Home ফিকহ ও মাসায়েল আক্বায়েদ ও আমল সম্পর্কে গায়রে মুক্বাল্লিদদের পারস্পরিক মতভেদ

আক্বায়েদ ও আমল সম্পর্কে গায়রে মুক্বাল্লিদদের পারস্পরিক মতভেদ

।। হাফেজ মাওলানা নাজমুল হাসান ।।

গায়রে মুক্বাল্লিদ যারা নিজেদেরকে আহলে হাদীস বলে পরিচয় দেয়, তারা এ কথার দাবীদার যে, আমরা হাদীসে নববী মতে আমল করি। সাথে সাথে তারা ইজতিহাদের দাবীও করে থাকে। যার ফলশ্রুতিতে অনেক আক্বিদা-বিশ্বাস এবং মাসায়েল নিয়ে তাদের মাঝে ইখতিলাফ বা মতানৈক্য সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অনুসারীগণের মধ্যে একজন একটা বলে, অন্যজন আরেকটা বলে থাকে। তারা তাক্বলীদে শখছীর আঁচল ছেড়ে নিজেদের মনগড়া মাসায়েল বর্ণনা শুরু করেছে।

বক্ষমান নিবন্ধে তাদের প্রসিদ্ধ এবং নির্ভরযোগ্য কিতাবাদি থেকে কিছু মাসায়েল উল্লেখ করব, যদ্বারা পাঠক মহল অতি সহজে অনুধাবন করতে পারবেন যে, তারা কুরআন হাদীস মতে কতটুকু আমল করছে। আহলে হাদীসের কর্তব্য হচ্ছে, তারা যেন নুসুস তথা কুরআন হাদীসের সামনে মাথা পেতে দেয় এবং কুরআন হাদীসের অকাট্য হুকুম থাকতে স্বীয় প্রবৃত্তির অনুসরণ না করে। কিন্তু তারা এমন মুজতাহিদ যে, তাদের কাছে ইল্ম এবং ইজতিহাদের শর্তাবলী পাওয়া না যাওয়া সত্ত্বেও নিজের বিবেক মতে মাসায়েল বর্ণনা করে। হাদীসকে মেহরাবের উপর রেখেও আহলে হাদীস হওয়ার দাবী করে। তাই তারা নিজেও পথভ্রষ্ট এবং অন্যকেও পথভ্রষ্ট করছে।

আশ্চর্য কথা হল যে, তথাকথিত আহলে দাবীদাররা নিজেদের খেয়াল-খুশী মত হাদীসের বস্তুনিষ্ঠতা নির্ধারণ করে থাকে। কোন হাদীসকে ইচ্ছা করলে সহীহ বলে, অথবা তাদের মতের বিরোধী হলে যয়ীফ বা দুর্বল বলে। এক হাদীসকে এক জায়গায় ‘সহীহ’ বলে, আবার অন্য জায়গায় ‘যায়ীফ’ বলে। হাদীসের বিপরীত তাদের অনেক মাসআলা রয়েছে।

এখানে শুধু ঐ সব মাসায়েল বর্ণনা করা হয়েছে, যেগুলোতে তাদের মতভেদ রয়েছে। তাদের এ সব গোমরাহী বা পথভ্রষ্টতার একমাত্র কারণ হল তাক্বলীদ ছেড়ে দেওয়া। তারা শুধু কুরআন হাদীসকে নয়, মনে হয় যেন তারা পুরো দ্বীনের সাথে অবজ্ঞা প্রকাশ করে চলছে। তারা শরীয়তের মাসায়েলকে শিশুদের খেলার পাত্র বিশেষ মনে করে। আল্লাহ্ তাআলা এ ধরনের লা-মাজহাবী গোমরাহ্ ফিতনা থেকে আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন। আমীন॥

গায়রুল্লাহ থেকে সাহায্য চাওয়া জায়েয

গায়রে মুক্বাল্লিদের আলেম মাওলানা ওহীদুজ্জামান বলেন, গায়রুল্লাহ্ থেকে সাহায্য চাওয়া জায়েয।(১) কেউ যদি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অথবা হযরত আলী (রাযি.) অথবা কোন অলি বুযুর্গকে এই ভেবে ডাকে যে, তাদের শ্রবণ শক্তি সাধারণ লোকের শ্রবণ শক্তি থেকে ব্যাপক, তাহলে শিরক হবে না।(২) স্বয়ং নবাব ছিদ্দিক হাসান খানও একথার দাবীদার। তিনি নিজেই গায়রুল্লাহ্ থেকে সাহায্য চেয়েছেন। যেমন-

“দ্বীনের কেবলা শক্তি দাও
ঈমানের কা’বা শক্তি দাও
ইবনে কাইয়ুম শক্তি দাও
কাজি শওকান শক্তি দাও”(৩)

