কথাগুলো বিগত ৭৩-৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলে গেছেন। ৭৩-৭৪ সালে যখন দুর্ভিক্ষ চলছিল তখন বঙ্গবন্ধু আক্ষেপ করে বলতেন, আমি কম্বল আনি কম্বল থাকে না, চাল আনি চাল থাকে না, টাকা আনি টাকা থাকে না, সব চোর। এখনো প্রধানমন্ত্রী সে রকম অসহায়ত্ব প্রকাশ করছেন, সবদিকে চোর। বর্তমানে এই বিপদের মধ্যেও দেশে এমন কোন ইউনিয়ন নাই, যেখানে গরীবের জন্য বরাদ্দ দেওয়া চাল চুরির অভিযোগ উঠছে না। তাহলে যে ত্রাণ সহোযিগাতা সরকারের পক্ষ থেকে আমার গরিব ভাইয়ের জন্য আমার দিনমজুর ভাইয়ের জন্য খেটে খাওয়া মানুষের জন্য দেওয়া হলো, সেগুলোও চুরি করে নিয়ে যাচ্ছেন, লজ্জার তো শেষ থাকা দরকার।

এভাবে পর্যাপ্ত টেস্টের সুযোগ নাই, ভালমানের চিকিৎসার ব্যবস্থা নাই, চুরি ও লুটপাটের জন্য ভূখা মানুষ ত্রাণ পাচ্ছে না, এই বিপুল বিপদগ্রস্ত মানুষগুলো যাবে কোথায়? সারা দেশে চরম অসহায়ত্ব। এজন্য সামাজিক যেসব প্রতিষ্ঠানগুলো আছে, যে ক্লাবগুলো আছে, যে মসজিদ আছে, যে মাদরাসাগুলো আছে, স্কুল আছে, কলেজ আছে, এগুলোর প্রত্যেকটার কমিটি আছে। ঐ কমিটির সচেতন কমিটির সদস্যদেরকে আমরা উদাত্ত আহ্বান করব, সরকারের চাল খেয়ে এ দেশের মানুষ বাঁচতে পারবে না। সুতরাং স্থানীয়ভাবে বিপর্যস্ত মানুষের সহযোগিতায় যৌথ উদ্যোগ নিতে হবে। একজন্য এলাকাভিত্তিক মসজিদ কমিটি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও ক্লাবের কমিটি, এনজিও, স্কুল-কলেজ কমিটির দায়িত্বশীলগণ যৌথ উদ্যোগ নিয়ে নিজ নিজ এলাকার দুস্থদের জন্য স্থানীয় বিত্তশালী ও ধনীদের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে ফাণ্ড গঠন করতে হবে। এই দু:সময়ে এভাবে প্রত্যেক সচ্ছল পরিবার যদি দুয়েকটা করে দু:স্থ পরিবারের পাশে সহযোগিতা নিয়ে দাঁড়ায়, তাহলে দেশের মানুষ না খেয়ে মারা যাবে না ইনশাআল্লাহ। এই ব্যর্থ সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। তারা স্বাস্থ্যখাতেও চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তারা খাদ্যের সংস্থান, ব্যবস্থাপনা, ত্রাণবিতরণেও বিশাল ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

সরকারের এই ব্যাপক ব্যর্থতায় সর্বত্র দাবি উঠেছে ত্রাণ বিতরণের দায়িত্ব সেনাবাহিনীকে দেওয়া হোক। তাহলে মানুষ যথাযথভাবে সরকারি বরাদ্দ পাবে। কিন্তু সেনাবাহিনীকে সে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না। সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দিতে আপনাদের আপত্তি কোথায়? দলীয় নেতাদের মাধ্যমে ও দলীয় চেয়ারম্যান-মেম্বার দিয়ে ত্রাণ বিলি করে তো আপনারাই অসহায়ত্ব প্রকাশ করছেন। ত্রাণ যে অসহায় মানুষ সঠিকভাবে পাচ্ছে না, এটা তো এখন স্পষ্ট। তেল পাওয়া যায় এখন খাটের নিচে, চাল পাওয়া যায় ঘরের ভিটার নিচে। অনেক সময় ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে ত্রাণের চাল পুকুরের মধ্যে চাল ফেলা হচ্ছে। তারপর হাতে নাতে ধরা খাচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন সরকারী পরিচয় বহনকারী, দলীয় পরিচয় বহনকারী লোকগুলো খাচ্ছে। আপনারা এসব বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিন, আইনের কঠোর প্রয়োগ ঘটান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ দিন। এসব চুরি ও লুটপাট বন্ধ করুন শক্ত হাতে। আপনারা যথাযথ ও স্বচ্ছতার সাথে কাজ করলে আমরা আপনাদেরকে ধন্যবাদ দিতে কার্পণ্য করবো না।

