Home রাজনীতি নীলফামারির ডোমারে ১৪ শত পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিলেন মাওলানা আফেন্দী

নীলফামারির ডোমারে ১৪ শত পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিলেন মাওলানা আফেন্দী

উম্মাহ প্রতিবেদক: জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ন-সহাসচিব ও ঢাকা মহানগর সভাপতি জননেতা মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীর উদ্যোগ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলায় করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ ২ মাস কর্মহীন হয়ে পড়া দিনমজুর ও অসচ্ছ্বল প্রায় ১৪ শত পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

খাদ্য সহায়তা সমাগ্রী বিতরণের জন্য প্রস্তুত করার পর মাওলানা আফেন্দীর সার্বিক নির্দেশনায় জমিয়তের স্থানীয় নেতাকর্মীরা এলাকা ভিত্তিক আগে থেকে প্রস্তুত করা তালিকা অনুযায়ী রাতের বেলায় কর্মহীন মধ্যবিত্তদের এবং দিনের বেলায় দুস্থ গরিবদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছিয়ে দেওয়া হয়। গতকাল বুধবার পর্যন্ত ১৪ শত পরিবারের মাঝে এই খাদ্য সহায়তা সামগ্রী বিতরণ শেষ হয়। এই খাদ্য বিতরণ কার্যক্রমে সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতা করেন মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীর ভাই প্রবাসী ইঞ্জিনিয়ার জাহিদুল ইসলাম মুন।

প্রতিটি পরিবারে বিলি করা খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে ছিল- ৫ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, তিন কেজি আলু, ১ কেজি পেঁয়াজ, ১ লিটার তেল, ২ কেজি ময়দা, বাংলা ও লাচ্ছা সেমাই ১ কেজী, মুড়ি আধা কেজি ও আধা কেজি ছোলা।

ডোমারে মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীর উদ্যোগে দুস্থদের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করতে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী দিয়ে ব্যাগ প্রস্তুত করা হচ্ছে।

এই খাদ্য সহায়তা সামগ্রী বিতরণে সহযোগিতা করেন- জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর ডোমার উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি মাওলানা ফজলুর রহমান, যুব জমিয়ত উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, ডোমার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মাহমুদ বীন আলম, সংগঠক তাজুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুর রাকিব, মঞ্জুরুল ইসলাম শাহীন, গোলাম ফারুক, আমজাদ হোসেন, আবু সাজেদ নোমান, সোহাগসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

ডোমার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মাহমুদ বীন আলম জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ দুই মাস লাগাতার কর্মহীন হয়ে পড়ায় অনেক মধ্যবিত্ত নিদারুণ অভাবে পরিবারকে নিয়ে কষ্টকর জীবন যাপন করলেও লজ্জ্বায় কারো কাছে ত্রাণ চাইতে পারেন না। তাই এ রকম মধ্যবিত্ত পরিবারের মাঝে রাতের বেলায় তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেছি। আর গরিব ও অসচ্ছ্বল পরিবারসমূহে দিনের বেলায় বিতরণ করা হয়েছে।

আরও পড়তে পারেন-

যুগে যুগে নবী-রাসূলগণ দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ করে গেছেন

ভাইরাস ও ভ্যাকসিন ব্যবসা: এখনি সোচ্চার হওয়ার সময়

গুনাহর ক্ষতি এবং বেঁচে থাকার উপায়

ঢাকার প্রায় অর্ধেক মানুষ বিষণ্ণতায় ভূগছে, সমাধান কী?

মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে এলাকায় উপস্থিতি থেকে বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারলেও, আলহামদুলিল্লাহ এই কাজে আমাকে স্থানীয় নেতারা অত্যন্ত আন্তরিকতাপূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। দিন-রাত তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে এই বিপুল সংখ্যক পরিবারে আমরা যথাযথভাবে খাদ্যসহায়তা পৌঁছাতে পেরেছি। এ জন্য আমি স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিশেষ শোকরিয়া জানাই।

মাওলানা আফেন্দী আরো জানান, এ পর্যন্ত ডোমারে ১৪ শত পরিবাররের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। ডোমার-ডিমলা মিলে আরো তিন হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা পৌছে দেওয়া হবে, ইনশাআল্লাহ।

তিনি জানান, এই মানবিক সহায়তা আরো বিস্তৃত করতে আমি রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছি। যতদিন স্বাভাবিক পরিস্থিতি আসবে না, ততদিন আমি আমার সীমিত সাধ্যের মধ্যে দু:খী মানুষের পাশে থাকতে কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ। আমার নিজ এলাকার অসচ্ছ্বল ও গরীব মানুষ কষ্টে থাকলে তো কোনভাবেই নিশ্চিন্ত থাকা যায় না। এলাকার মানুষদের সুখে-দু:খে তাদের পাশে থাকাই আমার স্বপ্ন এবং এটাই ইসলামের শিক্ষা। । আমি আশা করি সমাজের অন্যান্য সমর্থবানগণও এই মানবিক সংকটে এগিয়ে আসবেন এবং দুর্দশাগ্রস্ত মানুষগুলোর কষ্ট কমাতে চেষ্টা করবেন।

মাওলানা আফেন্দী বলেন, মানুষ সমাজবদ্ধ ও বুদ্ধিমান প্রাণী। মানুষের দায়িত্ব পরস্পরের প্রয়োজনে, অভাবে ও যে কোন সংকটে পাশে দাঁড়ানো এবং সহযোগিতার হাত প্রসারিত করা। এটা করতে না পারলে মানুষ হওয়ার স্বার্থকতা থাকে না। ইসলাম সবসময় মানবিক সেবামূলক কাজে অত্যন্ত উৎসাহিত দিয়ে থাকে। এ কারণেই ইসলামে বার বার দান-সদক্বা, হাদিয়া প্রদান, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, গরীব-দু:খীদের সহযোগিতা করা এবং প্রতিবেশিদের খোঁজ খবর রাখতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে অল্প আয়ের খেটে খাওয়া, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী অনেকেই দীর্ঘ দিন বেকার থাকার কারণে নিদারুণ কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। এমন অনেকে আছেন, সামাজিক মর্যাদার কারণে লজ্জায় নিজেদের কষ্টের কথা প্রকাশও করতে পারছেন না। তাই এমন সঙ্কটময় সময়ে সমাজের যারা আর্থিক সমর্থবান, সকলে সহযোগী হয়ে এই সংকটগ্রস্ত মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ালে অনেকের দিনগুজরানের কষ্ট সহজে লাঘব হয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, পবিত্র রমযান আত্মত্যাগের মাস। রমযানে যে কোন সাহায্য সহযোগিতায় বহুগুণ বেশি সাওয়াব অর্জিত হয়। এতে রমযানের মাহাত্ম্য পরিপূর্ণ হয়। এসব মানবিক কাজে শরীক থাকতে পারলে নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা আমাদের সকল কাজে বরকত ও রহমত দান করবেন। যার যার সমর্থ মতো সকলকে করোনা মহামারির এই দু:সময়ে খাবার ও মানবিক সংকটে থাকা অসহায় মানুষদের সহযোগিতায় পাশে দাঁড়াতে আমি উদাত্ত আহ্বান জানাই।

উম্মাহ২৪ ডটকম: আইএএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.