Home অপরাধ ও আইন-আদালত রাজনীতিকদের লাগামহীন পূজামণ্ডপ কাণ্ডের সমালোচনা ঢাকতে কী কুরআন অবমাননার ঘটনা?

রাজনীতিকদের লাগামহীন পূজামণ্ডপ কাণ্ডের সমালোচনা ঢাকতে কী কুরআন অবমাননার ঘটনা?

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র অপূর্ব পালের কুরআন অবমাননার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এবারের দুর্গাপূজায় ইসলামের নাম ভাঙিয়ে রাজনীতি করা একটি দলের নেতাদের পূজামণ্ডপে গিয়ে লাগামহীন মন্তব্যের সমালোচনায় গোটাদেশ তোলপাড় চলছে। ঠিক তখন বিভৎস এই কুরআন অবমাননার ঘটনা ঘটল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনীতিকদের লাগামহীন পূজামণ্ডপ কাণ্ডের সমালোচনা থেকে নজর ঘোরাতে একজন নেশাগ্রন্ত ব্যক্তিকে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে এই জঘন্য ঘটনাটি ঘটানো হতে পারে।

কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ সতর্ক করেছেন, এই ঘটনার পেছনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও ভারতের ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার’ করার গভীর ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। বিশেষ করে উস্কানি দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা করে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির নীলনকশা থাকতে পারে। তাই সবাইকে দায়িত্বশীল ও সংযত আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

অপূর্ব পালের শিক্ষক আসিফ বিন আলী জানান, তিনি ধর্মান্তরিত মুসলিম ছিলেন। তিনি মারাত্মক ড্রাগ আসক্তিতে ভুগছিলেন, যার কারণে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃতও হয়েছিলেন। তিনি এক মুসলিম ছাত্রীর প্রেমে পড়ে ধর্মান্তরিত হন। কিন্তু সেই ছাত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেলে তার মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, যার ফলস্বরূপ এমন ধর্মবিরোধী আচরণ দেখা যায়।

এই ঘটনায় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অপূর্ব পালকে গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার (৪ অক্টোবর) গভীর রাতে রাজধানীর ভাটারা এলাকার একটি আবাসিক ভবন থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতার অপূর্ব পাল তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অষ্টম সেমিস্টারের ছাত্র।

এরআগে, শনিবার দুপুরে অপূর্ব পালের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে কুরআন অবমাননাকর একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়, যা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই বিষয়টি নিয়ে বিক্ষোভ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেকে সামাজিক মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আশা করি মামলার তদন্তে জানা যাবে, কোন পরিস্থিতিতে কী অবস্থায় সে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তার মানসিক অসুস্থতা আছে কিনা? তার পেছনে কেউ কলকাঠি নেড়েছে কিনা? করে থাকলে তারা কারা? সেটার সিদ্ধান্ত নেবে আদালত-সরকার। তার আগে কোনো অবস্থাতেই উস্কানিতে পা দেওয়া যাবে না। কুচক্রীমহলকে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার সুযোগ দেওয়া কোনোভাবেই ঠিক হবে না।

আরও পড়তে পারেন-

মাত্র কয়েকদিন আগে দুর্গাপূজা শেষ হয়েছে। প্রতিবারের মতো এবারও নানা আশঙ্কার কথা বলা হলেও নজিরবিহীন শান্তিপূর্ণভাবে পূজার আয়োজন শেষ হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও ভারতের হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার যে ষড়যন্ত্র ছিল তা এবার ব্যর্থ হয়েছে। তাই তারা অপূর্ব পালের মতো একজন অপ্রকৃতস্থ ব্যক্তিকে ব্যবহার করে কোরআন অবমাননা করে আবারও হিন্দুসম্প্রদায়ের উপরে কোনো না কোনভাবে হামলার ষড়যন্ত্র করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন মহল।

এবারের দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু ভোট টানতে যেন হিন্দুতোষণের প্রতিযোগিতায় নামে জামায়াতে ইসলামীর অনেক নেতা। দলটির কোনো নেতা পবিত্র আজানের সাথে হিন্দুদের উলুধ্বনির তুলনা করেছেন। কেউ বা মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ উদাহরণ দিয়ে পূজার সঙ্গে রোজার তুলনা করে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্কের জন্ম দেন। আবার কেউ পূজামণ্ডপে গিয়ে পাঠ করেছেন গীতা। এনিয়ে ঘরে-বাইরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে দলটি।ফলে দলটির অসাম্প্রদায়িক কার্ড খেলার এই কৌশল বুমেরাং হয়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সমালোচকদের একটি অংশ বলছেন, রাজনীতিকদের লাগামহীন পূজামণ্ডপ কাণ্ডের সমালোচনা ঢাকতেও একজন গুরুতর আসক্ত বা মানসিকভাবে অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তিকে বেছে নেওয়া হতে পারে। বিজেপি যেমন পরিকল্পিতভাবে বাবরি মসজিদ ও জ্ঞানবাপী মসজিদ কাণ্ড ঘটিয়ে ভোটের বাক্সে সুবিধা নিয়েছিল-বাংলাদেশের এই ঘটনায়ও সেই প্রচেষ্টা থাকতে পারে।

এদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. জাহেদ উর রহমান এই অত্যন্ত সংবেদনশীল ঘটনায় মুসলিম সম্প্রদায়কে শান্ত থাকার এবং কোনো ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা না দেওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অযোধ্যার বাবরি মসজিদের রায়ের সময়ের উদাহরণ টেনে দেখান, কীভাবে শান্ত থেকে ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্য ব্যর্থ করে দেওয়া সম্ভব।

তিনি বলেন, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাস্তায় কোনো গণ-কর্মসূচি বা মিছিল না করাই উচিত। কারণ এর মধ্যে ‘এজেন্ট প্রভোকেটিয়ার’ ঢুকে পড়ে সহিংসতা সৃষ্টি করতে পারে, যা চূড়ান্তভাবে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার ষড়যন্ত্রকেই সফল করবে। অভিযুক্ত ছাত্র নেশাগ্রস্ত হওয়ার কারণে কেউ পরিকল্পনা করে একটা কেওস বাঁধানোর চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

ফেসবুকে মোঃ শফিকুল ইসলাম লিখেছেন, এটা গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তাকে কেউ লেলিয়ে দিয়েছে মনে হচ্ছে। এই সময়ে এসে একজন সুস্থ মস্তিষ্কের কেউ এমন কাণ্ড ঘটাবে এটা বিশ্বাস করার মত নয়। কুরআন অবমাননার তীব্র প্রতিবাদ করছি এবং সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে উপযুক্ত বিচারের দাবী করছি।

আলাউদ্দিন সৌরভ লিখেছেন, পূজামণ্ডপে গিয়ে একটি দলের নেতাদের লাগামহীন বিতর্কিত মন্তব্যের ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে। এই সমালোচনা থেকে নজর ঘোরাতে একজন নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিকে টাকা-পয়সা দিয়ে এই গর্হিত ঘটনা ঘটিয়েছে। ইসলামের নামে রাজনীতি করলেও এমন জঘন্য ঘটনা ঘটাতে বিবেকে বাঁধলো না!

মিনহাজুল ইসলাম লিখেছেন, আমি মনে করি পরিকল্পিতভাবে কুরআন অবমাননার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃতি দেখলে বোঝা যায়, দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা ছাড়া এটা কিছু না। এই শয়তানিমূলক অপকর্মের পেছনে কিংবা পর্দার অন্তরালের মূল চক্রান্তকারীকে খুঁজে বের করতে হবে। কারণ, অপূর্ব নামের এই দানবের আড়ালে যারা লুকিয়ে আছে তারা এই দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা, অগ্রগতি, কল্যাণ ও ঐক্যের শত্রু। এদের ঘাঁটি ও শেকড় দেশ এবং দেশের বাইরে প্রোথিত। সম্মিলিত প্রয়াস, বুদ্ধিমত্তা, ধৈর্য দিয়ে এদের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়তে হবে।

মুশফিকুল কবির লিখেছেন, অপূর্ব পাল একা দোষী নয় যারা তাকে কুরআন দিয়েছে তাদের খুঁজে বের করা হোক। গত একমাসের ওর ফোন কল চেক করতে হবে এবং ও কোথায় কোথায় গেছে কাদের সাথে ঘোরাফেরা করেছে সেগুলো চেক করে উষ্কানীদাতাদের খুঁজে বের করা উচিত। এটা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় এটা নিঃসন্দেহে দেশকে অস্থিতিশীল করার গভীর ষড়যন্ত্র। শুধু বহিষ্কার করলেই হবে না সবকিছু তদন্ত করে বের করতে হবে। হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা বাঁধানোর পায়তারা নাতো?

আসিফ মাহবুব লিখেছেন, এসব অপরাধের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কলকাঠি নাড়ছে ইন্ডিয়ান উগ্র হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িক শক্তি বিজেপি, মোদি, আরএসএস। ওদের উদ্দেশ্য হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা লাগিয়ে উগ্র হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করা যেমন তারা বাস্তবায়ন করেছে ইন্ডিয়াতে। মুসলিমদের এবং বিভিন্ন সংখ্যালঘুদের উপর হত্যা নির্যাতন ধর্ষণ, বাড়িঘর দখল-লুটপাট করা, মসজিদ ভেঙ্গে মন্দির করা হচ্ছে।

উম্মাহ২৪ডটকম: আইএএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।