পক্ষান্তরে গায়রে মুক্বাল্লিদগণের আরেক আলেম মাওলানা ছানা উল্লাহ বলেন, গায়রুল্লাহ্ থেকে সাহায্য চাওয়া শিরক।(৪)

জারজ সন্ততির সাথে বিবাহ-শাদী জায়েয

মাওলানা নূর হাসান বলেন যে, জারজ সন্ততিকে বিবাহ করা জায়েয।(৫) পক্ষান্তরে মাওলানা আব্দুল জলীল সামরবী বলেন যে, জারজ সন্ততির সাথে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া জায়েয নয়। কারণ, সিহাহ সিত্তায় তা উল্লেখ নেই।(৬) হাদীস মতে আমল করার দাবীদার হয়েও জায়েযের পক্ষে কোন হাদীস পেশ করেনি।

ব্যবসার মালে যাকাত ওয়াজিব নয়

নবাব ছিদ্দিক হাসান খান বলেন যে, ব্যবসার মালে যাকাত ওয়াজিব নয়।(৭) অনুরূপভাবে শওকানী, দাউদ জাহেরী এবং ওহীদুজ্জামানের নিকটও ওয়াজিব নয়। পক্ষান্তরে মাওলানা আব্দুল জলীল সামরবী বলেন যে, সমস্ত আহলে হাদীসের ঐক্যমতে ব্যবসার মালে যাকাত ওয়াজিব। (৮)

স্বর্ণ রূপার অলংকারে যাকাত ওয়াজিব নয়

নবাব ছিদ্দিক হাসান খান বলেন যে, স্বর্ণ রূপার অলংকারে যাকাত ওয়াজিব নয়।(৯) অথচ গায়রে মুক্বাল্লিদের অপর আলেম মাওলানা ওহীদুজ্জামান বলেন যে, স্বর্ণ রূপার অলংকারে যাকাত ওয়াজিব। দলীল প্রমাণাদী হিসেবে ওয়াজিব হওয়াই গ্রহণযোগ্য।(১০) তারা তো হাদীসের উপর আমলকারীর দাবীদার, অথচ স্পষ্ট হাদীস থাকা সত্ত্বেও তার উপর আমল করছে না।

পতিতার উপার্জন

মাওলানা ওহীদুজ্জামান বলেন যে, দেহপসারিনীর আয়-উপার্জন হারাম, তাদের ঘরে দাওয়াত খাওয়া এবং তাদের সাথে লেনদেন করা জায়েয নয়। যেমন- তিনি ইসরারুল্লুগাতে (১০/৫১ পৃষ্ঠায়) এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। পক্ষান্তরে মাওলানা আব্দুল্লাহ গাজীপুরী বলেন যে, পতিতার উপার্জন হালাল। (ফাতওয়ায়ে মাওলানা আব্দুল্লাহ্ গাজীপুরী ২২-৩-১৩২৯ হিজরী) তবে এর জন্য শুধু তাওবাই যথেষ্ট। অথচ মুসলিম শরীফের হাদীসে স্পষ্টভাবে বর্ণিত যে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে, “পতিতার আয়-উপার্জন অপবিত্র এবং হারাম”। প্রবৃত্তির পূজারী এসব গায়রে মুক্বাল্লিদদেরকে জিজ্ঞাসা করুন, তাদের অনুসৃত আলেম মাওলানা আব্দুল্লাহ্ গাজীপুরী কোন হাদীস মতে আমল করেছেন? তারা প্রকাশ্য হাদীসের বিরোধিতা করেও নিজেদেরকে আহলে হাদীস বলে দাবী করেন। তাদেরকে আহলে হাদীস বলাটা হাবশীর মত কাল বস্তুকে কপর্রের সাথে তুলনা করার নামান্তর।

অসুস্থ ব্যক্তির উপর ঝাড়-ফুঁক

মাওলানা ওহীদুজ্জামান বলেন যে, কুরআন হাদীস পড়ে রোগীকে ঝাড়-ফুঁক করা জায়েয। পক্ষান্তরে অন্যান্য সকল গায়রে মুক্বাল্লিদদের নিকট ঝাড়-ফুঁক হারাম। অথচ ঐ ঝাড়ফুঁক যেখানে কুফরী মন্ত্র পাঠ করা হয়, সেটা অবৈধ হলেও যেখানে কুফরী শব্দ বা শিরকের সংমিশ্রণ না হয়, তা শরীয়ত সম্মত। যেমন- মুসলিম শরীফের এক হাদীসে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- “যে সব ঝাড়-ফুঁকে কুফরী শব্দ নেই, তাতে কোন অসুবিধা নেই”। মুসলিম শরীফের অন্য রেওয়ায়েতে বর্ণিত আছে যে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে ঝাড়-ফুঁকের কালিমা বা মন্ত্র পাঠ করা হলে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- তোমাদের মাঝে যে ব্যক্তি নিজের ভাইয়ের উপকার করতে সক্ষম, সে তার ভাইয়ের উপকার করার মধ্যে কোন অসুবিধা নেই।

