শেভরন বাংলাদেশের কনডেনসেট তেলের (অপরিশোধিত তেল) পাইপলাইনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে ফারজানা আক্তার পারভীন (৪০) নামে আরও একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আইসিওতে মারা গেছেন। এর আগে আগুনে দগ্ধ হয়ে নিহতের স্বামী বশির মিয়া (৫০) এবং ছেলে রেদোয়ান মিয়া (২২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
বৃহস্পতিবার সকালে জানাযা নামাজ শেষে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভুনবীর গ্রামের গোরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ফারজানা। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে একটি হতদরিদ্র পরিবারের তিনজন সদস্য অগ্নিকাণ্ডে ঝরে গেল।
এ তথ্য নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য ছালেক মিয়া বলেন, দগ্ধ বাবা-ছেলের মৃত্যুর পর জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় বুধবার সকালে অগ্নিদগ্ধ রেজোয়ানের মা পারভীনও মারা যান।
আরও পড়তে পারেন-
- আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে ইসলামের ভূমিকা
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যেন হুমকির মুখে না পড়ে
- সমৃদ্ধ জাতি নির্মাণে দরকার বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণ ও আলেমদের এগিয়ে আসা
- সালাম-কালামের আদব-কায়দা
- বিবি খাদিজা (রাযি.): ইসলাম ধর্মের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ নারী
জানা যায়, শ্রীমঙ্গল উপজেলার ২নং ভুনবীর ইউনিয়নের শাসন ইলাম পাড়ায় পেট্রোবাংলার নিয়ন্ত্রণাধীন তেল ও গ্যাস কোম্পানি শেভরন বাংলাদেশের একটি পাইপলাইন ছিদ্র করে তেল চুরি করছিল দুর্বৃত্তরা। গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত নয়টারদিকে পাইপলাইনে তেল চুরির সময় কনডেনসেট তেল ছড়িয়ে পড়ে হাইল হাওরে ভেসে যায় এবং দীর্ঘ এক কিলোমিটার এলাকায় হঠাৎ আগুন ধরে গাছপালা বাঁশ লতা পাতা পুড়ে ছাই হয়ে যায়। মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলের ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টারবেশি সময়ে ফোম দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
তবে তার আগেই আগুনে দগ্ধ হন ওই পরিবারের তিনজন সদস্য। দগ্ধ অবস্থায় প্রথমে তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরদিন ঢাকায় জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় চার দিনের ব্যবধানে মারা যান বাবা ও ছেলে। এরপর আরও চার দিন পর মৃত্যু হয় ফারজানা আক্তারের।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন জানান, শেভরনের পাইপলাইনে অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের ৩জনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে প্রশাসন। এ ঘটনায় তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইসলাম উদ্দিন নিহতদের পরিবারের কাছে প্রতিশ্রুতি দেন, যে সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। তিনি বলেন, “এ ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিষয়ে যেকোনো তথ্য জানালে প্রশাসন উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।”
উম্মাহ২৪ডটকম: আইএএ








