Home সম্পাদকীয় সবার কাছে তালিবানরা এখন গ্রহণযোগ্য, কিন্তু কেন?

সবার কাছে তালিবানরা এখন গ্রহণযোগ্য, কিন্তু কেন?

আফগানিস্তানে দীর্ঘ দেড় যুগের লড়াই বন্ধ করে শান্তি ফিরিয়ে আনতে গত ২৯ ফেব্রুয়ারী কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবান শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ছবি- এএফপি

।। আলতাফ পারভেজ ।।

যুক্তরাষ্ট্র বেশ তাড়াহুড়ো করে তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আগ্রাসন থেকে বাড়ি ফিরতে চাইছে বিজয়ের স্বাদ ছাড়াই। এও দেখা যাচ্ছে- আফগানিস্তানের শান্তি-স্বস্তি নিয়ে চীন এবং রাশিয়াও খুব উৎসাহী। বিশ্বের সকল মুরুব্বি দেশই এখন তালিবানদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। কিন্তু কেন এবং তারপর কী হতে যাচ্ছে দেশটিতে?

আফগানিস্তানের খনিজ বৃত্তান্ত

আফগানিস্তানে ন্যাটো জোটের ঢুকে পড়ার কারণ বলা হয়েছিল ‘সন্ত্রাস দমন’। সন্ত্রাস রোখার নামে রাশিয়া, ইরান ও চীন সীমান্তের কাছাকাছি পাঁচটি বড় বড় সামরিক ঘাঁটি হাজির করতে পারা ন্যাটোর জন্য বড় ভূ-রাজনৈতিক সফলতা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা এও ভেবেছিলেন হয়তো, তালিবানদের হারিয়ে আফগানিস্তানের খনিজ সম্পদও দখল করা যাবে। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। তাই নতুন বাস্তবতায় তালিবানাদের সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র। চীন ও রাশিয়ারও অনুরূপ ইচ্ছা।

অনুমান করা হয়, দেশটির মাটির নীচে এক থেকে তিন ট্রিলিয়ন ডলার সমমূল্যের সম্পদ উত্তোলনযোগ্য হয়ে আছে। এসব নিয়ে ব্যবসার সূত্রে দেশটি বছরে অনায়াসে কয়েক বিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে। স্বর্ণ ও নিকেল ছাড়াও আফগানিস্তানে আছে লিথিয়াম ও কপারসহ অনেক মূল্যবান খনিজ। আছে স্ক্যান্ডেইয়াম, ইউটিরিয়ামসহ বহু দুর্লভ মৃত্তিকা মৌল। যেগুলো আজকাল মোবাইল ফোন, টিভি, ফাইবার অপটিক তৈরির কাজে লাগে।

আফগানিস্তানে ঢোকার পর ন্যাটোর বিশেষজ্ঞরা দেশটির খনিজ সম্পদ সম্পর্কে ১৯৭০-৮০’র দিকে রুশদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনগুলো হাতে পেয়েছিল। তার সঙ্গে মিলিয়ে পেন্টাগনের উচ্চপ্রযুক্তির অনুসন্ধান শেষেই আফগানিস্তানের গজনীতে লিথিয়ামের বিপুল মজুদের খবর জানা যায়। লিথিয়াম খুদে কম্পিউটারের ব্যাটারিসহ অনেক সামরিক যন্ত্রে কাজে লাগে। বৈদ্যুতিক গাড়ির আসন্ন বিপ্লবের জন্যও এটা জরুরি। বিশ্বজুড়ে এটা এখন একটা কৌশলগত খনিজ। ২০১০-এর জুনে বিবিসি এক প্রতিবেদনে লিথিয়ামের কারণে আফগানিস্তানকে ‘ভবিষ্যতের সৌদি আরব’ বলেও প্রচার করেছিল। একই রকম বড় লিথিয়াম মজুদ নিয়ে তীব্র ঝামেলা পোহাচ্ছে বলিভিয়া। সেখানে ক্ষমতাচ্যুত ইভো মোরলেস তাঁর বিরুদ্ধে সংঘটিত অভ্যুত্থানে যুক্তরাষ্ট্রের মদদের জন্য লিথিয়ামের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকে কারণ হিসেবে দাবি করেছেন।

আরও পড়তে পারেন-

ওয়েব সিরিজের নামে নোংরামি ও নগ্নপনার চর্চা বন্ধ করুন

গীবত ও পরনিন্দার ভয়াবহ পরিণতি এবং শরয়ী বিধান

রাসূলুল্লাহ (সা.)এর দাম্পত্য জীবনে খাদিজা (রাযি.)এর ভূমিকা

এশিয়ায় ইসলামফোবিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ‘ভারত’

বিদেশনীতিতে প্রবল ধাক্কা খেল ভারত

তবে আফগানিস্তানে লিথিয়াম, কপার ইত্যাদি খনিজের বাইরেও আছে গ্রেড-৪ মানের হেরোইনের উপাদান হিসেবে আফিমের কারবার। শান্তিচুক্তির পর এসব কার নিয়ন্ত্রণে যাবে- সেটাও অবশ্যই আড়ালেই ফয়সালা হচ্ছে এখন।

সোভিয়েতবিরোধী যুদ্ধের সময় আফগান গেরিলাদের অর্থ সংস্থানে সিআইএ হেরোইন বাজারজাত করার কাজে স্থানীয়দের যে সহায়তা দিয়েছিল- এখন তার পরিণতি কী হবে, সেটাও দেখার বিষয়।এসব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সকলের সঙ্গে সফল দরকষাকষি চালিয়ে যেতে হবে।

কে এই খলিলজাদ

আফগানিস্তানের খনিজের বৃত্তান্ত লিখতে বসলেই জালমে খলিলজাদের কথা চলে আসে। সর্বশেষ শান্তিচুক্তিতে তিনিই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে স্বাক্ষর করেছেন। বিশ্বজুড়ে তাঁকে নিয়ে এখন আলোচনা। যুক্তরাষ্ট্রের এই কূটনীতিবিদ দীর্ঘসময় যুক্ত ছিলেন তেল কম্পানি ইউনিকলে। সেখানে তাঁর দায়িত্ব ছিল ‘ঝুঁকি বিশ্লেষক’-এর।

রিপাবলিকান শিবিরের সবচেয়ে রক্ষণশীল অংশের সঙ্গে খলিলজাদের ঘনিষ্ঠতা ১৯৮৫-এর পর থেকে। এর এক বছর আগে তিনি দেশটির নাগরিকত্ব পান। পরবর্তীকালে জর্জ বুশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আন্তর্জাতিক কূটনীতির বড় আসরে নামেন। পশতু বংশজাত হওয়ার কারণে তালিবানদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের বয়সও প্রায় ২৫ বছর। ২০০১-এ তালিবানরা ক্ষমতা থেকে উৎখাতের আগেই তাদের মন্ত্রিদের টেক্সাসে ইউনিকল কার্যালয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। অথচ তখনও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালিবান সরকারের কূটনীতিক সম্পর্কও ছিল না।

মূলত ইউনিকলের হয়ে আফগানিস্তানের উপর দিয়ে ৮২০ মাইল লম্বা পাকিস্তান-তুর্কেমিনিস্থান গ্যাস পাইপলাইন বসানোর কাজটি (‘সেন্ট-গ্যাস’ প্রকল্প নামে পরিচিত) এগিয়ে দেয়াই ছিল খলিলজাদের দায়িত্ব। সেসময় বছরে ৫০ থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে এরকম একটা অনুমোদন দিতে রাজি ছিল তালিবানরা। পরবর্তী যুদ্ধ-দামামার মাঝে প্রকল্পটা এগোয়নি। তাতে অবশ্য খলিলজাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন ও তালিবান- কারোই আস্থা কমেনি। ২০১০-এ তিনি আরব আমিরাতভিত্তিত আরেক তেল কম্পানি আরএকে-এর পরিচালনা পরিষদের সদস্য হন। একই খাতে কাজ করা নরওয়ের কম্পানি ডিএনও’রও পরিচালক সদস্য ছিলেন তিনি। ইরাকের কুর্দি এলাকায় ডিএনও ২০০৪ সালে কাজ পেয়েছিল। খলিলজাদ ২০০৫-৭ এ ইরাকেও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। যুদ্ধ, আগ্রাসন এবং জ্বালানি ব্যবসা এভাবে সবসময় তাঁর জীবনবৃত্তান্তের সঙ্গে লেগে আছে।

