Home সোশ্যাল মিডিয়া আত্মপূজার ক্ষতিকর দিক এবং বেঁচে থাকার উপায় নিয়ে লাইভে যা বলেছেন ইসলামিক...

আত্মপূজার ক্ষতিকর দিক এবং বেঁচে থাকার উপায় নিয়ে লাইভে যা বলেছেন ইসলামিক স্কলারগণ

উম্মাহ প্রতিবেদক: আত্মপূজা, আত্মঅহংবোধ ও নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাবার ক্ষতিকর দিক এবং এ ধরণের মানসিকতা থেকে মুক্ত থাকার উপায় নিয়ে গত শনিবার (৯ মে) এক অনলাইন লাইভ আলোচনায় শরীক হয়েছিলেন খ্যাতিমান তিন ইসলামিক স্কলার।

পবিত্র কুরআন-হাদীসের আলোকে অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় এ বিষয়ে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। যা বর্তমান প্রজন্মের অনেকের জন্যই মূল্যবান পথনির্দেশিকা বা পাথেয় হতে পারে।

লাইভ আলোচনায় শরীক ছিলেন প্রখ্যাত আলেমে-দ্বীন, গবেষক, লেখক ও জনপ্রিয় বক্তা ডঃ আ ফ ম খালেদ হোসাইন, ইসলামী গবেষক ও বিশ্লেষক শায়েখ ডঃ খলিলুর রহমান মাদানী ও শায়েখ মহিউদ্দিন রাব্বানী এবং তরুণ আলেমে-দ্বীন ও জনপ্রিয় বক্তা মাওলানা রাকিবুল ইসলাম ফারুকী।

আরও পড়তে পারেন-

মাহে রমযানের ফযীলত এবং বিধি-বিধান ও পূর্ণাঙ্গ মাসআলা

কখন জমিনে মহামারি ছড়িয়ে পড়ে এবং মু’মিনদের করণীয়

মুসলমানদের মাঝে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা

নারীর অর্থ উপার্জন প্রসঙ্গে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

‘করোনাভাইরাস শক্তিশালীদের মাথা নত করতে বাধ্য করেছে’

বিষয়বস্তুর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয় বিবেচনায় নিয়ে সুপ্রিয় পাঠক সমীপে উক্ত আলোচনা অনুষ্ঠানের চুম্বকীয় কিছু অংশ নিম্নে উপস্থাপন করা হল-

আত্মশুদ্ধি ও আত্মপূজা সংক্রান্ত আলোচনায় ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, আত্মঅহমিকা বা আত্মপূজা তৈরি হয় মানুষের বিদ্যা-বুদ্ধি, অথবা তার কণ্ঠ, শারীরিক সৌন্দর্য ইত্যাদির কারণে। মানুষের ভিতরপ আত্মঅহমিকা জাগ্রত হয় কিবির ও অহংবোধ থেকে। অন্য মানুষকে ছোট মনে করা নিজেকে বড় মনে করা এটা কবিরা গুনাহ। নিজকে বড় মনে করা একটা সামাজিক ব্যাধি।

তিনি আরো বলেন, কেউ একটু পপুলারিটি পেলেই নিজের মধ্যে আত্মঅহমিকা চলে আসে। মুফতি মুহাদ্দিস হিসেবে, বক্তা হিসেবে, লেখক হিসেবে, রাজনৈতিক নেতা হিসেবে ইত্যাদি ক্ষেত্রে একটু যদি উপরে উঠে কেউ, তার ভিতরে অবলীলাক্রমে আত্ম অহমিকা আত্মগৌরব তৈরি হতে থাকে।

ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।

প্রাজ্ঞ এই ইসলামী স্কলার আরো বলেন, নিজেকে বড় মনে করা এটা কবিরা গুনাহ, এ ব্যাপারে হাদীসে কুদসীতে আছে, “বড়ত্ব এবং অহমিকা এগুলোতো করবেন একমাত্র আল্লাহ তাআলা, বান্দার জন্য তো এগুলো হতে পারে না। বান্দার জন্য অহমিকা হতে পারে না। বান্দা তাওয়াজু করে চলবে এবং বিনয় প্রকাশ করবে”।

এ বিষয়ে হাদীসে বর্ণিত আছে, “যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য বিনয়পূর্ণ আচরণ করবে আল্লাহতালা তার মর্যাদা-মর্তবা বৃদ্ধি করে দিবেন”। সুতরাং আল্লাহতালা যদি আমাদেরকে কোন নেয়ামত দিয়ে থাকেন, যেমন- সাংগঠনিক শক্তি দিয়ে থাকেন, কথা বলার শক্তি দিয়ে থাকেন, কলমের শক্তি দিয়ে থাকেন, কায়েদ বা নেতা হিসেবে। আল্লাহ তাআলা যদি সমাজে গ্রহণযোগ্যতা দান করেন এগুলো সবই আল্লাহর দান এটাকে নিজের অর্জন মনে করলে আমাদেরকে অহমিকার দিকে ঠেলে দিবে।

ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, হাদীস শরীফে আছে- “যার অন্তরে যাররা পরিমাণ কিবির বা আহংবোধ থাকবে, তাকে আল্লাহ্ ধ্বংস করে দেয় এবং আল্লাহ তাআলা নারাজ হয়ে যান”।

রমজানুল মোবারক যেহেতু ইবাদতের মাস। রমজানের ৩০টি দিন আমাদের আত্মশুদ্ধির প্রশিক্ষণ চলবে। আমাদের অহংকার থাকবে না, আমরা মাথা নিচু করে ফেলব আল্লাহ তাআলার দরবারে।