আবু দাঊদ শরীফে বর্ণিত একটি হাদীসে হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাযি.)এর স্ত্রী হযরত যয়নাব (রাযি.) নিজেই হযরত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঝাড়-ফুঁকের বর্ণনা দিয়েছেন।

ইমাম বায়হাকী শোআবুল ঈমানে হযরত আলী (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক রাত্রে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায আদায়কালীন সিজদায় যাওয়ার মানসে জমিনের উপর হাত রাখলেন, তখন একটি বিচ্ছু এসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কামড় দিল। নামায শেষে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে বিচ্ছুকে অভিশাপ দিলেন। অতঃপর লবণ এবং পানি মিশ্রিত করে ক্ষতস্থানের উপর ঢালতে লাগলেন এবং মুআ’ বেজাতাইন অর্থাৎ “ক্বুল আউযু বিরাব্বিন নাস, ক্বুল আউযুবিরাব্বিল ফালাক্ব” পড়ে হাত দিয়ে ক্ষতস্থানের উপর মালিশ করতে লাগলেন। অন্য এক রেওয়ায়েতে হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসঊদ (রাযি.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা দুইটি উপশম দ্রব্য নিজেদের উপর লাযিম করে নাও অর্থাৎ মধু এবং কুরআনের আয়াত দ্বারা সুস্থতা লাভ কর। (ইবনে মাজাহ)।

কতিপয় মুহাদ্দিস এই হাদীসকে ‘মওকুফ’ বলেছেন।

এমনিভাবে ঝাড়-ফুঁকের বৈধতার উপর আরো অনেক হাদীস বর্ণিত আছে। কিন্তু হাদীসের দুশমন গায়রে মুক্বাল্লিদরা চোখ বন্ধ করে বলে দেয় যে, ঝাড়-ফুঁক নাজায়েয এবং শিরক। অথচ উল্লিখিত হাদীস দ্বারা একথা প্রতীয়মান যে, যদি কেউ কুরআন হাদীসের শব্দ দ্বারা ঝাড়-ফুঁক বা তাবীজ লিখে, নিঃসন্দেহে জায়েয হবে। অনেকে কুরআন হাদীসের পরিপন্থী কুফরী শব্দ দ্বারা ঝাড়-ফুঁক বা তাবীজ লিখে থাকে, তবে সেটাকে আমরাও নাজায়েয এবং হারাম মনে করি।

বিবাহ শাদীতে গান-বাদ্য বাজানো জায়েয

মাওলানা ওহীদুজ্জামান বলেন যে, প্রাকৃতিক আনন্দের জন্য গান বাজানোর ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। কিন্তু বিবাহ শাদী বা অন্য খুশীর স্থানে গান গাওয়া জায়েয এবং মুস্তাহাব। (১১) পক্ষান্তরে নবাব ছিদ্দিক হাসান খান বলেন যে, গান বাজানো অর্থাৎ গীত গাওয়া সম্পূর্ণ হারাম। আল্লামা ইবনে তাইমিয়া ও ইবনে কাইয়্যুম এ ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেছেন। (১২) হাদীস শরীফে স্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে- “আলগেনা……..” এমনিভাবে কুরআনে কারীমেও বর্ণিত আছে- “ওয়ামিনান্নাসি মাই ইয়াশতারী লাহওয়াল হাদীস” গান-বাদ্য হারাম হওয়াটা কুরআন হাদীসের এই প্রাঞ্জল হুকুমগুলো দ্বারা প্রমাণিত। কিন্তু পরিতাপের বিষয় যে, তথাকথিত আহলে হাদীসরা সেটাকে শুধু জায়েয নয় বরং মুস্তাহাব বলে বিশ্বাস করে। এটা কি কুরআন হাদীস মতে আমলকারীদের কাজ, নাকি প্রবৃত্তি পূজারীদের কাজ?

জানাযার নামাযে উচ্চস্বরে সূরায়ে ফাতিহা পড়া

নবাব ছিদ্দিক হাসান খান বলেন যে, জানাযার নামাযে সূরা ফাতিহা উচ্চস্বরে পড়া জরুরী, আস্তে পড়া মুস্তাহাব নয়। (১৩) পক্ষান্তরে মাওলানা ওহীদুজ্জামান বলেন যে, জানাযার নামাযে সূরা ফাতিহা আস্তে পড়া দরকার। (১৪)

