Home অন্যান্য খবর কুরআন অবমাননার ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আহ্বান মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমীর

কুরআন অবমাননার ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আহ্বান মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমীর

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী কর্তৃক পবিত্র কুরআনের অবমাননার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-এর সহসভাপতি ও হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী।

গতকাল (৭ অক্টোবর) মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী বলেন, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী অপূর্ব পাল কর্তৃক কুরআন অবমাননার ঘৃণ্য ও হৃদয়বিদারক কর্মকাণ্ড সমগ্র মুসলিম জাতির ঈমানি চেতনায় আঘাত হেনেছে। পবিত্র কুরআন মুসলমানের হৃদয়ের স্পন্দন, জীবনের আলোকবর্তিকা ও নৈতিকতার মূলভিত্তি—এই মহান গ্রন্থকে অবমাননা করা শুধু একটি ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, বরং মানবতার বিরুদ্ধেও ভয়াবহ অপরাধ।

তিনি বলেন, বিশেষভাবে নিন্দনীয় যে, উক্ত শিক্ষার্থী নিজেই তার ফেসবুক প্রোফাইলে ওই জঘন্য ভিডিও প্রকাশ করেছে, যা তার উদ্দেশ্য ও মানসিক অবস্থার গুরুতর অসুস্থতা নির্দেশ করে। এই আচরণ সজ্ঞানে, পরিকল্পিতভাবে এবং ধর্মীয় অনুভূতিকে অবমাননার উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়েছে—এমন ইঙ্গিতই সুস্পষ্ট।

মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী বলেন, “আমরা এই নিকৃষ্ট ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে জাতির ঈমানদার জনতাকে আশ্বস্ত করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, পবিত্র কুরআন মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে নাজিলকৃত চিরন্তন দিকনির্দেশনা, যা সমগ্র মানবজাতির জন্য কল্যাণ ও মুক্তির পথ নির্দেশ করে। একজন মুসলমান তার জীবন, সম্মান ও সম্পদের চেয়েও কুরআনের মর্যাদা রক্ষাকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। তাই এই অবমাননা কোনোভাবেই সহ্যযোগ্য নয়। এটি মুসলিম উম্মাহর ঈমানি অনুভূতিতে গভীর আঘাতের পাশাপাশি বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়তে পারেন-

জমিয়ত সহসভাপতি মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি শান্তিপ্রিয় মুসলিম দেশ, যেখানে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ যুগ যুগ ধরে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছে। কিন্তু কিছু কুচক্রী গোষ্ঠী মাঝে মাঝে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করে। নর্থ সাউথের এ ঘটনা তেমন কোনো বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ কি না, তা জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও গভীরভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “ধর্মীয় সহাবস্থান ও সামাজিক শান্তি টিকিয়ে রাখতে ইসলাম অবমাননার মতো ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর ও নিরপেক্ষ অবস্থান নিতে হবে। কেবল বিবৃতিতে নিন্দা নয়, বরং বাস্তবায়নের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করাই আজ সময়ের দাবি।”

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় অনুভূতি ও নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ইসলামী শিক্ষা ও নৈতিকতা বিষয়ক পাঠক্রমকে শক্তিশালী করা অপরিহার্য। একই সঙ্গে বিদ্যমান আইন প্রয়োগে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ এবং ধর্ম অবমাননা রোধে নতুন ও অধিক কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি জানান তিনি।

বিবৃতির শেষে মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী বলেন, “পবিত্র কুরআন অবমাননার মতো জঘন্য ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান, শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিকতা, এবং আইন প্রয়োগের দৃঢ়তা—এই তিনটি উপাদানই পারে আমাদের সমাজকে সুরক্ষিত রাখতে।”

উম্মাহ২৪ডটকম: আইএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।