Home অন্যান্য খবর শীত উপেক্ষা করে ইসরাইলের ভূমি আত্মসাৎ প্রতিরোধে ফিলিস্তিনিরা

শীত উপেক্ষা করে ইসরাইলের ভূমি আত্মসাৎ প্রতিরোধে ফিলিস্তিনিরা

টানা নয় রাতের মতো ৪৮ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি বেদুইন হারব আবুল কাবশ শীতল আবহাওয়ায় খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাবেন।

জেরুসালেম থেকে ৬১ কিলোমিটার উত্তরে জর্দান উপত্যকার তুবাস শহরের পূ্র্বে হোসনা আল-বাকিয়া গ্রামে ইসরাইলি বাহিনী তার তাবু ও ভেড়ার খোঁয়ার ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে।

বুধবার ফিলিস্তিনে তুষারপাতের পর তীব্র শীতেও গ্রামবাসীকে তাবুতে আশ্রয় নিতে বাধা দিচ্ছে ইসরাইলি সৈন্যরা।

গত বছরের ৩ নভেম্বর থেকেই নিয়মিতভাবে ইসরাইলি বুলডোজার হানা দিয়ে গুড়িয়ে দিচ্ছে গ্রামটি।

আরও পড়তে পারেন-

হোমসা গ্রামের ১১ পরিবারের ছিন্নভিন্ন তাবু, তার, বহনযোগ্য টয়লেট ও সোলার প্যানেল পুরো স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়।

যখনই গ্রামবাসী নতুন করে তাদের ও তাদের পশুপালের জন্য আশ্রয় তৈরি করেন, ইসরাইলি বাহিনী এসে তখনই তা আবার গুড়িয়ে দিয়ে আচ্ছাদনবিহীন অবস্থায় থাকতে তাদের বাধ্য করে।

আনাদোলু এজেন্সির কাছে হারব বলেন, দুই মাস আগে সর্বশেষ তছনছের পর তারা তাদের আসবাব আবার মেরামত করতে পেরেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘গত কয়েক দিন তারা দিনে দুই বার এসে আমাদের কৃষি সরঞ্জাম, বহনসযোগ্য টয়লেট ও আমাদের কক্ষের ও তাবুর ধাতব সরঞ্জাম জব্দ করে নিয়ে যায়।’

এর আগে মঙ্গলবার ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ওই এলাকায় ইউরোপীয় এক কূটনীতিক প্রতিনিধি দল সফরের পর হানা দেয়।

ইসরাইলি বাহিনী স্থানীয়দের ইউরোপীয় প্রতিনিধি দলের সরবরাহ করা সব সাহায্য জব্দ করে নিয়ে যায়।

হারব বলেন, ‘কোনো আচ্ছাদন, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ছাড়াই আমরা ৬৫ জন লোক বাস করছি।’

হোমসার কাছাকাছি ১০টির বেশি ইহুদি বসতি সংরক্ষণে ইসরাইলি বাহিনী সহায়তা ও নিরাপত্তা দিয়ে আসছে।

মৌলিক সুযোগ-সুবিধা ভোগসহ তারা ওই অঞ্চলটিতে কৃষিকাজ করারও সুযোগ পাচ্ছেন।

হারব বলেন, ‘আমার তাবুর তিন শ’ মিটার দূরের কুয়া থেকে তারা আমাদের পানি আনতে দেয় না।

আমার পরিবারের জন্য পানি আনতে প্রতি রাতে আমাকে দুই ঘণ্টা সফর করতে হয়। যদি আমি দিনে যাই, তবে সেনাবাহিনী আমার ভ্যানগাড়ি জব্দ করে নেয়।’

তুবাসের জর্দান উপত্যকা বিষয়ক ডাইরেক্টর মোতাজ বাশারাত ওই অঞ্চলের অবস্থাকে বিপর্যয়কর হিসেবে বর্ণনা করেন।

তিনি বলেন, ‘এটি স্পষ্টতই অপরাধ। এই ৬৫ বেদুইনের মধ্যে ৪২ জনই শিশু। খোলা আকাশের নিচে তারা বাস করছেন। সেনাবাহিনী আমাদেরকে ওই গ্রামে ঢুকতে দিচ্ছে না; আমরা সাহায্যও করতে পারছি না বা তাদের উদ্ধারও করতে পারছি না। সবকিছুই তারা জব্দ করে রেখেছে।’

১৯৪৮ সালে নেগেভ মরুভূমি থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর, হারব ও অন্যান্য পরিবার ১৯৬৭ সালের আগ থেকেই ওই স্থানে বাস করে আসছেন।

তিনি বলেন, ‘১৯৬৭ সালের আগে আমার পরিবার এখানে আসে। এখন ইসরাইল আমাদের ভূমিকে মিলিটারি জোন ঘোষণা করেছে। তারা আমাদের এখান থেকে বহিস্কার করতে চায়।’

হারব বলেন, ‘তারা কিছুই বিবেচনা করছে না; আমাদের জীবন, সন্তানের কোনো মূল্যই তাদের কাছে নেই।’

হারব জানান, তার ভাই ও তাদের পরিবার বর্তমানে তীব্র শীতের রাত খোলা আকাশের নিচে পার করছেন।

আনাদোলু এজেন্সিকে তিনি বলেন, ‘আমাদের সন্তানেরা গুরুতর অবস্থায় আছেন।

প্রথমবার যখন সেনাবাহিনী আমাদের তাবু তছনছ করে, আমার ভাতিজার বয়স ছিল মাত্র তিনদিন। বৃষ্টির মধ্যে তারা আমাদের তাবু নিয়ে যায়।’

ইসরাইল ওই অঞ্চলের ৭০ হাজার দুনম (প্রায় ১৭ হাজার তিন শ’ একর) জমি আত্মসাতের পরিকল্পনা করছে।

স্থানীয়রা জানান, ফিলিস্তিনি শিশুরা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীদের হাতে আক্রমণের শিকার হচ্ছে। এদের মধ্যে কেউ তাদের গ্রামে ও বাকিরা স্কুলে যাওয়ার পথে আক্রমণের শিকার হয়।

কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়েল রেজিসটেন্স কমিশনের কর্মকর্তা কাসেম আওয়াদ বলেন,

‘দখলদাররা (ইসরাইল) চেষ্টা করছে পূর্বের আইয়ালুন হাইওয়ে পর্যন্ত দখল করে নিয়ে পশ্চিম তীরকে বিচ্ছিন্ন করতে এবং জর্দান উপত্যকার উর্বর ভূমি আত্মসাৎ করতে, যা পশ্চিম তীরের খাবারের ঝুঁড়ি।’

কমিশনের তথ্যানুসারে, ওই অঞ্চলের দুই শ’র বেশি আবাস চারবার ধ্বংস করা হয়েছে, যা ৩০ লাখ ডলারের বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতি সৃষ্টি করেছে।

তিনি বলেন, ‘হোমসাকে নয় বার সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়, এরমধ্যে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই তিনবার ধ্বংস করা হয়।’ সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি।

উম্মাহ২৪ডটকম: এসএএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।