শরাব সিরকা হওয়ার পরেও পাক হয় না

আল্লামা ইবনে তাইমিয়া ও ইবনে কায়্যুম শরাবকে সর্বাবস্থায় নাপাক বলেন, অর্থাৎ শরাবের হাকীকত পরিবর্তন হয়ে সিরকা হওয়ার পরেও নাপাক থাকে, পাক হয় না। (১৫) পক্ষান্তরে আল্লামা শওকানী এবং নবাব ছিদ্দিক হাসান খানের মাজহাব অনুযায়ী শরাব সিরকা হওয়ার পর পাক হয়ে যায়। (১৬)

কাফনে প্রচলিত কাপড় থেকে অতিরিক্ত দেওয়া বৈধ

মাওলানা ওহীদুজ্জামান বলেন যে, পুরুষের কাফনে তিনটির চেয়ে বেশী এবং মহিলার কাফনে পাঁচটির চেয়ে বেশী কাপড় দেওয়া মাকরূহ। (১৭) পক্ষান্তরে আল্লামা শওকানী এবং নবাব ছিদ্দিক হাসান খান বলেন যে, অতিরিক্ত কাপড় দেওয়ার মধ্যে কোন অসুবিধা নেই, এটা মাকরূহ নয়। (১৮)

মৃত ব্যক্তিকে কাঁধে নেওয়ার দ্বারা অযূ ওয়াজিব হয়

গায়রে মুক্বাল্লিদরা বলেন যে, মৃত ব্যক্তিকে কাঁধে নিলে বাহনকারীর উপর অযু ওয়াজিব হয়। অর্থাৎ কেউ যদি অযু করার পর মৃত ব্যক্তিকে কাঁধে নেয়, তাহলে তার অযু ভেঙ্গে যাবে। যেমন- হাদিয়াতুল মাহদী, বুদুরুল আহিল্লা গ্রন্থে এর বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। কিন্তু ইমাম বুখারীর মতে তার অযু ভাংবে না এবং তার উপর নতুন অযু ওয়াজিব হবে না; যা বুখারী শরীফে বর্ণিত আছে।

মৃত ব্যক্তিকে ধৌতকারীর উপর গোসল ওয়াজিব হয়

গায়রে মুক্বাল্লিদদের মধ্যে শওকানী, নবাব ছিদ্দিক হাসান খান এবং মাওলানা ওহীদুজ্জামান বলেন যে, মৃত ব্যক্তিকে ধৌতকারীর উপর গোসল ওয়াজিব হয়ে যায়। (১৯) অথচ নাসরুল বারী কিতাবের লিখক আপন গ্রন্থের ৫ অধ্যায়ের ৫৩নং পৃষ্ঠায় লিখেন যে, মৃত ব্যক্তিকে ধৌত করার দ্বারা ধৌতকারীর উপর গোসল ওয়াজিব হয় না। ইমাম বুখারী (রাহ.) এ ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন।

খতমে তারাবীহেক্বূলহু আল্লাতিনবার পড়া

মাওলানা বশীর উদ্দীন ক্বুনজী বলেন যে, খতমে তারাবীহের দিন সূরায়ে ইখলাস তিন বার পড়া বিদআত। তিনি আগে থেকে হাফেজ সাহেবকে নিষেধ করে দিতেন। পক্ষান্তরে মাওলানা ওহীদুজ্জামান বলেন যে, এটা সম্পূর্ণ জায়েয বিদআত নয়। (২০) আমাদের বুঝে আসে না, তারা কোন হাদীস দ্বারা এটার বৈধতা প্রমাণ করছে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন সময় তারাবীহে সূরায়ে এখলাস তিনবার পাঠ করেননি। তবে তাহাজ্জুদে তিনবার পাঠ করার কথা এসেছে। এভাবে তারা নিজের পক্ষ থেকে মাসআলা বর্ণনা করে হাদীসের উপর আমলের দাবী করে। তারা কি এই মাসআলার পক্ষে কোন হাদীস পেশ করতে পারবে?

নামাযে সতর ঢাকা জরুরী নয়

আল্লামা শওকানী এবং ছিদ্দিক হাসান খান বলেন যে, নামাযে সতর ঢাকা শর্ত নয়। অর্থাৎ নামাযের মধ্যে কারো লজ্জাস্থান খুলে গেলে তার নামায শুদ্ধ হয়ে যাবে। পক্ষান্তরে মাওলানা ওহীদুজ্জামান বলেন যে, সতর ঢাকা শর্ত, তা ছাড়া নামায দুরস্ত হবে না। (২১) এই দুই উক্তির মধ্যে কোনটা রাখা যাবে আর কোনটা ছাড়া হবে? উভয়ে আহলে হাদীসের দাবীদার, সাথে সাথে উভয়ে মুজতাহিদ হওয়ারও দাবীদার। তাই তাদের মাঝে এই মতবিরোধ।