তাঁর ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের আস্থা অগাধ। সদ্য স্বাক্ষর হওয়া ‘শান্তিচুক্ত’ সফল হলে আফগানিস্তানে তাঁর আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেখা যাবে। মার্কিন প্রশাসনে খলিলজাদের এককালীন বস জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কন্ডোলিজা রাইসও একসময় আরেক তেল কম্পানি শেভরণের বোর্ড মেম্বার ছিলেন।

২০১৭ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে আফগানিস্তানের খনিজ সম্পদ উত্তোলনের লক্ষ্যে দেশটির কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে তালিবানাদের প্রসার বাড়ায় একটা শান্ত অবস্থা তৈরি না করে খনিজ উত্তোলন দুরূহ। সেই দূরবর্তী লক্ষ্যেই চলতি বছরের শান্তি ‘চুক্তি’ একটা ‘ভালো সূচনা’। এই চুক্তি আফগানিস্তানে যে ধরনের ভবিষ্যত সরকারই কায়েম করুক- তাতে খলিলজাদের একটা অভিভাবকসুলভ ভূমিকা যে থাকছে- তা প্রায় নিশ্চিত। মাইনিং কর্পোরেটদের জন্য এটা একটা ভালো মুহূর্ত। খলিলজাদের ছেলে আলেকজান্ডার বেনার্ডও পিতার আনুকুল্যে মধ্যএশিয়ায় খনি ব্যবসায়ীদের পক্ষে কনসালটেন্সি করে থাকেন। পিতার গড়া প্রতিষ্ঠান ‘গ্রাইফোন পার্টনার’-এর এমডি এখন বেনার্ডই।

কোন দেশ খনিজ সম্পদ কীভাবে চাইছে

বলাবাহুল্য, খলিলজাদ চাইলেও যুক্তরাষ্ট্রের কম্পানিগুলো একা আফগান খনিজ ভোগ করতে পারবে না। ভাগ চাইবে প্রতিবেশীরাও। যুদ্ধ বিধ্বস্ত আফগানিস্তানের সেই চাপ অগ্রাহ্য করা সম্ভব নয়। দেশটির চারপাশে সকল প্রতিবেশি বিশাল সামরিক সামর্থ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য কমে যাওয়া মাত্র আফগানদের দরকার হবে রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান ও ভারতকে। এসব দেশ এখন তালিবানদের সঙ্গে একটা ‘উইন-উইন’ সম্পর্ক গড়ে তুলতে তৎপর। রাষ্ট্র পরিচালকদের হাত করে কীভাবে বড় বড় প্রকল্প নিতে হয়, তৃতীয় বিশ্বে সে বিষয়ে চীনের দক্ষতাই বেশি। আফগানিস্তানে গত ১৯ বছর ন্যাটোর শাসন চললেও, মেস এয়াংকের সবচেয়ে বড় কপার মজুদ চীনের রাষ্ট্রীয় সংস্থা এমসিসি ৩ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে লিজ নিতে পেরেছিল ২০১৭ সালে। কাবুলের ২৫ মাইল দক্ষিণে লগার প্রদেশের এই খনিতে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের কপার মজুদ আছে। তাড়াহুড়ো করে লিজ নিলেও চীন এখনও তা উত্তোলন শুরু করতে পারেনি। প্রথমত নিরাপত্তা পরিস্থিতি এতদিন সুবিধার ছিল না। তাছাড়া যে বিপুল মানুষ খনি এলাকায় বাড়িঘর হারাবে তাদের পুনর্বাসন করার বিকল্প কিছু এখনও গড়ে তোলা হয়নি। এই এলাকাতেই রয়েছে বৌদ্ধ সভ্যতার বহু পুরানো বিশাল প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। কপার তুলতে গেলে সেসবও সরাতে হবে।

