Home অপরাধ ও আইন-আদালত আড়াই কোটি টাকা নিয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডের হিসাব সহকারী পলাতক

আড়াই কোটি টাকা নিয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডের হিসাব সহকারী পলাতক

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের আড়াই কোটি টাকা চেক জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের ঘটনায় পালিয়েছেন হিসাব শাখার হিসাব সহকারী আব্দুস সালাম। জালিয়াতির ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন যশোরের উপপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর এএমএইচ আলী আর রেজা। এর ঘণ্টা দুয়েক পর শিক্ষা বোর্ডে যায় দুদকের একটি দল।

রবিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক এএমএইচ আলী আর রেজা দুদক যশোর কার্যালয়ের উপপরিচালকের কাছে জালিয়াতি মামলার অনুরোধ জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

সচিব স্বাক্ষরিত অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতি আর্থিক বছরের মতো এবারও বছর শেষে বোর্ডের আয়-ব্যয় যাচাইয়ের লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে ব্যাংক হিসাব মেলানো শুরু হয়। এসময় দেখা যায়, বোর্ডের ব্যয় হিসাব খাতে নয়টি চেক পরিশোধিত হয়েছে। যা বোর্ডে সংরক্ষিত চেকের অংশে উল্লিখিত টাকার পরিমাণের সঙ্গে ব্যাংক থেকে পরিশোধিত টাকার মিল নেই। তখন হিসাব প্রদান শাখার হিসাব রেজিস্ট্রারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। এতে দেখা যায় যে, বোর্ডে সংরক্ষিত চেকের অংশে উল্লিখিত তারিখ ও টাকা অনুযায়ী হিসাব শাখার ভ্যাট ও আয়কর বাবদ সরকারি কোষাগারে অর্থ পরিশোধিত হয়নি। তবে চেক জালিয়াতি করে দুই প্রতিষ্ঠান ব্যাংক থেকে ২ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ১০ টাকা উত্তোলন করে নেয়া হয়েছে। জালিয়াত চক্র চেক ইস্যুর সঙ্গে কৌশলে অন্য বিল থেকে ভ্যাট ও আয়কর সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার ইস্যুকৃত চেকগুলোর নম্বরের এবং তারিখের সঙ্গে মিল রেখে জালিয়াতি করে। তারা বোর্ড তহবিল থেকে এভাবে অর্থ উত্তোলন করে নিয়ে যায়। যা বোর্ডের আয়-ব্যয়ের সঙ্গে ব্যাংক হিসাব মেলানোর সময় ধরা পড়ে।

উল্লেখ্য, বোর্ডের হিসাব প্রদান শাখায় কর্মরত হিসাব সহকারী আব্দুস সালাম বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রাপ্য চেক অনুমতির জন্য নথিতে পেশ করেন। সে মোতাবেক চেক অনুমোদিত ও প্রিন্ট হওয়ার পর আয়কর এবং ভ্যাট চালনের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক, বিআইএসই শাখায় জমা দেওয়ার দায়িত্ব তার ওপর।

জানা যায়, জালিয়াতি করা নয়টি চেকে যে প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক থেকে অর্থ পরিশোধিত হয়েছে, সে প্রতিষ্ঠানকে সংশ্লিষ্ট আর্থিক বছরে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়নি এবং তাদের প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো বিল উত্থাপন করা হয়নি। হিসাব সহকারী আব্দুস সালামের সঙ্গে ওই দুই প্রতিষ্ঠানের মালিক বা প্রতিনিধির সখ্য আছে।

এখানে আরো উল্লেখ্য, বিল প্রস্তুতকারী বিল উত্থাপনের পর অনুমোদন হয় এবং অনুমোদন অনুযায়ী চেক প্রিন্টের নির্দেশনা পাওয়া যায়। চেক প্রিন্টের অনুমতি প্রাপ্তির পর উচ্চমান সহকারী আব্দুল মোমিন এই চেক প্রিন্ট দিয়ে সচিব ও চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর নেন।

অভিযোগে নয়টি চেকের বিবরণ দিয়ে উল্লেখ করা হয়, ভেনাস প্রিন্টিংয়ের নামে সাতটি চেকে এক কোটি ৮৯ লাখ ১২ হাজার ১০ টাকা এবং ফটো কপিয়ারের দোকান শাহীলাল স্টোরের নামে দুইটি চেকে ৬১ লাখ ৩২ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

আরও পড়তে পারেন-

বোর্ডের সচিব অভিযোগ দেওয়ার পর সকাল ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে উপপরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাতের নেতৃত্বে দুদকের একটি দল শিক্ষা বোর্ডে যায়। তারা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মোল্লা আমীর হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

দুদক উপপরিচালক জানান, শিক্ষা বোর্ড থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর তারা সেটি ঢাকায় প্রধান কার্যালয়কে অবহিত করে তদন্তের নির্দেশ পেয়েছেন।

এদিকে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোল্লা আমীর হোসেন জানান, শুক্র ও শনি দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটির পর রবিবার অফিসে আসেননি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসাব সহকারী আব্দুস সামাদ।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে অডিট শাখায় টাকা আত্মসাতের ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর দ্রুত অফিস ত্যাগ করেন সালাম। মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও সে ধরেনি। বিভিন্ন মাধ্যমে জানা গেছে সে পরিবারসহ বাড়ি ছেড়েছে।

তিনি জানান, বিভিন্ন মাধ্যমে সালাম, ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক আশরাফুল হক বাবু ও আশরাফুল জানাচ্ছেন তারা টাকা ফিরিয়ে দেবেন।

গত ৭ অক্টোবর যশোর শিক্ষা বোর্ডের অডিট শাখা হিসাব নীরিক্ষা করতে গিয়ে ধরতে পারে ভ্যাটের জন্য দেয়া ৯টি চেকের মাধ্যমে জালিয়াতি করে ২ কোটি ৫২ লাখ ৪৪ হাজার ১০টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। চেকগুলো ভেনাস প্রিন্টার্স অ্যান্ড প্যাকেজিং ও শাহীলাল স্টোর নামে দু’টি প্রতিষ্ঠানের নামে ইস্যু করা হয়।

উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।