Home ফিকহ ও মাসায়েল পাঠ্যবইয়ে বিবর্তনবাদ বাতিলের দাবিতে ৩১ জুলাই ঢাকায় আলেম-খতীব-বক্তাদের মানববন্ধন

পাঠ্যবইয়ে বিবর্তনবাদ বাতিলের দাবিতে ৩১ জুলাই ঢাকায় আলেম-খতীব-বক্তাদের মানববন্ধন

2

পাঠ্যবইয়ে ‘বিবর্তনবাদ’ পাঠদান বিষয়ে গতকাল জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদরাসা মিলনায়তনে এক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সাড়ে ৩ ঘন্টা স্থায়ী এই পরামর্শ সভায় বিশিষ্ট ইসলামী বক্তা ও খতীবসহ প্রায় তিন শতাধিক উলামায়ে কেরাম শরীক ছিলেন। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’র মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর সভাপতিত্বে সর্বস্তরের আলেম, খতীব ও বক্তাদের অংশগ্রহণে আগামী ৩১ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গনে সকাল ১১টায় মানববন্ধন কর্মসূচীর সিদ্ধান্ত হয়। সভায় বিবর্তনবাদ বাতিলের দাবিতে দেশব্যাপী জনসচেতনতা তৈরি এবং ছাত্র, শিক্ষক, পেশাজীবি, বিজ্ঞানী ও সাংবাদিকদের সাথে পৃথক পৃথক মতবিনিময় সভা, স্মারকলিপি পেশসহ মাঠ পর্যায়ে শান্তিপূর্ণ দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

পরামর্শ সভায় বক্তারা সকলেই একমত পোষণ করে বলেন, দেশের জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, অনার্স ও মাস্টার্স স্তরে ২০১৩ সালের পর থেকে প্রাণী বিজ্ঞানের খোলস পরিয়ে বিবর্তনবাদ শিক্ষাদানের মাধ্যমে ৯২ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রদীদেরকে নাস্তিক্যবাদি ধ্যানধারণার পাঠ দেওয়া হচ্ছে। প্রাণীর সৃষ্টি সম্পর্কে পবিত্র কুরআন-হাদীস তথা মুসলমানদের আক্বিদা-বিশ্বাসের সম্পূর্ণ বিরুদ্ধ দর্শন ডারউইনের এই বিবর্তন তত্ত্বকে পাঠ্যপুস্তকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা এই মতবাদকে বিজ্ঞানের যুগান্তকারী এক আবিষ্কার এবং অকাট্য মতবাদ হিসেবেই সহজে গ্রহণ করে নেয়।

তারা আরো বলেন, বিবর্তন তত্ত্ব মতে শুধু মানুষের আদি পিতা বানর সাব্যস্ত করেই শেষ নয়, বরং এই মহাবিশ্ব, গ্রহ, উপগ্রহ, প্রাণী জগত ও তরুলতাসহ সকল সৃষ্টি যে অত্যন্ত সুনিপুণ ও সুবিন্যস্তভাবে মানুষের উপকারের জন্য আল্লাহ তাআলা নিজ কুদরতে সৃষ্টি করেছেন, এই বিশ্বাসটাই আর অক্ষূণœ থাকে না। এই বিবর্তন মতে এই মহাজগত, প্রাণীকুল, গ্রহ, উপগ্রহ সবকিছুই বিভিন্ন রাসায়নিক বিবর্তনের মাধ্যমেই সৃষ্টি এবং প্রাণের অস্তিত্বও এই প্রক্রিয়ায় প্রথমে প্রোটোভাইরাস, তারপর ভাইরাস, এরপর ব্যাকটেরিয়া। এভাবে একটা পর্যায়ে বানর, তারপর মানুষ। এভাবে জগতের সকল কিছু সৃষ্টি হয়। এর মানে অর্থ দাঁড়ায় মহান সৃষ্টিকর্তা, কিয়ামত, হাশর, বিচার, পুলসিরাত, বেহেস্ত, দোযখসহ ধর্মীয় আক্বীদা-বিশ্বাসের সবই কাল্পনিক ও অবাস্তব চিন্তা। নাউজুবিল্লাহ।

বক্তারা বলেন, নাস্তিক্যবাদের প্রকাশ্য আগ্রাসন প্রতিহত করার পর এখন বিজ্ঞানের খোলসে এই দেশের মুসলমানদের ঈমান হরণ করার জন্য বিবর্তনের এই কুফরী পাঠ আমদানী করা হয়েছে। এটা অত্যন্ত সূক্ষ্ণভাবে জাতীর চিন্তা-চেতনা ও বিশ্বাস থেকে ঈমান হরণের এক ভয়াবহ উদ্যোগ। এই শিক্ষা চালু থাকলে অতি দ্রুতই নাস্তিক্যবাদি দর্শন এক মহামারি ভাইরাসের মতো পুরো জাতিকে নীরবেই গিলে খাবে।

সভায় বক্তারা সকলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, বির্বতনবাদ শিক্ষা বাতিলের দাবিতে সামান্যতমও শিথিলতার সুযোগ নেই। ঈমান-আক্বীদা রক্ষার জন্য দেশবাসীকে সচেতন করে তুলতে হবে এবং জনগণকে সাথে নিয়ে এই কুফরী শিক্ষা বাতিলের দাবিতে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তারা সরকারের প্রতি অভিযোগ তুলে বলেন, দেশের শিক্ষাবিভাগের বেশিরভাগ নীতিনির্ধারণী দপ্তরে হিন্দুদেরকে নাস্তিক্যবাদি শিক্ষা ও মতবাদ প্রতিষ্ঠার জন্যই যে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তা এখন সহজেই বুঝা যাচ্ছে।

মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীর পরিচালনায় পরামর্শ সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রেখেছেন- মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফ, মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মুফতী মনির হোসাইন কাসেমী, মুফতী মাসউদুল করীম, মাওলানা হাবীবুল্লাহ মাহমূদ কাসেমী, মুফতী জাকির হোসাইন কাসেমী, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ূবী, মাওলানা আব্দুল খালেক শরীয়তপুরী, মাওলানা ফয়সাল আহমদ, মাওলানা শামসুদ্দোহা, মাওলানা গাজী সানাউল্লাহ প্রমুখ। -বিজ্ঞপ্তি।

আরও পড়ুন- ‘পাঠ্যবইয়ে ‘বিবর্তনবাদ’ শিক্ষা ইসলামী বিশ্বাস ও সংবিধান বিরোধী: জমিয়তের সংবাদ সম্মেলন’