Home গল্প-উপন্যাস শয়তান!

শয়তান!

।। মালেকা ফেরদাউস ।।

[পূর্ব প্রকাশিতের পর]

জুলি বললো আরেক জায়গায় যাই চল। হাত ধরাধরি করে মাঠ পেরিয়ে একটা নদীর কাছে এসে দাঁড়ালাম।পাড় ভাঙ্গছে। জায়গাটা অনেক পরিচিত কিন্তু এতো নির্জন। পাশের ঝোঁপ থেকে দোয়েলের শীষ ভেসে আসছে। নদী ছুঁয়ে ঠান্ডা হাওয়া এসে গায়ে লাগছে। পাড় ঘেঁষেই একটা ঘর।মনে হচ্ছে যেকোন সময় ভেঙ্গে পড়বে।

পাশে তাকিয়ে দেখি জুলি নেই।মাঠ ফাঁকা চারিদিক শুনশান। নদীর উপর জুলি উড়ছে।কাছে আসতে আসতে বললো মৃত মানুষরা উড়তে পারে। মনে পড়লো স্কুলে পড়ার সময় জুলি রোড এক্সিডেন্ট এ মারা গেছে।আমার কোন ভয় নেই এখন।মল্লিকাদি ও তো মারা গেছে প্রথম বাচ্চা হওয়ার সময়।উনিও আমাকে আগের মতই ডাকলেন।

সমনের ঘরের দরোজা খোলা। দরোজায় শাদা শাড়ি পরা এক মহিলা দাঁড়িয়ে। পরিচিত মনে হল।সামনে এগুতেই দেখলাম রানীর মা।আমি অবাক হলাম। ও আমার বাসায় কাজ করত ১০,০০০ হাজার টাকা ধার নিয়ে আর কাজে আসেনি।কতজনের কাছে ওর খোঁজ নিয়েছিলাম।কেউ ওর খোঁজ দিতে পারেনি।ময়মনসিংহের কমলাকান্দিতে ওর বাড়ি।যে বান্ধবীর বাসায় ওকে কাজে দিয়েছিলাম সেও ওর খোঁজ দিতে পারেনি।

একদিন আমার সেই বান্ধবীও বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।বলে যায়নি এবং আমার পাওনা টাকাও শোধ করেনি। অবাক হলাম, এতো বড়লোকের বউ।

আমাকে যে লোকটি মাছ দেয় তার ছেলের কাছে শুনলাম ওদের দোকানে অর্ডার করে বড় বড় মাছ কিনে নেতা- নেত্রীদের বাসায় দেয়।এখন ও-ই নাকি বড় নেত্রী। সবার জন্য তদবির করে। ওর ছেলে ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত। মেডিকেল ষ্টুডেন্ট।চার বছর ধরে ইর্টানী করছে। কথায় কথায় চাপাতি পিস্তল বের করে। এতো সুন্দর লাজুক প্রকৃতির একটা ছেলে ছিল। এই ছেলে যখন মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা দেয় সেবার প্রশ্ন ফাঁস হয়। শুনেছি ও সেই প্রশ্ন পড়ে পরীক্ষা দিয়ে ঢাকার অন্যতম মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়। ওর মা এক লক্ষ টাকা দিয়ে আমাকেও প্রশ্ন কিনতে বললে আমি পাত্তা দেইনি।

রানীর মার ডাকে চমকে উঠি- আপা আমনে এহানে। এতো ছুডো ক্যান। নীল ফ্রকপরা আমার মাইয়াডার মত।নিজে বির বির করে বললো- মনেহয় এদ্দিনে বিয়া অইয়া গ্যাছে। আমি বললাম- রানীর মা কোথায় ছিলে এতোদিন? ঝরঝর করে কাঁন্না করলো এবং বললো- আমারে মাইরালাইছে আপা।

কে?

আমনের বান্ধবীর ছেলে।আমি অবাক হয়ে ওর দিকে তাকালাম।

ভেতরে চুপসে গেলাম ভয়ে।

কেন, কেন তোমাকে মেরে ফেলছে?

আমি ৫ তারিখ আমনের কাচথে ট্যাহা লইয়া শিমু আপার বাসায় যায়নের পর আপায় কইলো – রানীর মা তুই আজ থাইক্কা যা। আমার মনডা ভালো না। আপার চোক মুখ ফোলা। মনে অয় কানছিল। আমি কইলাম – বাসার তন আহি।ভাইয়ারা কই। আপা কইলো তুই তোর কাজ কর।

আমনে তো জানেন ভাইয়ার ঘর অনেক লোকজনে ভরা ভরা থাহে। বাড়িওয়ালা বাসা ছাইরা দিতে কইছিল একবার। বাড়িওয়ালারে পিস্তল দেখাইয়া চুপ করাইয়া রাখছে।

আরও পড়তে পারেন-

প্রথম প্রথম শুনতাম প্রশ্ন পত্র ফাঁসের সাথে শিমুর ছেলে জড়িত। সবাইকে প্রশ্ন দেয় টাকার বিনিময়ে। নিজেই মেডিকেলের নেতা হয়ে চাঁদাবাজি,মারামারিতে জড়িয়ে পড়ছে। সাথে ছোট ছেলেটিও।কি সুন্দর দুটো ছেলে বড় হতে হতে মাস্তান হয়ে নানা অপরাধের সাথে জড়িয়ে গেছে।শিমু এসে খুব কাঁদত,বলতো তুমি একটু কথা বল নবীনের সাথে।তোকে খুব পছন্দ করে। আমার বড় ছেলেকে অনুরোধ করত ফোন করার জন্য।মাঝখানে শিমু খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। দেখতে গিয়েছিলাম হসপিটালে।খুব কাঁদলো।

রানীর মায়ের কথায় সম্বিৎ ফিরলো।ও মেয়েটির কথা বলে বিলাপ করছে আর বলছে আপা আমার তু কুনু দুষ আছিল না। আমারে ক্যান মারলো?

কি হয়েছিল রানীর মা?

শাপলা চত্তরে হুজুরগো মারতে দুই ভাই পিস্তল লইয়া মটর সাইকেলে বাইর অইয়া গেছে। রাইত একটার পর পুরা গলি ভইরা গেছিল মটর সাইকেলে। কম কইরা হইলেও ১০০ পোলাপাইন অইবো। আমি বাসায় যাইতে চাইছিলাম কিন্তু আপা কানলো আর কইলো রানীর মা চুপ থাক। বাইর অবার আগে কোন লিডারের সাথে কথা কইলো বহু সময় ধইরা আমি হুনছিলাম। কিন্তু আমিতো কিছু বুঝবার পারি নাই। লিডার যাওয়ার পরই সবাই মটর সাইকেল ষ্টার্ট দিল

তারা ফিরা আইলো বিহান রাইতে জামা কাপড় রক্তে ভিজা। ছোট ভাইয়া বেহুঁশ । একটু পর পর চিৎকার করছে আর বলছে- মসজিদে জীন, মসজিদে জীন। মা মসজিদ থেকে অনেক দূরে বাসা নাও। সারা পাড়া রটে গেল সব। কদিন পর আর রানীর মাকে খুঁজে পাওয়া গেল না। [চলবে]

লেখক: কবি ও সাহিত্যিক।

উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।