Home অন্যান্য খবর ৬০ বছরের আলেয়া এখন হকার

৬০ বছরের আলেয়া এখন হকার

৬০ বছরের আলেয়া বেগম এখন ফুটপাতের হকার। বৃহস্পতিবার বিকেল চারটায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর শহরের পুরোনো বাসস্ট্যান্ডে। ছবি- সংগৃহিত।

ডেস্ক রিপোর্ট: কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর শহরের পুরোনো বাসস্ট্যান্ডে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে ‘এই ল দেড় শ টাকা, দুই শ টাকা, কম দামে ভালো কাপড়’ উচ্চ কণ্ঠে বলছিলেন ৬০ বছরের এক নারী। আলাপ করে জানা গেল এই নারীর নাম আলেয়া বেগম। বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার হাজিরপাড়া ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে। এখন থাকেন চট্টগ্রাম শহরের অক্সিজেন মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসায়।

আলাপ দীর্ঘায়িত হওয়ায় জানা গেল আলেয়ার ফুটপাতের হকার হওয়ার কাহিনি। আলেয়া বেগম বলেন, তাঁর সুখের সংসার ছিল। একমাত্র ছেলে আমিন উল্লাহ (২৬) গত ১৯ এপ্রিল কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। রেখে গেছেন স্ত্রী ও দুই সন্তান। আমিনের মৃত্যুর সাময় তাঁর স্ত্রী সন্তানসম্ভবা ছিলেন। ২৬ জুলাই তিনি আরও একটি ছেলের জন্ম দেন।

আমিন উল্লাহ ঢাকার বঙ্গবাজার থেকে কাপড় কিনে ফেরি করে চট্টগ্রাম নগরের অক্সিজেন মোড়ে বিক্রি করতেন। সংসারও ভালো চলছিল। ছেলের বউও একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। সন্তানসম্ভবা হওয়ায় ফেব্রুয়ারিতে সেই চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর থেকে আমিন উল্লাহর একার আয়ে সংসার চলত। রমজানে কাপড়ের ব্যবসা ভালো হবে ভেবে ৩ এপ্রিল রাতে আমিন ঢাকার বঙ্গবাজারের উদ্দেশে রওনা হন। ‘সে যে গেল বাপু, আর আইলো না।’ বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন আলেয়া।

আরও পড়তে পারেন-

ওজন দরে গরু ক্রয় করে কুরবানী করা জায়েয হবে কি?

রাসূলুল্লাহ (সা.)এর দাম্পত্য জীবনে খাদিজা (রাযি.)এর ভূমিকা

কুরবানী এলেই তাদের পশুপ্রেম বেড়ে যায়!

ইসলামে কুরবানীর বিধান সুস্পষ্ট: এর বিকল্প অন্য কিছুতে হতে পারে না

কুরবানীর ঐতিহাসিক পটভূমি এবং দার্শনিক তাৎপর্য

কান্নার রেশ নিয়ে আলেয়া বলেন, লকডাউনের মধ্যে ঢাকায় পৌঁছার পর আমিন উল্লাহর জ্বর ও সর্দি শুরু হয়। কয়েক দিন পর ঢাকায় হাসপাতালে ভর্তি হন আমিন উল্লাহ। সেখানে তাঁর মুঠোফোনটি হারিয়ে যায়। এরপর থেকে আমিন উল্লাহর সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি। ১৯ এপ্রিল রাতে টিভি দেখে জানতে পারেন, তাঁর ছেলের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু কীভাবে ঢাকায় যাবেন, কী করে বলবেন, কাকে বলবেন যে আমিন উল্লাহ তাঁর ছেলে। পরে তাঁর ছেলেকে গাজীপুরের কোনো এক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে বলে জানতে পারেন আলেয়া।

আলেয়া বলেন, বাসায় তাঁর ছেলের রেখে যাওয়া ৫০ হাজার টাকার কাপড় ছিল। এই কাপড় নিয়ে অক্সিজেন মোড়ে ফুটপাতে বসলে পুলিশ তাড়িয়ে দেয়। রোজার ঈদের পর থেকে চকরিয়ায় এসে ফুটপাতে কাপড়গুলো বিক্রি করছেন। প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার টাকার কাপড় বিক্রি হয়। সামনের পথ কীভাবে পাড়ি দেবেন, এ ভাবনায় ঘুম আসে না জানিয়ে আলেয়া বলেন, এই কাপড় শেষ হয়ে গেলে কী করবেন, কীভাবে সংসার চালাবেন, তা নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন তিনি। সূত্র: প্রথম আলো।

উম্মাহ২৪ডটকম:এমএমএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।