Home অর্থনীতি রমজানেও বাড়তি চাহিদা না থাকায় পাস্তুরিত দুধের উৎপাদন কমেছে

রমজানেও বাড়তি চাহিদা না থাকায় পাস্তুরিত দুধের উৎপাদন কমেছে

- প্রতিকী ছবি।

প্রতি বছর রমজানে দুধের বাড়তি চাহিদা তৈরি হলেও এবারে তা হয়নি। লকডাউনের প্রভাবে বিক্রি কম থাকায় পাস্তুরিত দুধ বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদনও কমিয়ে দিয়েছে বলে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে। 

দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য প্রস্তুতকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এবং খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে প্রতি বছর রমজানে ৩০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত দুধের অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হতো। এবারে এ চাহিদা না থাকায় এবং বিক্রি কমে যাওয়ায় কিছু প্রতিষ্ঠান পাস্তুরিত দুধের উৎপাদনও কমিয়ে দিয়েছে।  

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিল্ক ভিটার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, ‘দোকানপাট সন্ধ্যায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে করে বিক্রি কমে গেছে। মিল্ক ভিটা প্রতিদিন যেখানে ২ লাখ লিটার দুধ বাজারজাত করত তা এখন দেড় লাখ লিটারে নামিয়ে এনেছে।

জানা গেছে, গত মার্চে কিছু কোম্পানি পাস্তুরিত দুধের দাম বাড়িয়েছে। এক লিটার দুধের দাম ৬৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫ টাকা, আধা লিটার ৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ টাকা এবং কোয়ার্টার দুধের দাম বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা হয়েছে। এ সময় খামারি পর্যায়ে দুধের দাম কোম্পানিগুলো দুই টাকা বাড়িয়েছে।  

কোভিড-১৯ এর  কারণে উৎপাদন কমিয়ে আনার প্রভাব পড়েছে খামারিদের উপরেও। খামারিরা বলছে, গত মার্চ মাসে দুই টাকা দাম বাড়িয়েছে কোম্পানিগুলো। তারা পুনরায় লিটারে আরও দুই টাকা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু করোনার কারণে তা আর হয়নি।  মানভেদে এখন খামারিরা প্রতি লিটার দুধ বিক্রি করছে ২৭-৬২.৬৫ টাকায়। 

  • রমজানে ৩০-৪০ শতাংশ চাহিদা বাড়ে যা এবার নেই 
  • কোম্পানিগুলো উৎপাদন কমিয়েছে
  • উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও সে হারে বাড়েনি দুধের দাম
  • খামারিদের উপর বাড়তি চাপ গো খাদ্যের দাম 

খামারিরা বলছেন, খড়, ভূসি, খৈলের চড়া দাম ও ঘাসের স্বল্পতার কারণে খামারিদের ব্যয় অনেক বেড়েছে। সে অনুযায়ী দুধের দাম বাড়েনি। ফলে চাপে পড়েছে খামারিরাও।

ইন্টিগ্রেটেড ডেইরী রিসার্চ নেটওয়ার্ক (আইডিআরএন) এর তথ্য বলছে, প্রাণী খাদ্য প্রস্তুতের যে উপাদান সেগুলোর দাম গড়ে ১০-৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

পাবনার ভংগুরা থানার দুগ্ধ খামারি খোকন বিশ্বাস টিবিএসকে বলেন, ‘কোম্পানিগুলো দুধের দাম লিটারে দুই টাকা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু করোনার কারণে তারা বাড়তি উৎপাদন করছে না এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী খামারি পর্যায়ে দুধের দামও বাড়াচ্ছে না। এ কারণে গাভি পালনের যে বাড়তি খরচ তা খামারিরা কুলাতে পারছে না’।

আরও পড়তে পারেন-

খামারিরা বলছে, প্রক্রিয়াজাতকারী কোম্পানিগুলো দুধের ক্রয় কমায়নি। তবে মিষ্টি তৈরির কারখানাগুলো করোনার মধ্যে দুধ কম কিনছে।  

পাস্তুরিত দুধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পরিচিত কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে মিল্ক ভিটা, প্রাণ, আড়ং ও আকিজের ফার্ম ফ্রেশ। প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, দু বছর ধরেই দুধ প্রক্রিয়াজাতকারী কোম্পানিগুলো বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে। গত বছর করোনার প্রথম ধাক্কায় যখন সাধারণ ছুটি ছিল তখন বিক্রি প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছিল। 

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যখন রোজায় বাড়তি চাহিদা সামাল দেয়ার প্রস্তুতি চলছিল ঠিক তখনই আসে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা। এবারো লকডাউনের ঘোষণায় অনেকেরই কাজ নেই। অনেকে ছুটির সময়টাতে শহর ছেড়ে গ্রামে চলে গেছে। যে কারণে বাড়তি চাহিদা তো দূরে থাক, স্বাভাবিক সময়ের সমান চাহিদাও নেই। এর মধ্যেই বাড়তি খরচ করে দুধ উৎপাদন ও বাজারজাত করতে হচ্ছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানগুলো।  

আকিজ ফুড এন্ড বেভারেজ লিমিটেডের সিওও (ডেইরি) মোঃ মোসলেহ উদ্দিন টিবিএসকে বলেন, ‘আমরা এখনো উৎপাদন কমাইনি। তবে বিক্রি কিছুটা কম। রমজানেও এবার বাড়তি চাহিদা নেই। অন্যদিকে করোনার মধ্যে আমাদের পরিবহন থেকে বাজারজাত করা পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে খরচ বেড়েছে, যা উৎপাদন খরচকে বাড়িয়ে দিয়েছে’। 

তিনি বলেন, ‘খামারিদের কথা চিন্তা করে আমরা দুধ সংগ্রহের পরিমাণ কমাইনি। বেশি করে দুগ্ধ জাতীয় পণ্য তৈরি করে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করছি’। 

উৎপাদন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিদিন গড়ে দেশে ৬০ লাখ লিটার বা তারও বেশি দুধ উৎপাদন হয়। যার একটা অংশ পাস্তুরিত দুধ প্রক্রিয়াজাত করতে ব্যবহার করা হয়। একটা অংশ খোলা বাজারেই বিক্রি হয়। এছাড়া বড় একটা অংশ ব্যবহৃত হয় মিষ্টি ও বিভিন্ন ধরণের মিষ্টান্ন পণ্য তৈরিতে।  

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে ১০৬.৮০ লাখ টন দুধ সরকারি ও বেসরকারী খামারে উৎপাদন হয়েছে। এ কারণে দেশে প্রতিদিন মাথাপিছু দুধের গড় প্রাপ্যতা বেড়ে ১৭৫ মিলি গ্রামে দাড়িয়েছে। যেখানে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বলছে, একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের প্রতিদিন অন্তত ২৫০ গ্রাম দুধ খাওয়া উচিত।  

এদিকে করোনার মধ্যে যাতে মাছ, মাংস, দুধ ডিমের বিক্রি বন্ধ হয়ে না যায় সেজন্য মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ঢাকাসহ সারাদেশে ভ্রাম্যমান বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এই বিক্রয়কেন্দ্রগুলো করোনার এই সময়ে দুধ বিক্রিতে বড় ভূমিকা রাখছে বলে জানা গেছে।  সূত্র- টিবিএস।

উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।