Home অর্থনীতি অর্থনৈতিক সংকটে দেশ

অর্থনৈতিক সংকটে দেশ

স্বৈরাচার হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরে অনিয়ম-দুর্নীতি-অর্থপাচার এবং অন্তবর্তী সরকারের দেড় বছরে ভুল নীতির শিকার দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি। আর তাই দেশের অর্থনীতি গভীর সংকটে পড়েছে। অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি বেসরকারি খাত সংকটে নিমজ্জিত। মন্দায় আক্রান্ত শিল্পে ঋণের চাহিদা তলানিতে নেমেছে। বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি তাই ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে এবং উৎপাদন ও কর্মসংস্থান কমছে।

বন্ধ শিল্প-কারখানা চালুর ইতিবাচক পদক্ষেপ সরকার হাতে নিলেও রফতানি আয়ের প্রধান মাধ্যম পোশাক খাতে মন্দা বাজার পরিস্থিতি ও কার্যাদেশ না থাকায় বিদ্যমান শিল্প কারখানা প্রতিদিন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

গতকালও বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে নেমেছেন নাসা গ্রুপের মালিকানাধীন নাসা নিট লিমিটেড, নাসা অ্যাপারেলস লিমিটেড ও ওয়েস্টার্ন ড্রেসেস লিমিটেড নামে তিন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। শুধু রাজধানী ঢাকায়ই নয়; ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কারখানা খোলার পরপরই সাভার-আশুলিয়ার বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনা সামনে এসেছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি বেড়ে আবার ১০ শতাংশের কাছে পৌঁছেছে। উচ্চ পণ্যমূল্য দেশের সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়াচ্ছে। বিগত কয়েক বছর ধরেই দেশে বিনিয়োগ নেই বললেই চলে। ব্যবসা-বাণিজ্যেও এক রকম স্থবিরতা চলছে আগের দুই সরকারের আমল থেকেই। রফতানি আয় কমছে।

একই সঙ্গে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে জুন মাসে পতন দেখা গেছে। চলতি জুন মাসের প্রথম ছয় দিনে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ৬ জুন পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৬৮৩ দশমিক ৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৮৬২ দশমিক ৫৯ মিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে ২০ দশমিক ৭৮ শতাংশ। রেমিট্যান্স প্রবাহ কমা রিজার্ভের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যা অগামী দিনে দেশের অর্থনীতিকে আরো বিপর্যস্ত করবে।

অবশ্য মধ্যপ্রাচ্যে (ইরান-ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র) যুদ্ধের আগে থেকেই ভঙ্গুর বিশ্ব অর্থনীতি ও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই যুদ্ধের ফলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ চেইন বিঘ্নিত হওয়ার প্রভাবেই দেশে মূল্যস্ফীতি, মধ্যপ্রাচ্যসহ জনশক্তি রফতানিতে ধসে রেমিট্যান্স প্রবাহে অস্থিরতা এবং রিজার্ভের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যা অগামী দিনে দেশের অর্থনীতিকে আরো বিপর্যস্ত করবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে অর্থনীতিবিদসহ সংশ্লিষ্টরা। অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, উচ্চ সুদহার, দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকট, পাহাড়সম খেলাপি ঋণ এবং বিনিয়োগবান্ধব নয় এমন করনীতিÑ এই চতুর্মুখী আক্রমণে নাস্তানাবুদ বেসরকারি খাত। তাই যে সব শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিদ্যমান আছে সেগুলো চালু রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ জরুরি। আসন্ন জাতীয় বাজেট ঘিরে ব্যবসায়ীদের একমাত্র প্রত্যাশা, সরকার যেন বেসরকারি বিনিয়োগ চাঙ্গায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়। অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলছেন, বেসরকারি খাতের সংকট শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিকও। বেকারত্ব বৃদ্ধি সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। এই পরিস্থিতি দেশের বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য বড় ধরনের সতর্ক সঙ্কেত।

আরও পড়তে পারেন-

জানতে চাইলে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান-বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তিই হলো বেসরকারি খাত। এই খাত যদি রুগ্ন হয়ে পড়ে কিংবা মন্দায় আক্রান্ত হলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থমকে যেতে বাধ্য। সরকারের মূল দায়িত্বই হলো বেসরকারি খাত যাতে অর্থনীতিতে পূর্ণ অবদান রাখতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা। তাদের জন্য বিনিয়োগবান্ধব আবহাওয়া তৈরি করা এবং পথের সব বাধা দূর করা।

সূত্র মতে, ঈদের ছুটি শেষে কারখানা খোলার পরপরই রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সাভার-আশুলিয়ার বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটছে। কার্যাদেশ না থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পথে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ছাঁটাই হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান থাকা আল-মুসলিম গ্রুপে। গ্রুপটির তিনটি কারখানা থেকে মোট এক হাজার ৮৬৮ শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গত শনিবার শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয় এবং বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদের ঘটনাও ঘটে।

শুধু আল-মুসলিম গ্রুপ নয়, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে দেশের বিভিন্ন শিল্প এলাকায় শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ছয়টি শিল্প এলাকার ৭৯টি কারখানায় মোট সাত হাজার ৭৮৪ শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছেন। এসব কারখানার অধিকাংশই তৈরি পোশাক খাতের। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছাঁটাই হয়েছে আশুলিয়ায়, যেখানে ৩৫টি কারখানা থেকে চার হাজার ৯৭২ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। গাজীপুরে ৩৩টি কারখানায় ছাঁটাই হয়েছেন এক হাজার ৯৪৬ শ্রমিক। চট্টগ্রামে পাঁচটি কারখানায় ৫১৫ জন, ময়মনসিংহে একটি কারখানায় ২৫২, খুলনায় দুটি কারখানায় ৮১ ও নারায়ণগঞ্জে তিনটি কারখানায় ১৮ শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছেন। কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলে এ সময়ে কোনো ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেনি। যদিও তথ্য রয়েছেÑ বর্তমান পরিস্থিতি বিরাজ করলে খুব শিগগিরই দেশের একটি বড় শিল্প গ্রুপ ১০ হাজার শ্রমিক ছাঁটাই করতে পারে। সাভার-আশুলিয়া এলাকায় শ্রমিক সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ঈদকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলের বিভিন্ন শিল্প-কারখানা থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন।

আল-মুসলিম গ্রুপ ঢাকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেন অপু বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও কাজের স্বল্পতার কারণে আমরা এক হাজার আট শতাধিক শ্রমিককে ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়েছি। শ্রম আইন অনুসরণ করেই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের সব পাওনা ২৭ মে বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে। গত ৩২ বছরে আমরা এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হইনি। বাজারের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পোশাক খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যবসার পরিস্থিতি এখন কিছুটা খারাপ যাচ্ছে। কেউ মোটামুটি সামলে নিতে পারছে, আবার কেউ পারছে না। এদিকে গতকালও বর্তমান সংকট নিয়ে করণীয় ঠিক করতে পোশাক খাতের মালিকরা বৈঠক করেছেন। বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ইনকিলাবকে বলেন, দীর্ঘদিন থেকেই পোশাক খাতের পরিস্থিতি খারাপ। কার্যাদেশ প্রতিদিনই কমছে। অনেক কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে। আর তাই কি কারণে কার্যাদেশ কমছে এবং আগামীতে যাতে না কমে সে জন্য করণীয় ঠিক করতেই এই সভা। একই সঙ্গে আসন্ন বাজেটে যাতে পোশাক খাত চাঙ্গায় বিশেষ কিছু থাকে সে জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানান। পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পোশাক খাতের করণীয় সরকারকে জানাতে একটি কার্যপত্র তৈরি করা হচ্ছে। যা নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে উল্লেখ করেন মাহমুদ হাসান খান।

শ্রমিক ছাঁটাই পরিস্থিতি নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি গাজী জসীম উদ্দিন বলেন, যেসব কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাই হচ্ছে, সেখানে মালিক পক্ষ শ্রম আইন অনুযায়ী নোটিস দিচ্ছে এবং শ্রমিকদের প্রাপ্য পাওনা পরিশোধ করেই ছাঁটাই কার্যক্রম সম্পন্ন করছে বলে আমরা জেনেছি।

যেসব এলাকায় শ্রমিক ছাঁটাই হচ্ছে বা এমন পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে শিল্প পুলিশ নজরদারি ও মোতায়েন জোরদার করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোথাও যাতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আমরা কাজ করছি। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে মালিক পক্ষ ও শ্রমিক পক্ষের মধ্যে সমন্বয় ও মধ্যস্থতার ভূমিকাও পালন করছি।
শিল্প খাত কেন মন্দা