ফজরের আযান দুই বার হওয়া দরকার

নবাব ছিদ্দিক হাসান খান বলেন যে, আযান ওয়াক্তের ভিতরে হওয়া দরকার। ওয়াক্তের আগে আযান শুদ্ধ নয় এবং হযরত বেলাল (রাযি.)এর আযান রাত্রিতে ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জাগ্রত করা এবং তাহাজ্জুদ গুজারদেরকে উঠানোর লক্ষ্যে ছিল। তার আযান ফজরের আযান ছিল না। (২২)

মাওলানা ওহীদুজ্জামান বলেন যে, ফজরের জন্য দু’টি আযান হওয়া দরকার। (২৩)

এ ইখতিলাফটিও ইজতিহাদের কারণে হয়েছে। তারা নিজেদের মন মত চলছে। হাদীসের সামনে মাথা নত করার সেই মানসিকতা তাদের নেই।

মুয়াজ্জিনকে বেতন দিয়ে রাখা জায়েয নয়

নবাব ছিদ্দিক হাসান খান বলেন যে, মুয়াজ্জিনকে বেতন দিয়ে রাখা জায়েয নয়। (২৪) পক্ষান্তরে মাওলানা ওহীদুজ্জামান বলেন যে, বর্তমান যুগে বেতন নেওয়াতে কোন অসুবিধা নেই। (২৫)

মহিলারাও মুয়াজ্জিন হতে পারে

মাওলানা ওহীদুজ্জামান বলেন যে, মুয়াজ্জিনের জন্য পুরুষ হওয়া শর্ত। মহিলারা মুয়াজ্জিন হতে পারে না। (২৬) পক্ষান্তরে নবাব ছিদ্দিক হাসান খান বলেন যে, মুয়াজ্জিনের জন্য পুরুষ হওয়া জরুরী নয়, বরং এতে পুরুষ-মহিলার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। অর্থাৎ মহিলারাও মুয়াজ্জিন হতে পারে। (২৭)

আযান দেওয়া ওয়াজিব

নবাব ছিদ্দিক হাসান খান বলেন যে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে আযান দেওয়া ওয়াজিব। পক্ষান্তরে মাওলানা ওহীদুজ্জামান বলেন যে, আযান দেওয়া সুন্নাত, ওয়াজিব নয়। সাথে সাথে তিনি ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণাদি খন্ডন করেছেন।(২৮)

পুরো রমযানের রোযা ছুটে গেলেও কোন কিছু লাযিম হয় না

যাদি কেউ ওযর বশতঃ পুরো রমযানের রোযা রাখতে পারেনি এবং বছরও শেষ হয়ে গেল, এমনকি আরেক রমযান এসে গেল, আর গত রমযানের ক্বাযাও দেয়নি। এমতাবস্থায় উল্লিখিত ব্যক্তির করণীয় সম্পর্কে মাওলানা ওহীদুজ্জামান বলেন যে, পরবর্তীতে তার ছুটে যাওয়া রোযার ক্বাযা আদায়ের পাশাপাশি ক্বাযা আদায়ে বিলম্ব করার জন্য তাকে প্রত্যেক রোযার পরিবর্তে এক মুদ্দ (এক সের) পরিমান খাবারও সাদকা দিতে হবে। নবাব ছিদ্দিক হাসান খান বলেন যে, বিলম্ব করার জন্য তাকে কিছু দিতে হবে না। এ কারণেই রোযা রাখতে সম্পূর্ণ অক্ষম ব্যক্তির উপর ক্বাযা-কাফ্ফারা কিছুই ওয়াজিব হয় না। (২৯)

মাওলানা আব্দুল্লাহ্ গাজীপুরী এক নতুন মাসআলা বের করে বলেন যে, মুসাফির এবং রোগী দুই প্রকার। প্রথমতঃ যারা রোযা রাখার শক্তি রাখে না। দ্বিতীয়তঃ যারা কষ্ট করে রোযা রাখতে পারে। প্রথম শ্রেণীর উপর ক্বাযা ওয়াজিব দ্বিতীয় শ্রেণীর উপর কাফ্ফারা ওয়াজিব। (৩০)

এই সমস্ত বলা-মুসিবত তাক্বলীদ ছাড়ার ফসল বৈ কিছু নয়। কারণ তাদের মাঝে প্রত্যেক জন মুজতাহিদ এবং নিজের রায়ের মধ্যে স্বাধীন।

