Home জাতীয় স্বেচ্ছাচারিতায় নষ্ট হয়েছে মূল্যবান ১৬৯৫ সেট পিপিই

স্বেচ্ছাচারিতায় নষ্ট হয়েছে মূল্যবান ১৬৯৫ সেট পিপিই

- প্রতিকী ছবি।

হাসান সোহেল: সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোরস ডিপোর (সিএমএসডি) কয়েকজন কর্মচারীর স্বেচ্ছাচারিতায় নষ্ট হয়েছে মূল্যবান ১৬৯৫ সেট পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই)। দেশে করোনা মহামারি চলাকালীন সময়ে এ ধরনের কর্মকান্ডের শাস্তি না দিয়ে এসব কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েই ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মীদের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছে, জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকারি বিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে পরবর্তীতে এ ধরনের অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়বে।

সূত্র মতে, সিএমএসডিতে জেএমআই সরবরাকৃত নকল এন-৯৫ মাস্ক কেলেঙ্কারির নানা বিষয় এখনও অজানা। জড়িতদের শনাক্তকরণে দুদক, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের গঠিত একধিক কমিটির তদন্ত এখনো চলছে। দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এখনো তেমন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এরই মধ্যে গত ৮ আগস্ট ইন্টারন্যাশনাল নিটওয়ার অ্যান্ড অ্যাপারেলস লিমিটেড ইউনিট-২ এর সরবরাহপ্রাপ্ত ১ লাখ ২৮ হাজার ৫৯০ পিস পিপিই থেকে দায়িত্ব অবহেলায় বৃষ্টির পানিতে ভিজে ১ হাজার ৬৯৫ পিস পিপিই নষ্ট হয়েছে। সিএমএসডি’র এক কর্মকর্তার তথ্য মতে, সরবরাহকৃত প্রতি পিস পিপিই’র সর্বনিম্ন দাম ১ হাজার ২৫০ টাকা ধরলেও বৃষ্টিতে নষ্ট হওয়া ১ হাজার ৬৯৫ পিসের দাম আসে ২১ লাখ ১৮ হাজার ৭৫০ টাকা। এই ২১ লাখ টাকার বেশি মূল্যমানের পিপিই নষ্টের মূল কারণ সিএমএসডি’র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বে অবহেলা। দায়িত্বে অবহেলার জন্য গত ১৯ আগস্ট সিএমএসডি স্টোর অফিসারের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকারী স্টোর অফিসার মো. গিয়াস উদ্দিন মোল্যা এবং রিসিভিং ইনচার্জ মোহাম্মদ ইউসুফ ফকিরকে কারণ দর্শানোর চিঠি দেয়া হয়েছে। দু’জনই গত ২৩ আগস্ট কারণ দর্শানোর জবাব দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আর সুযোগ পেয়ে দায়িত্বে অবহেলার দন্ড থেকে অব্যাহতি পেতে মোহাম্মদ ইউসুফ ফকির ও মো. গিয়াস উদ্দিন মোল্যা স্বাস্থ্য অধিদফতর ও সিএমএসডির ঊর্ধ্বতনদের কাছে তদবিরসহ নানামুখী তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। এরই অংশ হিসেবে নষ্ট হওয়া এবং ব্যবহারের অনুপযোগী ১ হাজার ৬৯৫ পিস পিপিই গত ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর সিএমএসডি’র স্টোর ভবনের ছাদে রোদে শুকিয়ে পুনরায় প্যাকেটজাত করেছে।

পরিচালক আবু হেনা মোরশেদ জামান স্বাক্ষরিত সিএমএসডি’র স্টোর কিপার/স্টোর সহকারী মো. গিয়াস উদ্দিন মোল্যাকে দেয়া কারণ দর্শানো নোটিশে বলা হয়, গত ৮ আগস্ট সন্ধ্যার পর সংবাদ পাওয়া গেছে স্টোরে সংরক্ষিত বেশকিছু পিপিই (কভারঅল ও সু ক্যাপ) বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালককে তাৎক্ষণিকভাবে স্টোরে পাঠালে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। পরবর্তীতে দেখা যায়, ১ হাজার ৬৯৫ সেট মূল্যবান পিপিই বৃষ্টির পানিতে ভিজে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে। আর বলা হয়, স্টোর অফিসার হিসাবে এসব মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ মালামাল তত্ত্বাবধান ও দেখাশুনা করা আপনার অন্যতম দায়িত্ব। আপনি দায়িত্ব যথাযথ পালনে ব্যর্থ হয়েছেন, সরকারের মূল্যবান অর্থ নষ্ট হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থের হানি ঘটেছে। যা কর্তব্যে চরম অবহেলার শামিল।

