Home লাইফ স্টাইল হতাশা আর প্রযুক্তির উন্নয়নে সমাজে অসহিষ্ণুতা বাড়ছে

হতাশা আর প্রযুক্তির উন্নয়নে সমাজে অসহিষ্ণুতা বাড়ছে

0

“উবার ড্রাইভারকে যদি মারাও শুরু করতো তাহলেও তাকে বাঁচানোর মতো আশেপাশে কেউ ছিল না। সবাই চাইছিল যে, আরেকটু ইনপুট দেই, গাড়িটা ভাঙি, এমন,” বলছিলেন তানিয়া নূর।

গত অক্টোবরে নিজের সাথে ঘটে যাওয়া এমন ঘটনার কথা বলতে গিয়ে তানিয়া নূর জানান, রাজধানীর তেজগাঁ এলাকায় গাড়ি করে যাচ্ছিলেন।

গন্তব্যে পৌঁছানোর পর নামতে যাওয়ার আগে ফুটপাত ঘেঁষে পার্কিং করছিলেন গাড়ির চালক। এমন সময় গাড়ির গা ঘেঁষে ক্রস করার সময় উল্টে পড়ে যান পাঠাওয়ের এক মোটরসাইকেল আরোহী ও তার চালক। এতে তারা কেউ আহত হননি।

শুরুতে এ ঘটনায় কেউ না থাকলেও মুহূর্তেই ভিড় জমে যায়। তবে তারা ঘটনা থামানোর চেষ্টা না করে উল্টো গাড়ির চালককে মারধর করতে যায়। আর পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আহত হন তানিয়া নূর।

“ড্রাইভারকে যখন মারতে যাচ্ছিল আমার হাতে কাঁচের চুরি ছিল। আমি ফেরাতে গেলে হাতে আঘাত লেগে কেটে যায়। বেশ রক্ত পড়তে থাকে,” তিনি বলেন। “এ অবস্থা দেখে সবাই আস্তে আস্তে সরে যায়।”

মিস নূর বলছিলেন, ঘটনার বিস্তারিত কিছু না জেনে হঠাৎ করেই সহিংস ও অসহনশীল আচরণ করে সবাই। অনেকটা ঠিক আগুনে ঘি ঢালার মতো আচরণ করে জনতা।

এ বিষয়ে সমাজবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন হতাশা আর হঠাৎ করে ব্যাপক প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কারণে অসহনশীলতা বাড়ছে। সমাজবিজ্ঞানী ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, “বাঙালিদের সহনশীলতার বিষয়টা প্রেক্ষিতের উপর নির্ভর করে”।

তিনি বলেন, অনেক বিষয়ে ধৈর্য্যের পরিচয় দিলেও মাঝে মাঝে আইন হাতে তুলে নেয়ার মতো চরম অসহনশীলতার উদাহরণও দেখা যায়। এসব কারণেই গণপিটুনির মতো ঘটনা ঘটে। তবে অন্যায় দেখে চুপ থাকাটাও সহনশীলতা নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। “অন্যের মতামত ও আচরণ কতটা যুক্তিসঙ্গত ভাবে গ্রহণ করা যায় সেটিই আসলে সহনশীলতা,” বলেন ড. সায়মা হক বিদিশা।

তিনি বলেন, “অন্যের মতামত, যুক্তি বোধ, জীবনযাত্রার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ রাখাটাই সহনশীলতা। এদিক থেকে বলতে গেলে আমরা আসলে সহনশীলতা দেখাচ্ছি না”।

এদিকে মনোবিদরা বলছেন, মানুষের অসহনশীল হওয়ার পেছনে পারিবারিক ও সামাজিক কারণ রয়েছে। আবার হতাশা, ধৈর্য্য শিক্ষার অভাব এবং সমাজে হঠাৎ করেই প্রযুক্তিগত উন্নয়নও একটি বড় কারণ।

মনোবিজ্ঞানী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মেহজাবীন হক বলেন, “জিনগত ভাবে অনেকে অসহিষ্ণু হয়। আবার আমরা যে পরিবেশে বেড়ে উঠি সেখান থেকেও অনেক কিছু শিখি”। আবার দ্রুত ঘটে যাওয়া সামাজিক পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে না পারাও সহনশীল না হওয়ার একটি বড় কারণ বলে উল্লেখ করেন ড. মেহজাবীন হক।

“আমার অন্যকে দেখছি যে অল্প সময়ে মধ্যে কেউ বিশাল কিছু হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আমরা কিছু করতে পারছি না। যে কারণে আমরা সহনশীলতা দেখাতে পারছি না,” বলেন তিনি।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে সচেতন না হলে মানুষের মধ্যে সহনশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। সূত্র- বিবিসি বাংলা।


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.