মৃত ব্যক্তির ছুটে যাওয়া রোযা তার ওলী রাখতে পারবে

হাফিজ ইবনে কায়্যুম বলেন যে, মৃতের জিম্মায় যে সমস্ত রোযার ক্বাযা ওয়াজিব, ঐগুলো যদি মান্নতের রোযা হয়, তাহলে ওলী তার পক্ষ হতে ক্বাযা রোযাগুলো রাখতে পারবে। কিন্তু যদি ফরয রোযা অর্থাৎ রমযানের রোযা হয়, তাহলে ওলী ক্বাযা রোযাগুলো রাখতে পারবে না। (৩১) পক্ষান্তরে নবাব ছিদ্দিক হাসান খান বলেন যে, ফরয রোযাসমহও মান্নতের রোযার মত তার ওলী রাখতে পারবে। (৩২) এরা হচ্ছে নামধারী আহলে হাদীস। আসলে শারীরিক ইবাদতে কেউ অন্য জনের পক্ষে, না নামায আদায় করতে পারে, না রোযা আদায় করতে পারে। কেননা, হাদীস শরীফে স্পষ্ট ভাবে বর্ণিত আছে যে- “কেউ কারো পক্ষ থেকে নামায আদায় করা জায়েয নয় এবং রোযা রাখাও জায়েয নয়”। অথচ তারা নিজেদের কিয়াস এবং ইজতিহাদের আবেগে হাদীসকেও অবজ্ঞা করে বসেছে।

জুমার জন্য খুতবা শর্ত নয়

গায়রে মুক্বাল্লিদদের ইমাম আল্লামা শওকানী বলেন যে, খুতবা জুমার ফরায়েয এবং জরুরিয়াতের অন্তর্ভুক্ত নয়। খুতবা ব্যতিত জুমা আদায় হয়ে যাবে।

নবাব ছিদ্দিক হাসান খানও তার অন্ধ তাক্বলীদ করেছেন। (৩৩) অপরদিকে মাওলানা ওহীদুজ্জামান বলেন যে, খুতবা জুমার জন্য শর্ত, খুতবা ছাড়া জুমা হতেই পারে না। তিনি খুতবা শর্ত হওয়াটাকে দলীল সহকারে প্রমাণ করেছেন। (৩৪) তারা হাদীসের উপর আমলের দাবীদার। কিন্তু পাঠক মহল! আপনারা দেখছেন যে, তারা হাদীস বাদ দিয়ে মনগড়া ইজতিহাদে মগ্ন, তাই তো তাদের কথায় কথায় মতানৈক্যতা।

রুকু সিজদায় তাসবীহ পড়া ওয়াজিব নয়

মাওলানা ওহীদুজ্জামান বলেন যে, রুকু সিজদায় তাসবীহ পড়া ওয়াজিব (৩৫) এবং এটাকেই সঠিক এবং নির্ভরযোগ্য মত বলে আখ্যায়িত করেছেন। আসলে এটা আল্লামা ইবনে তাইমিয়ার অন্ধ তাক্বলীদ। পক্ষান্তরে নবাব ছিদ্দিক হাসান খান বলেন যে, রুকু সিজদায় তাসবীহ পড়া ওয়াজিব নয়, বরং সুন্নাত। (৩৬) এরা উভয়েই গায়রে মুক্বাল্লিদদের ইমাম। এখন প্রশ্ন হল, সাধারণ গায়রে মুক্বাল্লিদরা কোন ইমামের অনুসরণ করবে। এই মতবিরোধ শুধুমাত্র প্রবৃত্তি পজা এবং হাদীসকে ছেড়ে দিয়ে নিজের আক্বল ও কিয়াসের ঘোড়া দৌড়ানোর কারণেই হয়ে থাকে। হাদীসের সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই।

যাদের অন্তরে হাদীসের সম্মান আছে তারা হাদীসের সামনে মাথা নত করে ফেলে। হাদীস থাকাকালীন যুক্তির আশ্রয় নেয় না। কিন্তু পরিতাপের বিষয় যে, এই সমস্ত গায়রে মুক্বাল্লিদরা হাদীসের বস্তুনিষ্ঠতা এবং দুর্বলতাকে তাদের আয়ত্বে নিয়ে এসেছে। যেই হাদীসকে ইচ্ছা করে ‘সহীহ’ বলে, যেটাকে ইচ্ছা ‘যয়ীফ’ বলে।

গোসলে শরীর মালিশ করা ওয়াজিব

মাওলানা ওহীদুজ্জামান বলেন যে, গোসলে শরীর মালিশ করা মুস্তাহাব। (৩৭) পক্ষান্তরে নবাব ছিদ্দিক হাসান খান বলেন যে, শরীর মালিশ করা ওয়াজিব। (৩৮) শওকানীর নিকটও ওয়াজিব। (৩৯)

মক্কায় প্রবেশের জন্য গোসল করা সুন্নাত নয়

মাওলানা ওহীদুজ্জামান বলেন যে, মক্কায় প্রবেশের লক্ষে গোসল করা সুন্নাত। (৪০) পক্ষান্তরে নবাব ছিদ্দিক হাসান খান বলেন যে, মক্কায় প্রবেশের পর্বে গোসল করবে না। কারণ, এটা গোমরাহীর উপর গোমরাহী। (৪১)

