ভারতের স্ট্র্যাটেজিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিমবঙ্গের ‘শিলিগুড়ি করিডোর’ বা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত সরু ভূখণ্ডের অনেকটা জমি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে হস্তান্তর করল রাজ্য সরকার।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্য সচিবের জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এক বছর ধরে টালবাহানা করলেও নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেই ‘যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য’ ওই অঞ্চলের সাতটি সড়ক ন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটি অব ইন্ডিয়া ও ন্যাশনাল হাইওয়েজ অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন লিমিটেডের হাতে তুলে দিয়েছে।
এতদিন পর্যন্ত রাজ্য সরকারের পূর্ত দফতরের হাতেই এই সড়কগুলো দেখভালের দায়িত্ব ছিল। এই সাতটি সড়কের মধ্যে পাঁচটিই সরাসরি শিলিগুড়ি করিডোরের মধ্যে দিয়ে গেছে। এখন এই হস্তান্তরের ফলে রাস্তাগুলোর সম্প্রসারণ, মেরামতির কাজ দ্রুত শুরু হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়তে পারেন-
- উলামায়ে কেরামের প্রতি মুফতি শফী (রাহ.)এর দরদমাখা নসিহত
- কম্পিউটার চিপ শিল্প: জলবায়ুর উপর ফেলছে ভয়ঙ্কর প্রভাব
- ইরানি বিজ্ঞানীকে যেভাবে হত্যা করে ইসরায়েল
- ব্যতিক্রমী এক ইসলামী আইন গবেষক
- ইবাদতের গুরুত্ব নিয়ে ঠাট্টা-তাচ্ছিল্য জঘন্য গুনাহ
আর সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে রাস্তার সম্প্রসারণ হলে ওই অঞ্চলে সড়কপথে সামরিক অভিযান অনেক সহজ এবং দ্রুত হবে।
ভৌগোলিক দিক থেকে চিকেনস নেকের অবস্থান ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তিনটি আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে অবস্থিত এই ভূখণ্ডটি সবচেয়ে সরু যেখানে – তার দৈর্ঘ্য মাত্র ২২ কিলোমিটার। এই ‘চিকেনস নেক’ নেপাল, বাংলাদেশ ও ভূটান সীমান্তের খুব কাছাকাছি অবস্থিত।
এই সরু ভূখণ্ডটি উত্তর-পূর্বের সেভেন সিস্টারস বা সাতটি রাজ্যের সাথে বাকি দেশকে জুড়ে রেখেছে। এই অঞ্চলটির লাগোয়া সিকিমের উত্তরে রয়েছে আরেক প্রতিবেশী দেশ চীন। বিশেষজ্ঞরা জাতীয় সুরক্ষার দিক থেকেও এই পদক্ষেপকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন।
২০১৭ সালে ভূটান-চীন-ভারত তিন দেশের সীমানা যেখানে মিশেছে, সেই ডোকলামে সামরিক সংকটের পর থেকেই এই অঞ্চলের রাস্তা সম্প্রসারণ করা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্তরে চিন্তা-ভাবনা চলছিল।
সূত্র : বিবিসি
উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ








