Home অর্থনীতি নিত্যপণ্যের বাজারে অসহায় ক্রেতা: পাগলা ঘোড়ার গতিতে দাম বাড়ছেই

নিত্যপণ্যের বাজারে অসহায় ক্রেতা: পাগলা ঘোড়ার গতিতে দাম বাড়ছেই

আবুল কালাম: বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি থামছে না। পাগলা ঘোড়ার গতিতে প্রতিদিন দাম বেড়েই চলেছে। কোথায় কবে গিয়ে তা ঠেকবে তাও অনিশ্চিত। সাধারণ মানুষ বলছেন, দাম বৃদ্ধি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আয়-ব্যয়ের তাল মেলানো এখন দায় হয়ে পড়েছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে ব্যাগভর্তি টাকায় এখন পকেটভর্তি বাজার নিয়ে ঘরে ফিরতে হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিন্ডিকেটের কারণেই এমনটি হচ্ছে। সুতরাং সরকারের উচিত এদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বাজার স্বাভাবিক করা।

গতকাল বৃহস্পতিবার শান্তিনগর বাজারে গেলে নিত্যপণ্যের লাগামহীন এমন ঊর্ধ্বগতির কথা জানান ক্রেতা-বিক্রেতারা। এ নিয়ে বিক্রেতাদের তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া না থাকলেও ক্রেতাদের ক্ষোভের শেষ ছিল না। তারা বলছেন এভাবে আর কিছুদিন চলতে থাকলে অনেককে না খেয়ে থাকতে হবে।

বিক্রেতারা জানান, প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে প্রতিদিন। বন্যাকে দাম বাড়ার কারণ জানিয়ে তারা বলেন, পাইকারি বাজারে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। একজন ব্যবসায়ী জানান, ক্রেতাদের মতো তাদেরও একই অবস্থা। আগে টাকার হিসাবে যে পরিমাণ মাল আনা যেত এখন মূল্যবৃদ্ধিতে এই টাকায় মালের পরিমাণ অর্ধেকে নেমে এসেছে। তিনি জানান, এমন কোনো পণ্য নেই যার দাম বাড়েনি। এর মধ্যে কোনটির দাম শতভাগ বেড়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায় প্রতিটি পণ্যের দাম কেজিতে ২০ টাকা থেকে শুরু করে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গতকাল প্রতি কেজি পটোল, চিচিঙ্গা, ঝিঙা ও ঢেঁড়স বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকায়। শিম ১০০ থেকে ১২০ টাকা। বেগুন লম্বা ১ শ’ টাকা, আলু ৬০ টাকা, লাউ প্রতিটি ৭০ টাকা, পেঁপে কেজি ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া কেজি ৫০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা। এ ছাড়াও দাম বেড়েছে পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ডিম, মুরগি ও চালের। গতকাল প্রতি কেজি পেঁয়াজ দেশী ৯০ টাকা, পাকিস্তানি ১ শ’ টাকা, আদা চায়না ২৬০, দেশী আদা ২২০, মুরগি বয়লার কেজি ১৩৫, ডাল মোটা ৮০ টাকা, চিকন ডাল ১১০ টাকা, ডিম প্রতি ডজন ১১৫ টাকা। আর চালের সর্বনি¤œ দাম মোটা ‘২৮’ প্রতি কেজি ৫২ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

বিক্রেতারা জানান, অকাল বন্যায় সবজির যে ক্ষতি হয়েছে তাতে করে এমন দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের মতে, সবজি সরবরাহ কম থাকায় পাইকাররা দাম বৃদ্ধি করছেন। এ দাম কবে কোথায় গিয়ে থামবে তা তাদেরও জানা নেই। তবে আলুর দাম কেন বাড়ছে এ বিষয়ে তারা কোনো জবাব দিতে পারেননি।

এ দিকে সরকার আলুর দাম ৩০ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও গতকাল কোথাও এ দামে আলু বিক্রি হতে শোনা যায়নি।

আরও পড়তে পারেন-

নিত্যপণ্যের দামে এমন অস্থিরতায় ক্ষোভ ঝেড়েছেন বাজারে আসা ক্রেতারা। ব্যবসায়ী জাফর আহমদ জানান, করোনার পর থেকে ব্যবসার অবস্থা ভয়াবহ। এখন যেখানে কোনোমতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা মুশকিল এমন সময়ে পণ্যের এমন দাম তাদের দিশেহারা করে তুলেছে। তিনি বলেন, বর্তমান অবস্থায় ব্যাগভর্তি টাকা নিয়ে বাজারে এসে পকেটভর্তি বাজার নিয়ে ঘরে ফিরতে হচ্ছে। এ রকম চলতে থাকলে আর কিছু দিন পর না খেয়ে থাকতে হবে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিজীবী জাবেদ আহমদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন চলতে পারে না। একটি দেশে সরকার প্রশাসন সব থাকতে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে না এমনটা অবিশ্বাস্য। তিনি বলেন, করোনায় মানুষের আর্থিক অবস্থা শেষ হয়ে গেছে এমন সময়ে নিত্যপণ্যের এমন লাগামহীন দামে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। তার মতে, সরকারের উচিত দ্রুত কমিটি গঠনের মাধ্যমে বাজার মনিটরিং করে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

বিরাজমান পরিস্থিতিতে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবু আহমেদ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকেই দায়ী করছেন। তিনি বলেন, এমন অবস্থায় সরকারের উচিত সিন্ডিকেটে জড়িতদের চিহ্নিত করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ। এ ছাড়া টিসিবির মাধ্যমে নিত্যপণ্যের সরবরাহ বাড়িয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা।

উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।