Home অন্যান্য খবর চেতনার অগ্রপথিক, নিরলস ব্যক্তিত্ব ছিলেন মাওলানা সুলাইমান দেওয়াননগরী (রাহ.)

চেতনার অগ্রপথিক, নিরলস ব্যক্তিত্ব ছিলেন মাওলানা সুলাইমান দেওয়াননগরী (রাহ.)

।। মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী ।।

মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত। মানুষের হেদায়েতের জন্য স্থান-কাল-পাত্র বিশেষে মহান আল্লাহ তা‘আলা অসংখ্য নবী ও রাসূল প্রেরণ করেছেন। আল্লাহর মনোনীত এই নিষ্পাপ বান্দাগণ নবুওয়াতের মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অশেষ কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন। হযরত মুহাম্মদ সা.সর্বশেষ নবী। তাঁর মাধ্যমে নবীগণের আগমনের ধারা কেয়ামত পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দাওয়াতের গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয় তাঁর উম্মতের উপর। আর এই উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম মানুষ হচ্ছেন সত্য ও ন্যায়ের ধারক-বাহক হযরাতে ওলামায়ে কেরাম। তাঁরা নবীগণের উত্তম উত্তরসূরী। ওলামায়ে কেরাম ইসলামের প্রচার প্রসারে নিজেদের উৎসর্গ করেন। ওলামায়ে কেরামের অনুপম আদর্শে মানবজাতির জন্য রয়েছে শিক্ষা, আদর্শ ও জীবন পরিচালনার পাথেয়।

মানুষ মাত্রই মরণশীল। জীব মাত্রেরই মৃত্যু অবধারিত। যে জন্মেছে সে মরবেই। মৃত্যুর স্বাদ তাকে গ্রহণ করতেই হবে। কবির ভাষায়-

“মরণ থেকে পালাও তুমি, মরণ তোমায় লইবে ঘিরি,
যদিও সুদূর আকাশ পানে পালাও, সেথায় লাগিয়ে সিঁড়ি।

সময়ের ব্যবধানে অনেক সুমানুষ হারিয়ে যায়। তাদের মৃত্যু ব্যথা দিয়ে যায় ভক্ত-অনুরক্তদের। বলা হয় একজন আলেমের মৃত্যু মানে সমগ্র পৃথিবীর মৃত্যু। আসলেই তাই।

একজন আলেম পৃথিবী ত্যাগ করলে আমরা ভারাক্রান্ত হই। যারা চলে গেলে জাতির আত্মা কেঁদে উঠে; নিরব হয়ে উঠে ভাগ্যাকাশ- এমন একজন সুমানুষের নাম মাওলানা সোলাইমান দেওয়াননগরী রহ.। ১৯৪৭ সালে বন্দরনগরী চট্টগামের হাটহাজারী থানার অন্তর্গত হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে ১ কিলোমিটার দক্ষিণে দেওয়াননগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এই ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ। তাঁর পিতার নাম জনাব মরহুম গুরা মিঞা এবং মাতার নাম মরহুমা মিরাজ খাতুন। একটি বিশ্বস্ত সূত্রমতে তাঁর আদি পুরুষসহ পিতা-মাতা সকলেই চট্টগ্রাম শহরের অধিবাসী।

