মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও অস্থিরতায় কুয়েত, কাতার ও লেবাননে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা পড়েছেন চরম বিপর্যয়ে। কাজ হারানো, নিরাপত্তাহীনতা ও দেশে ফেরার অনিশ্চয়তায় মানবেতর জীবন কাটছে তাদের।
একসময় রুটি-রুজির নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে পরিচিত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ এখন প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধের ড্রোন ও মিসাইলের আতঙ্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থবিরতায় কাজ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজারো শ্রমিক।
ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রভাব পড়েছে কাতার ও কুয়েতে। কঠোর বিধিনিষেধ ও অর্থনৈতিক সংকটে কাজ হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন অনেক প্রবাসী। অন্যদিকে লেবাননে ইসরাইলি হামলায় প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতি বেড়ে যাওয়ায় সেখানকার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
কাতারে নিরাপত্তাজনিত কারণে ছবি তোলা, ভিডিও ধারণ ও অপ্রয়োজনে বাইরে বের হওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। প্রবাসীরা জানান, কাজ ও আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঘরভাড়া ও খাদ্য ব্যয় চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। একমাত্র সীমিত ফ্লাইট চলাচলের কারণে বিমান ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় দেশে ফেরাও অনেকের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়তে পারেন-
- মুসলিম উম্মাহর সংকটকাল: ঐক্য ও ত্যাগের শক্তিই উত্তরণের পথ
- ইতিহাসের পাঠ আত্মস্থ করতে পারলে সঠিক পথনির্ধারণ সহজ হয়
- বাজার আর বইয়ের দোকানে সমাজের আয়না
- প্রয়োজন এক নতুন শিক্ষাব্যবস্থার
- সেক্যুলার চিন্তা যেভাবে আমাদের দ্বীনি মা-বোনদের আক্রান্ত করছে
কুয়েতেও একই চিত্র। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ায় চাকরির অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে প্রবাসীদের। বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় অনেকেই আটকা পড়েছেন।
অন্যদিকে লেবাননে চলমান হামলায় হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অবৈধ অবস্থানের কারণে অনেকেই বৈধভাবে দেশে টাকা পাঠাতে পারছেন না।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটে নিরাপত্তা, জীবিকা ও মানবিক সহায়তার অভাবে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তাদের নিরাপত্তা ও দেশে ফেরার ব্যবস্থা নিয়ে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি উঠছে।
উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ








