Home অর্থনীতি ঝুঁকির মুখে খাদ্যনিরাপত্তা: ১৩ বছরে সর্বনিম্ন স্তরে চালের মজুত

ঝুঁকির মুখে খাদ্যনিরাপত্তা: ১৩ বছরে সর্বনিম্ন স্তরে চালের মজুত

সরকারের বিভিন্ন গুদামে এখন চাল আছে মাত্র ৩ লাখ মেট্রিক টন, যা ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। চাল নিয়ে যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তা সরকারের অজানা ছিল না। সম্ভাব্য ঘাটতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছরের আগস্টেই চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছিলেন। কিন্তু খাদ্য মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত সময়মতো বাস্তবায়ন করতে পারেনি। সরকারিভাবে ১০ লাখ টন চাল আমদানির কার্যক্রম শুরু করতে তাদের চার মাস লেগে যায়। আর শুল্ক কমিয়ে বেসরকারি খাতকে আমদানির অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি গড়ায় ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দৈনিক খাদ্যশস্য পরিস্থিতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সরকারের গুদামে চাল ছিল ৩ লাখ ১১ হাজার টন। খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের গুদামে এর চেয়ে কম মজুত ছিল ২০০৮ সালের অক্টোবরে, ২ লাখ ৮০ হাজার টন। এর আগের বছরই ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে দেশে চালের উৎপাদন ২০ লাখ টন কম হয়েছিল। তখন ক্ষমতায় ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার। তারা সময়মতো চাল আমদানি করতে না পারায় বাজারে মোটা চালের কেজি ৫০ টাকায় ওঠে। আর এখন বাজারে ভালো মানের মোটা চালের কেজি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, যা ২০১৭ সালের পর সর্বোচ্চ। সরু চালের কেজি এখন ৬২-৬৫ টাকা।

সাধারণত বাজারে চালের দাম বেড়ে গেলে সরকার খোলাবাজারে বিক্রি (ওএমএস) কর্মসূচি বাড়িয়ে দেয়। এতে একদিকে যেমন বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে, অন্যদিকে নিম্ন আয়ের মানুষ বেশ কম দামে চাল কিনতে পারে। কিন্তু এবার ‘লকডাউনে’ সরকারের কর্মসূচি একেবারেই সীমিত। খাদ্য অধিদপ্তর গত সপ্তাহে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, তারা দেশের ৭১৫টি বিক্রয়কেন্দ্রে ৭৩৩ টন করে চাল বিক্রি করছে।

গত বছর মার্চে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর সচ্ছল মানুষেরা বাড়তি পরিমাণে কিনে চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। এরপর ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাত, প্রলম্বিত বন্যা—সব মিলিয়ে বছরজুড়েই চালের বাজার ছিল চড়া। ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) হিসাবে, ২০২০ সালে ঢাকায় মোটা চালের গড় দাম ছিল ৪৮ টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি। বাজারে দাম বেশি থাকায় সরকার গত বোরো মৌসুমে লক্ষ্য অনুযায়ী চাল কিনতে পারেনি। আবার আমনেও সাড়ে ৮ লাখ টন সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে কেনা গেছে মাত্র ৮৩ হাজার টন।

আরও পড়তে পারেন-

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক গবেষণা পরিচালক এম আসাদুজ্জামান বলেন, লকডাউন ও করোনার কারণে পেশা হারিয়ে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে এক বছরে চালের মজুত ১১ লাখ টন থেকে বাড়িয়ে ১৫ লাখ টন করা উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে মজুত কেন ৩ লাখ টনে নামিয়ে আনা হলো, তার জবাব খাদ্য মন্ত্রণালয়কে দিতে হবে। তিনি বলেন, ভারত থেকে চাল আমদানি করতে গিয়ে এর আগেও বাংলাদেশ বিপদে পড়েছে। দেশটি অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, নির্বাচনসহ নানা কারণে সংকটকালে চাল ও পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। এবার করোনার টিকা রপ্তানি নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের উচিত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া।

আমদানিতেও ব্যর্থতা

খাদ্য মন্ত্রণালয় ঘাটতি সামাল দিতে গত জানুয়ারি মাসে ২০ লাখ টন চাল আমদানির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারিভাবে মাত্র ২ লাখ ৫৯ হাজার টন ও বেসরকারিভাবে সাড়ে ৬ লাখ টনের মতো চাল আমদানি হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় চাল আমদানির জন্য ৩২০টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দিয়েছিল। বেশির ভাগই যথাসময়ে আমদানি করতে পারেনি।

সবচেয়ে বেশি চাল আমদানির অনুমতি পাওয়া ব্যবসায়ীদের একজন সাতক্ষীরার চিত্ত মজুমদার বলেন, শর্ত অনুযায়ী চাল আনতে হবে চলতি মাসের মধ্যে। কিন্তু ট্রাকের সংকট, স্থলবন্দরে জট ইত্যাদি কারণে সময় বেশি লাগছে। তিনি বলেন, বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। এখন ২৫ শতাংশ শুল্ক দিয়ে চাল আনলে লোকসান হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আমদানির অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানের একটা বড় অংশ নিয়মিত আমদানিকারক নয়। তারা মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি চাল ব্যবসায়ী। ফলে প্রথম দফায় চাল এনে তারা তেমন একটা লাভ করতে না পারায় অনেকেই দ্বিতীয় দফায় আমদানিতে যাননি। নওগাঁর চাল ব্যবসায়ী ও আমদানির অনুমতি পাওয়া নুরুল ইসলাম বলেন, আমদানির চাল এনে বিক্রি করা কঠিন। তাই ২০ হাজার টনের অনুমতি পেয়ে তিনি ১০ হাজার টন আমদানি করেছেন।

সূত্র- প্রথম আলো।

উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।