জামেয়া আহলিয়ার মনমুগ্ধকর বিশালত্ব তাঁর অন্তরাত্মাকে বিশাল করে তুলে। সাত-আট বছর বয়সেই তিনি জামেয়া আহলিয়ায় ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়ে যান। একাগ্রতার সঙ্গে মনোনিবেশ করেন পড়ালেখায়। এখানেই তিনি শেষ করেন প্রাইমারী, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পড়াশোনা। ১৯৭৩ ইং সনে জামেয়া আহলিয়ায় “কুতুবে সিত্তা তথা প্রসিদ্ধ ছয়টি কিতাবসহ অন্যান্য হাদিসের কিতাবের দরস গ্রহণ করেন। অতপর উচ্চতর তাফছীর বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষাজীবন সমাপ্ত করেন। জামেয়ায় তাঁর উস্তাদদের মধ্যে-মুফতীয়ে আজম হযরত মাওলানা মুফতী ফয়জুল্লাহ রহ., শাইখুল হাদীস আল্লামা আবদুল কাইয়ূম রহ., প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ শাইখুত তাফসীর আল্লামা আবুল হাছান রহ., হযরত মাওলানা হাফেজ হামেদ সাহেব রহ., শাইখুল হাদীস আল্লামা আবদুল আযীয রহ., শাইখুল ফুনুন আল্লামা নযির আহমদ আনওয়ারী রহ., পীরে তরীকত হযরত মাওলানা হাফেজুর রহমান সাহেব রহ., আল্লামা মুফতী আহমদুল হক রহ., আল্লামা শাহ আহমদ শফি দা. বা. ও হযরত মাওলানা সোলাইমান আরমান (কাতেব সাহেব) রহ., আল্লামা হাফেজ ক্বারী ইলিয়াছ দা. বা. অন্যতম।

দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসায় অধ্যয়নকালে তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা, আমল-আখলাক শাহ আব্দুল ওয়াহ্হাব রহ.কেও অনুপ্রাণিত করেছিল।জামেয়ায় লেখাপড়া শেষ করার পর উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ সাধক আল্লামা শাহ অবদুল ওয়াহ্হাব রহ. তার হৃদয়ের বিভা দ্বারা বুঝতে পেরেছিলেন মাওলানা সোলাইমান দেওয়াননগরী রহ.-র নিরলস পরিশ্রম এবং জ্ঞান ও প্রজ্ঞার কথা। সর্বোপরি জামেয়ায় তার প্রয়োজনীয়তার কথা। তাই তাকে খুব কাছে টেনে জামেয়ার শিক্ষক পদে নিয়োগ দান করেন। শিক্ষক পদে নিয়োগ হওয়ার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সুদীর্ঘ ৩৫ বছর যাবত তিনি অত্র জামেয়ার খেদমত করার সুযোগ লাভ করেন।

সত্যিই হযরত মাওলানা সোলাইমান সাহেব রাহ.ছিলেন সমৃদ্ধ জ্ঞানের এক অসাধারণ ও জ্বলন্ত নমুনা। শিশু শ্রেণি হতে জামাতে শরহে বেক্বায়া পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি শ্রেণির গুরুত্বপূর্ণ কিতাবাদির পাঠদান করতেন তিনি। তাঁর জ্ঞান-গরিমা জামেয়াকে আলোকিত করেছে জ্বলন্ত মশালের মত। তাঁর সহজ সাবলীল ভাষায় দক্ষতার সাথে পাঠদানকালে মুখরিত হয়ে উঠতো শ্রেণিকক্ষ। তাঁর পাঠদান থেকে শিক্ষা নেয়া হাজারো তালেবে ইলম দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দ্বীনের গুরুত্বপূর্ণ খেদমত আঞ্জাম দিয়ে আসছেন। তিনি কর্মজীবনে জামেয়া আহলিয়ার শিক্ষকতার সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে অনেক বড় বড় আলেম, মুফতী, মুহাদ্দিস, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিকদের উস্তাদ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, ওমান, সৌদি আরব, মিশর সহ বিভিন্ন মুসলিম ও অমুসলিম রাষ্ট্রে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন তার অসংখ্য ছাত্র। এছাড়াও বর্তমান জামেয়া আহলিয়ায় এক ডজনের চেয়েও বেশি উস্তাদ তাঁর ছাত্র হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন।

