Home অর্থনীতি মাত্র দশ দিনে শেয়াবাজারে ৬৮ হাজার কোটি টাকা খোয়ালেন যে বিনিয়োগকারী

মাত্র দশ দিনে শেয়াবাজারে ৬৮ হাজার কোটি টাকা খোয়ালেন যে বিনিয়োগকারী

মার্চের শেষ নাগাদ মাত্র দশ দিনের মাথায় শেয়ার বাজারে ৮০০ কোটি ডলার খোয়ালেন ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারী বিল ওয়াং। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ দ্রুত গতিতে বাড়ছিল ওয়াং-এর সম্পদের পরিমাণ। নিভৃতেই বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় নাম লেখাতে চলেছিলেন তিনি। তবে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের ফাঁদে নিমেষেই সব হারালেন কোরিয়ান আমেরিকান এই বিনিয়োগকারী। বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে তার এই আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬৮ হাজার কোটি টাকা।
 
এর আগে ওয়াল স্ট্রিটেও তাকে খুব কম মানুষই লক্ষ্য করেছে। তবে, এবার সজোরে পতনের পর আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছেন বিল ওয়াং।
 
গত সপ্তাহে, কোটি টাকার বড় ধরনের কেলেঙ্কারির সম্মুখীন হয়েছে বিলের প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট ফার্ম আরকেগোজ ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট। গোপনীয়তার সাথে ঝুঁকিপূর্ণ ঊর্ধ্বগামী বাজারে শেয়ার বিনিয়োগ করতে গিয়ে মুহুর্তেই ধসের সম্মুখীন হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
 
ওয়ানের সাম্প্রতিক উত্থানের পেছনে ছিল মিডিয়া প্রতিষ্ঠান ভায়াকমসিবিএস ও ডিসকোভারিসহ, জিএসএক্স টেকেডু, বাইডো প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার। এ বছর প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ছিল ঊর্ধ্বগামী। এমনকি বিনিয়োগকারীরাও শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির কারণ আন্দাজ করতে পারেননি।

আরও পড়তে পারেন-

বিলের পোর্টফোলিওর অংশ থেকে সপ্তাহখানেক আগেই প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের ব্লক লেনদেন করে গোল্ডম্যান স্যাকস, মরগান স্ট্যানলে এবং ওয়েলস ফারগো অ্যান্ড করপোরেশন। ব্যাংকারদের হিসাব অনুযায়ী আরকেগোজের নেট মূলধন অর্থাৎ বিল ওয়াং-এর সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যায়।

লেনদেন বাড়তে থাকায় প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত উঠতে থাকে। দশ বিলিয়ন থেকে পঞ্চাশ বিলিয়ন, এমনকি প্রতিষ্ঠানটির লেনদেনের পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়।
 
কিন্তু এরপরই কয়েকদিনের মাথায় সব মুখ থুবড়ে পড়ে। কিছুদিন আগে ভায়াকমসিবিসি মরগান স্ট্যানলে এবং জেপিমরগানের মাধ্যমে তিন বিলিয়ন ডলারের শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দিলে শেয়ার পতন ঘটে। ডমিনো প্রভাবে প্রাইম ব্রকাররা আরকেগোজ থেকে সরে দাঁড়াতে শুরু করেন। ফলে বড় ধরনের মার্জিন কলের মুখোমুখি হয় প্রতিষ্ঠানটি।
 
আরকেগোজের মুখপাত্র কারেন কেসলার সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান যে, পারিবারিক প্রতিষ্ঠানটি এক চ্যালেঞ্জিং সময় অতিবাহিত করছে।
 
গোল্ডম্যান স্যাকসের প্রাক্তন অংশীদার এবং পেশাদার ম্যাক্রো ইনভেস্টর মাইক নোভোগ্র্যাটজ জানান, “আমি কখনোই এমন কিছু দেখিনি- ঘটনাটি একদমই নীরব আর গোপনীয় ছিল, দ্রুততার সাথে এর অবসান ঘটে । ১৯৯৪ সাল থেকে বিনিয়োগে সম্পৃক্ত মাইক আরও বলেন, “ঘটনাটি ইতিহাসে ব্যক্তিগত সম্পদের একক বৃহত্তম লোকসানের একটি হিসেবে বিবেচিত হবে।”

উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।