Home আন্তর্জাতিক মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘পারমাণবিক ফুটবল’ কতটা নিরাপদ? খতিয়ে দেখবে পেন্টাগন ওয়াচডগ

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘পারমাণবিক ফুটবল’ কতটা নিরাপদ? খতিয়ে দেখবে পেন্টাগন ওয়াচডগ

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘নিউক্লিয়ার ফুটবল’ সংক্রান্ত নিরাপত্তা প্রটোকল খতিয়ে দেখবে পেন্টাগন ওয়াচডগ। গত ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনার সময় এ ধরনের একটি ব্রিফকেস বিক্ষোভকারীদের হাতের নাগালে চলে আসায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্টরা কোনো পারমাণবিক হামলার প্রয়োজন মনে হলে তৎক্ষণাৎ নির্দেশনা দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয় এই নিউক্লিয়ার ফুটবল। 

মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয় জানায়, এই ব্রিফকেস যদি হারিয়ে যাওয়া, চুরি হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে তবে পেন্টাগনের কর্মকর্তারা কোন পর্যায় পর্যন্ত তা খুঁজে পেতে এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারবে তা পুনঃনির্ধারণের জন্য পুরো বিষয়টির পুনঃমূল্যায়ন চলছে।

নাম প্রকাশ না করে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ৬ জানুয়ারির ঘটনার জেরেই মূলত এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেদিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ক্যাপিটল হিলে উপস্থিত ছিলেন, তার সাথে সামরিক কর্মকর্তারা ব্রিফকেসটি বহন করছিল। সে সময়েই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরা হামলা চালায়। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে কোনো জায়গায় থেকেই এই ‘নিউক্লিয়ার ফুটবল’-এর মাধ্যমে যে কোনো স্থানে পারমাণবিক হামলা চালানোর তাৎক্ষণিক নির্দেশ দিতে পারেন। 

ট্রাম্পের অভিশংসন ট্রায়ালের প্রকাশিত সিকিউরিটি ফুটেজে দেখা গেছে, ক্যাপিটল হিলে হামলার দিন বিক্ষোভকারীরা একেবারে কাছে চলে আসায় পেন্স ও তার সঙ্গে থাকা সামরিক সদস্যদের দল নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য ছুটছিলেন। 

আরও পড়তে পারেন-

তবে ব্রিফকেসটি বিক্ষোভকারীদের হাতে চলে গেলেও হামলার নির্দেশনা দেওয়ার ব্যাপারটি এতো সহজ হতো না। কারণ নির্দেশনা দেওয়ার পরও সামরিক বাহিনী তা যাচাই করে বাস্তবায়ন করে।

তবে ৬ জানুয়ারি ছাড়াও, ট্রাম্পের শাসনামলে আরও ক’বার এই নিউক্লিয়ার ফুটবলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। 

২০১৭ সালের নভেম্বরে ট্রাম্প যখন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে লাঞ্চ করছিলেন, ব্রিফকেসটি বহন করা সামরিক বাহিনীর এক সদস্যের সঙ্গে চীনা নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্যের বিবাদ শুরু হয়। তখন ব্রিফকেসটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎকালীন হোয়াইট হাউজ চিফ অব স্টাফ জন কেলি হস্তক্ষেপ করতে হয়। 

এ ব্যাপারে একজন সিনিয়র মার্কিন কর্মকর্তা চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ক্ষমা প্রার্থনার প্রস্তাব দেয় তারা। তবে জন কেলি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে তাদের ওয়াশিংটন গিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করে আসতে বলেছিলেন। 

এ বছরের ২০ জানুয়ারি জো বাইডেনের শপথ গ্রহণের আগেই হোয়াইট হাউজ ত্যাগ করতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প। অর্থাৎ সেক্ষেত্রে নিউক্লিয়ার ফুটবলটি তার সঙ্গেই স্থানান্তর করতে হতো। বাইডেনের শপথ গ্রহণের আগ পর্যন্ত তার সঙ্গে একজন সামরিক বাহিনীর সদস্য ব্রিফকেসটি বহন করতে নিয়োজিত ছিলেন, শপথ গ্রহণের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ফ্লোরিডার পাম বিচেও ওই সেনা সদস্য ব্রিফকেসটি বহন করার কাজ করেছিলেন। সূত্র: রয়টার্স ।

উম্মাহ২৪ডটকম: আইএএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।