Home রাজনীতি ‘ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রকাশ্যে প্রয়োগ চাই, যাতে লম্পটদের মনে ভয়ের কম্পন তৈরি...

‘ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রকাশ্যে প্রয়োগ চাই, যাতে লম্পটদের মনে ভয়ের কম্পন তৈরি হয়’

ইফতিখার আহমদ: ধর্ষণ, সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং জেনা-ব্যভিচার প্রতিরোধে সমমনা ইসলামী দলসমূহ ৬ দফা দাবীতে গতকাল (১৬ অক্টোবর) শুক্রবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে গণমিছিল বের করে বিজয় নগর মোড়ে বিশাল সমাবেশ করেছে।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর সভাপতিত্বে এতে সমমনা দলসমূহের শীর্ষ ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ধর্ষণ ও জেনা-ব্যভিচার প্রতিরোধে আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং এই অনাচারের উৎস বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানিয়ে বক্তব্য দেন।

বিজয় নগর মোড়ে গণমিছিল পরবর্তী সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ও জনপ্রিয় ইসলামী ব্যক্তিত্ব মাওলানা মামুনুল হক বলেন, আজকে আমরা অত্যন্ত বিক্ষুব্ধ হয়ে রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য হয়েছি। আমাদের বক্তব্য অত্যন্ত পরিস্কার। আমরা ধর্ষণ এবং ব্যভিচারের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি এবং প্রকাশ্যে প্রয়োগের দাবি জানাই।

তিনি বলেন, সরকার ইতিমধ্যে আংশিক দাবি পূরণের পরিবেশ তৈরী করেছে, সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু এই শাস্তি প্রকাশ্যে জনসম্মুখে প্রয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। যেন একটা ধর্ষণের শাস্তি, একটা ব্যভিচারের শাস্তি দেখবার পর সমস্ত লম্পটদের বুকের মধ্যে ভয়ের কম্পন তৈরী হয়ে যায়।

মাওলানা মামুনুল হক বলেন, আমাদের স্পষ্ট আরেক দাবি হল- শুধুমাত্র কঠোর শাস্তির মাধ্যমে ধর্ষণ এবং ব্যভিচার বন্ধ করা যাবে না। এর যে উৎস মুখগুলো রয়েছে, সেই উৎস মুখগুলোকে বন্ধ করতে হবে। নারীকে অশ্লীলভাবে উপস্থাপন করবার সমস্ত ফটকগুলো বন্ধ করতে হবে। মাদকের অবাধ সরবরাহ এবং প্রাপ্তির ব্যবস্থা রুদ্ধ করতে হবে। নারীকে যারা অশ্লীলভাবে উপস্থাপন করছে, সিনেমার বিলবোর্ডে, বিভিন্ন চলচিত্রের পর্দায়, এবং টেলিভিশনের পর্দায় যারা নারীকে ভোগ্য পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করছে, তারা মাতৃজাতির কলঙ্ক করছে, মাতৃজাতির কলঙ্কের বীজ বপন করছে।

আরও পড়তে পারেন-

তিনি বলেন, আমরা একটা সময় পর্যন্ত দাবি জানাবো। সরকারকে বলব- এই যে রাস্তা-ঘাটে বিলবোর্ড, বিভিন্ন ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, বিভিন্ন সিনেমা হলগুলোতে, নাটকের নামে টেলিভিশনগুলোর পর্দায় নারীকে অশ্লীলভাবে উপস্থাপন করার এই প্রবণতা রোধ করুন। এই অপতৎপরতা বন্ধ করুন। একটা সময় পর্যন্ত আমরা দাবি জানাবো। যদি আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ভাষা সরকার বুঝতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তৌহিদী জনতা এই অশ্লীলতার আখড়াগুলোকে নিজেদের হাতে ভেঙ্গে খান খান করে দিতে বাধ্য হবে।

মাওলানা মামুনুল হক বলেন, আমরা পরিস্কার ভাষায় বলতে চাই, আজকে ইসলামপন্থী, ইসলামবিরোধী নাস্তিক্যবাদের ধোষরেরা, তারা মামার বাড়ির আব্দার নিয়ে এসেছে। ওরা ধর্ষণ বন্ধ করতে চায় না, ওরা ধর্ষণ বিরোধী বিভিন্ন সংগ্রাম এবং বিভিন্ন সমাবেশের নামে রাজপথে প্রকাশ্যে নারী-পুরুষের অশ্লীল এবং যৌন আচরণের মাধ্যমে গোটা দেশ এবং জাতিকে কলঙ্কিত করার পাঁয়তারা করে বেড়াচ্ছে।

তিনি বলেন, এর চেয়েও বড় কথা, বাংলাদেশের আলেম সমাজের ওয়াজ-মাহফিল, কুরআনের মাহফিল, আলোচনার মাহফিল, ওয়াজ এবং তাফসিরের মাধ্যমে যেখানে মানুষকে নীতি-নৈতিকতার শিক্ষা দেওয়া হয়, শালীনতা ও সহনশীলতার শিক্ষা দেওয়া হয়। সেই ওয়াজ-মাহফিল গুলোর বিরুদ্ধে আজকে তারা বিষোদ্গার শুরু করেছে। আমরা বুঝি না, এটা কি সরকারের সাথে তাদের কোন পাতানো খেলা কিনা। একদিকে তারা দাবি তুলছে ওয়াজ-মাহফিল বন্ধ করতে হবে। আরেক দিকে প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গা থেকে ওয়াজ-মাহফিলের পারমিশন না নিয়ে সারা দেশের ওয়াজ-মাহফিলগুলোকে বন্ধ করে দিচ্ছে। আরেক দিকে গোটা দেশে জেনা-ব্যাভিচার-ধর্ষণের উস্কানি দেওয়ার জন্য অশ্লীলতার আখড়া সিনেমা হলগুলোকে উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমি জানি না, আগামি দিনে মাহফিল বন্ধ করে সিনেমা হল উন্মুক্ত করবার কোন পাঁয়তারা যদি চালানো হয়, তাহলে তৌহিদী জনতা সিনেমা হল দখল করে মাহফিল বাস্তবায়ন করতে পারে। তাদের এই ধরণের আত্মগাতি কোন সিদ্ধান্ত যেন সরকার বাস্তবায়ন করার দুঃসাহস না পায়।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মাওলানা মামুনুল হক বলেণ, ৭১ টেলিভিশন চ্যানেলকে বলব, ইসলাম বিরোধী, ওলামায়ে কেরামের তৎপরতার বিরুদ্ধে, কুরআনের মাহফিলের বিরুদ্ধে, ওয়াজ-মাহফিলের বিরুদ্ধে বিষোদ্গারগুলো যদি বন্ধ না করো। তোমরা গণমাধ্যম নয়, ইসলাম বিরোধী চক্রান্তের আখড়া হিসেবে চিহ্নিত হবে তোমরা। জাতি তোমাদের ব্যপারে ভিন্ন কোন স্দ্ধিান্ত নিতে বাধ্য হবে। আল্লামা নুর হোসাইন কাসেমী শীর্ষ নেতৃবৃন্দদের নিয়ে আগামী দিনে আন্দোলন সংগ্রামের যে কর্মসূচী ঘোষনা করবেন, জীবন দিতে হলে জীবন দিয়ে সেই কর্মসূচী বাস্তবায়ন করার জন্য রাজপথে থাকবেন তো?

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।