দেশের শিল্প খাতে পাঁচ বছর ধরে চলা টানা মন্দার নেপথ্যে রয়েছে ব্যাংক খাতের তীব্র তারল্য সংকট, উচ্চ সুদহার, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার (ডলার) ঘাটতি এবং কাঁচামাল আমদানির জটিলতা। শিল্প খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ২০২০ সালের মার্চে করোনা সংক্রমণের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই ২০২২ সালে শুরু হয় বৈশ্বিক মন্দা, যা পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অস্থিরতায় আরো তীব্র রূপ নেয়। এই দীর্ঘমেয়াদি সংকটের ফলে ডলারের উচ্চমূল্য ও বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে, যা শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলাকে ব্যাপকভাবে ব্যাহত করছে। সময়মতো কাঁচামাল আনতে না পারায় এবং জ্বালানির সংকটে অনেক উদ্যোক্তা তাদের উৎপাদনক্ষমতা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে বাধ্য হচ্ছেন। মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এমসিসিআই সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কমে যাওয়ার এই প্রবণতা দেশে নতুন শিল্প স্থাপন বা সম্প্রসারণকে পুরোপুরি থমকে দিয়েছে।

ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মতে, মাত্রাতিরিক্ত খেলাপি ঋণ ও আর্থিক খাতের অনিয়মের কারণে ব্যাংকগুলোতে যে চরম তারল্য সংকট তৈরি হয়েছে, তার ফলে একদিকে যেমন নতুন বিনিয়োগের ঋণপ্রাপ্তি কঠিন হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে ঋণের সুদের হারও অনেক বেড়ে গেছে। এই উচ্চ সুদের হারের পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকট, জ্বালানি তেলের দাম এবং পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় কারখানার উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে। এই উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে বাজারে পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় উচ্চ মূল্যস্ফীতির কবলে পড়া সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে গেছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক বিক্রিতে। সার্বিকভাবে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ রেকর্ড পরিমাণে কমে যাওয়ায় উদ্যোক্তাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এবং এই বহুমুখী সংকটের বৃত্তে আটকে থেকেই দেশের শিল্প খাত এখন এক ভঙ্গুর ও তীব্র মন্দা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

উচ্চ সুদহারে বেড়েছে উৎপাদন ব্যয়

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ঋণের শর্ত পূরণ করতে গিয়ে দফায় দফায় গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ায় প্রতিযোগী দেশের তুলনায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেড় বছর ধরে নীতি সুদহার ১০ শতাংশে রেখেছে। গভর্নর স্পষ্ট জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে না নামা পর্যন্ত এই সঙ্কোচনমূলক নীতি বজায় থাকবে। এর প্রভাবে ব্যাংকঋণের সুদহার বেড়ে ১৪ থেকে ১৭ শতাংশে পৌঁছেছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নতুন বিনিয়োগ লাভজনক নয় বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।

জ্বালানি সংকটে কারখানা বন্ধ

দীর্ঘদিনের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট শিল্প উৎপাদন ব্যাহত করছে। সম্প্রতি ইরানের ওপর যুদ্ধ ঘিরে অস্থিরতা বাড়ায় জ্বালানি, সারসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। গত তিন বছরে প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। জ্বালানির সংকট নিরসন না হলে বিনিয়োগের পরিবেশ ফেরানো কঠিন বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

প্রণোদনা প্যাকেজ ও সম্ভাবনার আলো

বেসরকারি খাতে গতি ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ৬০ হাজার কোটি টাকার বড় প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বন্ধ কারখানা চালু হবে, নতুন বিনিয়োগ বাড়বে এবং ২৫ লাখের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ সতর্ক করে বলেছেন, সরবরাহ সংকট ও ব্যাংক খাতের দুর্বলতা কাটানো না গেলে এই প্রণোদনা উল্টো মূল্যস্ফীতি আরো বাড়াতে পারে।

উল্লেখ্য, অর্থের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী ব্যাংক ব্যবস্থা মার্জার, খেলাপি ঋণসহ নানাবিধ কারণে এখনো নড়বড়ে অবস্থায় আছে। অন্যদিকে রাজস্ব সংগ্রহ কম হওয়ায় সরকারের আয়েও চলছে টানাপড়েন। দেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখনো মাত্র ৮ শতাংশের মতো। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে কম। বর্তমানে অর্থনীতিতে এ রকম আরো কিছু ক্ষত রয়েছে, যা নতুন সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। এ অবস্থার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অর্থনীতির এসব ক্ষত আরো গভীর করে তুলেছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা।

উম্মাহ২৪ডটকম:আইএএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।