Home জাতীয় পশ্চিমা মিডিয়ার ইসলাম ফোবিয়া আমাদের ভুল পথে চালিত করে : ডা. জাফরুল্লাহ

পশ্চিমা মিডিয়ার ইসলাম ফোবিয়া আমাদের ভুল পথে চালিত করে : ডা. জাফরুল্লাহ

১৯৭১ সালে যুদ্ধে বিজয় লাভের পর যে পরিমান মানুষকে আমরা হত্যা করেছি তালেবানরা তার চাইতে কম হত্যা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

সোমবার সাভারে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের `রাজনীতি ও প্রশাসন বিভাগ’ কতৃক আয়োজিত ‘ইঙ্গ-মার্কিন প্রচারণা এবং আফগানিস্তান প্রশ্নে তালেবান’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, পশ্চিমা বিশ্বের ইসলাম ফোবিয়ার সাথে যুক্ত হয়েছে ভারত। ভারত মিথ্যাচারে তাল দেয়ায় ওস্তাদ। পশ্চিমা মিডিয়ার ইসলাম ফোবিয়া আমাদের ভুল পথে চালিত করে। আফগান তালেবানরা কয় মাস হলো ক্ষমতায় এসেছে। অপপ্রচার হয়েছিল তারা ক্ষমতায় আসলে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করবে। কয় জন মানুষ হত্যা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি তুলনা করে বলতে চাই ১৯৭১ সালে আমরা যখন যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি, সেই সময়ে আমাদের দেশের অবস্থা কি ছিল? আমরা স্বাধীন হওয়ার পরে যত লোক হত্যা করেছি তালেবানরা তার চাইতে কম সংখ্যক হত্যা করেছে।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, তালেবানরা বিজয় লাভের পরই আমি বলেছি তালেবানরা মুক্তিযোদ্ধা। ২০ বছর স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করে তারা যদি মুক্তিযোদ্ধা না হয় তাহলে এক বছর যুদ্ধ করে আমরা কিসের মুক্তিযোদ্ধা।

তিনি বলেন, আফগানিস্তানের সম্পদ আছে। তাদের কৃষির মূল সম্পদ আফিমে। আফিমের সব ফ্যাইন্যান্স আমেরিকা ও ভারতের। আফিম আছে বলে তারা প্রচারণা চালায় আবার চুপেচুপে তারাই ফাইন্যান্স করে। আমি মনে করি আমাদের উচিৎ তালেবানদের মেনে নিয়ে তাদের সমর্থন দেয়া। কারণ আমাদের স্বার্থ আছে। আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই বাংলাদেশের ভালো স্বার্থ আছে। তাদের যেই পশ্চাৎপদ মতামত আমরা সেটাতে উদ্বুদ্ধ করতে পারব। উঠা-বসা, আলাপ-আলোচনা না করলে হবে না।

আরও পড়তে পারেন-

তিনি আরো বলেন, আমরা যদি আজ তালেবানদের বয়কট করি তবে প্রশ্ন জাগে আমরা কেনো পশ্চিমার কথায় পরিচালিত? আমরা আমাদের নিজের চিন্তাধারায় পরিচালিত হবো। আমি বলবো এই মুহূর্তে আফগানিস্তানে এক লাখ বাংলাদেশীর কর্মসংস্থান হবে। তবে তালেবান বিজয়ের ফলে একটু সমস্যাও আছে। বড় সমস্যাটা হল ভারতে বিভক্তি হবে। আজকে কাশ্মিরের স্বাধীনতাকামীরা বুঝবে যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করা যায়। অর্থাৎ আজকে কাশ্মিরের মুক্তির আন্দোলনটা বেড়ে যেতে পারে।

ডা. চৌধুরী বলেন, আমি মনে করি তালেবানদের দ্রুত সমর্থন দেয়া দরকার। যারা দ্রুত যাবে তাদের লাভ। তাদের সমস্তকিছু আমরা মেনে নিব তা না। তবে উঠাবসা করলে তারা দেখবে মেয়েরা স্কুলে গেলে তার কথাটা ভালো বুঝবে। তারা তাদের মেয়ে সন্তানদের বিদেশে রাষ্ট্রদূত বানাতে উৎসাহিত হবে। তাই আমি সরকারকে বলবো এখনি তালেবানকে সমর্থন দিয়ে সেখানে আমাদের দূতাবাস খোলা উচিৎ।

অধ্যাপক ডা. লায়লা পারভীন বানু’র সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাহমান চৌধুরী। আলোচনায় আরো অংশ নেন, বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন, গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি প্রফেসর দিলারা চৌধুরী, সাবেক রাষ্ট্রদূত এম সিরাজুল ইসলাম।

উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।