আরও পড়তে পারেন-

এরপর ২৩ আগস্ট তারিখে কারণ দর্শানোর জবাব দেন মো. গিয়াস উদ্দিন মোল্যা। সেখনে তিনি বলেন, ওইদিন পুরোটা সময় আকাশ মেঘাচ্ছান্ন থাকায় মুষলধারে বৃষ্টি হয়। রাত পৌঁনে ১১টার দিকে রিসিভিং ইনচার্জ এবং সহকারী পরিচালক (এসএন্ডজি) এর ফোন পেয়ে দ্রুত স্টোরে যাই। রিসিভিং শাখার সামনে শেডের নীচে ৬০০ কার্টুন (প্রতি কার্টুনে ৩০ পিস পিপিই) এর মধ্যে ১ হাজার ৬৯৫ পিপিই স্টোরের ভেতরে কর্তব্যরত আউটসোর্সিং রাজস্ব কর্মচারী, রিসিভিং শাখার ইনচার্জ ও সহকারীর সমন্বয়ে উক্ত মালামাল স্টোরে নেয়া হয়। বৃষ্টির পানিতে ভিজে যাওয়া ১ হাজার ৬৯৫ পিস পিপিই আলাদা করা হয়। যা ৯ আগস্ট ভোর ৪টায় সহকারী পরিচালককে (এসএন্ডডি) জানান হয়।

একই বিষয়ে ১৯ আগস্ট সিএমএসডির সিনিয়র স্টোরকিপার মোহাম্মদ ইউসুফ ফকিরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। সেখানে বলা হয়, ইন্টারন্যাশনাল নিটওয়ার অ্যান্ড এ্যাপারেল লিমিটেড ইউনিট-২ এর সরবরাহ করা এক লাখ ২৮ হাজার ৫৯০ সেট পিপিই যা ৮, ৯, ১৩ ও ১৫ জুলাই গ্রহণ করা হয়। যা ২৯ জুলাই সার্ভে করা হয়। সার্ভে করার পরেও সংশ্লিষ্ট স্টোর কিপারকে বুঝিয়ে না দিয়ে ৮ আগস্ট পর্যন্ত নিজ দায়িত্বে রাখেন। যা ৮ আগস্ট সন্ধ্যার পর বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। এতে মোট ১ হাজার ৬৯৫ সেট মূল্যবান পিপিই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়েছে। সার্ভে করা মামলামাল যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট স্টোরে হস্তান্তর না করা এবং রক্ষাণাবেক্ষণ না করায় সরকারের মূল্যবান অর্থ নষ্ট হয়েছে। যা কর্তব্যে চরম অবহেলার শামিল।

এরপর ২৩ আগস্ট এই চিঠির জবাবে দেন মোহাম্মদ ইউসুফ ফকির। তিনি বলেন, ইন্টারন্যাশনাল নিটওয়ার অ্যান্ড অ্যাপারেল লিমিটেড এবং ক্রমিক নম্বর ১৭২ স্মার্ট জ্যাকেট লিপিবদ্ধ করে ক্লোথিং শাখায় ইনচার্জ মো. আল আমিনকে প্রদান করা হয়। কিন্তু একই রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ মেসার্স স্মার্ট জ্যাকেটের চালান ও মালামাল ৪ আগস্ট গ্রহণ করলেও ‘ইন্টারন্যাশনাল নিটওয়ার অ্যান্ড অ্যাপারেল লিমিটেড ইউনিট-২ এর মামলামাল গ্রহণে গড়িমসি করে। বারবার তাকে অনুরোধ করা হলেও তিনি ‘ইন্টারন্যাশনাল নিটওয়ার অ্যান্ড অ্যাপারেল লিমিটেডের প্রতিনিধিকে এসে উক্ত মালামাল বুঝিয়ে দেয়ার জন্য কালক্ষেপণ করতে থাকে। পরবর্তীতে উক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি তাকে মালামাল বুঝিয়ে দিলেও তিনি গ্রহণ শাখার রেজিস্ট্রার খাতায় রিসিভ না করে, তার রেজিষ্ট্রারে নথিভুক্ত করে মালামাল বিতরণ করতে থাকেন। এমনকি বাইরে থাকা মালামাল প্রথমে বিতরণ না করে স্টোরের ভেতরের মালমাল বিতরণ করে। কারণ দর্শানোর জবাবে দুইজন কর্মচারীই বিষয়টিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসাবে উল্লেখ করে সিএমএসডি পরিচালেকর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

এ প্রসঙ্গে সিএমএসডির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. মহিউদ্দিন ইনকিলাবকে বলেন, পরিচালক বর্তমানে অসুস্থ রয়েছেন। তাই দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কিছুটা সময় লেগেছে। তবে পরিচালক এ বিষয়ে অবগত। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ইনিকলাবকে বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন। পিপিই অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে সেখানে রাখার সুযোগ নেই। বৃষ্টির পানিতে পিপিই যদি নষ্ট হয় তা হবে দুঃখজনক ঘটনা। এটা এক ধরণের ব্যর্থতা। কোন কর্মচারী সরকারি সম্পত্তি ইচ্ছাকৃতভবে নষ্ট করে থাকে, তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবশ্যই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। সম্পদের পরিমাণ যত অল্পই হোক না কেন, দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলে উল্লেখ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

উম্মাহ২৪ডটকম: এসএএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।