মেস এয়াংকের কপার মজুদে চীনের আগ্রহের মতোই ভারতের আগ্রহের জায়গায় দেশটির হাজিজাক খনির দিকে। এখানে রয়েছে বিশাল লৌহ আকরিকের মজুদ। এই এলাকাটি বামিয়ানে পড়েছে। যা কাবুল থেকে ১৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে। ১.৮ বিলিয়ন টন লৌহ আকরিক আছে এখানে। ২০১১ সালে ভারতের কয়েকটি কম্পানি এই ক্ষেত্রটি ১০ বিলিয়ন ডলার দামে বরাদ্দ পায়। তবে চীনের মতোই তারাও কাজে নামতে পারেনি। নিরাপত্তার বিষয় ছাড়াও তাদের এক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে একটা বোঝাপড়ায় আসতে হবে। কারণ, মেস এয়াংকের কপারের জন্য চীন যদি রেলপথ বানাতে রাজি হয় তবেই ভারতের পক্ষে বামিয়ানের লৌহ আকরিকের ব্যবসাটা সহজে করা সম্ভব। কানাডার একটা কম্পানিও এই লৌহ আকরিক নিয়ে আগ্রহী। ২৯ ফেব্রুয়ারির পর এরা সবাই এখন হয়তো তালিবানদের সঙ্গে এ বিষয়ে নতুন করে একটা বোঝাপড়ায় আসবে। পাকিস্তান ও রাশিয়ারও কিছু প্রিয় অর্থনৈতিক প্রকল্প আছে আফগানিস্তানে।

খনিজ সম্পদকে কাজে লাগানো আফগানিস্তানের জন্য কেন জরুরি

খনিজ সম্পদে উর্বর হলেও আফগানিস্তান বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ। প্রায় পৌনে চার কোটি মানুষের এই দেশে এখনও ৪০-৫০ ভাগ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নীচে পড়ে আছে। দিনে যাদের আয় ১.৯ ডলারের কম। ৩০ লাখ আফগান শরণার্থী হয়ে আশেপাশের দেশে আছে। যুদ্ধ শেষ হলে এরা বিধ্বস্ত জনপদগুলোতে ফিরবে। জন্ম হারেও দেশটি বেশ এগিয়ে।

এরকম সকলের জন্য খাদ্য, বাসস্থান ও কাজের ব্যবস্থা করতে হবে ভবিষ্যতের আফগানিস্তানকে। আয়তনে বাংলাদেশের চারগুনেরও বড় এই দেশটি যুদ্ধে যুদ্ধে একটা বিধ্বস্ত জনপদ ছাড়া এখন আর কিছুই নয়। অবকাঠামো বলতে তেমন কিছু আর গোলার হাত থেকে রক্ষা পায়নি।

৮০-৯০ ভাগ নাগরিকই শিক্ষার সুযোগ বঞ্চিত। বন্দুক চালানো ছাড়া সংখ্যাগরিষ্ঠ তরুণ আর কিছুতে প্রশিক্ষণ পায়নি। একটি জনগোষ্ঠীকে বন্দুক সংস্কৃতি থেকে কাগজ ও কলমের সংস্কৃতিতে টেনে আনার জন্য প্রয়োজন মনস্তাত্ত্বিক এক বিপ্লব। সেটা দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং দুরূহও বটে। এ কাজের জন্য সম্পদও দরকার।

আয়-রোজগারের জন্য খনিজ সম্পদ আর পর্যটন ছাড়া তালিবানরা তেমন কিছু পাবে না। আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো আফগানিস্তানের এই দুর্বলতার সুযোগ নিতে যে উদগ্রীব- তা বলাই বাহুল্য। তালিবানদের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো- তার কীভাবে সকল আন্তর্জাতিক পক্ষের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও লাভজনক একটা অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়তে সফল হয়। তাদের বিনিয়োগ দরকার হবে মানবসম্পদ তৈরি এবং অবকাঠামো খাতে। আর বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ থাকবে সস্তায় খনিজ পেতে। প্রয়োজনে চরম দুর্নীতিগ্রস্ত উপায়ে হলেও। সেন্ট-গ্যাস প্রকল্পের আলাপও হয়তো শিগগির শুরু হবে। এই দ্বিমুখী চাওয়া-পাওয়ার সমন্বয় ঘটানোই তালিবান নেতৃত্বের জন্য আসন্ন চ্যালেঞ্জ।

– আলতাফ পারভেজ, গবেষক।

উম্মাহ২৪ডটকম:এমএমএ

উম্মাহ পড়তে ক্লিক করুন-
https://www.ummah24.com

দেশি-বিদেশি খবরসহ ইসলামী ভাবধারার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে ‘উম্মাহ’র ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।