এ পর্যায়ে আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে যে সমস্ত ভাইয়েরা কর্মরত আছেন আপনাদেরকে বলবো, মেহেরবানি করে এই ক্রান্তিলগ্নে মানুষ যখন উপরে আল্লাহর দিকে তাকিয়ে আছে, অভুক্ত মানুষ থালা-বাটি নিয়ে রাস্তায় নামতেছে, এই লাখ লাখ ক্ষুধার্ত মানুষকে রাস্তায় আহাজারি রত অবস্থায় আপনারা কিসের লকডাউন বাস্তবায়ন করছেন? করোনা থেকে বাঁচাতে লকডাউন করছেন, অথচ মানুষ তো ভূখাই মারা যাওয়ার মুখে। মানুষ যেখানে খাবারই পায় না, সেখানে কিসের করোনার ভয়!

আমি আসার সময় রাস্তার অবস্থা দেখে আমার কাছে তো কোন লকডাউন মনে হলো না। শত শত রিক্সা আমার সামনে পিছনে ছিলো। তাহলে এই নামের লকডাউন দিয়ে কেন মানুষকে প্রশাসনিক ভয়ের মধ্যে রেখে কষ্ট দিচ্ছেন? যদি লকডাউন দিতেই হয়, যথাযথভাবে ঠিক মতো দেন। খাদ্যর ব্যবস্থা করেন, চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন, তারপরও আপনি ক্ষমতায় থাকেন। আর যদি না পারেন তাহলে মাপ চেয়ে চলে যান।

আমি আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর ভাইদেরকে বলবো, এখনো যদি কিছু করার থাকে জনগণের জন্য, বঞ্চিতদের জন্য, নির্যাতিত,মজলুম এই মানুষগুলোর জন্য যদি আপনাদের কিছু করার থাকে, এখনো সময় আছে তাদের পাশে দাঁড়ান। মানবতার জন্য কাজ করুন, দেশের জন্য কাজ করুন, দেশের স্বাধীনতাকে আধিপত্যবাদ মুক্ত রাখতে কাজ করুন, দেশের সার্বভৌমত্বকে হুমকি মুক্ত রাখতে কাজ করুন। আর সরকারের প্রতি আহ্বান জানাবো, মেহেরবানি করে আপনাদের দক্ষতার আর পরিচয় আমাদের দরকার নাই। আপনারা কতটা দক্ষ সেটা মানুষের জানতে আর বাকী নেই। সর্বশেষ করোনা মহামারি চোখে আঙ্গুল দিয়ে মানুষকে দেখিয়ে দিয়েছে, আপনারা ৭৪ সালে কী করেছেন এবং এখনও কি করছেন। ৪৫-৪৬ বছরের মধ্যে আপনাদের খাসলতের কোন পরিবর্তন হয় নাই। মেহেরবানি করে আপনারা যদি চলে যান, তাহলে এই দেশের মানুষের আকাশ, বাতাস, পানি, মাটি সবকিছু মুক্তি পায়। ধন্যবাদ সকলকে”।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না’র সভাপতিত্বে বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, মাওলানা মামুনুল হক, শওকত মাহমুদ, ডা. জাহিদ হোসেন, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, অধ্যক্ষ সেলিম ভুইঞা, ডা. লিয়াকত আলী, মেজর জেনারেল ইব্রাহিম, কমরেড সাইফুল হক, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নুরুল হক নূর। অনলাইনে যুক্ত ছিলেন- ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, বদিউল আলম মজুমদার, এড. খন্দকার মাহবুব হোসেন, শাহদীন মালিক, জোনায়েদ সাকি, ডা. লেলিন চৌধুরী, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রমুখ।

উম্মাহ২৪ডটকম: আরএএম

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

আরবরা কেন ভারতের ইসলামফোবিয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন