Home সোশ্যাল মিডিয়া তালাকপ্রাপ্তা এবং আমাদের সমাজ!

তালাকপ্রাপ্তা এবং আমাদের সমাজ!

2

আমাতুল্লাহ (নাজনীন আক্তার হ্যাপি)

বেশিদূর যেতে হবে না, আপনার আশেপাশেই এমন অনেক বোনকে পাবেন, যাঁরা তালাকপ্রাপ্তা। হয়তো কারো কোলে বাচ্চা বা তিনি একাই। আমরা নিজেদেরকে প্রশ্ন করি, তাদেরকে কি আমরা খুব সহজভাবে গ্রহণ করি? একটা মানুষের নাম জানার আগে যদি তিনি তালাকপ্রাপ্তা এটা জেনে যাই, তাহলে এই পরিচিতিটাই আমরা আগ বাড়িয়ে দিতে খুব পছন্দ করি। বিষয়টা এমন, যেন তার এটাই প্রধান ও মুখ্য পরিচয়! আমরা বেশিরভাগ মানুষ এটা বলে, এটাই বুঝিয়ে থাকি যে, ঐ মেয়ের স্বামী তাকে ছেড়ে দিয়েছে বা ঐ মেয়ে তার স্বামীকে ডিভোর্স দিয়েছে। তার মানে ঐ মেয়ে খারাপ বা ভাল না। সামনাসামনি ভাল কথা বললেও পেছনে রসিয়ে রসিয়ে গীবত করা যেন নৈতিক দায়িত্বের ভেতর পড়ে!

দুনিয়াতে এমন কোন মানুষ আছে, যে কিনা শখের বশে বা খুশিতে আলাদা হয়ে যায়, বা একটা সংসার ভেঙ্গে দেয়? উহু! একদম না। প্রত্যেকটা ডিভোর্সের গল্প থাকে তিক্ততায় ভরা। বিশেষ করে মেয়েরা দেয়ালে পিঠ না ঠেকলে শত আঘাতেও সংসার আগলে রাখতে চায়! কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেই মেয়েটাকেই আমাদের সমাজ দোষী বানায়। সবার তো কমন কথা থাকে যে, “ভাল মেয়ে হলে কি আর তালাক হতো?”

আসলে আমরা বলতে পারি। অনেক বলতে পারি, বলতে তো আর টাকা খরচ হয় না। কিন্তু যে পর্যায়ে এসে ডিভোর্স হয়, সেই অবস্থা সম্পর্কে আপনি আমি কতটুকু জানি? আমরা কয়জন প্রতিবেশির খোঁজখবর রাখি? আমি আপনি কি তার সংসারে থেকে নিজের চোখে দেখে এসেছি? কিভাবে আমরা অজানা বিষয়ে অপবাদ দেই? অপমান করি? গীবত করি? কু-ধারণা করি?

একটা মেয়েকে আমরা অসহায় ভাবি খুব। কারণ কি জানেন? তারা হয় কোমল। প্রতিটি মেয়ের ভেতর একজন মা লুকিয়ে থাকে, হোক সে সন্তানহীন, তবুও। মেয়েরা ছেলেদের মতো তেজি হয় না। এটা তাদের স্বভাব। তাদের স্বভাব শুধু সবাইকে আপন করে নেয়া, কেয়ার করা, উজাড় করে ভালবাসা। এই স্বভাবগুলোর কারণে দূর্বল মনে করি আমরা। আসলে মেয়েদের আল্লাহ অনেক সম্মান দিয়েছেন। একজন মেয়ে পারে তার সন্তানকে যোগ্য শাসক বানাতে। একজন মেয়ে পারে তার সন্তানকে বীরে পরিণত করতে। একটি মেয়ে পারে তার ভালবাসা দিয়ে স্বামীকে ভাল করতে। একটি মেয়ে পারে তার বাবাকে নেশা থেকে ফিরিয়ে আনতে। একটি মেয়েই পারে একটি পুরুষের জন্ম দিতে। মেয়েরা অসহায়। তারা সম্মানিতা।

আমাদের অন্তর বিষাক্ত। আমরা আমাদের বিষাক্ত চিন্তাভাবনা দিয়ে, কথা দিয়ে অন্যের মনকে কেবল বিষিয়ে দিতে পারি। আমাদের আসলে করণীয় কি এসব? আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে না? দেখুন, এই একটা বিষয়কে কেন্দ্র করে কতগুলো মারাত্মক শাস্তির ঘোষণাকৃত গুনাহের দিকে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। গীবতে জড়াচ্ছি, অপবাদ দিচ্ছি, মিথ্যা রটাচ্ছি, মানুষকে কষ্ট দিচ্ছি, তিরষ্কার করছি। এসব কি আমাদের কাছে এতই হালকা গুনাহ? আল্লাহর কাছে কিন্তু এগুলো খুব গুরুতর বিষয়। কঠিন আজাবের ঘোষণা হয়েছে এসবের উপর। মহিলারা এই বিষয়ে সবার চেয়ে এগিয়ে। আল্লাহ হেফাজত করুন।

[৩ জানুয়ারী ২০১৯, ফেসবুক পোস্ট থেকে]

2 COMMENTS

  1. এই লেখার প্রত্যেকটা বর্ণে বর্ণে কষ্টদায়ক সত্যি লুকিয়ে আছে।আমরা সবাই মুখে কিন্তু বলি যে,আমরা দ্বীনদার।কিন্তু বাস্তবতা কি জানেন !! আমরা সবাই শর্তসাপেক্ষ দ্বীনদার।যেহেতু আমি পুরুষ,তাই আমাদের সমাজের পুরুষদের কথাটাই না হয় বলি ; এই পৃথিবীতে আল্লাহর রাসূল (সা.) ও সকল সাহাবায়ে কেরাম,আসলাফ ছাড়া অধিকাংশ পুরুষেরই দুটো চেহারা দেখা যায়।একটা বাড়িতে,অপরটা বাইরে।দুটো চেহারাই ভিন্ন দুটো চরিত্র লালন করে।এটাই হয়েছে আমাদের মূল সমস্যা।লেখিকাকে ধন্যবাদ,এমন সাহসী উচ্চারনের জন্য।ধন্যবাদ সকলকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.