মুকীমের পিছে মুসাফিরের ইক্বতিদা নাজায়েয

মাওলানা আব্দুল জলীল সামরভী বলেন যে, মুকীমের পিছনে মুসাফিরের ইক্বতেদা জায়েয। (৪২) পক্ষান্তরে আলী হাসান খান বলেন যে, কখনো যেন মুসাফির মুকীমের পিছনে ইক্বতেদা না করে, সে পরের দুই রাকাতে শরীক হওয়া দরকার। (৪৩)

স্ত মৈথুন জায়েয

মাওলানা নূরুল হাসান খান বলেন যে, হস্তমৈথুন করা জায়েয। (৪৪) পক্ষান্তরে মাওলানা আব্দুল জলীল সাহেব বলেন যে, জায়েয নয়, কেননা সিহাসিত্তাতে তার কোন উল্লেখ নেই। (৪৫)

প্রত্যেক রাকাতের শুরুতে আউযুবিল্লা পড়া

মাওলানা ওহীদুজ্জামান বলেন যে, নামাযের প্রত্যেক রাকাতে ক্বেরাতের পর্বে আউযুবিল্লা পড়া জরুরী। (৪৬) পক্ষান্তরে নবাব ছিদ্দিক হাসান খান বলেন যে, শুধু নামাযের শুরুতে আউযুবিল্লা পড়া সুন্নাত। (৪৭) ইবনে কায়্যুম ও শওকানীর মাজহাবও এটা। হাদীসের উপর আমলকারীদের মাঝে এই মতানৈক্যতা ও মতবিরোধ কখনো হতে পারে না। এগুলো শুধু তাক্বলীদ না করার পরিণাম। তাদের মাঝে প্রত্যেকে উট পাখির ন্যায়, দ্বীনের ব্যাপারে কিয়াসের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে।

প্রত্যেক রাকাতে উচ্চস্বরে বিসমিল্লা পড়া

মাওলানা ওহীদুজ্জামান বলেন যে, ‘আল-হামদু’-এর পর্বে আস্তে করে বিসমিল্লা পড়া মুস্তাহাব। (৪৮) পক্ষান্তরে নবাব ছিদ্দিক হাসান খান বলেন যে, যেহরী নামাযে বিসমিল্লাহ্ উচ্চস্বরে পড়া দরকার, এটাই হক মাযহাব। (৪৯) এরা উভয় জন গায়রে মুক্বাল্লিদের ইমাম। একজন বলে একরকম, অন্যজন বলে আরেক রকম। সরলমনা গায়রে মুক্বাল্লিদরা কোন দিকে যাবে, কার কথা রাখবে, আর কার কথা ছাড়বে? এটাই নাকি আমল বিল হাদীসের অর্থ।

“হে আল্লাহ! আপনার সরলমনা বান্দারা কোন দিকে যাবে? কেননা, দরবেশীতেও প্রতারণা, আর বাদশাহীতেও ঠকামী”।

নামায থেকে সালামের মাধ্যমে বের হওয়া ওয়াজিব নয়

মাওলানা ওহীদুজ্জামান বলেন যে, সালাম নামাযের ফরায়েযের অন্তর্ভুক্ত। (৫০) পক্ষান্তরে নবাব ছিদ্দিক হাসান খান বলেন যে, নামায থেকে সালামের মাধ্যমে বের হওয়া ওয়াজিব নয়। (৫১) আল্লামা শওকানী ‘নাইলুল আওতারে’ ওয়াজিব না হওয়াকে এখতিয়ার করেছেন এবং অন্যত্র সালামের মাধ্যমে বের হওয়াকে ওয়াজিব বলেছেন। মাওলানা ওহীদুজ্জামান আবার নবাব সাহেবের উক্তিকে খন্ডন করেছেন।

প্রিয় পাঠক! আপনারাই মন্তব্য করুন এটা কি আমল বিল হাদীস নাকি মনগড়া ইজতেহাদবাজী। শওকানী এক জায়গায় লিখেছেন, সালাম দ্বারা বের হওয়া ওয়াজিব, আবার অন্য জায়গায় লিখেছেন ওয়াজিব নয়। তারা নিজের পক্ষ থেকে ইজতিহাদ করে আর হাদীসকে মেহরাবের উপর রেখে দেয়। তারপরেও আহলে হাদীস হওয়ার দাবী করে। প্রবাদে আছে- “কাক হাঁসের চলন শিখতে গিয়ে নিজের চলন ভুলে গেল”।

