Home ওপেনিয়ন সমৃদ্ধ জাতি নির্মাণে দরকার বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণ ও আলেমদের এগিয়ে আসা

সমৃদ্ধ জাতি নির্মাণে দরকার বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণ ও আলেমদের এগিয়ে আসা

- ফাইল ফটো।

।। মুসা আল হাফিজ ।।

যদি মানবিক মাটিতে দাঁড়িয়ে সাংস্কৃতিক আলোকায়নের বিশ্লেষণ করতে হয়, তা হলে যে জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক আলোকায়ন চাই, তার জাতিসত্তা কোনো প্রজাতির ওপর স্থাপিত হলে চলবে না। অঞ্চল বা ভাষার ওপর জাতিসত্তার ভিত দাঁড়ালেও সেখানে মানবিক ভ্রাতৃত্ব আহত হয়। রাজনৈতিক বা সামরিক সার্বভৌমত্বের ওপর তাকে দাঁড় করানো যায়। কিন্তু এভাবে ভিত্তিপ্রাপ্ত জাতিগোষ্ঠীর চেতনার ভেতর অস্ত্রের ঝনঝন সৃষ্টিকারী নাজিজম মার্চপাস্ট করতে থাকে। সাংস্কৃতিক আলোকায়ন সত্যিকার অর্থে তখনই সম্ভব, যখন জাতিসত্তার ভিত্তি গড়ে উঠবে অখণ্ড মানবিক বোধের ওপর। সমবেত বিশ্বাস, চৈতন্য ও মূল্যমানের ওপর; যা হবে অনুভূতি-ইচ্ছা ও কর্মে একটি মানবিক ব্যবস্থা। যা মন, হৃদয় ও বাহুকে সমন্বিত করে অভিন্ন মূল্যায়ন ও নীতিমালা দ্বারা প্রত্যেকের সত্তায় আলোকপাত করবে। প্রত্যেকের মনোভঙ্গি ও চরিত্র শরিকানাভিত্তিক এক মোহনায় মিলিত হবে, যেখানে প্রত্যেক সদস্য নিজের অধিকার নিয়েও সমবেতভাবে একÑ এ ভিত্তিতে উম্মাহ বা জাতিসত্তাকে এক দেহ বলা হয়েছে। এখানে জ্ঞান, দক্ষতা, খাদ্য বা আরাম-আয়েশ সবই এক থেকে বহুতে বিস্তারকামী; অর্থাৎ প্রত্যেকেই অর্জিত কল্যাণে অন্যদের অংশীদার করবে।

এ হচ্ছে জাতিসত্তার সেই শরীর, যা ইসলাম কামনা করে। এ হচ্ছে সংস্কৃতির এমন এক দিক, যার আশ্রয়ে মানবিক বোধ, সামাজিক সংহতি ও জীবনমান বিকশিত হয়। সেই সাংস্কৃতিক মানে উত্তরণের জন্যে ব্যক্তির মন গঠন ও সমাজের বীজতলায় চাষাবাদে প্রয়োজন এমন কর্মী, যারা জ্ঞানালোকে উদ্ভাসিত, দায়িত্ববান, নেতৃত্ব গুণসম্পন্ন, হৃদয় ও কর্মশক্তিতে বিকশিত, সৎ সত্যবাদী ও সোচ্চার। মহৎ চরিত্রের সেই কঠিন দায়িত্ববানদের ইসলাম ওলামা বলে পরিচয় করিয়ে দেয়। ওলামা প্রথমত ধারণ করবেন জাতিসত্তার জীবনবোধ এবং কর্মের মাধ্যমে বাস্তব রূপ দেবেন মূল্যমানগুলোকে।

