Home আন্তর্জাতিক মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে যেভাবে উদযাপিত হলো ঈদ-উল-ফিতর

মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে যেভাবে উদযাপিত হলো ঈদ-উল-ফিতর

ঈদের জামাত। ছবি- সংগৃহিত।

উম্মাহ অনলাইন: এ বছরের ঈদ উৎসব চলছে করোনা সংক্রমণের ভয় নিয়ে। মুসলিমদের সবচেয়ে বড় এই উৎসবটি তাই এবার উৎযাপিত হচ্ছে অনেক বিধিনিষেধের মধ্যে। ঈদ উৎসবের তারিখ স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। সে হিসেবে রোববার বিশ্বের অনেকগুলো দেশে ঈদ উৎযাপিত হয়েছে। বাংলাদেশসহ অনেক দেশে ঈদ আজ সোমবার।

গতকাল যেসব দেশে ঈদ উদযাপিত হয়েছে সেসব জায়গায় দেখা গেছে করোনা সংক্রমণের ভয়ের মধ্যে সীমিত আকারে চলছে উৎসব। বেশিরভাগ দেশের মানুষ ঘরোয়াভাবে ঈদ পালন করেছে। সাধারণত ঈদের

তুরস্ক, ইরাক ও জর্দানের মতো কয়েকটি দেশে ঈদের দিনেও কারফিউ ছিলো। করোনা সংক্রমণ এড়াতে এবার ঈদের উৎসব বাড়িতে উদযাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে দেশগুলোর সরকারের পক্ষ থেকে। তবে যেসব দেশে কিছুটা বিধিনিষেধ তুলে নেয়া হয়েছে সেখানে দেখা গেছে ছোট পরিসরে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হতে। তুরস্ক অবশ্য পায়ে হাঁটা দূরত্বে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে নাগরিকদের। পার্কগুলোতে অনেককে বেড়াতে দেখা গেছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে।

আরও পড়তে পারেন-

কখন জমিনে মহামারি ছড়িয়ে পড়ে এবং মু’মিনদের করণীয়

আদর্শ পরিবার ও সমাজ গঠনে পিতা-মাতার ভূমিকা

ভারতের মতো শ্রীলঙ্কাও মুসলমানদেরকে কলঙ্কিত করতে করোনভাইরাসকে হাতিয়ার করছে

ঘৃণা-বিদ্বেষ নয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট থাকুক

আল্লাহকে ভয় কর এবং কাজে অনড় থাকো, নিন্দুকের নিন্দা শুনিও না: মাওলানা আহমদ লাট

সৌদি আরবে চলছে পুরোপুরি লকডাউন। সেখানে ঈদের দিনেও এটি বলবৎ ছিলো। দেশটিতে শুধুমাত্র জরুরী খাদ্য ও ওষুধ কিনতে বাইরে যাওয়ার অনুমতি আছে সাধারণের। তাই দেশটিতে বড় কোন ঈদের জামাত হয়নি। মক্কার পবিত্র কাবায় ছোট একটি ঈদের জামাত হয়েছে।

জেরুসালেমে আল আকসা মসজিদের বাইরে থেকে ঈসরাইলি পুলিশ দুজনকে আটক করেছে। পুলিশের দাবি তারা একটি অবৈধ সমাবেশ পণ্ড করে দিয়েছে। করোনা সংক্রমণের ভয়ে আল আকসা মসজিদ বন্ধ আছে গত কিছুদিন ধরে। ঈদের দিন কিছু মুসল্লি মসজিদে ঢুকতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দিয়েছে। মুসলিমদের প্রথম কেবলা ও তৃতীয় পবিত্র ধর্মীয় স্থান আল আকসা মসজিদে প্রতিবছর লক্ষাধিক লোকের সমাবেশ হয় ঈদের জামাতে।

করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ইরানে। দেশটির কিছু মসজিদে ঈদের নামাজের অনুমতি দেয়া হয়েছিল। তবে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নেতৃত্বে রাজধানী তেহরানে প্রতিবছর যে সবচেয়ে বড় ঈদের জামাতটি অনুষ্ঠিত হয় সেটি বাতিল করা হয়েছে এ বছর। ইরানে করোনায় মারা গেছে ৭ হাজারের বেশি লোক।

মালয়েশিয়ায় মসজিদে নামাজ শুরু হলেও ত্রিশ জনের বেশি মুসল্লি জমায়েত না হতে সরকারের নির্দেশনা রয়েছে। একই ঘোষণা বলবৎ রাখা হয়েছে ঈদের দিনের জন্য। এছাড়া বাইরে খোলাস্থানেও ২০ জনের বেশি জমায়েত না হতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শুধুমাত্র নিকটস্থ আত্মীয়দের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। দূরে যাওয়ার অনুমতি নেই কোন নাগরিকের।

আফগানিস্তানে ঈদ উপলক্ষে সরকার ও তালেবানের মধ্যে তিন দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে।

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের একটি স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ঈদের নামাজে অংশ নিয়েছে ২ হাজার মুসল্লি। তবে সবাই ছিলেন নিরাপদ দূরত্বে ও মাস্ক পরিধান করে। দেশটিতে ঈদ উপলক্ষে কোলাকুলি করার অনুমতি দেয়া হয়নি। এছাড়া দেশটিতে মসজিদগুলো বন্ধই ছিলো ঈদের দিন।

আফ্রিকার দেশ সুদানে একটি ঈদের জামাতে কয়েক হাজার লোক জমায়েত হতে দেখা গেছে। বসনিয়া আলবেনিয়াসহ বলকান অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলোতেও মসজিদে ঈদের জামাত হয়েছে সীমিত পরিসরে। সূত্র: আরব নিউজ।

উম্মাহ২৪ ডটকম: আইএএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

আল্লামা শাহ মুহাম্মদ তৈয়ব (রাহ.)এর ইন্তিকালে জমিয়ত মহাসচিবের শোক