Home প্রবন্ধ-নিবন্ধ বর্জন করা জরুরী এমন দশটি মন্দ অভ্যাস: মুফতি জাকির হোসাইন

বর্জন করা জরুরী এমন দশটি মন্দ অভ্যাস: মুফতি জাকির হোসাইন

1

হৃদয় যদি আয়নার মত বানাতে চাও,

দশটি মন্দ অভ্যাস দিল থেকে হটাও।

হিরস, আমল, গযব, দরূগ ও গীবাত,

বুখ্ল, কিবর, কিনা, রিয়া ও হাসাদ

মিছে আশা, রাগ, লোভ, হিংসা, নিন্দা আর,

বৈরীতা, কৃপণতা, গর্ব, কপটতা ছাড়।

(১) হিরস্ অর্থ লোভঃ

দুনিয়ার ধন-সম্পদ ও সম্মান বৃদ্ধির লোভ করলে বিভিন্ন অবৈধ ও খারাপ কাজে লিপ্ত হতে হয়। যেমন, মিথ্যা কথা বলা, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া, মানুষকে ধোঁকা দেওয়া, অপরের মাল হরণ করা, যদ্দরুণ এতীম অসহায় মানুষের উপরও যুলুম করা হয়।

হযরত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, মানুষ বৃদ্ধ হয় বটে, কিন্তু দু’টি মন্দ স্বভাবের উত্তরোত্তর যৌবন প্রাপ্তি ঘটে। একটি মালের উপর লোভ করা, অপরটি হল হায়াতের উপর লোভ করা। (মিশ্কাত শরীফ)। সুতরাং প্রত্যেকের জন্য অবৈধ লোভকে দমন করা অপরিহার্য।

(২) আমল অর্থ- প্রলম্বিত আশা, আকাংখাঃ

মানুষ লম্বা আশার বশবর্তী হয়ে ইহজগতে মাল ও সম্পদ বৃদ্ধি করার মানসে প্রচুর মেহনত করে থাকে এবং নফ্সে আম্মারা তথা কু-প্রবৃত্তির চাহিদা পূর্ণ করার জন্য তৎপর হয়ে উঠে। এটা একটি মারাত্মক ব্যাধি যার কারণে অহিত চিন্তা ও দুনিয়ার পেরেশানী বৃদ্ধি পায়। পরকালের চিন্তা অন্তর থেকে বিদায় নেয়। ইবাদত-বন্দেগী ও যিকির-আযকারে মন বসেনা। অন্তরে একটার পর একটা আশা বাড়তেই থাকে। ফলে দুনিয়ার আশা-আকাংখা একটাও পূর্ণ করা সম্ভব হয় না। হ্যাঁ, কেউ যদি অন্তরে এরূপ আশা পোষণ করে যে, আল্লাহ্ তাআলা বৈধ পন্থায় ধন-সম্পদ ও নেককার আওলাদ যদি দান করেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ্ তাঁর হুকুম আহ্কাম যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে পরকালের মুক্তি ও নাজাতের উসীলা বানাব, তাহলে এ ধরনের আশা করা প্রশংসনীয়।

(৩) গযব অর্থ রাগঃ

এই রাগের কারণে মানুষ অন্যায়, অবিচার, দুর্নীতি, ঝগড়া-বিবাদ, আত্মকলহ, খুন-খারাবী ও অন্যের প্রতি বিরূপভাব পোষণ করে থাকে। সুতরাং দেখা যায় এই রাগের কারণে পারিবারিক ও সামাজিক বিভিন্ন প্রকার বিশৃংখলা আর অঘটন ঘটে থাকে।

হাদীস শরীফে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নিশ্চয়ই রাগের উৎপত্তি শয়তান থেকে আর শয়তান আগুনের সৃষ্টি এবং আগুন পানি দ্বারা নির্বাপিত হয়। সুতরাং যখন তোমাদের কারো মধ্যে রাগের উৎপত্তি ঘটে, তখন সে যেন অযূ করে নেয়। (কারণ, অযূ দ্বারা রাগ দমন হয়)। তাই তো বুযুর্গানে দ্বীনের অভ্যাস হচ্ছে, তাঁরা সদাসর্বদা অযূ অবস্থায় থাকেন। যে কারণে রাগের মত মন্দ স্বভাব তাঁদেরকে স্পর্শ করতে পারে না।

