Home শীর্ষ সংবাদ ফরাসী সরকারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ফরাসী সরকারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন। - ফাইল ছবি।

ফ্রান্সে ইসলাম এবং নবীর কার্টুন নিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের প্রতিবাদে বাংলাদেশে ইসলামী দলগুলো যে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে, সেই প্রতিবাদ বিক্ষোভের মুখে বাংলাদেশ সরকার স্পর্শকাতর বিষয়ে উস্কানি না দেয়ার পরামর্শ দিয়ে ফরাসী সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বিবিসিকে বলেছেন, তিনি ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এই চিঠি পাঠিয়েছেন। তবে ইসলামপন্থী দলগুলোর নেতারা বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার স্পষ্টভাবে নিন্দা জানাবে, সেটা তারা চান। ইসলামী দলগুলো বাংলাদেশে ফ্রান্স বিরোধী ব্যাপক প্রতিবাদ-বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে কয়েকদিন ধরে। তারা ফ্রান্সের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি জানিয়েছে। তারা আরও দাবি করেছে, বাংলাদেশ সরকার যেনো ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের ব্যাপারে নিন্দা জানায়। এমন প্রেক্ষাপটেই এখন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন।

কী আছে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চিঠিতে:

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, তিনি চিঠিতে ফরাসী সরকারকে স্পর্শকাতর বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

“আমরা মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। তবে কাউকে আঘাত করে নয়। ফ্রীডম অব এক্সপ্রেশনের একটা লিমিটেশন আছে। আর আমরা বলেছি যে, স্পর্শকাতর ব্যাপারে কেউ যেন উস্কানি না দেয়।আরেকটি কথা আমরা বলেছি যে, একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকা উচিত। সেটা যে কোন ধর্ম বর্ণ বা গোষ্ঠীই হোক না কেন-তার উর্ধ্বে থেকে একে অপরকে শ্রদ্ধা করা উচিত। এ ব্যাপারে আগামীতে আরও সতর্ক হলে ভাল।”

একইসাথে তিনি ফ্রান্সে একজন শিক্ষককে গলা কেটে হত্যা এবং পরে হামলায় কয়েকজনের নিহত হওয়ার ঘটনার ব্যাপারে দু:খ প্রকাশ করেছেন।

আরও পড়তে পারেন-

তিনি বলেছেন, মত প্রকাশ করা বা কোন কারণে কাউকে হত্যার ঘটনা বাংলাদেশের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন চিঠিতে ধর্ম বা স্পর্শকাতর বিষয়ে ফ্রান্সকে উস্কানিমূলক কিছু না করার পরামর্শ দিলেও ফরাসী প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের ব্যাপারে নিন্দা জানাননি।

ফ্রান্স ইস্যুতে বাংলাদেশে লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে ইসলামী দলগুলোর বিক্ষোভের খবর পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে। ফ্রান্সের রাজনীতিতেও বাংলাদেশ আলোচনায় এসেছে। ফ্রান্সের বিরোধী নেত্রী মারি লো পেন বাংলাদেশ থেকে অভিবাসন নিষিদ্ধ করার দাবিও জানিয়েছেন।

অন্যদিকে দেশে ইসলামী দলগুলো ফ্রান্স বিরোধী শক্ত অবস্থানেই রয়েছে। ফলে দু’দিক থেকেই বাংলাদেশ সরকার চাপে পড়েছে কিনা- এই প্রশ্ন মানতে রাজি নন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। তিনি বলেছেন, ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ কোন বক্তব্য নিয়ে বাংলাদেশ চিন্তিত নয়। এটা আমাদের কনসার্ন না। আমরা ফ্রিডমে বিশ্বাস করি। বহুলোক বহুকিছু দাবি করতে পারে। এটা আমাদের জন্য বড় কোন ইস্যু নয়।

কিন্তু পরিস্থিতি ফ্রান্সের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের কোন প্রভাব পড়বে কিনা- এই প্রশ্নও মানতে রাজি নন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন- কোন প্রভাব পড়বে না। তারা খুব ভাল বন্ধু। আমাদের সাথে ফ্রান্সের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ট।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন আরও বলেছেন, বাংলাদেশে যেসব প্রতিবাদ বিক্ষোভ হচ্ছে, সেগুলো থেকে কোন সহিংস ঘটনা ঘটেনি। এমন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে-সেটা সরকার আশা করে। সূত্র- বিবিসি।

উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।