কোনো সমাজের প্রকৃত অবস্থা বুঝতে চাইলে দুটি জায়গায় নজর দিলেই যথেষ্ট—কাঁচাবাজার এবং বইয়ের দোকান। এই দুটি জায়গার চিত্রই আজ আমাদের সমাজের এক গভীর সংকটকে তুলে ধরে।
আজকের বাজারে ধনী-দরিদ্রের বিভাজন স্পষ্ট ও নির্মম রূপ নিয়েছে। একদল মানুষ বিন্দুমাত্র দামাদামি ছাড়াই ঝুড়ি ভর্তি করে কিনছেন পছন্দের সামগ্রী—অর্থের উৎস বৈধ কি না, সে নিয়ে তাঁদের ভাবনা নেই। অন্যদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্রেতা দীর্ঘ দরকষাকষির পরও প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারেন না। অনেকে শেষমেশ বাধ্য হয়ে সস্তা, নিম্নমানের কিংবা প্রায় পচা দ্রব্য—যেমন ভাঙা ডিম, ফেলে দেওয়া মাছ, ব্রয়লার মুরগি বা নষ্টপ্রায় শাকসবজি—কেনেন এবং মলিন মুখে ঘরে ফেরেন।
একদিকে রেস্তোরাঁয় বিপুল খাদ্য অপচয়, অন্যদিকে অসহায় মানুষের অনাহারের হাহাকার—এই দৃশ্যই প্রমাণ করে, সমাজে ভয়াবহ বৈষম্য বিরাজ করছে এবং মানবিকতার বোধ ক্রমেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়তে পারেন-
- আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে ইসলামের ভূমিকা
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যেন হুমকির মুখে না পড়ে
- সমৃদ্ধ জাতি নির্মাণে দরকার বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণ ও আলেমদের এগিয়ে আসা
- সালাম-কালামের আদব-কায়দা
- বিবি খাদিজা (রাযি.): ইসলাম ধর্মের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ নারী
সমাজের আরেক স্তম্ভ হলো জ্ঞান ও শিক্ষা। কিন্তু এখানেও নেমেছে গভীর পতন। একসময় পাড়া-মহল্লা, বাসস্ট্যান্ড কিংবা ট্রেনস্টেশনে সারি সারি বইয়ের দোকান দেখা যেত, পাঠকের ভিড়ে মুখর থাকত সেসব জায়গা। এখন সেই দৃশ্য বিলুপ্তপ্রায়।
যে অল্প কিছু দোকান টিকে আছে, সেখানে নেই সৃজনশীল সাহিত্য, ইতিহাস বা জীবনীগ্রন্থ। কবিতার প্রতি আগ্রহ প্রায় হারিয়ে গেছে। পড়ে আছে শুধু পরীক্ষাকেন্দ্রিক গাইড বই আর খাতা-কলমের ব্যবসা। অর্থাৎ আমরা পাঠাভ্যাস হারিয়ে ফেলেছি; জ্ঞান অর্জনের চেয়ে এখন সার্টিফিকেটই হয়ে উঠেছে চূড়ান্ত লক্ষ্য।
বাজারের ভোগবাদ আর বইয়ের দোকান থেকে জ্ঞানচর্চার বিদায়—এই দুটি চিত্রই বলে দেয়, আমরা বিত্ত-বৈভবের পেছনে ছুটতে ছুটতে বিসর্জন দিয়েছি নীতি, মানবিকতা ও আদর্শকে।
আমরা এক গভীর পতনের পথে এগিয়ে চলেছি, যেখানে আদর্শ, জ্ঞান ও মানবিকতা—ক্রমে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ছে। এখন প্রয়োজন অন্তরদৃষ্টি ও আত্মসমালোচনার—না হলে সমাজের আয়নাতেই একদিন নিজেদের অচেনা মুখ দেখতে হবে।
উম্মাহ২৪ডটকম: এমএ