যদি কেউ রাগের সময় স্থান পরিবর্তন করে, অথবা দাঁড়ানো অবস্থায় থাকলে বসে পড়ে, তাহলে রাগ দমন হয়ে যায়। এই মর্মে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ঐ ব্যক্তি প্রকৃত বীরপুরুষ নয় যে ব্যক্তি কোন শক্তিশালী ব্যক্তিকে কুস্তি লড়ে পরাজিত করে। বরং প্রকৃত বীরপুরুষ ঐ ব্যক্তি, যে স্বীয় রাগকে দমন করতে পারে।

জনৈক পণ্ডিত হযরত ঈসা (আ.)কে প্রশ্ন করেন, এ জগতে সবচেয়ে ভয়াবহ কোন বস্তু, যাকে বেশী ভয় করতে হয়? তিনি উত্তরে বল্লেন, সবচেয়ে ভয়াবহ বস্তু আল্লাহ্ তাআলার রাগ। কবির ভাষায়-

পণ্ডিত সওয়াল করে ঈসা নবীর খেদমতে

সবচেয়ে বড় ভয়ের কোন বস্তু এজগতে।

তিনি বলেন, ওহে প্রিয়, খোদার রাগই ভয়াবহ,

যার ভয়েতে মোদের মত দোযখ কাঁপে অহরহ।

তখন পণ্ডিত প্রবর ভীত হয়ে জানতে চাইলেন যে, খোদা তাআলার রাগ থেকে রেহাই পাওয়ার উপায় কি? হযরত ঈসা (আ.) বল্লেন, যে ব্যক্তি নিজের রাগকে দমন করে রাখতে পারবে, ক্বিয়ামতের দিন সেই খোদা তাআলার রাগ হতে বাঁচতে পারবে।

(৪) দরূগ অর্থ মিথ্যাঃ

অর্থাৎ- মিথ্যা কথা বলা ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া। ভালভাবে না জেনে না শুনে মিথ্যা ফাত্ওয়া দেওয়া মহাপাপ। এটা জঘন্যতম মন্দ স্বভাব।

আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করেন, মিথ্যাবাদীদের উপর আল্লাহর অভিশাপ। তাই কসম খাওয়া, দুনিয়াবী স্বার্থের বিনিময়ে ফাত্ওয়া দেওয়া বা শরীয়তের বিধিবিধান পরিবর্তন-পরিবর্ধন করা ইত্যাদি যাবতীয় ব্যাপারে মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করা কবীরা গোনাহ্। এবং এহেন অপকর্মের হোতারা অভিশপ্ত দলের অন্তর্ভুক্ত। জনৈক বুযুর্গের উক্তি-

মিথ্যার আবরণে কভু সত্য না লুকায়

কাগজের ফুলে কেহ গন্ধ নাহি পায়।

(৫) গীবত অর্থ পরোক্ষ নিন্দাঃ

কোন ব্যক্তির অসাক্ষাতে তার এমন কোন দোষের কথা অন্যের নিকট বর্ণনা করা, যা সে শুনলে মনে কষ্ট পাবে। এটাকেই গীবত বলে। আর যদি তার মধ্যে সে দোষ বা মন্দ স্বভাব না থাকে, তবে সেটাতো আরও মারাত্মক। সেটাকে অপবাদ বা ‘বুহ্তান’ বলা হয়।

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, প্রকৃত মুসলমান ঐ ব্যক্তি যার যবান ও হাতের কষ্ট থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে। (বুখারী শরীফ)। সুতরাং যবান দ্বারা অন্যের গীবত ও বুহ্তান বর্ণনা করে মানুষের অন্তরে কষ্ট দেওয়া কবীরা গোনাহ্। তাই যবানকে গোনাহের কাজ থেকে দরে রাখা একান্ত দরকার। হাদীস শরীফে আরোও বর্ণিত আছে, কারও গীবত করা যেমন মৃত ব্যক্তির গোশ্ত ভক্ষণ করা। ক্বিয়ামতের ময়দানে গীবতকারীর হাত থাকবে শূন্য, তার হাতে কোন ধরনের নেক আমল থাকবে না এবং চেহারা বিকৃত অবস্থায় আল্লাহর দরবারে হাজির করা হবে।

