Home জাতীয় ‘লকডাউনের বিপক্ষে উলামায়ে কেরামের মতামতের যথার্থতা প্রমাণিত হয়েছে’

‘লকডাউনের বিপক্ষে উলামায়ে কেরামের মতামতের যথার্থতা প্রমাণিত হয়েছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক: জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’র সহসভাপতি শায়খুল হাদীস আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেছেন, করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাব শুরু হলে গত মার্চের শেষ ভাগে যখন সারা দেশে লক ডাউন পরিস্থিতি জারি করা হয়, তখন আমরা জোর দিয়ে বার বার বলেছিলাম, পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের প্রেসক্রিপশনে আমাদের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়াটা বড় রকমের ভুল হচ্ছে। কারণ, এতে দেশের অর্থনীতিকে তছনছ করে দিবে, শিল্প ও উৎপাদনমুখী কারখানায় ধ্বস নামবে, শিক্ষা ব্যবস্থার উপর বড় আঘাত আসবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলবে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, তাই শুরু থেকেই আমরা মতামত দিয়েছিলাম, সকলকে স্থানাচ্যুত বা এলাকা ত্যাগ করতে না দিয়ে যার যার অবস্থানে থেকে স্বাভাবিক কাজকর্ম বজায় রেখে চলতে দিতে হবে এবং নিজেদের পাপ ও অন্যায় কর্ম ছেড়ে মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করতে হবে। কারণ, বান্দাকে সতর্ক ও হুঁশিয়ারি দিতে এই মহামারি তিনিই অবতীর্ণ করেছেন এবং একমাত্র তিনিই এর থেকে রক্ষা কর্তা। তখন আমরা মসজিদ বন্ধ করারও জোর প্রতিবাদ করেছিলাম।

আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, সময়ে ব্যবধানে আমাদের দাবি যে যথার্থ ছিল, এটা প্রমাণিত হয়েছে।

তিনি বলেন, করোনা মাহামারি পরিস্থিতির সামান্যতমও উন্নতি হয়নি। এখনও প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন এবং আগের মতো এখনো প্রতিদিন ৪০-৫০ জন মারা যাচ্ছেন। অথচ আমরা দেখতে পাচ্ছি, এখন সবকিছু উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে। কলকারখানা, পরিবহণ, বাজার-ঘাট, চলাচল; সবই এখন স্বাভাবিক গতিতে চলছে। মাদ্রাসা, হিফজখানা খুলে দেওয়া হয়েছে। কিছু দিনের মধ্যে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ও খুলে দেওয়ার খবর শোনা যাচ্ছে।

আরও পড়তে পারেন-

আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, তাহলে কি প্রমাণিত হল? সংক্রমণের দোহাই দিয়ে পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের প্রেসক্রিপশন মেনে এই যে ৬/৭ মাস দেশের সবকিছু বন্ধ করে দিয়ে সাধারণ মানুষকে নি:স্ব করা হল, উৎপাদনমুখী কলকারখানা থেকে শুরু করে বড়-ছোট সকল ব্যবসাকে বিপুল ক্ষতির মুখে ঠেলে দেওয়া হল, সামগ্রীক অর্থনীতিতে লাখ লাখ কোটি টাকা ক্ষতি হল এবং সর্বোপরি দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হল, এটা ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই হয়েছে। এর দায়ভার তো সংশ্লিষ্টদেরকে নিতে হবে। তাদেরকে স্পষ্টত: বলতে হবে, আমাদের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল এবং এই ভুল সিদ্ধান্তের কারণে দেশ ও জনগণের আমরা বিপুল ক্ষতি করেছি।

আল্লামা ফারুক বলেন, সরকার যদি আলেমদের পরামর্শ মানতো, দেশ ও জনগণের এই বিপুল ক্ষতিটা হতো না। এখন যেমন সতর্কতার সাথে থেকে সবকিছু স্বাভাবিক গতিতে চালু করা হয়েছে, করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকেই আমরা বার বার বলে আসছিলাম, এমন সতর্কতা বজায় রেখে সবকিছু স্বাভাবিক গতিতে চলতে দিতে, বাধাগ্রস্ত না করতে।

তিনি বলেন, এই ভুল থেকে চূড়ান্ত শিক্ষাটা নিতে হবে যে, পুঁজিবাদের যে কোন সিদ্ধান্তই আমাদের দেশে প্রয়োগ করা যাবে না। কারণ, বুঝতে হবে- আমাদের অর্থনীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়লে তাদের লাভ। তাদের ব্যবসার সুবিধা বাড়ে। বুঝতে হবে, মুখরোচক বুলি দিলেও প্রকৃতই তারা আমাদের উন্নতি ও অগ্রগতি চায় না। তারা আমাদেরকে ভোক্তা ও শ্রমিকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চায়। তাই যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে দেশের আর্থসামাজিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হবে।

উম্মাহ২৪ডটকম: এসএএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।