তিনি বলেন, বিনয় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ এবং সুন্নাতের অনুসরণের নাম আত্মসংবরণ। প্রতিনিয়ত আমাদের মধ্যে যে অহমিকা জাগ্রত হয় তার জন্য  আল্লাহ তাআলার কাছে তওবা করে আমাদেরকে বিনয় প্রকাশ করতে হবে।

আত্মপূজা ও অহমিকা প্রসঙ্গে ড. খলিলুর রহমান মাদানীর প্রশ্নের জবাবে তরুণ জনপ্রিয় বক্তা ও ইসলামী ব্যক্তিত্ব মাওলানা রাকিবুল ইসলাম ফারুকী বলেন, প্রথমেই আজকে যারা আমাকে লাইভে যুক্ত করেছেন তাদেরকে অসংখ্য মোবারকবাদ জানাচ্ছি।

আসলে আত্মপূজা বা অহমিকা এগুলো তখনই চলে আসে যখন আমরা নিজেদেরকে নিজেরাই প্রকাশ করার জন্য বা নিজের সংগঠন, নিজের দল বা নিজের মতকে অন্যের উপর প্রাধান্য দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠি। অথচ দেখা যাচ্ছে যে, আমাদের এগুলোর কারণে অপর ভাই কষ্ট পাচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে আমরা যদি রাসূলে কারীম (সা.)এর হাদীসের উপর আমল করি তাহলে অবশ্যই আমরা এর থেকে পরিত্রান পেতে পারি।

মাওলানা রাকিবুল ইসলাম ফারুকী।

হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়ে মাওলানা রাকিবুল ইসলাম ফারুকী বলেন, রাসূলে কারীম (সা.) ইরশাদ করেন, “মুসলমান ঐ ব্যক্তি যার হাত এবং মুখ থেকে অপর মুসলমান নিরাপদে থাকে”। এখানে একটি বিষয় লক্ষ্য করে দেখুন যে, আপনার আমার হাত থেকে অপর একজন মুসলমান ভাই কতটুকু নিরাপদে আছে? আমার দ্বারা কেউ আঘাত প্রাপ্ত হচ্ছে কিনা? আমার যবান থেকে কেউ আঘাত প্রাপ্ত হচ্ছে কিনা? আমার যবান থেকে এমন কোন কথা বের হচ্ছে কিনা- যার দ্বারা অপর ভাই কষ্ট পাচ্ছেন? এভাবে আত্মপর্যালোচনা ও আত্মবিশ্লেষণ করতে হবে।

মাওলানা রাকিব বলেন, যে কথাগুলো আমার সংগঠনের জন্য ভালো হচ্ছে কিন্তু অপরের সংগঠনের জন্য ক্ষতিকর হচ্ছে, আমারা সে বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করব।

তিনি আরো বলেন, মানুষের মাঝে যখনই নিজকে নিজে প্রধান্য দেওয়ার মন-মানসিকতা চলে আসে, তখনই আত্মপূজা ও অহমিকা চলে আসে।

সে ক্ষেত্রে আমি বলবো, আমরা যদি কুরআনুল কারীমের আয়াতকে লক্ষ্য করি, মহান রব্বুল আলামীনের কাছে দন্ডায়মান হওয়া বা জিজ্ঞাসিত হওয়াকে ভয় করি, তাহলে আমরা নিজেকে আত্মপূজা থেকে  বিরত রাখতে সক্ষম হব।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র  কুরআনে মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন বলেছেন, “যারা আল্লাহর কাছে নিজেকে দন্ডায়মান করার ক্ষেত্রে ভয় করে এবং নিজের নফসের সাথে মোকাবেলা করে, তাদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ রয়েছে”।

তিনি আরো বলেন, ‘হ্যাঁ আমার ভাই- যেখানে যেখানে নিজের নফসের সাথে মোকাবেলা করে চললে নফসের বিরোধিতা করার কারণে জান্নাতের সুসংবাদ রয়েছে, নিজের মতের বিরোধিতা করার ক্ষেত্রে জান্নাতের সুসংবাদ রয়েছে, সেখানে আমরা নিজের মতকে অন্যের উপর প্রাধান্য দেওয়া থেকে বিরত থাকাটাই হবে ইবাদত এবং আত্মপূজা থেকে বিরত থাকা।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে আজকে আমাদের মাঝে যে ভেদাভেদ অনৈক্য দলাদলি মারামারি কাটাকাটি হানাহানি হিংসা বিদ্বেষ অহংকার অহমিকার দুর্ভাগ্যজনক উপস্থিতি দেখা যায়, এসব কিছুর কারণ হচ্ছে আত্মপূজা। অর্থাৎ আমরা আমাদের নফসের কাছে হেরে যাচ্ছি।

আমরা সর্বদাই আত্মপূজায় লিপ্ত থাকি, অহমিকার সাথে জড়িত থাকি, অহংকার এর সাথে জড়িত থাকি। বিনয়-নম্রতা এবং অন্যকে প্রাধান্য দেওয়া, অন্যের মতকে শ্রদ্ধা করার কোন মন-মানসিকতাই যেন আমাদের মাঝে নেই। যে কারণে আজকে আমাদের মাঝে অনৈক্য ভেদাভেদ বাড়ছে তো বাড়ছেই। সে ক্ষেত্রে আমি বলব, আমরা যেমন ইসলামের অন্যান্য বিধানের ক্ষেত্রে কুরআন-হাদিসকে মেনে চলি, আসুন আত্মশুদ্ধি আত্মপূজার মতো আত্মবিধ্বংসী কর্ম থেকেও বিরত থাকার ক্ষেত্রে আমরা কুরআন ও হাদিসকে ফলো করি।

উম্মাহ২৪ডটকম: আইএএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

ঈদের পর কাওমি মাদরাসাসমূহ খুলে দিতে জোর দাবি জানিয়ে ৭২ জন শীর্ষ আলেমের বিবৃতি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.