(৬) বুখল অর্থ কৃপণতাঃ

আল্লাহ্ তাআলার দান জান-মাল ও জ্ঞানকে তাঁর হুকুম অনুযায়ী ব্যয় ও পরিচালনা না করাকেই শরীয়তের পরিভাষায় বুখল বা কৃপণতা বলা হয়। তাই যখনই নিজের সামনে আল্লাহ্ তাআলার হুকুম আসে, তখন তার মর্ম অনুধাবন করে জান ও মাল খরচ করতে হবে। যেমন ফরয না ওয়াজিব, সুন্নাত না মুস্তাহাব তা জানা না থাকলে বিজ্ঞ আলেমের নিকট জেনে নিয়ে জান ও মালের হক আদায় করতে হবে। সুতরাং হজ্ব ও যাকাত ফরয হলে তার বিধান অনুযায়ী আদায় করতে হবে।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, সমাজের এক প্রকার লোক যাকাতকে নিজের ওপর আরোপিত শুল্ক কর মনে করে। অথচ যাকাত একটি বিশেষ ইবাদত যা ইসলামের মৌল পঞ্চ স্তম্ভের একটি। যাকাত আদায় না করা কৃপণতারই নামান্তর, যার জন্য পরকালে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে। জেনে রাখা দরকার, হিসাব করে যাকাত আদায় না করলে তা সাদকায় পরিণত হয়ে যাবে, যাকাত হিসেবে আদায় হবে না।

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি হজ্ব ফরয হওয়ার পর অবহেলা বশতঃ হজ্ব আদায় না করে মৃত্যুবরণ করবে, সে চায় ইহুদী অথবা নাসারা হয়ে মৃত্যুবরণ করুক এতে আমার কোন দায়দায়িত্ব নেই। এই পবিত্র বাণী দ্বারা বোঝা গেল, সে ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করতে সক্ষম হবে না। এবং সে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুপারিশ থেকেও মাহরূম থাকবে। হজ্ব যাকাত মানুষ আদায় করে না মাল কমে যাবে এই ভয়ে। আখেরাতের তুলনায় ইহকালের ধন-সম্পদ নিতান্তই তুচ্ছ, আর সেই তুচ্ছ মালের প্রতি মুহাব্বত রেখে, কৃপণতার খপ্পরে পড়ে আল্লাহর নির্দেশ এড়িয়ে যাবে যারা তাদের পক্ষে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে সুপারিশ করবেন? তা সহজেই অনুমেয়।

(৭) হাসাদ অর্থ শত্রুতাঃ

মানুষের সাথে শত্রুতা পোষণ করা জঘন্যতম মন্দ স্বভাব ও গোনাহ্র কাজ। যার পরিণতি খুবই খারাপ। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা একে অপরের ভাই। সুতরাং পরস্পরে শত্রুতা করো না। এমনকি শত্রুতাভাব অন্তরে পোষণ করাও নিষেধ। একে অপরের সাথে শত্রুতা পোষণ না করে সকল মানুষের আসল ও চির শত্রু শয়তানকে কিভাবে পরাজিত করা যায় তার ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। কেননা, শয়তান মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার লক্ষ্যে প্ররোচনা যোগায়। তাই ঐ সময় যদি মানুষ আল্লাহ্ তাআলার হুকুম যথাযথভাবে পালন করে, শয়তান দুর্বল ও পরাজিত হয়। অন্যথায় শয়তান খুশী হয় এবং আল্লাহ্ তাআলা হন অসন্তুষ্ট। হযরত শেখ সা’দী (রাহ্.) বলেন-

যেই জন শয়তানকে ইমাম মানবে

খোদার পথে সে কিভাবে চলবে।

(৮) রিয়া অর্থ কৃত্রিমতাঃ

আল্লাহ্ তাআলাকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে না করে শুধু লোক দেখনোর জন্য ইবাদত-বন্দেগী ও কোন প্রকার ভাল কাজ করাকে রিয়া বলে। যেমন সুনাম ও সুখ্যাতি অর্জন করার মানসে অধিক মূল্য দিয়ে কুরবানীর পশু ক্রয় করা, যার মধ্যে আল্লাহ্ তাআলাকে রাযী-খুশী করার নিয়্যাত থাকে না। এমনিভাবে নামায, দান-খয়রাত ইত্যাদি কাজেও রিয়া হয়ে থাকে। কোন ব্যক্তি যদি রাতভর নামাযে দাঁড়িয়ে থেকে পদযুগল কলা গাছ বানিয়ে ফেলে, আর নিয়্যাত থাকে যে, শশুর আমাকে ভাল জামাতা এবং অন্যেরা বুযুর্গ বলে আখ্যায়িত করবে, তাহলে তার সারা রাত নামায পড়ার কানাকড়িও বিনিময় পাবে না। এই ধরনের কৃত্রিমভাব নিয়ে যে কোন আমল করা খুবই মন্দ স্বভাবের কাজ। সুতরাং যাবতীয় ইবাদত বন্দেগী, দান-খয়রাত ইত্যাদি একমাত্র আল্লাহ্ তাআলাকে রাযীখুশী করার জন্যই করতে হবে। অন্যথায় লোক দেখানোর মনোবৃত্তি নিয়ে কাজ করলে রিয়ায় পরিণত হবে এবং আল্লাহ্ তাআলার দরবারে তা কবুল হবে না।