জামেয়া আহলিয়া আজও তাকে ভুলেনি; ভুলতে পারেনি তাঁর অবদানের কথা; দায়িত্ব পালনের কথা; জামেয়ার উন্নতিকল্পে অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা; সর্বোপরি তাঁর চিন্তা-চেতনা ও ভাবাদর্শের কথা। সত্যিই তিনি ছিলেন অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের অধিকারী। তাঁর চলাফেরা ছিল অত্যন্ত সাদামাটা। লৌকিকতা পরিহার করে সাদাসিধে দরবেশী যিন্দেগী তিনি পছন্দ করতেন। তাঁকে কেউ কোনদিন আগে সালাম দিতে পারত না। ছোট-বড় সবাইকে দেখামাত্র সালাম করা তাঁর যেন স্বাভাব ছিল। অন্তত অধম তাঁকে কোনদিন সালাম দেয়ার সুযোগ পাইনি। একদিন আমি দূর থেকে তাঁকে দেখে মনে মনে সংকল্প করলাম, আজ যেভাবে হোক আমি তাঁকে আগে সালাম দিব। কিন্তু দেয়া হলো না। আমি সালাম দেয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করতেই তিনি আমাকে সালাম দিয়ে দিলেন।

তাঁর ক্ষীণ চেহারায় কি যেন এক ছটফট ভাব বিরাজ করত। তাকে সব সময় ব্যস্ত বলে মনে হত। তিনি সর্বাবস্থায় জামেয়ার সার্বিক মঙ্গল ও উন্নতি কামনা করতেন। দরস দান ছাড়াও তাঁর উপর জামেয়ার অনেক গুরুদায়িত্ব ন্যস্ত ছিল। ৪.২৪ একর বা ১৭১৫৯ বর্গ মিটার জমির উপর প্রতিষ্ঠিত জামেয়ার ইঞ্চি ইঞ্চি মাটি রক্ষনাবেক্ষণ করার দায়িত্ব অনেকটা তিনিই পালন করেছেন। পাখির মত বিচরণ করতেন জামেয়ার একপ্রান্ত হতে অন্যপ্রান্ত, এক ভবন থেকে অন্য ভবন। দায়িত্ব পালনে তিনি ছিলেন কঠোর; আমানতাদারীতে ছিলেন অতুলনীয়। অক্লান্ত ও অবিরাম পরিশ্রম করতেন তিনি। তাঁর দীর্ঘদিনের খাদেম মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন হবীগঞ্জীর ভাষায় “দীর্ঘ একযুগ আমি হযরতের খেদমত করে আসছি। এমন অসাধারণ পরিশ্রমী মানুষ আমার চোখে পড়েনি। হযরতের সংস্পর্শে থাকা এ দীর্ঘ সময়ে আমি তাঁকে দিনের বেলায় কোন দিন বিছানার সাথে পিঠ লাগাতে দেখিনি। তিনি কোন দিন ক্লান্ত হয়ে আরাম করছেন, এমন দৃশ্য আমার চোখে পড়েনি।”

এতদসত্ত্বেও ব্যক্তিগতভাবে তিনি দেওয়াননগর শাহ জালাল জামে মসজিদের খতীবের দায়িত্ব পালন করেছেন ৩৭ বছর যাবৎ। এ দীর্ঘ সময়ে বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি মুসল্লী ও সেখানকার এলাকাবাসীকে দিয়েছেন দ্বীন ও ইসলামের সহীহ আকিদা। বেদআত পরিহার করে কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার জীবনাদর্শ। পাশাপাশি মসজিদের ন্যূনতম প্রাথমিক অবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে এসেছিলেন উন্নত অবস্থায়। তাঁর এ পরিশ্রম, অক্লান্ত মেহনত কখনও ভুলবার নয়।

তাঁর ইন্তেকালের পর জামেয়ার বর্তমান মুহতামিম শাইখুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফি এক শোকবার্তায় বলেন, “সত্যিকারার্থে তাঁর মত একজন কর্মঠ ও যোগ্য শিক্ষকের আজ বড়ই অভাব। আমার মনে হয় তাঁর জায়গা আর পূরণ হবে না।”

