Home শিক্ষা ও সাহিত্য শিশুদের প্রাথমিক ইসলামীশিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে কখনো ঈমানহারা হবে না: আল্লামা উবায়দুল্লাহ...

শিশুদের প্রাথমিক ইসলামীশিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে কখনো ঈমানহারা হবে না: আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক

0

উম্মাহ প্রতিবেদক: জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’র সহসভাপতি ও রাজধানীর জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার শায়খুল হাদীস আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেছেন, বর্তমানে শিক্ষা ও সংস্কৃতিক ক্ষেত্রেই ইসলামী আদর্শ ও চেতনাবোধের উপর সবচেয়ে বড় আঘাত আসছে। কারণ, বিদ্যালয়ে ছাত্ররা যে শিক্ষা আত্মস্থ করে এবং যে সংস্কৃতির চর্চা করে তার আলোকেই তাদের চিন্তাচেতনা গড়ে ওঠে। দেশি-বিদেশী ইসলামের দুশমন ও নাস্তিক্যবাদিরা শিক্ষা ও সংস্কৃতি; এই গুরুত্বপূর্ণ দুই জায়গাতেই সবচেয়ে বেশি ইসলামের উপর আঘাত হেনেছে। উলামায়ে কেরামকে এই দিকটা গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে কাজ করতে হবে।

তরুণ ও যুব সমাজের মধ্যে আদর্শ, নীতি-নৈতিকতার ভয়াবহ ধ্বস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার অকার্যকারিতা বিষয়ে গতকাল (৭ ফেব্রুয়ারী) শুক্রবার উম্মাহ ২৪ ডট কম সম্পাদকের সাথে এক মতবিনিময়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, গত দুই যুগ আগেও বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রাম ও মহল্লায় ফোরকানিয়া মক্তব শিক্ষা চালু ছিল। এতে প্রায় সকল মুসলমানের ছেলে-মেয়ে সন্তানরা পবিত্র কুরআন ও ইসলামের মৌলিক শিক্ষাটা শিশুকালেই আত্মস্ত করে নিত। এর এত ব্যাপক উপকারিতা ছিল যে, এসব শিশুরা বড় হয়ে কখনো ইসলাম ও আল্লাহ-রাসূলের বিরুদ্ধে কথা বলতো না। এদেরকে নাস্তিক্যবাদিরা সহজে খপ্পরে ফেলতে পারতো না।

আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক আরো বলেন, ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিক্যবাদিরা সাধারণ মুসলমানদের মজবুত ঈমানী শক্তির এই গুঢ়তত্ত্ব অবলোকন করে ফোরকানিয়া মক্তব শিক্ষাকে টার্গেট করলো। সকাল ১০টার স্কুল টাইমকে তারা ভোর বেলায় নিয়ে এসে কিণ্ডারগার্টেন শিক্ষা পদ্ধতি চালু করল। ক্রমান্বয়ে ভোর বেলার মক্তব শিক্ষা সংকুচিত হতে হতে অনেকটা হারিয়ে গেল। এই মক্তব শিক্ষা বন্ধ হওয়ার মারাত্মক কুফল আজ আমরা অবলোকন করছি। এখনকার তরুণ শিক্ষিত মুসলমানদের মধ্যে ইসলামী চেতনাবোধ কমতে থাকার মূল কারণ এখানেই।

তিনি বলেন, শিক্ষা-সংস্কৃতিতে নাস্তিক্যবাদি ফিতনা থেকে আমাদের শিশুদেরকে সুরক্ষা দিতে হবে। এ বিষয়ে যে সকল উলামায়ে কেরাম মসজিদের খতীব, ইমাম, মুয়াজ্জিন, তাদের দায়িত্ব সর্বাধিক। আপনারা অন্তত: নিজ নিজ মসজিদ ভিত্তিক সমাজের শিশুদের প্রতি লক্ষ্য রাখুন। আপনার এলাকার একজন শিশুও যাতে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না থাকে, সেটা নিশ্চিত করতে কাজ করুন। সকালে বা বিকেলে যে সময়েই হোক, ফোরকানীয়া মক্তব শিক্ষা চালু করতে উদ্যাগী হোন।

তিনি বলেন, শিশুদের মনে দ্বীনি শিক্ষার আলো দিতে পারলে আপনা আপনি অন্ধকার আর থাকবে না। শিশু বেলা থেকেই তারা সৎ চিন্তা-চেতনা নিয়ে বড় হবে। কুরআনী শিক্ষা সমাজে যত বাড়বে, নাস্তিক্যবাদি ফিতনা ততই উৎখাত হতে থাকবে। শিশুরা যদি কুরআনী শিক্ষা তথা প্রাথমিক ইসলামী শিক্ষাটা ভালভাবে পেয়ে যায়, তাকে কখনো নাস্তিক্যবাদিরা ঈমানহারা করতে পারবে না। এজন্য ছেলে-মেয়ে সকল শিশুকে প্রাথমিক ইসলামী শিক্ষাটা গুরুত্বের সাথে দিতে হবে। শিশুদের অভিভাবক পিতা-মাতাকে তার সন্তানের ইসলামের মৌলিক শিক্ষা পাওয়াকে সুনিশ্চিত করার দিকটা গুরুত্বের সাথে খেয়াল রাখতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.