প্রচলিত মীলাদ জায়েয

মাওলানা ওহীদুজ্জামান বলেন যে, প্রচলিত মীলাদের বিরোধিতা করা জায়েয নয়। (৫২) কারণ প্রচলিত মীলাদ জায়েয। কিন্তু মাওলানা ছানাউল্লাহ বলেন যে, প্রচলিত মীলাদ বিদআত। কারণ, প্রচলিত মীলাদে অংশগ্রহণকারীরা অধিকাংশ ফাসিক, তারা মদ-জুয়া খেলে, নামাযের পাবন্দী করে না, সাথে সাথে মীলাদ মাহফিলে আজেবাজে বক্তব্য এবং মনগড়া হিকায়াত বর্ণনা করে। অতঃপর যখন ইচ্ছা হয়, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাদের মজলিসে হাজির করে ক্বিয়াম করে এবং উচ্চস্বরে সালাম পাঠ করে। (৫৩) মাওলানা ওহীদুজ্জামান এটাকে জায়েয বলে এবং এটার উপর রদ করাকে নাজায়েয বলেন। এগুলো শুধুমাত্র প্রবৃত্তি পূজারী, কোন বুদ্ধিমান লোক এগুলোকে আমল বিল হাদিস বলবে না।

তথ্যসূত্রঃ

(১) হাদিয়াতুল মাহদী- ২৩। (২) প্রাগুক্ত-২৫। (৩) নফহুত তয়্যেব-৪৭-৫৭। (৪) আহলে হাদীসের মাজহাব- ১৭-২১। (৫) আরফুলজাবী -১১৩। (৬) আল-আজাবুল মুহীন- ৫২। (৭) বুদুরুল আহিল্লা-১০২। (৮) আল- আজাবুল মুহীন-২৮-২৯। (৯) বুদুরুল আহিল্লাহ্- ১০১। (১০) হাদিয়াতুল মাহদি-৬/৫, ইসরারুল্লুগাহ্- ১০/১১৮। (১১) ইসরারুল লুগাহ্-৬/৮৬। (১২) বুদুরুল আহিল্লা- ৫১৩। (১৩) প্রাগুক্ত-৯২। (১৪) হাদিয়াতুল মাহদী-২২১। (১৫) ফতওয়ায়ে ইবনে তাইমিয়া-১/৭২ (১৬) বুদুরুল আহিল্লা। (১৭) হাদিয়াতুল মাহদী-২১১। (১৮) রওজায়ে নদীয়্যা-১০৮। (১৯) প্রাগুক্ত-২৭। (২০) ইসরারুল্লুগাহ, পারা-৪ পৃষ্ঠা-১৪২। (২১) হাদিয়াতুল মাহদী। (২২) বুদুরুল আহিল্লা- ৪৭। (২৩) হাদিয়্যাতুল মাহদী- ৬৪। (২৪) বুদুরুল আহিল্লা- ৪৬। (২৫) হাদিয়াতুল মাহদী-৮৭। (২৬) প্রাগুক্ত-৬২। (২৭) বুদুরুল আহিল্লা-৪৬, (২৮) হাদিয়াতুল মাহদী-৪৬, (২৯) প্রাগুক্ত-৬৪। (৩০) বুদুরুল আহিল্লা-১২৮ (৩১) রওজায়ে নদীয়্যা-১৪৬। হাদীয়াতুল মাহদী-৬৬ (৩২) হাদিয়্যাতুল মাহদী-৬৬। (৩৩)আর-রওজাতুন নদীম-৮৯। (৩৪) হাদিয়াতুল মাহদী-৫/১৫১। (৩৫) প্রাগুক্ত। (৩৬) বদরুল আহিল্লা-৫৫। (৩৭) হাদিয়্যাতুল মাহদী-২৩। (৩৮) বুদুরুল আহিল্লা-৩১। (৩৯) আর-রওজাতুন নদীমু-৩৬। (৪০) হাদিয়াতুল মাহদী-২৬। (৪১) বুদুরুল আহিল্লা-২৩। (৪২) আল আজাবুল মুহিন- ৭১। (৪৩) আল বুনয়ানুল মারছুচ-১৬৩। (৪৪) আরফুল জাবী-২১৪। (৪৫) আল-আজাবল মুহীন- ৫২৬। (৪৬) হাদিয়াতুল মাহদী-১৭৭। (৪৭) আর রাওজাতুন নাদীয়্যা-৬৭। (৪৮) হাদিয়াতুল মাহদী-২৩৭। (৪৯) রওজায়ে নদীয়্যা-৬৭। (৫০) হাদিয়াতুল মাহদী-৩/২১৭। (৫১) রওজায়ে নদীয়্যা-৬১ পৃষ্ঠা। (৫২) হাদীয়াতূল মাহদী-১১৮। (৫৩) আহলে হাদীসের মাযহাব- ৩৪ পৃষ্ঠা।

– হাফেয মাওলানা নাজমুল হাসান, ফাযেলে দারুল উলূম দেওবন্দ, মুহাদ্দিস ও ভাইস প্রিন্সিপাল- জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা-ঢাকা, অধ্যক্ষ- রওজাতুস সালিহাত মহিলা মাদ্রাসা, উত্তরা, ঢাকা।

উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।