আসলেই তাই। মুফতিয়ে আজম ফয়জুল্লাহ রহ. চলে যাওয়ার পর আরেকজন মুফতীয়ে আজম কি আমরা পেয়েছি? খতিবে আজম রহ. এর জায়গাটি আর পূরণ হয়েছে? কালের ক্ষণজন্মা পুরুষগণ এভাবেই চলে যান; কিন্তু আরেকজন মহাপুরুষ তাঁর স্থলে জন্ম নেন না।

একসময় জামেয়ার চেইন অফ কমান্ডে যে দু-চারজন উস্তাদ ছিলেন, আল্লামা সোলাইমান দেওয়াননগরী রহ. ছিলেন তাদেরই একজন। জামেয়ায় দরসদান ছাড়াও অনেকগুলি দায়িত্ব তিনি আমানতদারীর সাথে আদায় করতেন। জামেয়ার সালানা জলসার বিশাল প্যান্ডেল এবং বার্ষিক পরীক্ষার সুবিশাল হল তিনি নিজেই তৈরি করতেন। এই কাজ নিখুঁত ও চমৎকারভাবে যথাযথ সময়ে প্রস্তুত করার জন্য তিনি ছিলেন যথোপযুক্ত প্রশংসার দাবিদার। এ দুটি কাজে তিনি অন্য কোন উস্তাদকে শরীক হতে দিতেন না। একবার বার্ষিক সভার পরামর্শ-বৈঠকে বর্তমান মুহতামিম সাহেব হুজুর তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, “এত বড় দায়িত্ব আদায়ের জন্য তাঁর একজন সহযোগীর প্রয়োজন”। তখন তিনি দু’হাত নেড়ে বললেন, এই কাজ আমি একাই করতে চাই। “আমার কোন সহযোগীর প্রয়োজন নেই।”

আরও পড়তে পারেন-

জামেয়ার মাঠ প্রাঙ্গনের সংকীর্ণতা ও লক্ষাধিক শ্রোতার আগমনের প্রতি লক্ষ্য রেখে তিনি মাহফিলের প্যান্ডেল এমন উঁচু করে তৈরি করতেন এবং স্টেজকেও এমনভাবে স্থাপন করতেন যাতে করে জামেয়ার দ্বিতল, তৃতল, চতুর্থতল ভবন থেকেও শ্রোতারা একসাথে স্টেজের বক্তাকে দেখতে পান এবং বক্তার বক্তব্য মন দিয়ে উপভোগ করতে পারেন। এছাড়াও জামেয়ার তদানিন্তন সময়ে সাড়ে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীদের জন্য বার্ষিক পরীক্ষার হল তিনি একা তৈরি করে অসাধারণ মেধা ও পরিশ্রমের স্বাক্ষর রেখেছিলেন। এ ছিল তাঁর কর্মদক্ষতা ও অভিজ্ঞতার নিরঙ্কুশ পরিচায়ক। আমাদের জানা মতে জামেয়ার বার্ষিক সভার সভাস্থল ও প্যান্ডেল তৈরি এবং বার্ষিক পরীক্ষার হল তৈরির দায়িত্ব তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত সিকিশতাব্দী কাল তিনিই আঞ্জাম দিয়ে আসছিলেন।

মহান আল্লাহ তা’আলা তাঁর সকল খেদমত কবুল করে জান্নাতুল ফেরদৌসের সুমহান মর্যাদায় অধিষ্টিত করুন। আমীন।

জীবন সায়াহ্নে মাওলানা সোলাইমান দেওয়াননগরী রাহ.

হজ্ব ও কুরবানীর মাস যিলহজ্ব। দুই মহান বড় বড় ইবাদতের মাস। জামেয়ার সকল বিভাগ বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। দু’একদিন পরেই পবিত্র ঈদুল আযহা। জামেয়ার লিল্লাহ বোর্ডিং পরিচালনার জন্য কোরবানীর চামড়া সংগ্রহের কাজ কিভাবে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে আঞ্জাম দেয়া যায় এ ব্যপারে শিক্ষক মহোদয়গণ সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও ছাত্রদেরকে তদারকি করে যাচ্ছিলেন। তিনিও ছিলেন তাঁদের মধ্যে একজন।

ইন্তিকালের পূর্বে কিছু ব্যতিক্রমধর্মী কথা ও কাজ তাঁর মধ্যে লক্ষ্য করা গেছে। যেমন সাধারণত তিনি মাগরিবের পর জামেয়ায় অবস্থান করেন না। কিন্তু ইন্তিকালের আগের দিন শনিবার মাগরিবের নামায আদায় করে জামেয়ার বিভিন্ন জায়গায় বিচরণ করেন। এক পর্যায়ে জামেয়ার উত্তর পার্শ্বে আট কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জামেয়ার ‘শিক্ষা ভবনের’ চতুর্পাশ্বে ঘুরে ফিরে পরিদর্শন করছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্ররা তখন হতবাক হয়েছেন এ জন্য যে, তিনি তো এই সময় জামেয়ায় অবস্থান করার কথা নয়। আবার কিছুক্ষণ পর জামেয়ার শাহী গেইট দিয়ে সুন্দর সুস্থ দেহ-মন নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হয়ে গেলেন। কেউ জানতে পারল না যে, সেই দিন তিনি জামেয়ায় শেষ বিচরণ করে শাহী গেইট দিয়ে শেষবারের মতই বের হয়ে গেলেন। আহ্ কেউ অনুভব করতে পারল না, এই অগ্রপথিক নিরলস পরিশ্রমী মানুষটি দেহে প্রাণ নিয়ে আর ফিরবেন না এই হাবীবী কাননে।

পরদিন ৮ই যিলহজ্ব ১৪২৯ হিজরী ৭ই ডিসেম্বর ২০০৮ ইংরেজি রোজ রবিবার সকাল ১০.৫৫ মিনিটে গোসল করতে গেলেন পুকুরঘাটে। হঠাৎ নিজেকে খুবই ক্লান্ত মনে হল। নিজেকে সোজা রাখতে পারছিলেন না। গা এলিয়ে দিলেন পুকুর ঘাটে। তাৎক্ষণিক নিয়ে যাওয়া হল হাটহাজারী আধুনিক হাসপাতালে, অতঃপর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ডাক্তাররা নিয়মানুযায়ী চেকআপ করে হার্টঅ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে বলে ঘোষণা করেন। ইন্নালিল্লাহী ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাঁকে সোজা নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হল। অতঃপর বাড়ী থেকে জামেয়ায় নিয়ে আসা হল তাঁর লাশ। গোসল ও কাফনের কাজ শেষে আসরের পর কাতারবন্দী হয়ে তাঁকে শেষবারের মত দেখার ব্যবস্থা করে দেন জামেয়া কর্তৃপক্ষ। মাগরিবের নামাজের পর জামেয়া পরিচালক শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফি সাহেবের ইমামতিতে জানাযার নামাজ আদায় করা হয়।

জানাযার নামাজের পর জামেয়া ক্যাম্পাসের উত্তরাংশে নতুন মসজিদের পশ্চিমপার্শ্ব সংলগ্ন ‘মাকবারায়ে জামেয়া’য় তাঁকে দাফন করা হয়। মাত্র ৬১ বছর বয়সী এই ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ তাঁর স্ত্রী সহ পাঁচ পুত্র ও এক কন্যা রেখে যান। আল্লাহ তা’আলা তাঁর জীবনের সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউসে সুমহান মর্যাদায় অধিষ্টিত করুন। আমীন।

– মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী, মুহাদ্দিস- আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।