চুয়াডাঙ্গায় তরমুজ বিক্রিকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের জেরে আবারো হামলা হয়েছে। শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে পৌর শহরের টাউনফুটবল মাঠের সামনে এ ঘটনা ঘটে। শহরের বড় বাজারপাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা ও কৃষ্ণ সাহার ছেলে নিপুন সাহাকে (২৪) এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ নিপুনকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
নিপুন সাহার মা কাজল সাহা জানান, ‘রাত প্রায় পৌনে ১০টার দিকে তিনি বাড়ির বাইরে বের হলে রাস্তার পাশে ২০ থেকে ২৫ জন লোককে বড় বড় দা হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। এসময় তিনি চিৎকার করলে নিপুন বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে। সাথে সাথেই তারা নিপুনের ওপর হামলা চালায়। নিপুন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাকে তাড়িয়ে শহরের পৌরসভা মোড়ে অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের পার্টি অফিসের সামনে ফেলে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করে। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ স্থানীয়দের সাহায্যে নিপুনকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোর্শেদ আলম বলেন, ‘রাত ১০টার পরে রক্তাক্ত অবস্থায় নিপুন সাহাকে হাসপাতালে আনা হয়। তার মাথা, হাত ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। তবে তার মাথায় গুরুতর আঘাত থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
আরও পড়তে পারেন-
- ঋণ বা ধারকর্য পরিশোধে ইসলামের বিধান
- ইতিহাসে আল্লামা আহমদ শফী
- মেধাবী, আন্তরিক ও নিষ্ঠাবান শিক্ষক ছাড়া শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়
- ইগো প্রবলেম নিয়ে যত কথা
- সামাজিক সম্পর্ক সুদৃঢ় রাখতে ইসলামের নির্দেশনা
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিপুন অভিযোগ করেন, ‘ছাগল ফার্মপাড়ার আবু হোসেনের ছেলে মামুন হোসেন (২৬), জেবু ও রানাসহ ২০ থেকে ২৫ জন আমার ওপর হামলা চালিয়েছে।’
নিপুন আগে সিলেটে থাকতেন এবং পেশায় একজন ট্রাকচালক।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ‘শুক্রবার রাতে তরমুজ বিক্রিকে কেন্দ্র করে ঘটনার জেরে ধরেই এ ঘটনাটিও ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবেভাবে জানা গেছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। অভিযোগ সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বড় বাজার থেকে একটি তরমুজ বিক্রি ও তা সাদা হওয়ায় ফেরত দিতে আসা নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতা দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। পুলিশের দাবি, এরই জেরে বিক্রেতা পক্ষের রুবেল ইসলাম রুবু ও আমিরুল ইসলামকে কুপিয়ে জখম করা হয়। নিপুন সাহা ওই ঘটনার সময় রুবেল ইসলাম রুবু ও আমিরুল ইসলামের পক্ষে থাকায় গতরাতে একা পেয়ে নিপুনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। বর্তমানে নিপুন সাহা তার মা-বাবার সাথে টাউন ফুটবল মাঠের সামনের একটি ভাড়া বসবাস থাকেন। এক তরমুজ বিক্রি নিয়ে তিনজন জখমের ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
উম্মাহ২৪ডটকম: আইএ







