Home অন্যান্য খবর কুরবানীর পশু নির্বাচনে ইসলামের বিধান

কুরবানীর পশু নির্বাচনে ইসলামের বিধান

।। মুফতি মুহাম্মদ জসীমুদ্দীন ।।

কুরবানীর জন্য শরীয়ত কয়েক প্রকার পশু নির্ধারণ করে দিয়েছে। যেমন- উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা। এগুলো দ্বারাই কুরবানী করতে হবে। নির্দিষ্ট এই পশু ছাড়া অন্য কোন পশু দ্বারা কুরবানী শরীয়ত সম্মত হবে না।

* উট দিয়ে কুরবানী করার ক্ষেত্রে উটের বয়স কমপক্ষে পাঁচ বৎসর হতে হবে। এর থেকে একদিন কম হলেও কুরবানী সহীহ হবে না।

* গরু এবং মহিষের বয়স কমপক্ষে দুই বৎসর হতে হবে। এর থেকে একদিন কম হলেও হবে না।

* ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার বয়স এক বৎসর হতে হবে। তবে যদি ছয় মাস বা ততোধিক বয়সের কোন ভেড়া বা দুম্বা এরূপ মোটাতাজা হয়, যে এক বৎসর বয়সীদের মাঝে ছেড়ে দিলে কোন পার্থক্য করা যায় না, তবে তা দিয়েও কুরবানী সহীহ হয়ে যাবে।

* কুরবানীর পশুর দাঁত উঠা জরুরী নয়। বয়স পূর্ণ হয়েছে বলে দৃঢ় বিশ্বাস হলেই কুরবানী করা যাবে ।

* কুরবানীর পশুর যদি কোন অঙ্গের অর্ধ্বেক বা তার থেকে বেশী কিংবা পূর্ণ এক অঙ্গ বিকল হয়, তাহলে উক্ত পশু দ্বারা কুরবানী সহীহ হবে না। সুতরাং কোন একটি চোখ বা একটি শিং বা একটি পা অর্ধ্বেক বা তার বেশী বিকল হয়ে গেলে তা দিয়ে কুরবানী সহীহ হবে না।

* যে পশু অত্যন্ত  রুগ্ন, অসুস্থ কিংবা এরূপ লেংড়া যে, যবাই করার স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে সক্ষম নয়, এরূপ পশু দ্বারা কুরবানী সহীহ হবে না।

* সস্পূর্ণ কিংবা অধিকাংশ দন্তহীন পশু, যারা ঘাস চিবিয়ে খেতে পারে না, এরূপ পশু দ্বারা কুরবানী সহীহ হবে না।

* যে বকরির স্তনে একটি বাট নেই এবং যে গরুর স্তনে দুইটি বাট নেই, সেটা দ্বারা কুরবানী সহীহ হবে না।

আরও পড়তে পারেন-

* ভূতের নামে ছেড়ে দেয়া পশু দিয়ে কুরবানী করা জায়েয নয়।

* খুনছা অর্থাৎ যেই পশু নর না মাদী বুঝা যায় না, সেই পশু দিয়ে কুরবানী করা জায়েয নয়।

* পাগল পশু যদি ঘাস-পানি খায় এবং অন্যান্য পশুর সাথে ঘোরা-ফেরা করে, তাহলে তা দিয়ে কুরবানী করা জায়েয।

*  বৈধ এবং অবৈধ পশুর মিলনে যে বাচ্চা হয়, তার আকৃতি যদি বৈধ পশুর মত হয় (বৈধ পশু যদি মা হয়) তাহলে তা দিয়ে কুরবানী করা জায়েয।

* যেই পশু সব সময় নাপাক ভক্ষণ করে, তার কুরবানী জায়েয নেই। তবে যদি উক্ত পশুকে কুরবানীর পূর্বে বেঁধে রেখে (উট ৪০দিন, গরু মহিষ ২০দিন, ছাগল-ভেড়া-দুম্বা ১০দিন) নাপাক খাওয়া থেকে বিরত রাখা হয়, তবে তা দিয়ে কুরবানী করা জায়েয।

*  গর্ভবতী পশুর কুরবানী জায়েয, কিন্তু বাচ্চা হওয়ার সময় নিকটবর্তী হলে তার কুরবানী মাকরূহ। তার পরিবর্তে অন্য একটি পশু কুরবানী করবে।

* গর্ভবতী পশু যবাই করার পর জীবিত বাচ্চা বের হলে তা যবাই করে খাওয়া বৈধ হবে। আর বাচ্চা মৃত হলে তা যবাই বা খাওয়া বৈধ হবে না।

* কুরবানীর পশু যবাই করার পূর্বেই যদি তার বাচ্চা হয়, তাহলে বাচ্চাটি সদকা করা ওয়াজিব। আর যদি বাচ্চাটি যবাই করা হয়, তাহলে তার গোশত সদকা করা ওয়াজিব। এমন পরিস্থিতিতে বাচ্চাটাকে জীবিত সদকা করাই উত্তম।

* যে পশুর কান আছে কিন্তু ছোট, সে পশু দিয়ে কুরবানী করতে কোন অসুবিধা নেই।

* অনুরুপ যে পশুর জন্মগত শিং নেই, সে পশু দ্বারা কুরবানী করায় কোন অসুবিধা নেই। অথবা যদি কোন কারণে শিং এর উপর থেকে খোলস পড়ে যায়, তাতেও কোন ক্ষতি নেই।

* জন্মগতভাবে এক অন্ডকোষ বিশিষ্ট পশু দ্বারা কুরবানী বৈধ আছে।

* কুরবানীর জন্য পশু ক্রয় করার পর যদি এমন কোন দোষ তার মধ্যে সৃষ্টি হয়, যা কুরবানীর বৈধতার পরিপন্থি, তাহলে কুরবানীদাতা যদি স্বচ্ছল হয়ে থাকে, তাহলে তার জন্য অপর একটি পশু দিয়ে কুরবানী করা ওয়াজিব। আর যদি গরীব হয়, তাহলে ঐ পশুই তার জন্য যথেষ্ট।

* যে পশু মাঝে মাঝে মৃগী রোগে আক্রান্ত হয়, কিন্তু শারীরিক সবল থাকে, তাকে দিয়ে কুরবানী জায়েয।

* বাকীতে ক্রয়কৃত পশু দিয়েও কুরবানী করা যাবে।

* বন্ধ্যা পশু দিয়ে কুরবানী দেওয়া জায়েয আছে।

* যে সকল পশু দ্বারা কুরবানী হয় না সেসকল পশু কুরবানীর দিনসমূহে কুরবানীর নিয়্যাতে যবাই করা মাকরূহ।

* কুরবানীর পশু যবাই করার পূর্বে সেটা দিয়ে উপকৃত হওয়া, যেমন- হালচাষ করা, তার দুধ পান করা, পশম কাটা ইত্যাদি মাকরূহ। তবে যদি কুরবানীর আগে পশুর খাবার-দাবারের ব্যবস্থা করার প্রয়োজনে হয়, তাহলে কোন অসুবিধা নেই। আর যদি এগুলো বিক্রি করে তাহলে তার মূল্য সদকা  করে দিতে হবে। তবে যবাই করার পর যদি তার স্তনে দুধ থাকে, তাহলে সাথে সাথে সেই দুধ খাওয়া যাবে।

উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।