বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রাক-অর্থায়ন (Pre-financing) স্কিম চালু করেছে সরকার। ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তহবিল থেকে তারল্য সহায়তার মাধ্যমে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান পুনরুজ্জীবিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার একটি সার্কুলার জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, নতুন এই তহবিল সরকারের ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার ‘উৎপাদন ও কর্মসংস্থান পুনরুজ্জীবন’ প্রণোদনা প্যাকেজের অংশ।
কারা ঋণ পাবে
স্কিমের আওতায় বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের এমন প্রতিষ্ঠান ঋণ সুবিধা পাবে, যেগুলো আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে অথবা কার্যকর মূলধনের অভাবে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন ও সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না।
বিশেষ করে রফতানিমুখী এবং উচ্চ রফতানি সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া অধিগ্রহণ বা ভাড়া চুক্তির মাধ্যমে বন্ধ প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া উদ্যোক্তারাও অগ্রাধিকার পাবেন।
তবে ঋণখেলাপি, অর্থ পাচার, জালিয়াতি, ঋণ তছরুপ বা ঋণের অর্থ অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই সুবিধা পাবে না।
ঋণের শর্ত ও সুদের হার
সার্কুলার অনুযায়ী, স্কিমটির মেয়াদ তিন বছর।
এ তহবিল থেকে অর্থ গ্রহণকারী ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংককে ৪ শতাংশ হারে সুদ পরিশোধ করবে। অন্যদিকে গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ শতাংশ।
ঋণ বিতরণের পর প্রথম ছয় মাস সুদ পরিশোধে ছাড় থাকবে। এরপর থেকে সুদ আদায় ও পরিশোধ কার্যক্রম শুরু হবে।
একক কোনো প্রতিষ্ঠান বা শিল্পগোষ্ঠী সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা নিতে পারবে। প্রতিটি ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ এক বছর। তবে তহবিলের প্রাপ্যতা এবং সন্তোষজনক লেনদেনের ভিত্তিতে ঋণ নবায়নের সুযোগ থাকবে।
আরও পড়তে পারেন-
- মুসলিম উম্মাহর সংকটকাল: ঐক্য ও ত্যাগের শক্তিই উত্তরণের পথ
- ইতিহাসের পাঠ আত্মস্থ করতে পারলে সঠিক পথনির্ধারণ সহজ হয়
- বাজার আর বইয়ের দোকানে সমাজের আয়না
- প্রয়োজন এক নতুন শিক্ষাব্যবস্থার
- সেক্যুলার চিন্তা যেভাবে আমাদের দ্বীনি মা-বোনদের আক্রান্ত করছে
ঋণের অর্থ যেসব খাতে ব্যয় করা যাবে
প্রাক-অর্থায়ন স্কিমের অর্থ শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, কাঁচামাল ক্রয়, রফতানি আদেশ বাস্তবায়ন এবং উৎপাদন সংশ্লিষ্ট ব্যয়ে ব্যবহার করা যাবে।
তবে এ অর্থ দিয়ে কোনো বিদ্যমান ঋণ সমন্বয় বা পরিশোধ করা যাবে না।
শ্রমিকদের বেতন-ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে নগদ লেনদেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অর্থ অবশ্যই ব্যাংক হিসাব অথবা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। এ জন্য শ্রমিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বেতন-ভাতা বাবদ সর্বোচ্চ চার মাসের সমপরিমাণ অর্থ ব্যয়ের সুযোগ থাকবে।
ঋণ অনুমোদনের আগে যাচাই
ঋণ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত অবস্থা, উৎপাদন সক্ষমতা, কার্যকর মূলধনের প্রয়োজনীয়তা এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই করতে হবে।
এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএসহ সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠনের প্রত্যয়নপত্রের মাধ্যমে উৎপাদন ও কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে। তবে প্রয়োজন হলে ব্যাংক নিজস্ব তদন্তের ভিত্তিতেও ঋণ অনুমোদন করতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, ব্যবস্থাপনা ব্যর্থতা, প্রযুক্তিগত অদক্ষতা বা বিপণন সমস্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কেবল কার্যকর মূলধনের ঘাটতি পূরণে এ ঋণ ব্যবহার করা যাবে না।
আদায় ও তদারকি
সার্কুলারে ঋণ আদায় ও তদারকির বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রাক-অর্থায়নের বিপরীতে গৃহীত অর্থের সুদ বা মুনাফা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে পরিশোধ করতে হবে।
ঋণের মেয়াদ শেষে বা সমন্বয়ের সময় সর্বশেষ ত্রৈমাসিকের সুদসহ পুরো অর্থ ফেরত দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত চলতি হিসাব থেকে অর্থ সমন্বয় করা হবে।
এ ক্ষেত্রে বকেয়া সময়ের জন্য অতিরিক্ত ২ শতাংশ সুদ আরোপ করা হবে।
উম্মাহ২৪ডটকম:আইএএ