সার্বক্ষণিকভাবে তারা ভূমিকা পালন করবেন এবং তাদের বলা হয়েছে যেন জাতীয় সংস্কৃতি ও চেতনার মূর্তপ্রতীক হিসেবে সর্বত্রই তারা নিজেদের উপস্থিতিকে তাৎপর্যমণ্ডিত করেন। এ কথা সুবিদিত যে ইসলাম বিভিন্ন সমাজ ও বিচিত্র সংস্কৃতির মানুষকে গলনপাত্রে অন্তর্ভুক্ত করে, কিন্তু কারো ভাষা, সংস্কৃতি কিংবা সামাজিক প্রথাগত সহজাত রীতিগুলোকে বিলুপ্ত করতে চায় না। বরং তার মধ্যে যা কিছু সুস্থ, সুন্দর ও সুচেতনাময়, তাকে দান করে মহিমাসম্পন্ন বিকাশ। ইসলাম সততা ও মানব স্বভাবের সহযাত্রী থাকতে চায়, জীবনের স্বাভাবিকতাকে চায় নিশ্চিত করতে। এ ক্ষেত্রে প্রাণশক্তি হচ্ছে সেই জীবনবোধ, যা মানুষকে চূড়ান্ত সাফল্যের জন্যে প্রস্তুত করবে। সেই প্রাণশক্তির আলোতে সে মিল্লাতের সদস্যদের চিন্তা-চেতনা, স্বভাব-চরিত্র, আচার-ব্যবহার, পারিবারিক কাজ-কর্ম, সামাজিক ক্রিয়াকাণ্ড, রাজনৈতিক কর্মধারা, সভ্যতা-সামাজিকতাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রকে উজ্জীবিত করতে চায়। এ ক্ষেত্রে ইসলামের ভূমিকা প্রাণশক্তির সরবরাহকারীরূপে, বিকাশের বাহনরূপে এবং প্রগতি ও আত্মআবিষ্কারের প্রেরণা হিসেবে। ওলামাকে তাই ইসলামের সত্য, সৌন্দর্য ও মিল্লাতের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে জাতিসত্তার ভাষা, সংস্কৃতি ও সামগ্রিক জীবনযাত্রার সৃজনশীল প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হয়।

ইসলামের এই ভূমিকা তার সংস্পর্শে আসা জাতিগুলোর আত্মশক্তিকে যেমন দৃঢ়তা দিয়েছে, তেমনি তাদের ভাষা ও সংস্কৃতিকে দিয়েছে সুষ্ঠু বিকাশের আলো- বাতাস। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এ ব্যাপারটি এতটাই ব্যাপক ও সুস্পষ্ট যে, একে অস্বীকার করলে মূলত ইতিহাসকেই প্রত্যাখ্যান করা হয়। ড. দীনেশ চন্দ্র সেন এ বিষয়ের বয়ান পেশ করেছেন নিম্নোক্ত ভাষায়Ñ ‘ইতরের ভাষা বলিয়া বঙ্গভাষাকে পণ্ডিতমণ্ডলী দূর দূর করিয়া তাড়াইয়া দিতেন, হাঁড়ি, ডোমের স্পর্শ হইতে ব্রাহ্মণেরা যেইরূপ দূরে থাকেন, বঙ্গভাষাও তেমনি সুধীমহলে অপাঙ্ক্তেয় ছিলÑ তেমনই ঘৃণা, অনাদর ও উপেক্ষার পাত্র ছিল। কিন্তু হীরা কয়লার খনির মধ্যে যেমন জহুরীর আগমনের প্রতীক্ষা করে, শুক্তির ভিতর মুক্তা লুকাইয়া থাকিয়া যেরূপ ডুবুরির অপেক্ষা করিয়া থাকে, বঙ্গভাষা তেমনই শুভদিন, শুভক্ষণের প্রতীক্ষা করিতে ছিল। মুসলমান বিজয় বাংলা ভাষার সেই শুভদিন, শুভক্ষণের সুযোগ আনয়ন করিল।’ সুযোগটি তো আর আসমান থেকে পড়েনি, সুযোগ তৈরি হলো সমবেত প্রয়াসের মাধ্যমে। সেই প্রয়াসের এক দিকে ছিলেন জনগণ, অন্য দিকে মুসলিম শাসক ও বুদ্ধিজীবী তথা ওলামা।

ভাষার ক্ষেত্রে যা, বাঙালি জাতিসত্তা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও তা। আমাদের জাতিসত্তা মূলত একটি সুনির্দিষ্ট বলয়ের ওপর স্থিত হয় এ দেশে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। এর আগে সেন রাজাদের বাংলা ভাষাবিদ্বেষ, বর্ণবৈষম্য ও কৌলীন্য প্রথা জনগণের মধ্যে নানা বিভাজন সৃষ্টি করছিল। বাঙালির তখন বিপন্নদশা। তার সংস্কৃতি তখন দুর্দশাগ্রস্ত। বিশ্বেশ্বর চৌধুরীর ভাষায়, ‘ব্রাহ্মণ্যবাদীরা এ দেশের সভ্যতা, সংস্কৃতি ও শিল্প ধ্বংসের নির্মম ও সর্বাত্মক অভিযান শুরু করেছিল।’ স্যার আর.সি মজুমদার স্বীকার করেছেন, এ সময় ব্রাহ্মণ্যবাদ এতই চরম সীমায় পৌঁছে ছিল যে, যেটাই ঘোষিত হতো, সেটাই ঈশ্বরের বাণীতে পরিণত হতো। ঈশ্বরের নামে ধর্মগ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হতো, বাঙালি হচ্ছে নিকৃষ্ট জাতি। এদের সভ্যতা, সংস্কৃতি বর্বর, বন্য। এ পরিস্থিতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার পরিণতিতে এ দেশের নামকরণ হয়ে গেল বাঙ্গালা। অধিবাসীরা পরিচিত হলেন বাঙ্গালিয়ান এবং সালতানাতের নাম হলো সুবে বাঙ্গালা। এ সময় বাঙ্গালী স্বীয় জাতিসত্তার পটভূমিকায় ঐক্য খুঁজে পেল।

বাঙালি জাতিসত্তার সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আত্মপ্রতিষ্ঠার এই নায়ক যদিও বখতিয়ার খিলজির বঙ্গজয়, কিন্তু এর পরিবেশ ও গণস্তরে এর প্রস্তুতিমূলক মন গড়ে উঠছিল উলামা বুজুর্গদের নিরন্তর সাধনা, অপরিসীম ত্যাগ-তিতীক্ষা ও কর্মপ্রয়াসের মাধ্যমে। বাবা আদম শহীদ রহ: শাহ সুলতান রুমী রহ: হজরত শাহ সুলতান মাহী সওয়ার রহ: মাখদুম শাহ দৌলা রুপোশ রহ: শাহজালাল মুজররদে ইয়ামানী রহ: প্রমুখ বুজুর্গ ও দায়ী ইলাল্লাহ বাংলায় দ্বীনের দাওয়াতি তৎপরতা, সাম্যের প্রচার ও চারিত্রিক ঔৎকর্ষের আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের চেতনাকে তাওহিদি আলোকধারা ও স্বাধিকার চেতনার আত্মশক্তিতে জাগ্রত ও বলিয়ান করে তুলেছিলেন। পরবর্তীতে আরবি ও ফারসি ভাষায় ব্যুৎপত্তিসম্পন্ন ওলামার হাত দিয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের স্বতন্ত্র কাঠামো গড়ে ওঠে। ফলে তখন বাংলা ভাষার নাম হয় যাবনী মিশাল বাংলা। কোনো সন্দেহ নেই আরবি ও ফারসিলগ্ন এই বাংলাই পরবর্তী কয়েক শ’ বছর বাঙালি হিন্দু ও মুসলমানের মুখের ভাষা হিসেবে যেমন ব্যবহৃত হয়, তেমনি সাহিত্যের ভাষা হিসেবেও বরেণ্য হয়।

আরও পড়তে পারেন-

এভাবেই চলছিল, যতক্ষণ না আমাদের স্বাধীনতাকে পলাশীর আম্রকাননে ছিনতাই করা হলো এবং বিদেশী শাসকদের প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট ইউলিয়ামে বাংলা ভাষাকে জোর করে সংস্কৃতের কন্যা বানানোর চেষ্টা চলল। ইংরেজরা দেখেছিল যতক্ষণ না এ দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে মাতৃভাষার শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে, ততক্ষণ তাদের দখলদারী নিরাপদ নয়। ফলে ঔপনিবেশিক প্রকল্পের অধীনে তারা এমন এক বাংলা প্রবর্তন করল, যা জনগণের কাছে অপরিচিত এবং এই ভাষাকে সর্বাত্মক পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ায় জনগণের মুখের ভাষা অপাঙ্ক্তেয় হতে থাকল। সেই সময় ফারসি বাংলার সুপণ্ডিত ওলামা মহল প্রচণ্ড জাত্যাভিমান ও স্বাধিকারের চেতনার ফলে দখলদারের উদ্ভাবিত সংস্কৃত বাংলা গ্রহণ করতে পারেনি। ফলত তারা মূলধারা থেকে ছিটকে পড়লেন। পরে বহু বিবর্তন ও আন্দোলনের বৃষ্টির পানি নদী অতিক্রম করে সমুদ্রে মিলিত হলেও তারা আর কখনো বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের মূলস্রোতে নিজেদের উপস্থিতি অর্থবহ করে তুলতে পারেননি। ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলন যদিও মুসলিম তরুণ ও ইসলামী চেতনাসম্পন্ন নেতৃত্বের রক্ত, কোরবানি ও শাহাদতের ফলে বিজয় অর্জন করে, কিন্তু পরবর্তী ঘটনাচক্র সেই বিজয়কে চেতনার সেই জমিতে আর থাকতে দেয়নি; ভাষা আন্দোলনের কৃতিত্ব ছিনতাই হয়ে যায়।

জাতিসত্তার তাওহিদি প্রাণশক্তির প্রতি প্রবলভাবে অনীহ, আগ্রাসী চেতনার অনুরক্ত একটি চিন্তাধারা ঢেকে চলে বুদ্ধিবৃত্তির আকাশ। এ প্রেক্ষাপটে ওলামা হিসেবে ইসলাম নির্দেশিত দায়িত্ব পালন তথা জাতীয় চিন্তা-চেতনার পুনর্গঠনের কাজে ধর্মীয় নেতারা সময়ের বাস্তবতার চেয়ে যোজন যোজন পিছিয়ে পড়লেন। ফলত সৃজনশীলতার পথ ধরে উৎপাদনশীলতা সূচিত হয়নি। জাতির জন্য এটি অনেক বড় দুঃসংবাদ। ওলামা পরিমণ্ডলে সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার উচ্চাকাক্সক্ষা আছে, কিন্তু উৎপাদনশীলতা ছাড়া সেই আকাক্সক্ষা পথভ্রষ্ট হতে বাধ্য। এ জন্য ব্যাপকভাবে মস্তিষ্কের সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে মাতৃভাষা-সংস্কৃতি এবং জ্ঞান ও প্রজ্ঞার সৃষ্টিশীল চর্চা অপরিহার্য। প্রয়োজন অগ্রসর নতুন সাহিত্য ও শিল্পকলায় আদর্শিক সত্যের প্রতিফলন ঘটানো। প্রয়োজন জীবনসত্যের উপস্থাপনে ভাষা, রচনারীতি, গঠনশৈলী ও অন্তর্গত মূল্যবোধের অসাধারণত্ব, যা সাফল্যের প্রাথমিক শর্ত।

ওলামা পরিমণ্ডলের সাংস্কৃতিক উত্তরণে সৃজনশক্তিসম্পন্ন সফল সাহিত্যিকদের বিকাশ যেমন প্রয়োজন, তেমনই প্রয়োজন আবেগ-অনুভূতির চাপল্য ও ভাবের বন্যায় আত্মবিস্মৃতি থেকে উত্তরণের মাধ্যমে চিন্তার সমৃদ্ধি ও কালের মর্মপরিচয় উদ্ধারপূর্বক আত্মঅভিজ্ঞান।
এ জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। এই কর্মপ্রয়াস যদি সফল হয়, তা হলে সেটি হবে অগ্রগতির পথে এ জাতির অন্যতম অর্জন। কেননা সুদীর্ঘ এক অনাসৃষ্টির শাসন আমাদের সংস্কৃতি ও বুদ্ধিজীবিতার অঙ্গনকে করে রেখেছে দরিদ্র। গতানুগতিক দলাদর্শের অংশীদারিত্বভিত্তিক এমন এক পরিমণ্ডল গড়ে তুলেছে, যা আমাদের জাতিসত্তার সত্যিকার বিকাশে মোটেও সহায়ক নয়। ফলে সত্যিকার কোনো জাতীয় মূল্যবোধ ও আত্মসত্তার ঢেউ লক্ষ করা যায় না। বৈষয়িক উন্নতির চার দিকে ব্যাধির বিস্তার, রুগ্ণতা ও হীনম্মন্যতা।

অতএব, রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের দাঁড়ানোর মাটি কম্পমান, সমাজ অবক্ষয়ক্লিষ্ট, অস্থির ও শিথিল। নৈতিকতা জাদুঘরের দিকে ধাবমান আর মূল্যবোধের অবক্ষয় নদীভাঙনের মতোই আমাদের বসতভিটায় ফাটল সৃষ্টি করেছে। এর পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে অধিপতি শ্রেণীর অনুৎপাদনশীলতার মন্দ প্রভাব জাতীয় জীবনে একপ্রকার ভিক্ষাবৃত্তির মনোভাবকে প্রশ্রয় দিয়েছে। চিন্তাকে করেছে নিস্তরঙ্গ আর গণজাগরণ ও জনগণের নেতৃত্বের পথ ঢেকে দিয়েছে বিভ্রান্তির আবর্জনা দিয়ে। এরই আড়ালে গুমরে গুমরে ক্রন্দন করছে জাতিসত্তার প্রাণবীজ।

এখন সবচেয়ে বড় কাজ হলো জাতিকে ব্যাধিমুক্ত করা। এর জন্য অপরিহার্য বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণ। সেই জাগরণের সম্ভাবনা আমাদের সমাজ ও জনজীবনে ব্যাপক। সম্ভাবনাকে বাস্তব বিকাশে উন্নীতকরণের প্রশ্ন বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্বের ওপর নির্ভরশীল। সেই নেতৃত্ব বিত্ত-বৈভবের সাথে সামাজিক ন্যায়বোধের সামঞ্জস্য বিধান করবে। জাতিসত্তার আত্মপরিচয় ও সমৃদ্ধির পথে তারা বিশ্বাসের প্রাণশক্তি ও মহামানবিক চৈতন্যের মশাল জ্বেলে ঐক্যবদ্ধ ও সমুন্নত ভবিষ্যতের অবাধ প্রান্তরে জাতীয় জীবনের আলোকায়ন করবেন। ইসলাম বলে, এ কাজটি করবেন ওলামা। সমৃদ্ধ জাতি নির্মাণে অগ্রবর্তী ভূমিকায় তাদের এগিয়ে না আসা মিল্লাতকে ভ্রষ্টতার দিকেই হাঁকাবে। ওলামাকে অতএব সৃজনশীলতার পথ ধরে জাতি গঠনের প্রয়াসে এগিয়ে আসতে হবে অধিকমাত্রায়। সেই সাথে প্রসারিত করতে হবে স্বকীয় সংস্কৃতির মানবিক রাজসড়ক।

– মুসা আল হাফিজ, কবি, গবেষক। ইমেইল- [email protected]

উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।