(৯) কিবর অর্থ অহংকারঃ

যে ব্যক্তি নিজেকে অন্যের তুলনায় বড় ও সম্মানী বা মর্যাদাশীল মনে করে এবং অপরকে নিজের চেয়ে ছোট, তুচ্ছ ও অপমানিত মনে করে, তাকেই মুতাকাব্বির বা অহংকারী বলা হয়। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তির অন্তরে সরিষা পরিমাণ অহংকার থাকবে সে কখনও জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আল্লাহ্ তাআলা শয়তানকে হুকুম করেছিলেন, হযরত আদম (আ.)কে সম্মানার্থে সিজদা করার জন্য। আর সে অহংকার করে বলেছিল আমি আদম হতে শ্রেষ্ঠ ও সম্মানিত। যুক্তি স্বরূপ পেশ করল, আমি (শয়তান) আগুনের সৃষ্টি যার অভ্যাস হল উপর দিকে ধাবিত হওয়া, আর আদম হল মাটির সৃষ্টি, যার অভ্যাস হল নীচের দিকে ধাবিত হওয়া। সুতরাং আদমকে (আ.) আমি সিজদা করব কেন? এই বলে সিজদা না করাতে তার সারা জীবনের আরাধনা বিনষ্ট হয়ে গেল ও চির জীবনের জন্য অভিশপ্ত হয়ে গেল। শেখ সা’দী (রাহ্.) বলেন-

অপদস্থ হল শয়তান অহংকার গরিমায়,

বন্দী করল যে তাকে অভিশাপের জেলখানায়।

সুতরাং অহংকার পতনের মূল। তাই নম্র-ভদ্র, মার্জিত ও বিনয়ের সাথে জীবন পরিচালনা করা সালিকীনদের স্বভাব।

(১০) কীনা অর্থ ঘৃণা ও বিদ্বেষঃ

দুনিয়ার যে কোন মানুষের সঙ্গে বিদ্বেষভাব পোষণ করা, সালাম ও কথাবার্তা বন্ধ করে রাখা, বিদ্বেষের বশবর্তী হয়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়ীতে আসা-যাওয়া না করা, এমনকি কোন মসীবত বা অসুস্থতায়ও গিয়ে না দেখা ইত্যাদি একটি মারাÍক মন্দ স্বভাব। তা পরিত্যাগ করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অবশ্যকর্তব্য। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে তার সাথে তুমি সম্পর্ক বজায় রাখ। আর যে ব্যক্তি তোমার প্রতি দুর্ব্যবহার করে, তার প্রতি সদ্ব্যবহার কর। আর যে ব্যক্তি তোমার উপর যুলুম করে তাকে তুমি ক্ষমা কর। কিন্তু যদি কোন ব্যক্তি প্রকাশ্য শরীয়ত বিরোধী কোন কাজে লিপ্ত হয় যার কারণে সামাজিক ক্ষতি হয় ও ধর্মের উপর আঘাত আসে, এমতাবস্থায় এই মন্দ কাজ থেকে তাকে বিরত রাখার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে। এই চেষ্টার পরও যদি সে বিরত না হয়, বরং ধর্ম ও সমাজকে উপেক্ষা করে চলে, তখন তার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে চলাফেরা ও কথাবার্তা বন্ধ রাখা পবিত্র শরীয়তেরই নির্দেশ।

অতএব উপরে উল্লিখিত দশটি মন্দ স্বভাবের কথা অবগত হওয়ার পর চিন্তা করে দেখা প্রয়োজন, এগুলো আমার মধ্যে আছে কিনা। যদি থাকে তাহলে তা পরিহার করা একান্ত জরুরী। আল্লাহ্ তাআলা সবাইকে এসব মন্দ স্বভাব পরিহার করে চলার তাওফীক দান করুন। আমীন॥

লেখকঃ মুহাদ্দিস, জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা, ঢাকা, খতীব– তিস্তা গেট জামে মসজিদ টঙ্গী, অর্থসম্পাদক- জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এবং উদেষ্টা- উম্মাহ ২৪.কম।